পরিচালকঃ বিরসা দাশগুপ্ত 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অঙ্কুশ, সোহিনী সরকার, নুসরত ফারিয়া, রুদ্রনীল ঘোষ, অনির্বান ভট্টাচার্য, প্রিয়াঙ্কা সরকার 

গল্পঃ বউয়ের জ্বালায় অতিষ্ট প্রাণ, এক কথায় যাাকে বলে নাভীশ্বাস ওঠার উপক্রম। এমনই অবস্থায় দুই বন্ধুর স্বস্তির পথ খোঁজা। কীভাবে মিলবে পরিত্রাণ, তরাই উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন বিপাকে পা, আর সেখান থেকেই শুরু গল্পের তৃতীয় অধ্যায়। দেখা মেলে অনির্বানের সঙ্গে। ডাকাতের কবলে পরে কীভাবে বেড়বে এই দুই বন্ধু তারই মজার গল্প বলে বিবাহ অভিযান।

অভিনয়ঃ না ঠিক পেটে খিল ধরা হাসি নয়, তবে ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে কেবলই মজা, সেখানে এ বলে আমার দেখ তো ও বলে আমায় দেখ। একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার মতন অভিনয় করে সকলের মন জয় করলেন রূদ্রনীল ঘোষ ও অঙ্কুশ। এই দুই জুটির অভিনয় ছবিকে এক নতুন মাইলেজ দিল। অন্য দিকে সোহিনী, নুসরত ও প্রিয়াঙ্কার অভিনয়ও সকলের মনে দাগ কেটে গেল। এই ধরনের ছবিতে দর্শক প্রথ পেল অনির্বাণকে, তিনিও অনবদ্য অভিনয় করলেন এই ছবিতে।

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যে এক কথা পষ্টভাবে ধরা দিল, দিল্লিকা লাড্ডু, যে খেয়েছে সেও পস্তাচ্ছে, যে খায়নি পস্তালো সেও। ছবিতে এমনই দুটো দিকের কথা বলেছেন গল্পের লেখক রুদ্রনীল ঘোষ। কীভাবে মেলবে পরিত্রাণ, সারা দিন অফিসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর বাড়িতে এসে বউয়ের কথায় ওঠা-বসা, তো অন্যদিকে বউয়ের ভক্তির ঠেলায় নাকানি চোবানি অবস্থায়। সুন্দর সংলাপ, চিত্রনাট্যে ভরপুর রম্য উপাদানে বেজায় মজা পেলেন দর্শক।


সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি নজর কাড়ল সকলের। বেশ সুন্দর চকচকে স্ক্রিনে দৃশ্যগুলো মনে একরাশ স্ফুর্তির জোগান দিল। গান থেকে শুরু করে সাধারণ দৃশ্য, ছবিতে ক্যামেরার সুন্দর কাজ সকলের নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ফলেই ছবিতে সিনেম্যাটোগ্রাফি এক বিশেষ ভূমিকা পালন করল।

পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনায় সানান্য খামতি নজরে এলো এই ছবিতে। একদিকে যেমন ছবিতে স্বামী-স্ত্রীর কলহ দেখাতে চেয়েছেন পরিচালক, ঠিক ততটাই অন্য রসদের খামতি তৈরি হল ছবি ঘিরে। ফলেও খানকটা একপেশে ও এক ঘেয়েমির ঝলক মিলল এই ছবিতে। তবে যেটুকু পাওয়া গেল তা দিয়ে নিজের কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে, দুঘন্টার জন্য একটু ভিন্ন মেজাজে দর্শককে পৌঁচ্ছে দিতে সক্ষম এই ছবি।