পরিচালকঃ রাজকুমার গুপ্ত

তারকাঃ অর্জুন কাপুর, রাজেশ শর্মা, প্রশান্ত আলেকজান্ডার

গল্পঃ সত্যঘটনা অবলম্বনে তৈরি ছবির প্রেক্ষাপট। যেখানে দেখা যায় ভারতের বুকে থাকা এক জঙ্গিকে কীভাবে অস্ত্র ছাড়াই আটক করে পাঁচ ইন্টালিজেন্স অফিসার। যে টিমের নেতৃত্বের ভার ছিল প্রভাত(অর্জুন কাপুর)-এর হাতে। সময় কম, কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই কীভাবে এই মিশন সম্পূর্ণ হল, সেই প্রেক্ষাপটেই তৈরি এই ছবি।

চিত্রনাট্যঃ এক প্রকৃত বা আদর্শ অফিসার, দেশের প্রতি যার নিবেদিত প্রাণ, তার জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যগুলি নিখুঁত ভাবে চিত্রনাট্যে ধরা দিয়েছে। ছবির সংলাপে চরিত্রের ব্যক্তিত্ব ক্রমেই জোড়ালো হয়ে ওঠে। ছবির প্রথমার্ধের থেকে দ্বিতীয়ার্ধ বেশি উত্তেজনার সঞ্চার করে। গল্পের মোড় যতই এগোতে থাকে চিত্রনাট্যের ধাঁচ ততই পরিবর্তন হতে দেখা যায়। ভারতীয় জঙ্গি ইয়াসুফ আটক ঘটনার ওপর নির্ভর করে তৈরি চিত্রনাট্যে শুধু রহস্যের স্বাদই ছিল না, সঙ্গে ছিল আনুসাঙ্গিক সমস্যার আভাসও। এই ধরনের পদক্ষেপে সরকারের তরফ থেকে পাওয়া সাহায্য ও সমস্যা দুয়েরই ব্যালেন্স লক্ষ করা যায়।

অভিনয়ঃ চরিত্রকে অতিরঞ্জিত না করে সামঞ্জস্য রেখেই অভিনয় করলেন অর্জুন কাপুর। যার চোখে মুখে ফুঁটে উঠেছিল দেশ সেবার অঙ্গীকার। কোনও রকম হিরোইজমের দাপট ছিল না তার অভিনয়ে। খুব সাধারণভাবে ছবিতে চরিত্রের উপস্থাপনা করনে বাকি তারকারও। অধিকর্তার ভুমিকায় রাজেশ শর্মা অনবদ্য। এই ধরনের ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে প্রায়সই পাওয়া যায় এই অভিনেতা। অতিমাত্রায় তারকার সমাবেশ ছিল না ছবিতে। ছাপসা ঘরনায়া তৈরি চরিত্র বাস্তব ভাবমূর্তি চুলে ধরতে সক্ষম ছিল এই ছবিতে।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ নেপালে ছবির অনেক শ্যুটিং করা হয়। সেখানে ক্যামেরার কাজ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুরো সিনেমা জুড়ে গল্পের সঙ্গে সাচ্ছন্দ বজায় রেখেই ক্যামেরার শর্ট নেওয়া হয়। সাধারণত এই ধরনের প্লটে সিনেমাটোগ্রাফি ততটা প্রভাব ফেলে না। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। গল্পে উত্তেজনার পারদের দিকেই দর্শকের নজর মনোসংযোগ বেশি থাকে, ফলেই রিল লাইফকে বিরেল লাইফের লুক দিতে যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটাই ভূমিকা ছিল সিনেমাটোগ্রাফির এই ছবিতে।

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে সেভাবে কিন্তুর সুর না শোনা গেলেও মাঝে মধ্যেই স্বাভাবিক ছন্দ কাটে ছবির। যতটা উত্তেজনা এই ধরনের ছবিকে ঘিরে আশা করে দর্শক ঠিক ততটা প্রভাব ফেলল না এই ছবি। সরকারের নানান স্তরের খুটি নাটি সমস্যাগুলো যত্নের সঙ্গে উপস্থাপনা করলেও গল্প আরেকটু জোড়ালো হতে পারতে। তাহলেই পরিচালনায় একশো শতাংশ পাওয়া যেত পরিচালককে। কিন্তু অর্জুন কাপুরের চরিত্র এত নিখুঁত ভাবে পরিচালক পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন যার ফলে আনুসাঙ্গিক খামতিগুলো ততটা প্রকট হয়ে ধরা দিল না ছবিতে।