পরিচালকঃ অনুভব সিনহা 

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ আয়ুষ্মান খুরানা, ইষা তলওয়ার 

গল্পঃ তরুণ আইপিএস অফিসার পোস্টিং হল এক গ্রামীণ থানায়। যেখানে মানুষ স্বাভাবিক জীবন-যাপনের থেকে কয়েক'শ মাইল দুরে থাকেন। সভ্যতার ও প্রগতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সমাজের এক ভয়াবহ ছবি। সেখানেই তিনটি মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে থানায়। তড়িঘড়ি ব্যস্ত হয়ে পরেন তরুণ পুলিশ অফিসার। অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যতা খুঁজতে বেড়িয়ে পরেন তিনি। সেখান থেকেই সামনে উঠে আসতে থাকে একের পর এক রহস্য। 

অভিনয়ঃ অনবদ্য অভিনয় করে সকলের নজর কাড়লেন আয়ুষ্মান খুরানা। তরুণ পুলিশ অভিসারের ভুমিকায় এই প্রথম পর্দায় ধরা দিলেন তিনি। প্রতিটি ছবিতেই নিজের এক ভিন্ন রূপ তুলে ধরতে পচ্ছন্দ করেন আয়ুষ্মান। এই ছবির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম দেখা গেল না। প্রথম থেকে শেষপর্যন্ত পর্দায় জুড়ে কেবলই নজর কাড়লেন তিনি। সততার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করা থেকে শুরু করে, সেই গ্রামের মনুষকে মূল-স্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার ভুমিকায় নজির গড়লেন আয়ুষ্মান।

চিত্রনাট্যঃ অনবদ্য ছবির চিত্রনাট্য। সমাজ সচেতনতা বাড়িয়ে তোলার পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করল এই ছবি। এই সমাজেই রয়েছে দুটি দিক, একদিকে যেমন উন্নতি, প্রযুক্তি এগিয়ে চলেছে, তেমনই অন্য এক সারিতে মানুষ ক্রমেই হারাতে বসেছে নিজের অস্তিত্ব। ছবির চিত্রনাট্যে সমাজের সেই অন্ধকার দিকের কথাই তুলে ধরা হল। যেখানে সমাজের ভেদাভেদগুলো প্রকট হয়ে ধরা দেয়, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার গুলোকে পুনরায় একবার ঝালিয়ে নেওয়া যায় এই ছবিটি দেখলে। অসাধারণ ছবির সংলাপ।

 সিনেমাটোগ্রাফিঃ ক্যামেরার তেমন কোনও কারচুপি লক্ষ্য না করা গেলেও, সাধারণ জিনিসকে সাদা-কালোর মোড়কে তুলে ধরে এক ভিন্ন লুক তৈরি করেছেন পরিচালক। যা দেখে দর্শকের কৌতুহলের পারদ প্রথম থেকেই রইল তুঙ্গে। সাধারণত ক্রাইম থ্রিলার-এ যে ধরনের গল্প বা ক্যামেরা লক্ষ্য করা যায়, তার থেকে খানিকটা ভিন্ন স্বাদে প্রতিটি ফ্রেমকে তুলে ধরা হয়েছে দর্শকের সন্মুখে। 


পরিচালনাঃ ক্রাইম থ্রিলার মানেই গড়পরতা গল্প বলার ধাঁচ থেকে বেড়িয়ে এসে অন্য স্বাদে গল্প বলা। সেই কৌশলকেই 'আর্টিকল ১৫'-তে অসামান্য মুন্সিয়ানায় ব্যবহার করেছেন অনুভব সিনহা। গল্প বলার ধরন  ছবির দুই অর্ধেই নজর কেড়েছে। প্রতিটি দৃশ্যেই ছিল এক নিখুঁত, নিপুণতার ছাপ। চরিত্রের সংখ্যা কম, কিন্তু গ্রামীণ পরিবেশ তুলে ধরার ক্ষেত্রে যে বাস্তব চিত্র ধরা দিল ফ্রেমে। তা ছবি কম, আর সত্যঘটনার কোলাজ বেশি বলেই মনে হয় এই ছবিটি দেখে। সভ্যতা, উন্নতি যে পথেই এগোতে থাকুক, নিছকই ছক-ভাঙা জীবন-যাপন করার স্বপ্ন যে মানুষগুলো কোনওদিনই দেখার সাহস পায়নি, তাদের কথা খুব সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন পরিচালক।