পরিচালকঃ নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

তারকাঃ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পাওলি দাম, জয়া আহসান, পরাণ বন্দোপাধ্যায়, চিত্রা সেন

গল্পঃ কণ্ঠ যার সম্বল, কণ্ঠ যার পরিচিতি এমনই একজন বাচিক শিল্পী তথা রেডিও সঞ্চালক অর্জুন (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়)। যার কণ্ঠস্বরই একদিন রোধ হয় ক্যান্সারের কারণে। এরপর শুরু হয় লড়াই। স্ত্রী, সন্তান ও ডাক্তার, এই তিনের সহযোগিতা, আশা, ভরসা ও নিজের অদম্য ইচ্ছে শক্তির ওপর ভর করে কীভাবে পুনরায় উঠে দাঁড়ানো সম্ভব, তারই গল্প কণ্ঠ।

অভিনয়ঃ ছবির কেন্দ্রিয় চরিত্র শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গোটা পর্দা জুড়েই দর্শকের নজর কারে। ছবির আদ্যোপান্ত জুড়ে অসাধারণ ব্যালেন্স বজায় রেখেছিলেন তিনি। একদিকে নিজের ইচ্ছে শক্তি ও অপরদিকে বাস্তবকে মেনে নেওয়ার কঠোর লড়াইয়ে শিবপ্রসাদ এক স্বাবলিলতার ছাপ রেখে গেছেন। গল্পের প্রয়োজন অনুসারে প্রতিটি চরিত্রই নিজ নিজ ভূমিকায় অনবদ্য। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের বউ পাওলি দাম খুব স্বাভাবিকভাবেই চরিত্রকে ফুঁটিয়ে তুলেছেন পর্দায়। চিকিৎসকের ভূমিকায় জয়া আহসান যেন গুরুগম্ভির পরিস্থিতিকে কিছুটা হালকা করতেই পর্দায় ধরা দেন। কণ্ঠরোধ করা এই পরিস্থিতিতে জয়ার ভূমিকা ছিল অনেকটা খোলা জানলার মতন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে জয়ার অভিনয়টা একটুবেশি চোখে লাগে।   

চিত্রনাট্যঃ ছবির ট্রেলার দেখেই গল্পের পরিধি নিয়ে আন্দাজ করা গেছিল। ছবিটি এগিয়েছেও সেই সূত্র ধরেই। চিত্রনাট্যে কোনও ফাঁক রাখেনি কণ্ঠ। প্রথম থেকেই গল্পের মূল অংশে প্রবেশ করা, নেই কোনও সংলাপের মারপ্যাচ। খুব স্বাবাবিক ছন্দেই গল্প এগোতে থাকে। আচমকা কোনও পরিবর্তন বা রহস্যের কোনও জায়গা নেই, কেবল মাত্র ছবির প্রথম অংশ ছাড়া। চিত্রনাট্যের ভিত মর্মস্পর্শী হলেও শেষের অংশে পুনরায় দর্শক হাসি মুখেই প্রেক্ষাগৃহ ছাড়বেন।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। এই প্রয়োজনার সব ছবিতেই প্রায় কলকাতার একটি এরিয়াল ভিউ দেখতে পাওয়া যায়। এখানেও ব্যাতিক্রম ঘটেনি। তবে বেশ কিছু সুন্দর শট এই ছবিতে লক্ষ্য করা যায়, পাওলি ও শিবপ্রসাদের বৈবাহিক জীবনের আগের অংশে নেওয়া টেকগুলো পর্দায় খুব সুন্দর দেখায়। শিবপ্রসাদের ঘরে আলো আঁধারিতে নেওয়া টেকগুলোও যথেষ্ট তাৎপর্য বহন করে ছবির সারমর্ম তুলে ধরার ক্ষেত্রে।

পরিচালনাঃ নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবির মধ্যে অনেকবেশি সাধারণ গল্প বলার ছন্দ বজায় থাকে। তবে গল্পের অনেক ধাপ নিয়ে তৈরি নয় এই ছবি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই ধাঁচে ও একই ছাঁচে গল্প এগোতে থাকে। গল্পের মধ্যে রেডিও সঞ্চালকদের এক আলাদা ভূমিকা থাকে, পরিচালনাতে তা পরতে পরতে চোখে পরে দর্শকের। তবে কণ্ঠই যে শেষ কথা বলে এমনটা নয়, ছবির মধ্যে একটি অংশে শিবপ্রসাদও পাওলি কেবলই সশব্দে কান্নার মাধ্যমে যেভাবে নিজেদের মনের ভাব ফুঁটিয়ে তুলেছে তা এক আলাদা মাত্রা রাখে। ছবিতে প্রতিটি গানই খুব প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে ফুঁটিয়ে তুলেছেন পরিচালন। সব মিলিয়ে কণ্ঠ একটি নির্দিষ্ট অসুখের কথা বললেনও মানুষের মনে পুনরায় ভরসা ফেরাতে সক্ষম এই ছবি।