পরিচালকঃ সপ্তর্শ্ব বসু

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী  

গল্পঃ ছবির জগতে প্রতিনিয়ত কাজ করে ওঠা-নামার লড়াই। আজ যে রাজা কাল সে ফকির। দীর্ঘ দিন ছবির জগতে দাপিয়ে বেড়িয়ে ছিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মধ্যে খানে পরিস্থিতির চাপে দশ বছর লাইম লাইট থেকে সরে গেলেন তিনি। তারপর আবারও জীবনের শেষ ছবি নিয়ে ফিরে আসলেন সকলের সামনে। তখনই ঘুরে গেল গল্পের মোড়। জীবনের শেষ ছবিতে খেলা গেল ঘুরে। তছনছ হয়ে গেল সাজানো বাগান, কেন এবং কীভাবে এই পথে হাঁটলেন শাশ্বত তারই গল্প বলল এই ছবি।  

অভিনয়ঃ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও সব্যসাচী চক্রবর্তী, ছবির দুই মেরুতে দুই অভিনেতা। প্রতিটি ফ্রেমেই একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার নজির গড়লেন তারা। কোন চরিত্র ধনাত্বক, আর কে খল নায়ক তার উত্তর মেলে ছবির শেষ অংশে। তার আগে টানটান উত্তেজনায় পর্দা দাপিয়ে বেড়ালেন দুই অভিনেতা।  

চিত্রনাট্যঃ ছবির দুর্বল চিত্রনাট্য হওয়ায়, টলিউডের প্রিয় দুই তারকা থাকার সত্বেও সকলের নজরে এলো না এই ছবি। এক প্রকার হতাস হয়েই বাড়ি ফিরলেন দর্শকরা। গল্প এগিয়ে চলে নিজের খেয়ালে। কেন, কিজন্য, কোন পথে এগোচ্ছে গল্প তার কোনও সঠিক উত্তর পাওয়া গেল না এই ছবি থেকে। ফলেই মনের মধ্যে এক কিন্তু থেকে গেলে। অতিরিক্ত উত্তেজনার সঞ্চার করতে গিয়ে গল্পের মূল ভাবনা থেকে বেশ কয়েকবার সরে গেল নজর। জটিলতা কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন কের জল ঘোলা, ফলেই স্পষ্ট হল না গল্পের ধাঁচ।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ প্রসেনজিৎ চৌধুরীর ক্যামেরার কাজ মন্দ লাগেনি ছবিতে। গল্পের চাহিদা অনুযায়ী যতটা সম্ভব ঠিক ততটাই তুলে ধরলেন তিনি। ক্যামেরার নতুন কোনও শটের হদিশ না মিললেও, যথা সাধ্য গল্পের রহস্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি ক্যামেরার কৌশলে। তবে সেই পরিশ্রম স্বার্থক হল না। কারণ গল্প দানা বাঁধল না। বেশ কিছুটা সময় গল্প এগিয়ে চলার পরই দর্শকের মনোসংযোগ সরে গেল ছবি থেকে। যদিও সিনেমার শেষ অংশের সিনেম্যাটোগ্রাফি বেশ ভালো লাগল সকলের।


পরিচালনাঃ পরিচালনা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার রইল না এই ছবিতে। কারণ ছবির গল্প অনুযায়ী পরিচালক নিজের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করলেন গল্পটিকে দাঁড় করাতে। তবে দর্শকের কোথাও যেন বুঝতে অসুবিধা হল, এই ছবির মূল লক্ষ্য। কেবলই দেখার জন্য দেখা। তার পেছনে কোনও সঠিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া গেল না। গল্প যদি স্পষ্ট হত, তবে ছবির পরিচালনাতেও তার প্রভাব লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু সেই জায়গায় খামতি থাকায় গল্পের জটিলতা অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠল দর্শকের নজরে।