পরিচালকঃ সুজিত 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ প্রভাস, শ্রদ্ধা কাপুর, অরুন বিজয়, নীল নিতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফ

গল্পঃ বিশাল সাম্রাজ্য জুড়ে যেন শুধুই বিশ্বাস ঘাতকদের রাজত্ব। কাউকেই যেন বিশ্বার করে ওঠা দায়। তবে এরই মাঝে কোথাও যেন একজনের আধিপত্য রয়েছে, কিন্তু তিনি নিজে কতটা সোজা পথে আর কতটাই উল্টোপথের মানুষ তা বোঝা দায়। সমাজের সেই অন্ধকার দিকের রহস্য সমাধানের জন্যই গল্পের শ্রদ্ধার উপস্থিতি, সেখান থেকেই প্রভাসের সঙ্গে দেখা ও সম্পর্ক গড়ে ওঠা। গল্পে শ্রদ্ধা কাপুর ক্রাইম অফিসার। একই সঙ্গে থাকা মিশনের দৌলতে সম্পর্ক। তবে তার পরিণতি কী, উত্তর মিলবে ছবির দ্বিতীয়ার্ধে। 

অভিনয়ঃ ছবিতে মূল ভুমিকায় থাকা প্রভাসই যেন গল্পের বাহুবলী। তাঁর আচার ব্যবহারে সেই দিকই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, অভিনয়ের তিনিই যেন দাপিয়ে বেড়ালেন সাহো। অনবদ্য অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স। প্রভাসের উপস্থিতিও নজর কাড়ল সকলের। কিন্তু ততটাই নিরাশ হতে হলে শ্রদ্ধা কাপুরের অভিনয় দেখে। শ্রদ্ধার উপস্থিতিতে ছিল অপরিণত অভিনয়ের ছাপ। ফলে অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যালেন্সের অভাব দেখা দিল ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে।  

চিত্রনাট্যঃ সাহো ছবির সব থেকে বড় দুর্বলতা ছবির চিত্রনাট্য। সেখানে গল্প কম, অ্যাকশনই যেন বেশি। ঢেলে সাজানোর ঠেলায় কোথায় যেন ছবির গল্পই দানা বাঁধতে পারল না। অন্য দিকে ছবির ভিএফএক্স-এর কাজ থেকে শুরু করে গ্রিনস্ক্রিন শ্যুট, সব দিক থেকেই যেন সাহো ছবিতে খামতির আভাস মিলল। ছবির চিত্রনাট্য একটু জোরালো হলে হয়তো বাকি খামতিগুলো পূরণে খানিক সার্থক হত সাহো। প্রয়োজনের বেশি ভিলেনের উপস্থিতিতে ছবি যেন আরও দুর্বল হয়ে ধরা দিল।  

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফিটাই যেন প্রাপ্তি। অনবদ্য ক্যামেরার কাজ। লোকেশন শ্যুটিং থেকে পর্দা জুড়ে ঝাঁচকচকে বিষয়, সবই দর্শকদের বেশ মনোরঞ্জন করল। গানের দৃশ্যগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। মোটের ওপর সিনেম্যাটোগ্রাফি নিয়ে কোনও খামতি রইল না সাহো ছবিতে। ছবির সেটও অনবদ্য।   

পরিচালনাঃ সাহো-র পরিচালনার অনেক দিক রয়েছে যা দর্শকদের মনোসংযোগ ধরে রাখতে ব্যার্থ হল। ছবির প্রথমার্ধ থেকেই পর্দায় কেবলই অ্যাকশন। ফলে দর্শক গল্পের মধ্যে প্রবেশ করতে পারলেন না সেভাবে। ছবির উপস্থাপনা আরও বেশি জোরালো হতে পারত। অযথা ছবিকে টেনে বড় করা হয়। খানিকটা হাস্যরসের উপস্থিতি থাকতেই পারত ছবিতে।