পরিচালকঃ বিকাশ বহেল

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ হৃত্বিক রোশন, ম্রুণাল ঠাকুর, আদিত্য শ্রীবাস্তব 

গল্পঃ সব প্রতিকূলতাকে এড়িয়ে পাটনার গণিত শিক্ষক আনন্দ কুমার নয়া কৌশলে তৈরি করেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরে তাঁর নাম। আইআইটি-তে প্রবেশিকা পরীক্ষা মানেই আনন্দ কুমার। তাঁর সুপার ৩০ কোচিংক্লাসেই লুকিয়ে অনবদ্য টিপস। তারই খোঁজে সকল ছাত্রছাত্রী। কিন্তু এই সুপার ৩০ তৈরি করা এমন ৩০জন ছাত্রছাত্রীর জন্য যারা মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া, আর্থিকভাবে দুর্বল, কিন্তু তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এখন দেখার আদেও কী তারা পাড়বে আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করতে!  

অভিনয়ঃ আনন্দ কুমারের ভুমিকায় হৃত্বিক রোশন অনবদ্য। ছবির স্বার্থে গল্পে খানিক টুইস্ট থাকলেও তা খুব সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন অভিনেতা। হৃত্বিক রোশন যে ধরনের চরিত্র করে অভ্যস্থ সেই জ্যঁর-এর বাইরে বেড়িয়ে এসে এক অন্য লুকে ধরা দিলেন। সুপার ৩০-রাও কোনও কিন্তুর জায়গা রাখল না। সকলেই নজর কাড়া অভিনয় করল ছবিতে। তবে মাঝে মধ্যে অতিরিক্ত নাটকিয়তাতে দর্শকদের সাময়িক মনোসংযোগ নষ্ট হতে পারে। 

চিত্রনাট্যঃ বিশেষ গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমারের জীবনী অবলম্বণে তৈরি এই ছবির প্রেক্ষাপটে রয়েছে এক না পাওয়ার গল্প। যেখানে আনন্দ কুমার নিজেই কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও আর্থিক সঙ্কটের জন্য সেখানে পড়তে পারেননি। তিনিই পরবর্তীতে ঠিক করেন যে যারা যোগ্য, যারা মেধাবী তাদের পিছিয়ে না পরে প্রথমসারিতে এগিয়ে আনবেন তিনি। ফলেই ছবির টিত্রনাট্য জুড়েই ছিল এক সংবেদনশীল পটভূমি। যা দেখে অনুপ্রাণিত হতে হয়। প্রতি দশ মিনিটেই যেন এক নতুন আবেগ, নতুন উত্তেজনা। সমাজের ছোট ছোট বিষয়গুলি সুক্ষ্মভাবে এই ছবির অঙ্গ হয়ে উঠেছে। অনবদ্য ছবির সংলাপ।  

সিনেমাটোগ্রাফিঃ ছবির সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে বিশেষ কিছু না বলার থাকলেও তার অবদানও অনস্বীকার্য। বেশ কিছু এমন শর্ট রয়েছে এই ছবিতে যা মহুর্তগুলোকে আরও সুন্দরভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছে এই ছবিতে। ছবির গান, পর্দায় অভিনেতার উপস্থিতি, সবেতেই যেন এক বিশেষ ছাপ রেখেগিয়েছে ছবির এডিটিং। তবে পরিস্থিতির স্বাভাবিকত্ব বোঝাতে গিয়ে যেন সরলভাবেই নেওয়া হল ক্যামেরার টেকগুলি। 


পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে বিশেষ কোনও খামতি নজরে না পড়লেও মাঝে মধ্যে অতিমাত্রায় নাটকীয়তার ফলে দর্শকদের একঘেয়েমি লাগতে পারে। পর্দায় উত্তেজনা ধরে রাখার জন্য সোশ্যাল ইস্যুগুলি যেন অতিমাত্রায় প্রাধান্য পেয়েছে এই ছবিতে। তবে গল্পের উপস্থাপনার ক্ষেত্রে পরিচালক নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখেন। ছবির দুই অর্ধেই সমান ভারসাম্য রক্ষা করেছেন তিনি। ফলেই পরিচালনার ক্ষেত্রে এক সুন্দর ব্যালেন্স চোখে পড়ে এই ছবিতে।