পরিচালকঃ সন্দীপ রেড্ডি ভার্গা 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ শাহিদ কাপুর, কিয়ারা আদভানি 
গল্পঃ মেডিকেল কলেজের শ্রেষ্ঠ ছাত্র কবির। বছরের পর বছর তিনিই প্রথম স্থান অধিকার করে নজর কাড়েন সকলের। তবে জীবনে সাফল্যের পথে বাধ সাদে তার জেদ, তেজ ও বদমেজাজ। তবে তা নিছকই সাধারণ কারণ বশত নয়, যদি কেউ কবির সিং-এর চলার পথের কাঁটা হত তবেই বেড়িয়ে পড়ত তার আসল রূপ। যা তার প্রেমের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে সক্ষম হল। সেখান থেকেই না পাওয়ার যন্ত্রণা, কষ্ঠ, ও বদলে যাওয়া জীবনের ছন্দে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে কবির, তারই গল্প বলে এই ছবি।

অভিনয়ঃ ছবির প্রথম থেকে শেষ অংশ পর্যন্ত নজর কাড়ে কেবলই শাহিদ কাপুরের অভিনয়। বহু দিনপর যেন পুনরায় নিজের সবটুকু নিংড়ে দিলেন এই অভিনেতা। কলেজের নবাগতার ভূমিকায় কিয়ারার অভিনয়ও অনবদ্য।  কলেজে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের মধ্যে নতুন প্রেম, সেখান থেকেই জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখা, অন্ধের মতন ভালোবেসে প্রেমিকের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে ওঠা, সব দিক থেকেই ছবিতে শাহিদ কাপুরের উগ্রতাকে সমানতালে ব্যালেন্স করে গেছেন কিয়ারা। অন্যদিকে পরিণত অবস্থায় শাহিদের জীবনের প্রতি বদলাতে থাকা দৃষ্টিভঙ্গিও ছবিতে এক নতুন স্বাদ এনে দেয়, যা দর্শকের মনে সহজেই দাগ কেটে যায়।


চিত্রনাট্যঃ একদিকে প্রেম, জীবনের স্বপ্ন, কেরিয়ায় ওপর দিকে নিজের একাগ্রতা, একগুঁয়েমি ও তেজ, দুয়ের ব্যলেন্স করতে না পারার যন্ত্রণা খুব নিখুঁত ভাবে ধরা দিয়েছে ছবির চিত্রনাট্যে। ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে টানটান প্রেম, কলেজ ক্যাম্পাস মাতিয়ে সকলের নজর কেড়ে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, সেখান থেকেই পাশ করে বেড়িয়ে যাওয়ার পর সম্পর্কের দুরত্বে নতুন মোড়, সবই যখন মিলে মিশে একাকার হয়ে ওঠে তখনই শুরু হয় ছবির দ্বিতীয়ার্ধের টানাপোড়েন। তবে কোথাও যেন ছবির সংলাপে খানিক নিরাশ হলেন দর্শকের একাংশ। যেখানে দেখানো হচ্ছে গল্পের অভিনেতা তথা হিরো এক প্রকার চর মেরে প্রেমিকাকে বোঝানোর চেষ্টায় উদ্যত যে তিনি ছাড়া তার প্রেমিকার কোনও অস্তিত্বও থাকতে পারে না। এইখানেই চিত্রনাট্য খানিক দুর্বল হয়ে পরে।

 
সিনেমাটোগ্রাফিঃ ছবির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এক ঝাঁচকচকে, সুন্দর ক্যামেরার উপস্থাপনায় নজর কাড়ে সকলের। প্রতিটি গানের দৃশ্য খুব যত্নের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে। পর্দায় শাহিদ কাপুর ও কিয়ারার উপস্থাপনাও নজর কাড়ে। তবে ছবির দ্বিতীয়ার্ধে অধিকাংশ শ্যুটিংটাই হয় ঘরের মধ্যে। যার ফলে ক্যামেরার কোনও বিশেষ কাজ লক্ষ্য করা গেল না এই অংশে। এছাড়া সাধারণ ও স্বাভাবিকভাবেই ক্যামেরার সাবলীলতা বজায় থাকে ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে।


পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনা নিয়ে কোনও রকম কিন্তু রাখেননি পরিচালক। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছবিতে যথেষ্ট উত্তেজনা বজায় ছিল। গল্পের সেভাবে উপাদান না থাকলেও তা এতো যত্নের সঙ্গে তুলে ধরেছেন পরিচালক যে ছবির শেষ পর্যন্তই দর্শক অপেক্ষায় ছিলেন নয়া মোড়ের। তবে প্রথম থেকে ছবিটি দেখে ঠিক যেমন পরিণতির কথা মনে হয়েছিল দর্শকের শেষে তা অনেকাংশে বদলে যায়। তবে সময় বদলালেও কোথাও কোনও অংশে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি অভিনেতা, ফলে পরিচালক এই বিষয় প্রশংসার কোড়ালেন যথেষ্ট।