পরিচালকঃ প্রকাশ কোভেলামুদি

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ রাজকুমার রাও, কাঙ্গনা রানওয়াত, জিমি সেইগেল

গল্পঃ ডাবিং আর্টিস্ট ববি ( কঙ্গনা রানওয়াত)-এর মনে একটাই প্রশ্ন- এক দম্পতির জীবন এতটা কী করে স্বাভাবিক হতে পারে! এতটা নিখুঁত হতে পারে! এক দম্পতিকে দেখে রীতিমতন চোখে চোখে রাখার যোগার ববির। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ঘটে এক হত্যা। যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এই দম্পতিরই নাম। তখন থেকেই সম্পর্ক, সন্দেহ ও তাকে ঘিরে জল্পনায় ছবির গল্প নেয় নয়া মোড়। 

অভিনয়ঃ  ববির চরিত্রে অনবদ্য কঙ্গনা রানওয়াত। প্রতিটা মুহূর্তে চরিত্রটিকে সার্থক করে তোলার জন্য যেভাবে নিজেকে গড়ে পিঠে নিয়েছে কঙ্গনা না নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। মানসিক ভাবে সাময়িক অসুস্থ ববি। কোনও চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার সময় তারই মধ্যে ঢুকে যায়, এবং নিজের মধ্যে সেই চরিত্রের বৈশিষ্টগুলি ঢুকিয়ে নেয়। ফলে একই ছবিতে বিভিন্ন মুহুর্তে বিভিন্ন মুডে পাওয়া যায় কঙ্গনাকে। অন্যদিকে রাজকুমারের চরিত্রটিও বেশ নজর কাড়ে। তবে কঙ্গনার অভিনয়ের পাশে রাজকুমারের অভিনয় খানিকটা চাপা পরে যায়।

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনা করা হয়েছে। বাস্তব ও ভারচুয়াল জগতের মধ্যে পার্থক্যটা হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। এই ধরনের মানসিক সমস্যা নতুন নয়। যারা শব্দ দেয়, বা কণ্ঠ দেয় তাদের মধ্যে এই ধরনের মানসিক সমস্যা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। সেই সমস্যাকেই খুব সুক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই ছবির চিত্রনাট্যে। ছবির গল্পের মধ্যে কৌতুহলের জায়গা ধরে রাখার জন্য একটি হত্যার সিক্যুয়েন্সও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। যাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে চলে পরবর্তীতে।   

সিনেমাটোগ্রাফিঃ একটা স্বাভাবিক সাধারণ জীবনের খোঁজ করছেন, এমন একজনের জীবনের গল্প পর্দায় তুলেধরতে ক্যামেরার খানিক চাঞ্চলতা লক্ষ্য করাই যায়। তবে তা বেশ অন্যরকমেই লাগে দর্শকদের চোখে। অনবদ্য ছবির গানের অংশের ক্যামেরা। ছবিতে সিনেম্যাটোগ্রাফি যে এক ভিন্ন জায়গা করে নিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। তবে মাঝে মধ্যে অতিরিক্ত ক্যামেরা জার্ক দর্শকদের মনোসংযোগ নষ্ট করতে পারে।  


পরিচালনাঃ এক কথায় কঙ্গনা রানওয়াতের পুরো দমে পাগলামি এক ভিন্ন মাত্রায় ধরা দেয় এই ছবিতে। যা পরতে পরতে দর্শকদের নজর কাড়ে, এবং প্রশংসার দাবি রাখে। ছবিটি মূল স্রোত থেকে থানিকটা আলাদা গোচের বললে ভুল হবে না। ছবির মধ্যে হাস্যরস, কৌতুহল, টেনশন সবকিছুই খুব নিখুঁতভাবে ব্যালেন্স করেছেন পরিচালক। তবে ছবির প্রথমার্ধ দ্বিতীয়ার্ধের থেকে অনেকবেশি পোক্ত।