পরিচালকঃ মৈনাক ভৌমিক

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ আবির চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত

গল্পঃ একের পর এক খুন। ক্রমেই চিন্তার ভাঁজ পড়তে থাকে পুলিশ অভিকর্তাদের কপালে। এই কেস-এর দায়িত্ব নেন পুলিশ অফিসার ধনঞ্জয়, খুনির কৌশলে কিছুতেই বাগে পাচ্ছেন না তিনি। ফলে বিষন্নতা গ্রাস করতে থাকে। একদিকে এক অভিনেতার জীবনের একাকিত্ব, অন্য দিকে খুনির চক্রান্ত, পরিশেষে কোন সমীকরণে গিয়ে  মিলবে এই দুই তা নিয়েই তৈরি ছবির প্লট।  

অভিনয়ঃ  অনবদ্য অভিনয়ে নজর কাড়লেন আবির চট্টোপাধ্যায়। এত দিন তাঁকে গোয়েন্দার ভুমিকায় পেয়ে এসেছিলেন দর্শক। এবার নেগেটিভ চরিত্রেও বাজিমাত করতেন তিনি। যাকে বলে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। পর্দায় এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। যদিও চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী আবির চট্টোপাধ্যায়ের ভুমিকা ছবির পরতে পরতে অনুভব করা গেল, তেমনই যিশু সেনগুপ্তর সাবলীল অভিনয়ের বুনটে বর্ণপরিচয় দুইয়ে দুইয়ে চার হল।

চিত্রনাট্যঃ সিরিয়াল কিলিং কিংবা হত্যা কাণ্ড নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ছবি হয়েছে অনেক। কিন্তু এই ছবির চিত্রনাট্য এত সুন্দর ধাঁচে গড়া যাতে শেষ পর্যন্তই তা টান টান উত্তেজনা ধরে রাখতে সক্ষম। ছবির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে একবারও খুনের মোটিফ স্পষ্ট হয়নি। যার ফলে কৌতুহল রয়ে যায় শেষ পর্যন্তই। একজন শিক্ষক, তিনিই খুনি, কীভাবে এত সুস্থ ও স্বাভাবিক আচরণের মধ্যে দিয়েও একজন খলনায়ককে উপস্থাপনা করা যায়, তা এই ছবি না দেখলে বোঝা দায়।   

সিনেমাটোগ্রাফিঃ বর্ণপরিচয় ছবির সিনেমাটোগ্রাফি অনবদ্য। প্রতিটি মুহুর্তেই লাইট, ক্যামেরার ব্যবহারে নজর কাড়ে। বিভিন্ন কোণ থেকে নেওয়া বিভিন্ন শটে ছবির অন্তর্নিহিত গল্প যে আরও বেশি পর্দায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, তা ছবিটি দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিটি মুহুর্তে ছবিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে এই ছবির সিনেমাটোগ্রাফি। সাসপেন্স ধরে রাখার জন্যও এই ছবির ক্যামেরার ভুমিকা অনস্বীকার্য।


পরিচালনাঃ এই ছবির পরিচালনা নিয়ে আলাদা করেই বাহবা প্রাপ্তি হওয়া উচিত পরিচালক মৈনাক ভৌমিকের। নিজের নির্দিষ্ট জোন থেকে বাইরে বেড়িয়ে গিয়ে এই ছবি  তৈরি করা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম পদক্ষেপেই বাজিমাত। অনবদ্য গল্প বলার ধরণ। প্রতিটি ধাঁধাঁ, কৌশল, ক্লু প্রভৃতি ক্ষেত্রেই যেন ছবিটি এক বিশেষমাত্রা পেয়েছে। ফলে এই ছবির খামতি অনেকাংশে চাপা পরে যায় পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিতে।