পরিচালকঃ নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অনুসুয়া মজুমদার, নাইজেল আকারা, মানালি দে

গল্পঃ সাবেকি বাড়ি আগলে বসে থাকা প্রবীণ মানুষদের অসহায়তার গল্পই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। গোবিন্দ ধাম, সেই বাড়ির গিন্নি গোঁড়া হিন্দু। তাঁর বাড়ি রক্ষার জন্যই নিয়োগ করা হয় নাইজেলকে। তিনি হলেন একজন মুসলমান। তার ওপর আবার জেল খাটা আসামী। কিন্তু এই দুই মানুষের মধ্যেই একদিন মা-ছেলের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। এবং এই সম্পর্কই প্রমাণ করে দেয় কাছের মানুষ হতে গেলে গোত্র লাগে না।

অভিনয়ঃ ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন অনুসুয়া মজুমদার। তাঁকে ঘিরেই গল্প। ফলে তাঁর অভিনয়ের দাপটই নজরে পরে ছবিতে। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কম থাকায় নিজের জায়গায় খানিকটা বজায় রাখতে অক্ষম হলেন নাইজেল। যদিও চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেননি তিনি। তবে মানালির চরিত্রে আরও কিছু থাকতে পারত। আপাদ মস্তক মজার ছলে সময় কাটানো ছাড়া অভিনয়ের জায়গাই পায়নি মানালি। 

চিত্রনাট্যঃ বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই ছবি যথেষ্ট প্রসঙ্গিক। প্রবীণ মানুষদের অসহায় পরিস্থিতির ইঙ্গিতই ছিল এই ছবির পরতে পরতে। মা-ছেলের সম্পর্কের উষ্ণতাও নজরে পরে। তবে কোথাও যেন ফিকে হয়ে যায় ছবির দ্বিতীয়ার্ধ। গল্পের মধ্যে নতুন কোনও মোড় কিংবা চমকের খানিক অভাব রইল। সমাজে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুভুতিটাই সব, গোত্র কিংবা ধর্ম নয়, এই মর্মেই লেখা ছবির চিত্রনাট্য।   

সিনেমাটোগ্রাফিঃ সিনেমাটোগ্রাফির দিক থেকে ছবিটি আর পাঁচটা ছবির মতই স্বাবলীল। প্রতিটি ফ্রেমকেই খুব যত্নে সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ক্রিয়েটিভ কম আর বাস্তবের ছোঁয়াই যেন বেশি থাকে গোত্র ছবিতে। গানের অংশ বেশ সুন্দর করে সাজিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেট চাহিদা অনুযায়ী মানানসই।  

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে এই দুই পরিচালক খামতি রাখেন না কখনই। তেমনই ছবির চাহিদা অনুযায়ী তা সাজিয়ে ফেলা হল যত্ন সহকারে। গোত্র ছবির সংলাপও এই ছবির এক বিশেষ দিক। তবে প্রথমার্ধ বেশি মনোসংযোগ ধরে রাখে দর্শকদের।