ছবিঃ দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন

পরিচালকঃ ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়

তারকাঃ আবির চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী, ইষা সাহা, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, অরিন্দম শীল, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

গল্পঃ পুজোর ছুটির নতুন পরিকল্পনা, ডেস্টিনেশন দুর্গেশগড়। খোয়া যাওয়া এক অস্ত্রের মালিকের সন্ধানে সোনাদা, উত্তর লুকিয়ে ছিল দুর্গেশগড়েই। পরিকল্পনা মাফিক ঝিনুক, আবির আর সোনাদা-র সফর শুরু, মহালয়া থেকে দশমী, জমিদারবাড়ির দূর্গাপুজোর প্রতিটি রীতিতে লুকিয়ে কোন রহস্যের সমাধান, তারই খোঁজে সোনাদা-র এই দ্বিতীয় অভিযান।

অভিনয়ঃ সোনাদা-র ভুমিকায় অনবদ্য আবির চট্টোপাধ্যায়, ইতিহাসের অধ্যাপক সোনাদা, আগের থেকে অনেক বেশি পরিণত। ঝিনুক ও আবিরের চরিত্রে অর্জুন ও ইষা প্রথম ছবিতে যতটা মন জয় করেছিল দর্শকের এবারে তা ছাপিয়ে গেল। অসাধারন অভিনয়ে করে গল্পকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন কৌশিক সেন। খাদ্যরসিক খরাজ মুখোপাধ্যায়কে চেনা ছকেই পাওয়া গেল ছবিতে। মোটের অপর ছবিতে প্রতিটি চরিত্রই অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয় দক্ষতায় একশো শতাংশ জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।

চিত্রনাট্যঃ অসময়ে দূর্গাপুজোর অসাধারণ আস্বাদ দিল দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন। ছবির প্রথমার্ধে ও দ্বিতীয়ার্ধে নিখুঁত ব্যালেন্স লক্ষ্য করা যায়। প্রথম অংশে পুজোর রীতি রেওয়াজ-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্যের গন্ধ প্রথম থেকেই দর্শকের মনে কৌতূহলের সঞ্চার করে। আর দ্বিতীয় অংশে সমাধান সূত্রে মেলে স্বস্তি। ছবির অধিকাংশ সংলাপেই মেলে দূর্গাপুজোর হাজারও অজানা কাহিনীর হদিশ। তবে গল্পের সূত্রপাতেই মন ছুঁয়ে যায় দর্শকের, অসাধারণ গল্প বলার স্টাইলে দেখানো হয় ছবির টাইটেল, যা প্রথম থেকেই দর্শককে ছবিতে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। তবে গুপ্তধনের রহস্য সমাধান আরো কিছুটা জটিল হতে পারত।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ  এই ছবিতে নিঃসন্দেহে সিনেমাটোগ্রাফি প্রশংসার দাবী রাখে। প্রতিটি ফ্রেমই খুব যত্নের সঙ্গে শ্যুট করা। দূর্গাপুজোর নিয়ম নীতি থেকে শুরু করে মাতৃপ্রতিমা বিজয়া, কাশ ফুলের মাঝের আল দিয়ে নিয়ে যাওয়া কলা বউ, ঢাকের বোল, ধুনুচি নাচ, প্রতিটি দৃশ্যই ছবিতে খুব দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছবিতে শ্যুটিং-এর জন্য লাইটের ব্যবহার খুব সুন্দরভাবে করা হয়। মাস্টার ফ্রেমের কম্পোজিশন, ক্লোজ আপ, ক্রিয়েটিভ অ্যাঙ্গেলে নেওয়া টেকগুলো ছবিকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।

পরিচালনাঃ গুপ্তধনের সন্ধানের থেকে অনেক অংশে এগিয়ে রইল দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন। উন্নত মানের লোকেশন, অনেকটা পরিসর জুড়ে সেটের ব্যবহার, কস্টিউম থেকে মেকাপ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছবির ঝাঁচকচকে উপস্থাপনা্। চরিত্রের বাছাই থেকে শুরু করে গল্পের বিন্যাস নজর কাড়ল সকলই। এমন সমীকরণে সাজালেন পরিচালক যাতে ছবির দুই অর্ধই সমান গুরুত্ব পায়। গল্পের প্লটের সঙ্গে অনবদ্য ঐতিহাসিক মেলবন্ধনে ছবিটি এক ভিন্নমাত্রা পায়, ছবিতে গ্রাফিক্সের কাজ খুব কম থাকলেও, সেই অংশগুলো আরও পরিণত হতে পারত।