ছবিঃ আংরেজি মিডিয়াম

পরিচালকঃ হোমি আদাজানিয়া

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ ইরফান খান, রাধিকা মদন, করিনা কাপুর, ডিম্পল কাপাডিয়া, দীপক ডোব্রিয়াল, রণবীর শোরে

গল্পঃ নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবারের কাছে সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে পড়াশুনো করানোর ইচ্ছা অধিকাংশ সময় স্বপ্নই থেকে যায়। কারণ অর্থের জোগান হলেও হাবেভাবে তাঁরা কোথাও যেন প্রথম সারিতে নিজেদের জায়গা পাকা করে উঠতে পারেন না। তেমনই এক স্বপ্ন দেখেছিলেন ইরফান। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মেয়েকে বিদেশে পড়াবেন। কিন্তু তা কীভাবে বাস্তব হল, সেই গল্পই শোনাবেন আংরেজি মিডিয়াম। 

অভিনয়ঃ বাবার চরিত্রে এক কথায় অনবদ্য ইরফান খান। পর্দা জুড়ে যেন তাঁরই উপস্থিতি। একের পর এক সিক্যুয়েন্সে দম ফাটা হাঁসির মোড়কে লুকিয়ে থাকা কত ভারী ভারী কথা যেন অবলীলায় তিনি উপস্থাপনা করলেন পর্দায়। রাধিকা মোহনও যথা সাধ্য নিজের চরিত্রকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেন। প্রথম থেকেই অনবদ্য চরিত্রের ভারসাম্য বজায় রেখেই পর্দায় হাজির করিনা কাপুর। ছবিতে তাঁর পাঠ বেশ কিছুটা কম থাকলেও তা এক ভিন্ন যাত্রা যোগ করে ছবিতে। 

চিত্রনাট্যঃ সামাজিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতে এই ছবি বেশ সময় উপযোগী। যেখানে মেধা ও স্বপ্নের মাঝখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। আংরেজি মিডিয়াম ছবির চিত্রনাট্য সেই গল্পই বলে। খুব সুক্ষ্মভাবে বাস্তবকে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিতে। যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে বাবা-মাকে নিয়ে সন্তানদের মধ্যে থাকা জড়তা। স্কুলে পাওয়া স্কলারসিপ যখন মা-বাবার উপস্থাপনার জন্য বাতিলের খাতায় চলে যায়, তখন পরিবারের ওপর দিয়ে, মা-বাবার ওপর দিয়ে কীরকমের মানসিক ঝড় বইতে পারে এই ছবি সেই কথাই তুলে ধরে। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিতে সিনেম্যাটোগ্রাফি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার না থাকলেও, প্রতিটা ফ্রেমই যেন এক কথায় অনবদ্য, প্রতিটি দৃশ্যই এক পূর্ণতা পেয়েছে। ছবির সেট থেকে শুরু করে লুক, পোশাক সমান অনুপাতে উপাদানগুলি দিয়ে ভরিয়ে তোলা হয়েছে ছবির দৃশ্যগুলিকে। যা এক কথায় বলতে গেলে ছবির মানকে বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

কথা-গানঃ ছবির গান লারকি মুক্তির পরই তা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে রাতারাতি। রেখা ভরদ্বাচের গলায় এই গান এক কথায় গোটা ছবির গল্প কলে কয়েক মিনিটের মধ্যে। এক মায়ের পথ চলা, পরিবারের গুরুজনদের সন্তানকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা, সন্তানকে আঁখরে পথ চলা এক কথায় সব অভিভাবকদেরই ভালোবাসা, কিন্তু কখনও কখনও পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ বদলে যায়। সেই গল্পই গানের পরতে-পরতে মিশে রইল।  

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু জায়গায় খানিক খামতির ছাপ থেকে গেল। ছবির দুই অর্ধের মধ্যে কোথাও যেন ব্যালেন্সের অভাব দেখা গেল। অনেক ছোট ছোট  বিষয় আলোকপাত করা যেতে পারত। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন আবেগের ছোঁয়া দিতে গিয়ে বেশ কিছু দিক অদেখাই থেকে গিয়েছে পরিচালকের দিক থেকে। 

সমালোচনাঃ ছবিটি প্রথম থেকে শেষ প্রযন্ত পরিবার কেন্দ্রিক। যা মা-বাবার সঙ্গে তাঁর সন্তানের সমীকরণকে সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তোলে। কিন্তু এই বিষয় আলোকপাত করতে গিয়ে কোথাও যেন ছবি বাকি অংশগুলো থেকে বেশ কিছুটা সরে গেল। তবে পরিবারের সঙ্গে যোগসূত্র, সন্তানের স্বপ্নের সঙ্গে অভিভাবকদের স্বপ্ন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা, অনুভূত, প্রতিটি সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম আবেগকেই ছুঁয়ে গেল এই ছবি। 

বিশ্লেষণঃ ছবির মূল জায়গা থেকে যদি বিশ্লেষণ করতে হয়, তবে তা এক কথায় বলতে গেলে এই ছবি মনকে ছুঁয়ে যাবে। যতটা মজার ছলে লেখা ছবির চিত্রনাট্য, ঠিক ততটাই সুন্দরভাবে পরিবারের আবেগকে তুলে ধরেছে আংরেজি মিডিয়াম। যা এক কথায় বলতে গেলে এক সন্তানের স্বপ্ন বুকে নিয়ে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবার পথ চলার পাঁচ কাহন।