পরিচালকঃ ভানু প্রতাপ সিং

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ ভিকি কৌশল, ভূমি পেডনেকর, আশুতোষ রানা

গল্পঃ পরিত্যক্ত একটি জাহাজ, যার পর্যবেক্ষণের ভার পরে ভিকি কৌশলের ওপর। গল্পের শুরু সেখান থেকেই। সেই জাহাজের ইতিহাসেই লুকিয়ে আছে রহস্য সূত্রপাত। একে একে গল্পের ভাঁজ খোলা, সেখান থেকেই ক্রমে গভীরে প্রবেশ করতে শুরু করেন ভিকি। অবশেষে পরিত্রাণ মেলে গল্পের মূলে প্রবেশ করে। না পাওয়া, আক্ষেপ ও জমে থাকা ক্ষোভের জেরেই জেরবার ভিকি। 

অভিনয়ঃ ছবিতে এক বিশেষ চরিত্রে দেখা যায় আশুতোষ রানাকে। সমস্যার সমাধানে তিনি যেন একমাত্র সুরাহার পথ দেখান। ভিকি কৌশলের স্ত্রীর চরিত্রে ভূমি পেডনেকর অনবদ্য। চরিত্রের মধ্যে ভারমাস্য বজায় রেখেই তিনি সকলের নজর কাড়লেন। তবে ছবির মধ্যে সর্বাধিক যা পাওয়ার তা হল ভিকি কৌশল। পর্দা জুড়ে কেবল তাঁরই উপস্থিতি পরতে-পরতে উপভোগ করার মত। 

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যের বুনটে বেশ খানিকটা খামতি থেকে গেল। প্রথম থেকেই গল্পের গতি যে দিকে ঘুরেছিল তা থেকে প্রত্যাশা বেশ খানিকটা বাড়লেও পরবর্তীতে তা ধরে রাখা গেল না। একটি ভুতের গল্পে যা যা উপকরণ থাকা উচিত এই ছবিতেও তা সবই রইল। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন গল্প মুন ছুঁল না। টান টান উত্তেজনার অভাব, পাশাপাশি গল্পের গতি বেজায় শিথিল, যা ছবিকে দুধাপ পিছিয়ে দিল। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিতে সিনেম্যাটোগ্রাফি সকলের নজর কাড়ার মত। সেট থেকে শুরু করে মেকআপ, লুক ও পোশাক, সবই এক কথায় পার্ফেক্ট। ছবিতে গ্রাফিক্সের কাজ রয়েছে একাধিক জায়গায়, প্রতিটি ফ্রেমেই এক ঝাঁ-চকচককে উপস্থাপনা, যা প্রশংসার দাবিদার। ছবিতে ক্যামেরার কাজ ছিল অনবদ্য। প্রতিটি সিক্যোয়েন্সকেই খুব যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই ছবিতে। 

পরিচালনাঃ ভূত ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আশা বিস্তর থাকলেও কোথাও গিয়ে হাড়হিম করা পরিস্থিতির সামনে দর্শকদের আনতে ব্যর্থ হলেন পরিচালক। ভূত-এ ভূতের দাপট সেভাবে চোখে পড়ল না। ভয়ের সিক্যোয়েন্স বাদ রাখলে ছবিটি এক কথায় অনবদ্য। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক থেকে শুরু করে ছবিতে গান, সবই এক কথায় অনবদ্য। ছবির দুই অধ্যায়কে খুব যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।