পরিচালকঃ নিতেশ তিওয়ারি

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ সুশান্ত সিং রাজপুত, শ্রদ্ধা কাপুর, প্রতিক বব্বর

গল্পঃ সমাজের বিভিন্ন অবস্থার পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলে মেয়েরা কলেজের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালো ফল করে। কিন্তু হোস্টেলে নিজেদের কোথাও যেন মানিয়ে নিতে সামান্য অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়, এমনই পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধানে আসে তাঁদের পরিবারের সকলে। পাশে এসে দাঁড়ায়। তখনই তাঁরা আবিষ্কার করে নিজেদের কলেজ জীবনের বেশ কিছু বন্ধুকে। বহুবছর পর আবারও ফিরে পাওয়া কলেজ জীবনের স্বাদ। এমনই আঙ্গিকে তৈরি ছবির গল্প। 

অভিনয়ঃ প্রত্যেকেই নিজ নিজ ভুমিকায় অনবদ্য। প্রত্যেকেই নিজের চরিত্রের মধ্যে একাধিক সেড তৈরি করতে সক্ষম ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়ে যাওয়া মানসিকতা, লুক ও চরিত্রের উপস্থাপনা যেন এই ছবির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেখান থেকে সম্পর্কগুলোর সঙ্গে বাস্তবের সমস্যা অনেকখানি রিলেট করতে সক্ষম হন দর্শকেরা।  

চিত্রনাট্যঃ খুব সুন্দর করে এই ছবিতে দেখানো হয়েছে কলেজ জীবনের চিত্র। পরিবার থেকে প্রথম পা রাখা তরুণ তরুণীদের বিভিন্ন সময় যে ধরনের সমস্যারগুলোর সন্মুখীন হতে হয়, সেই গল্পই ফুঁটে উঠেছে এই ছবির চিত্রনাটে। হস্টেল জীবনে মানিয়ে না থাকতে পারার সমস্যায় আত্মহত্যা করতে যাওয়া পড়ুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার গল্প অনেক বেশি আকর্ষণ করে দর্শকদের। অনবদ্য ছবির সংলাপ। মজার ছলে গল্পের নাটকিয় উপস্থাপনাতে ছিছোড়ে ছবির বাজিমাত। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিতে ক্যামেরার কোনও বিশেষ কাজ ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ছবিকে উপস্থাপনা করা হল দর্শকদের সন্মুখে। সেই দিকে তাকিয়ে দেখলে ছবির সেট অনেক বেশি আকর্ষণীয় ছিল। বেশি গ্রাফিক্সের কাজ ছিল না। সাধারণভাবেই গল্পকে তুলে ধরা হল পর্দায়। যা এই ছবির একটি ইউএসপি হয়ে ধরা দেয়।    

পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনা নিয়ে তেমন কোনও আক্ষেপ রইল না দর্শকদের। মোটের ওপর এই ছবিটি ভালোই লাগবে দরশকদের। গল্পের প্রথমার্ধ অনেক বেশি জোরালো। যাঁরা থ্রি ইডিয়টস ছবিটি দেখেছেন তাঁরা হয়তো অনেকটা এই ছবির গল্পকে রিলেট করতে পারবেন। বেশ কিছু জায়গায় খামতি থাকল গল্পের বুনটে। যার ফলে বেশ কিছু জায়গায় মননোসংযোগ হারায় দর্শকদের।