ছবির নামঃ লক্ষ্মী বম্ব 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অক্ষয় কুমার, কিয়ারা আদবানি, শরদ কেলকার, রাজেশ শর্মা

পরিচালকঃ রাঘব লরেন্স

গল্পঃ গল্পের ছলে একটা মানুষের তিলে তিলে বদলের গল্প লক্ষ্মী বম্ব। যা প্রতিটি ধাপে তৃতীয় লিঙ্গের জীবন খুব সুক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। অক্ষয় কুমারের ধীরে ধীরে সেই পথে হাঁটা, যা স্ত্রী কিয়ারা এক সময় বুঝতে পারে না। তবে ভুতের দাপট ক্রমেই বাড়ায় যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, তখন সকলেরই চোখে পড়ে লক্ষ্মীর ভয়াবহ রূপ। সেখান থেকে কীভাবে বেড়িয়ে আসা সম্ভব, তা জানা নেই অনেকেরই। ফলে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকেই এগিয়ে যায় অক্ষয় ও কিয়ারা, যার শেষ হয় ভয়াবহ। 

অভিনয়ঃ ছবির একটাই মাস্টার পিস, তা হল অক্ষয় কুমার। প্রথম ফ্রেম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত যে দাপটের সঙ্গে তিনি নিজের চরিত্র ধরে রেখেছেন, তা এক কথায় বলতে গেলে অবিভূত করে দর্শকদের। চরিত্রের ধীরে ধীরে পরিবর্তন, একটা সাধারণ পুরুষের হয়ে ওঠা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, সবই কাণায় কাণায় ভরে দিয়েছেন অভিনেতা। পাশাপাশি কিয়ারা তাঁকে সাপোর্ট দিলেও, তাঁর চরিত্র বেশ খানিকটা ফিকেই ছিল ছবি জুড়ে। তবে শরদ কেলকার এই ছবির এক ভিন্ন দিক তুলে ধরে, আসল লক্ষ্মীর চরিত্রে তিনি দাপটের সঙ্গে বাজিমাত করেছেন। 

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে অনেকগুলো দিক নজর কাড়ে। ট্রেলার দেখার পর অনেকেই বুঝে গিয়েছেন এটা একটা কমিডি ভুতের ছবি, তবে ভুত থাকলেও কমিডি খুব একটা চোখে পড়ে না। অর্থহীন মজার রসদেই ছবি পুরোপুরি মন জয় করতে পারল না। তবে ছবিকে যি দুটি ধাপে ভাগ করে যায়, তবে একদিক যেমন মানবিক ও সংবেদনশীল, ঠিক তেমনই অন্য দিকটা হতাশ করে অনেককেই। সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের যে সমস্যা দেখা যায়, তা খুব সুক্ষ্মতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে ছবির চিত্রনাট্যে। 

সংলাপঃ এই ছবির সংলাপে যদি কেউ মনে করে থাকে হাসির খোরাক রয়েছে ভরপুর, তবে কোথাও গিয়ে তা আপনাকে হতাশ করতে পারে। জোর করে হসানোর চেষ্টাই সার। কিছু কিছু জায়গাতে যেমন সংলাপ একদম কাণায় কাণায় পরিপূর্ণতা অর্জন করেছে, কোথাও গিয়ে আবার সেই সংলাপই ঠান্ডা করে তুলেছে পরিস্থিতি। তাই এই ছবির সংলাপে আরও বেশ কিছুটা ধার ও দাপটের প্রয়োজন ছিল বৈকি। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ সিনেম্যাটোগ্রাফি নিয়ে কোনও অভিযোগের জায়গা রাখেনি এই ছবি। গানের দৃশ্য থেকে শুরু করে প্রতিটা ফ্রেম, খুব যত্নের সঙ্গে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ততটাই সুন্দর ছবির সেট। বম্ব ভোলে গানেই সকলে মালুম পেয়েছে, এই ছবির প্রতিটা ধাপে ঠিক কতটা পার্ফেক্ট লুক তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই দিক থেকে এই ছবি নিরাশ করবে না দর্শকদের। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ ছিলেন পরিচালক। আর সেই সূত্র ধরেই তৈরি করা এই ছবি। যা সকলের নজর কাড়তে বাধ্য। ছবিকে দুই অধ্যায়ে ভাগ করে উপস্থাপনা করা হয়েছে। প্রথমে কমিডিকে অস্ত্র করে, পরবর্তীতে থ্রিলার, কিন্তু নয়া চমকের অপেক্ষায় থাকলে খুব একটা লাভ হবে না, ছবি পরিচালনাতে আরও একটু বুনট থাকতেই পারত। 

পর্যবেক্ষণঃ আপনি যদি অক্ষয়ের ভক্ত হন, তবে এই ছবি কোনও ভাবেই আপনার মিস করা চলবে না। কারণ নিজের ২০০ শতাংশ ঢেলে অভিনয় করেছেন অক্ষয়। তবে যদি কেউ মনে করে থাকেন, যে এই ছবি দেখে হাড় কাঁড়ানো ভয় লাগবে, তবে তাঁদের হতাশ হতেই হবে। তবে ছোট খাটো কয়েকটি দৃশ্য আছে যা আপনাকে খানিকটা চমকে দিতে পারে। তবে শেষ লড়াইটা আরও একটু বাস্তব হতে পারত।