পরিচালকঃ সৃজিত মুখোপাধ্যায়

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রাইমা সেন, আবীর চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী, ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়

গল্পঃ বাইশে শ্রাবণ যেখানে শেষ হয়েছিল, দ্বিতীয় পুরুষ ছবির শুরু সেখান থেকেই। তখনকার নিজেরই পোড়খাওয়া সিনিয়র প্রবীর রায়চৌধুরীকে আততায়ী হিসেবে চিনিয়ে দেওয়া অভিজিৎ পাকড়াশী (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) এ ছবিতে এখন নিজেই অভিজ্ঞ  পুলিশ অফিসার । ট্যাংরার চিনেপাড়ায় ড্রাগ কারবারিদের ঝামেলায় পঁচিশ বছর আগে পর পর তিনটে  খুনে শহর কাঁপিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিল একটি দলের প্রধান খোকা নামের এক যুবক। টার্গেটকে কুপিয়ে খুনের পরে কপালে নিজের নাম খোদাই করে রেখে যাওয়াটাই ছিল তার অন্য়তম সিগনেচার। আর সে সময়ে খোকাকে পাকড়াও করেন ইনস্পেক্টর প্রণব রায়চৌধুরী (বাবুল সুপ্রিয়)। এরপরই গল্পের আসল টুইস্ট। যা টেনে নিয়ে যাবে দ্বিতীয় পুরুষ-র মূল গল্পে।

 আরও পড়ুন, 'যোগ্যতার কোনও চুলের স্টাইল হয় না', বিজ্ঞাপন বির্তকে নাম জড়াল মিমির

অভিনয়ঃ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এ ছবিতে আরও অনেকটা পরিনত। দৃশ্য়ে আসার আগেই ধূমপান বিরোধি সচেতনায় মিলবে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি।পুলিস অফিসারের চরিত্রে গৌরবকেও যথেষ্ট মানানসই লেগেছে।  সহ অভিনেতা সঙ্গে পরমের চোখে চোখে কথা বলা রীতিমত দক্ষতার ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে হাত চেটে ভাত খাওয়া হোক কিংবা ৪৬ টাকা চালের দাম, সবেতেই বাঙালিয়ানা আর বাস্তবতায় মিলেমিশে একাকার পরম। বাবুল সুপ্রিয়-র ভয়ঙ্কর রুপ আবার তারই সঙ্গে নীতিবোধ যা অসামান্য় লাগবে। প্রেমের দৃশ্য় হোক আর খুনের দৃশ্য় সবেতেই ভীষন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন অনির্বান ভট্টাচার্য। আবির এছবিতে স্বল্প সময় উপস্থিত হলে রেশ রেখে গিয়েছেন।  তবে খোকার মিষ্টি মুখের সঙ্গে খুনি চরিত্র ফুটিয়ে তোলা ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছে যথেষ্ট শক্ত ছিল। সেটা সে সফলভাবেই পার করেছেন। মনে দাগ কাটবে রাইমা-ঋধিমা প্রেমের দৃশ্য়গুলিও। 
   

চিত্রনাট্যঃ দ্বিতীয় পুরুষ ছবিতে বেশ অনেকগুলি খুনের দৃশ্য় আছে। তবে তার সঙ্গে সঙ্গেই যে সাহসী প্রেমের দৃশ্য়েগুলি আছে তা নিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছেন সৃজিত। ডর ছবির সংলাপ হোক কিংবা ডর কে আগে জিত হে মূল মন্ত্রই হোক, মন ভরাবে এই ছবির চিত্রনাট্য। তবে এই ছবির চরিত্রের সংলাপ রীতিমত দ্বিতীয় পুরুষ-র শিকড় । তাই বলা যেতেই পারে, শব্দ আগে দৃশ্য় পরে।


সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ দ্বিতীয় পুরুষ-র সিনেম্যাটোগ্রাফি করেছেন সৌমিক হালদার।  ট্যাংরার উপর থেকে নেওয়া শট থেকে শুরু করে ছবি শুরুর প্রথম খুন খোকার, সব দৃশ্য়েই আগের ছবির থেকে অনেক স্মার্ট সিনেম্যাটোগ্রাফি। তাই শুধু স্পট সিলেকশন নয়, সিনেম্যাটোগ্রাফি দিয়ে চেনা এলাকাকেই নতুন ফ্রেমে তুলে ধরেছেন তিনি। বিশেষ করে মনে থাকবে, ছাদের প্রেমের দৃশ্য়টা যেখানে পিছনে রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। তাই বলা যায়, পুরোনো সন্দেশ নিয়ে সাফল্ করে নতুন ফ্রেম নয় বরং মনের গভীরের অজানা স্বাদ তুলে ধরতে ওস্তাদ সৌমিক হালদার। 

আরও পড়ুন, শ্রাবন্তীর এ কী ভিডিও শেয়ার করলেন রোশন, মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল অভিনেত্রী

পরিচালনাঃ শেষ ছবি থেকে বরাবর সরে এসে নতুন ধারণার জন্ম দেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে দ্বিতীয় পুরুষ, বাইশে শ্রাবন-র সিক্য়ুয়েল। তাই মিল থাকবে কতটা কিংবা ধারাবাহিকতাই বা কতটা , নাকি আপাদমস্তক বদলে যাবে দ্বিতীয় পুরুষের গল্প। এই সব দ্বন্ধ  উধাও হয়ে যাবে ছবিটা দেখার পর। বাইশে শ্রাবন যারা দেখেননি, তাদের জন্য়ও ভেবেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। বরং আগে দেখা না থাকলেও দ্বিতীয় পুরুষ দেখার পর বাইশে শ্রাবন ফিরে যাওয়ার একটা প্রবল ইচ্ছে জন্মাবে। সৃজিত মুখোপাধ্যায় বরাবরই তার ছবি নিয়ে ভীষন নিঁখুত। তা সেটা কনস্টেবলের ঘুমানো আর থানার বড় বাবুর খোকাকে পেটানো, হিংস্রভাবে চাউমিন ফিসকাটলেট খাওয়ার সঙ্গে নিশ্বাসের শব্দ সবেতেই ভীষন ডিটেলিং ধরা পড়বে।  হালিম থেকে হোমের কনসেপ্ট সব জায়গাতেই শব্দ নিয়ে খেলায় সোদুকুর থেকেও সেরা সৃজিত। তাঁই রুচিসম্মত রোমহর্ষক গল্পের মাঝে যেমন মন খুলে হাসা যাবে, তেমন সূত্র মিলবে গোপন তথ্য়ের। অপরদিকে এটাও বলা যায় এই ছবির গানগুলির পিকচাইজেশন লিরিকের সঙ্গে সঠিক মাত্রায় মিশিয়েছেন সৃজিত।  এছবির কিছু মুহূর্ত দেখে গা ঘিনঘিন করে উঠলেও বমি পাবে না বরং আসতে পারে উল্টো ধারার স্রোত। বদলাতে পারে চিন্তা-ভাবনার প্য়ারামিটার। তাই সিনেমা হল ছাড়ার পর সব চরিত্রগুলি ছাপিয়ে কথাগুলি মনে রয়ে যাবে। শরীর বদলাতে পারে, বদলাতে পারে ঠোঁট  কিন্তু চুমুটা একই থাকবে। তাই বলা যায় প্রেমটাই থেকেই যায়, বাকি সব ব্রাত্য়। সম্পর্কের শহরে স্বাধীনতার বুননটা সৃজিত, দ্বিতীয় পুরুষ-এ সেরেই ফেলেছেন।