ছবিঃ গুলাব সিতাব

পরিচালকঃ সুজিত সরকার

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অমিতাভ বচ্চন, আয়ুষ্মান খুরানা, বিজয় রাজ

গল্পঃ এক কিটপটে বুড়ো বাড়িওয়ালা। ভেঙে পড়া বাড়ি যিনি আগলে রেখেছেন, তবুও তা সারাতে নারাজ। এমনই এক বাড়িতে ভাড়া থাকেন আয়ুষ্মান। বাড়ির সকল ভাড়াতের সঙ্গে বাড়িওয়ালা অমিতাভের নিত্য অশান্তি। তিনিও বাড়ি সারাবেন না, বাকিরাও ছাড়বেন না। এমনই সময় গল্পে উপস্থিত আর্কিওলজিস্ট, যিনি বাড়িটি আর্কিওলজির আওতায় আনার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু অমিতাভও ছাড়ার পাত্র নন, এমনই সময় গল্প নেয় নয়া মোড়। 

অভিনয়ঃ গুলাব সিতাব গল্পের প্রাণকেন্দ্রই হল অনবদ্য অভিনয়। দুই তারকার মধ্যে থাকা নজরকাড়া যুগলবন্দীতেই এক কথায় বাজিমাত। একদিকে যেমন অমিতাভ বচ্চন নিজের উপস্থিতিকেই বিশেষ করে তুলেছেন পর্দায়, ঠিক তেমনই ভারসাম্য বজায় রেখে সঙ্গত দিয়ে চলেছেন আয়ুষ্মান, যা এক কথায় ছবিটিকে সার্থক করে তুলেছে। 

চিত্রনাট্যঃ টান টান উত্তেজনার থ্রিলার নয়, কিংবা পারিবারিক গল্প বা বায়োপিক নয়, একটি সমীকরণের ওপর তৈরি ছবি সুলাব সিতাব, যেখানে এক বৃদ্ধ মানুষের জরাজীর্ণ বাড়ি ও ভাড়া না দিয়ে থাকা ভাড়াটের সম্পর্ক। ছবির সংলাপই মূল উপভোগ্য বিষয়। হাস্য কৌতুক থেকে শুরু করে মজার ধারালো অস্ত্রই ছবির প্রতিটি সংলাপ। যা বুনেছেন দিনেশ পান্থ, পুনিত শর্মা ও বিনোদ দুবে। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ অভিক মুখোপাধ্যায়, তিন তিন বার জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত এই সিনেম্যাটোগ্রাফারের হাতেই ছবির ভার তুলে দিয়েছিলেন পরিচালক। লক্ষ্ণৌয়ের ওলি গলি থেকে শুরু করে পুরোনো ম্যানসন, ধুসর রঙের ফ্রেম, ভেঙে পড়া বাড়ির দিন আনা দিন খাওয়া মালিক, প্রতিটা চরিত্রই প্রাণ পায় তাঁর ক্যামেরার মধ্যে দিয়ে। পাশা পাশি ছবির সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে উপস্থাপনা, সবতেই কোনও খামতি রাখতে ছাড়েননি সুজিত সরকারের টিম। 

মেকআপঃ গুলাব সিতাব ছবির সব থেকে বড় আকর্ষণ ছিল অমিতাভ বচ্চনের প্রস্থেটিক মেকআপ। তাঁর কুঁজো হয়ে চলা থেকে শুরু করে তাঁর লুক, অভিনেতার এই মেকআপ করে থাকতে বেজায় সমস্যা হলেও চরিত্রের জন্য যেন এটাই আদর্শ, পাশাপাশি আয়ুষ্মানের ছাপসা লুক, যিনি নিজেকে প্রতিটা মুহূর্তে গরিব বলে দাবি করেন, তাঁরও পোশা থেকে লুকেই মূল বিশেষত্ব ফুঁটে ওঠে ছবিতে। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে সুজিত সরকার প্রতিটা ছবির মত এই ছবিতেও কোনও খামতি রাখেননি। তবে ছবির দুই অধ্যায়ের মধ্যে বেশ কিছুটা ফারাক। সময়ের ব্যবধানে একে একে চরিত্রের প্রবেশ। পরবর্তীতে যা ভিন্ন মোড় নেয় গল্পে। এক সাধারণ গল্পকে সংলাপের মার প্যাঁচে তুলে ধরা পর্দায়। গল্পের গতি সেভাবে না থাকলেও ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে থাকা খানিক একঘেয়েমি চোখে পড়তে পারে দর্শকদের। 

সমালোচনাঃ গুলাব সিতাব ছবিটি যতটা আনন্দ দেয় সংলাপে, ছবির অন্যদিকগুলো ঠিক ততটা ভারসাম্য বজায় রাখতে অক্ষম। যদিও এক হালকা চালের মজার ছবির রূপ দিতে চেয়েছিলেন পরিচালক সুজিত সরকার, আর সেই ক্ষেত্রে এক কথায় সফল ছবি। কিন্তু দুই বাঘা বাঘা অভিনেতাকে নিয়ে আরও খানিকটা বেশি এক্সপেরিমেন্টে আশা করেছিল দর্শক।