পরিচালকঃ অংশমান প্রত্যুষ

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ জিৎ, শ্রদ্ধা দাস, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, রূপাঞ্জনা মিত্র, সুদীপা মুখোপাধ্যায়

গল্পঃ প্যান্থার, একজন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আন্ডার কভার এজেন্ট। মুম্বই বিষ্ফোরণের পর সেই মামলায় জড়িয়ে থাকা মাথাদের খুঁজে পেতে তৎপর তিনি। কখনও সরকারের সাহায্য পেয়েছেন, কখনও আবার বিনা অনুমতিতেই বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। শুধু মাত্র সন্ত্রাস দমনই নয়, সঙ্গে বহু মানুষের প্রাণের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। কীভাবে পারবে প্যান্থার একা এত বড় ভার নেবে, ছবি সেই গল্পই বলে।

অভিনয়ঃ ছবির আদ্যপান্ত জুড়েই কেবল জিৎ। প্যান্থারের মনোসংযোগ, জেদ, তেজ, ক্রোধ, ডেডিকেশন অভাব ছিল না কিছুরই। তবে ছবিতে এটুকুই সম্বল। বাকিদের অস্তিত্ব সেখানে বোঝা গেল না। কোথাও গিয়ে অভিনয় খানিকটা বেশি হয়ে যাওয়ায় তা চোখে যেমন লাগে তেমনই আজার জিৎ-ভরপুর অ্যাকশনে দর্শকের ছবিটি দেখার প্রতি কৌতুহল জাগে। সামান্য ভিন্ন স্বাদে নিজেকে উপস্থাপনা করলেন অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। 

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য খুব যত্নের সঙ্গে লেখা হলেও বেশ কিছু জায়গায় খামতি নজরে আসে। প্রথম থেকেই ছবিতে যে উত্তেজনা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন পরিচালক তা কোথাও যেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যায়। ছবির বেশ কয়েকটি দৃশ্যে বাস্তবের সঙ্গে ফারাকও মিলল খানিক। যার ফলে কোথাও যেন মনে হল প্যান্থারকে একটু বেশিই ফলাও করে পর্দায় উপস্থাপনা করাতে গিয়ে ছবির বাকি দিকে খামতি রয়েগেল।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। বেশ পরিণত ক্যামেরার কাজ। অ্যাকশন ছবিতে যে ধরনের ক্যামেরার কাজ প্রয়োজন তা যেন মেপে ঝুপে করা হয়েছে। পর্দায় জিৎ-এর উপস্থিতিও খুব সুন্দরভাবে ধরা দেয়। তবে গ্রাফিক্স বা গ্রিন স্ক্রিনের আরও একটু বেশি যত্নশীল হলে তা চোখে ধরত।

পরিচালকনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে এই ছবি এক ধাপ এগিয়ে গেল। কারণ ছবির দুই অধ্যায় পরিচালক খুব যত্নের সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোথাও যেন খামতি থাকে ছবির সংলাপকে ঘিরে। তবে টলিউডে এই ধাঁচের ছবি এর আগে সেভাবে না হওয়ায় পরিচালনায় এক বিশেষমাত্রা পেল এই ছবি।