পরিচালকঃ সুদেষ্ণা রায় ও অভিজিৎ গুহ

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ রাহুল, ঋত্বিক চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ

গল্পঃ ভবিষ্যতে অপেক্ষারত কোন ঘটনা!  তা এক প্রকার জানার জন্যই ঘর ছাড়া তিন বন্ধু। খানিকটা সময় কাটানো ও স্বস্তির খোঁজে বেরিয়ে পড়া, সেখান থেকেই গল্প শুরু। এরপর তিন রহস্যের মোড়কে জড়িয়ে পড়া। একের পর এক ভাঁজ খুলতে থাকে রহস্য। অবশেষে কোন পথে গিয়ে থামবে এই রহস্য তা আগে থেকে খানিকটা আঁচ গল্পের মাঝেই মেলে দর্শকদের।

অভিনয়ঃ  পর্দায় ঋত্বিক চক্রবর্তী মানেই ছবি থেকে এক ভিন্ন প্রাপ্তির কথা ভাবে সকলে। এই ছবিতে তার ব্যতিক্রম হল না। অনবদ্য অভিনয় নজর কাড়লেন তিনি। সঙ্গে ততটাই সুক্ষ্ম সঙ্গত দিলেন রাহুল ও ইন্দ্রজিৎ। তিনজনের জীবনে লুকিয়ে থাকা অতিতের কথা যেন তাঁদের চোখে মুখে, অভিনয়ের পরতে পরতে দর্শক অনুভব করে। তবে সুদিপ্তা চক্রবর্তী এই ছবিতে এক বিশেষ ছাপ রেখে গেলেন।

চিত্রনাট্যঃ ছবির টিত্রনাট্য জুড়ে টান টান উত্তেজনা। প্রথমার্ধের থেকে ছবির দ্বিতীয়ার্ধ সামান্য গতি কম। গল্পের মূলে তিন রহস্য, তবে প্রথম রহস্যে সমাধানের পরই গল্প অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে দর্শকের সামনে। শেষটা অনুমান করা গেলেও উত্তেজনা ধরে রাখতে সক্ষম সামারা ছবি। তবে চিত্রনাট্যে বেশ কিছুটা জায়গা ঘিরে রয়েছে প্রশ্ন। কয়েকটি ঘটনা যেন গল্পের স্বাস্থেই সাজিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ রানা দাশগুপ্তের ক্যামেরায় সামার ছবির প্রতিটি দৃশ্যেই বেশ সুন্দর দেখিয়েছে। অনবদ্য ছবির প্রতিটি দৃশ্যের উপস্থাপনা। লোকেশন শ্যুটিং-এর ফলে দৃশ্যগুলোকে বেশ যত্নের সঙ্গে ক্যামেরা বন্দি করা হয়েছে। ফলে ছবিতে সিনেমাটোগ্রাফি এক বিশেষ ভুমিকা পালন করে। রহস্যের মোড়কে গল্পের উত্তেজনা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ক্যামেরার কাজ প্রশংসার দাবি রাখে। 


পরিচালনাঃ গল্পটা শেষ অবধি কোন পথে এগোবে তা বোঝা গেলেও পর্দায় অনবদ্যভাবে ছবিকে ধরে রেখেছেন পরিচালক দ্বয়। কোথাও গিয়ে দর্শকের মনোসংযোগ হারায় না। অতিত-বর্তমান, জীবন-মৃত্যুর এক সুক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে এই ছবির প্রতিটি ধাপে। ফলে ছবির পরিচালানাই সামারা-র প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে।