পরিচালকঃ রাজ চক্রবর্তী

তারকাঃ দেব, রুক্মিনী মৈত্র, চন্দন সেন

গল্পঃ শহরের পরিচিত সাংবাদিক রুক্মিনী। ক্যামেরা হাতে যত্রতত্র পৌঁচ্ছে যান তিনি। ঘটনা চক্রে আলাপ হয় দেব-এর সঙ্গে। এরপর প্রেম, কিন্তু প্রেমের পরবর্তিতে সম্পর্ক আর এগোতে পারে না দুজনের। মাঝখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় সমাজের অন্ধকার দিক। কিডন্যাপ করা হয় রুক্মিনীকে। তারপরই ঘুরে যায় গল্পের মোড়। কীভাবে দেব পারবে রুক্মিনীকে ফিরিয়ে আনতে তারই গল্প বলে এই ছবি।

অভিনয়ঃ এই ছবিতে নিজেদের অভিনয় দক্ষতায় সকলের নজর কাড়লেন দুজন, দেব ও চন্দন সেন। অসহায় পিতার ভুমিকায় অনবদ্য অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করে নিলেন তিনি। খুব স্বাভাবিকভাবেই তার অস্থিরতা ও চাঞ্চলতা প্রকাশ্যে উঠে আসে সকলের। অন্যদিকে দেব-এর অভিনয় আগের থেকে অনেক বেশি পরিণত, পর্দায় তার প্রভাব পরতে পরতে লক্ষ্য করা গেল ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে। রুক্মিনীও নিজের ভূমিকায় যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ বজায় রেখেছে। সাংবাদিকের ভূমিকায় নিজেকে মানানসই করেই পর্দায় তুলে ধরলেন চরিত্রকে।

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যে সেভাবে কোথাও খামতি রইল না এই ছবিতে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই কিডন্যাপের ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে গল্পে। বানিজ্যিক ছবি হওয়ার সত্ত্বেও যত্নের সঙ্গে ছবিতে ফুঁটে উঠেছে সমাজ সচেতনতা বোধ। তবে মাঝে মধ্যে অযথাই অ্যাকশন সিকুয়েন্স ঢোকানোতে দর্শককে মনোসংযোগ হারাতে হয়। ছবির অপর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার চিত্র, যে পরিস্থিতির সন্মুখীন অহরহ হয়ে থাকেন অনেকেই।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ সিনেমাটোগ্রাফি ক্ষেত্রে এই ছবি আলাদা কোনও প্রভাব ফেলল না দর্শকের মনে। একটা বানিজ্যিক ছবিতে যেমন ক্যামেরার কাজ প্রয়োজন, সেই বিষয় মাথায় রেখেই ছবিতে শট বা টেক গুলো নেওয়া হয়। তবে গানের দৃশ্যে সিনেমাটোগ্রাফি নিসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। পর্দায় দেব ও রুক্মিনীকে খুবই সুন্দর দেখা প্রতিটি গানের দৃশ্যে। অ্যাকশন দৃশ্যের ক্যামেরাও যথেষ্ট পরিণত।

পরিচালনাঃ রাজ চক্রবর্তীর ছবি মানেই সেখানে আদ্যপান্ত জুড়ে থাকবে বানিজ্যিক ছবির স্বাদ। কিন্তু সেই পটভূমি থেকে খানিক সরে এলেন পরিচালক। ছবির মধ্যে সমাজের অন্ধকার দিকের ছবিতা খুব সুক্ষ্মভাবে তুলে ধরলেন তিনি। ফলেই ছবিটিকে মজার বা সম্পূর্ণ বিনোদনমূলক ছবির তকমা দেওয়া গেল না। তবে ছবির নেপথ্য সংগীত নিয়ে মনে কিন্তু থেকে গেল দর্শকের।