পরিচালকঃ জাগন শক্তি  

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ অক্ষয় কুমার, তাপসী পান্নু, সোনাক্ষি সিনহা

গল্পঃ অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার  লক্ষ্যে স্থির থাকার গল্পই মিশন মঙ্গল। ইসরো-র বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মিলে ভেবে ছিল তাঁরা নতুন উদ্যোগে বদলে ফেলবে ইতিহাস। তবে পরিস্থিতি ততটা তাঁদের পক্ষে ছিল না। কেবলই মনের জোড় ও জেদের বশেই তৈরি হওয়া কালজয়ী স্বার্থকতারই রূপরেখা হল মিশন মঙ্গল। যেখানে প্রথম থেকে একটাই কথা প্রকত হয়ে দাঁড়ায় এই পরিকল্পনা অসম্ভব। কিন্তু অবশেষে তাঁকে পরিণতি দিয়েছিল ইসরো। ৩০১৩ সালের সেই মঙ্গলযান পাঠানোর পেছনের গল্পই মিশন মঙ্গল। 

অভিনয়ঃ এই ছবির প্রাণ কেন্দ্র ছিল অক্ষয় কুমার ও বিদ্যা বালান। ঠাসা অভিনেত্রীদের ভিড়ে একপ্রকার রাজত্ব চালানেন অক্ষয় কুমার। একটি গুরুগম্ভির বিষয়কে কীভাবে মজার ছলে উপস্থাপনা করা যায় তা অভিনয় দক্ষতায় আবারও প্রমাণ করে দিলেন অক্ষয় কুমার। রাকেশ ধাওয়ানের চরিত্রে অভিনয় করার সময় তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্টেও যেন ফুঁটে ওঠে সেই আবেগ। সমান তালে তাঁকে সঙ্গত দিয়েছেন বিদ্যাবালান। তাপসী পান্নুও নিজের চরিত্রে বেশ ভাল। তবে সোনাক্ষী সিনহাকে সেভাবে পাওয়া গেল না ছবিতে।  

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ সামঞ্জস্য রয়েছে। দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য আদ্যপান্ত একটি সায়েন্স ভিত্তিক চিত্রনাট্য হিসেবে এটিকে তৈরি করা হয়নি। মাঝে মধ্যেই হাসির মজা, পারিবারিক গল্প ঢুকিয়ে ছবির গল্পে বৈচিত্র আনা হয়েছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় অক্ষয় কুমারের সংলাপ আরও একটু বেশি ধারালো হতে পারত। তবে উপস্থাপনার দিকে নজর রাখলে এই ছবির চিত্রনাট্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ অনবদ্য ছবির টিত্রনাট্য। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্তই যেন এক ঝাঁচকচকে ছবিই ধরা পড়ে দর্শকদের চোখে। যেমন ছিল ছবির গ্রাফিক্স, তেমনই ছবির সেট। ইসরো-র ভেতরের পরিবেশ ঠিক কেমন তার এক ঝলক এই ছবিতে চোখে পড়তে পারে। প্রতিটি মুহুর্তেই যেন ক্যামেরা, লাইট নিয়ে বিশেষ সচেতনতা অবলম্বণ করা হয়েছে এই ছবিতে। 

পরিচালনাঃ পরিচালনার ক্ষেত্রে এই ছবি বাটলা হাউস থেকে এক ধাপ এগিয়ে গেল। কারণ ছবির দুই অধ্যায় পরিচালক খুব যত্নের সঙ্গেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোথাও যেন খামতি থাকে ছবির সংলাপকে ঘিরে। তবে ছবির মধ্যে সুক্ষ্ম খামতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সার্থকভাবেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়।