পরিচালকঃ কেন স্কট

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ ধনুশ, এইরিন মরিয়াতি, বর্খাদ আবদি

গল্পঃ রোমের এক উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই গল্প, যেখানে দেখা যায়, এক ফকির আলমারির মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তাতে কোনও সমস্যাই হল না, কারণ তার হাতে ছিল অদ্ভুত এক ম্যাজিকের ক্ষমতা। তার ওপর ভিত্তি করেই রোমাঞ্চকর আঙ্গিকে তৈরি এই ছবির গল্প। ফকিরকে উদ্ধার করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এফল টওয়র। সেখান থেকেই গল্পের নয়া মোড়। তারপর একের পর এক দেশ পারি দেওয়া। পরিশেষে কোন পথে ঘোরে গল্পের মোড়, রহস্য সেখানেই।  

অভিনয়ঃ ফকিরের ভুমিকায় ধনুশ অনবদ্য। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয় বেজায় নজর কাড়েন তিনি। এই ছবিতে ধনুশের এক ভিন্ন লুক ধরা দিল। গল্পের পটভুমি অনুযায়ী চরিত্রের সঙ্গে সমান তালে তাল মেলালেন অভিনেতা। ছবিতে এফল টওয়রও খুব সুন্দর ব্যালন্স করে ফুটিয়ে তোলেন নিজের চরিত্রটি। বাকিরাও নিজ নিজ চরিত্রে অনবদ্য।   

চিত্রনাট্যঃ গল্পের প্লট বেশ ভালোই ছিল। রোম্যাঞ্চকর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ছবির গল্প জমল না ছবির ভাষায়। সঠিক মাত্রায় তা নির্দিষ্ট আকার ধারন করার আগেই দর্শকের মনোসংযোগ হারায়। গল্পের প্রথমার্ধ যদিও বা দাঁড়ালো, গল্পের দ্বিতীয়ার্ধে সেই ব্যালেন্সটা হারিয়ে গেল। কোন পথে গল্পের গতি তা বোঝা দুষ্কর। কার্য কারণ ছাড়াই গল্পের মোড় ঘুছে, ফলেই দর্শকের ছবির সঙ্গে বোঝা পরায় খামতি থেকে গেল। দু্র্বল সংলাপ ছবিকে আরও একধাপ পিছিয়ে দিল।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ ছবিতে সিনেমাটোগ্রাফির বিশেষ কোনও প্রভাব রইল না। সাধারণ অ্যাকশন ছবিতে যে ধরনের ক্যামেরা হয়, এখানেও শ্যুটিং হয়েছিল সেই ভাবেই। তবে ছবির আদ্যপান্ত জুড়ে ছিল এক পার্ফেক্ট লুক। ফলেই ছবিটি চোখের পক্ষ্যে বেজায় স্বস্তিকর ছিল। এরবাইরে এই ছবির ক্যামেরা নিয়ে আলাদা করে কোনও প্রশংসার ছাপ পড়ল না দর্শক মনে।


পরিচালনাঃ ছবির পরিচালনার প্রথম খামতি ছিল ছবির দুর্বল চিত্রনাট্য। যার ফলে গল্প ভালো হলেও ছবিটি দর্শক মনে জায়গা করতে পাড়ল না। পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল যে খামতি লক্ষ্য করা গেল তা হল তা হল প্রাণের অভাব, চটজলদী শেষ হয়ে যাওয়া একটা ছবি। যার গল্প শুরু হওয়ার আগেই যেন শেষের পথে হাঁটছে। তরিঘড়ি একটা সিন থেকে অন্য সিনে চলে যাওয়া। ফলেই ছবির রেশ থাকল না দর্শক মনে।