ছবিঃ ভারত

পরিচালকঃ আলি আব্বাস জাফর

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ সলমন খান, ক্যাটরিনা কাইফ, দিশা পাটানী

গল্পঃ ভারত, একটি শিশু। যে নিজের শৈশব  ভুলে পরিবারের দায়ভার মাথায় তুলে নিয়েছিল। জীবনের নানা মোড়ে কী-ভাবে প্রতিকূলতার সন্মুখীন হতে হয় ভারতকে? কীভাবে সেই পরিস্থিতিতে পরিবারকে ধরে রাখার চেষ্টা করে চলে ভারত? এই ছবি সেই গল্পই বলেছে। তবুও কোথাও যেন নিজের জীবন নিয়ে অনুতপ্ত নয় ভারত। ভাগ্যকে দোষারোপ না করেই কীভাবে নিজের জীবন যুদ্ধ চালায় সে তারই গল্প ধরা পরে ছবির প্রেক্ষাপটে।

অভিনয়ঃ পর্দায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ। 'জিরো' ছবিতে শাহরুখ খানের বিপরীতে তাঁকে দর্শক পেলেও সলমন খান-এর বিপরীতে অনেক বেশি স্বাভাবিক লেগেছে নায়িকাকে। তাঁর জীবনের সেরা অভিনয়ের তালিকায় ভারত নতুন সংযোজন। ছবির প্রেক্ষাপটের সঙ্গে চরিত্রকে সামানসই করে তুলেছিলেন ক্যাটরিনা। অন্যদিকে সলমন খান প্রতিবারের মতই এই ছবিতে এক বিশেষ প্রভাব ফেললেন। ইমোশন, ছবির প্রেক্ষাপটে যখন এই বিষয়টি থাকে, তখনই সলমন খানকে এক অন্য ভূমিকায় পেয়ে থাকেন দর্শকরা। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হল না।

সলমন-ক্যাটরিনা রসায়ণ- একটু ভিন্নভাবেই এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে দু'জনের  সম্পর্ককে। ক্যাটরিনা তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যতটা ওয়াকিবহাল, সলমনকে ততটা সজাগ দেখানো হয়নি চিত্রনাট্যে। প্রেমের সম্পর্ক রূপায়ণে সলমনকে কখন-ই না বলতে দেখা যায়নি। কিন্তু, কোথাও যেন ক্যাটরিনার সঙ্গে প্রেমের মানসিকতায় একটা ভিন্ন মেরুতেই সলমনের অবস্থানকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। ক্যাটরিনা তাঁর স্বপ্ন ও জীবনকে সলমনের সঙ্গে বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু, সলমনের চোখে ক্যাটরিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেন জীবনের একটা  অংশ। এর বেশি কিছু নয়। সলমনের এমন চরিত্র বৈশিষ্ঠ্য জানার পরও ক্যাটরিনা সবকিছু হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। এই দুই সত্তার এই প্রেমকে অসাধরণ অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন সলমন ও ক্যাটরিনা দুজনেই। 

চিত্রনাট্যঃ 'ভারত' ছবির প্রেক্ষাপট জুড়ে রয়েছে এক জীবন-যুদ্ধের গল্প। শৈশবেই যাঁর কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব বর্তায়। যাঁর লক্ষ পরিবারকে পুনরায় এক করা। ইতিহাসের সূত্র টেনে খুব সুন্দরভাবে শুরু হয় ভারতের গল্প বলা। ছবির সংলাপ, সিকুয়েন্স প্রভৃতিতেই অতিমাত্রায় দেশ বিভাজনের সমস্যাকে কোথাও চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ়তা, প্রতিজ্ঞা পালনের লক্ষ্যে স্থির ভারত-এর জীবনী খুব সুক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে গল্পের মধ্যে দিয়ে। বন্ধুত্ব, পরিবার, সম্পর্ক সব উপকরণেরই কম বেশি দেখা মিলল ছবির চিত্রনাট্যে।  

সিনেমাটোগ্রাফিঃ  ছবিতে সিনেম্যাটোগ্রাফির একটি বিশেষ দিক রয়েছে, গোটা ছবি জুড়েই সলমন-ক্যাটরিনাকে পর্দায় খুব সন্দুর ভাবে তুলে ধরা  হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি গানের ক্ষেত্রেও সিনেমাটোগ্রাফি অতিরিক্ত আকর্ষণের এক জায়গা করে দেয়। ছবিতে বেশ কয়েকটি জায়গায় সেট ও গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে যা গল্প বলার ধরণকে অনেকাংশে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও রকম খামতি রাখেননি পরিচালক। প্রতিটি পদেই নিখুঁতভাবে 'ভারত'-এর জার্নিকে তুলে ধরেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়েছে গল্প, তারই সঙ্গে বদলেছে সলমন খানের চরিত্রের ভাঁজ। বয়সের প্রতিটি ধাপেই সলমন খানকে এক ভিন্ন লুকে উপস্থাপন করার চেষ্টা সকলের নজর কাড়ে। তবে ছবির গতির সঙ্গে গতানুগতিক কমার্শিয়াল ছবির মিল নেই। এর ফলে কোথাও যেন একটু খামতি থেকে গেল বলেই মনে করছেন অনেক সল্লু ভক্ত। তবে 'ভারত' ছবিকে অতিরিক্ত মাইলেজ দিয়েছে এই ছবির মিউজিক।