পরিচালকঃ জন ফেব্রু

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ ডোনাল্ড গ্লোভার, শেঠ রোজেন, আলফি উডার্ট, বিলি ইচনার

গল্পঃ ১৯৯৪ তৈরি হওয়া অ্যানিমেশন ছবি দ্য লায়ন কিং-এর গল্পের ওপরই ভিত্তি করে পুনরায় তৈরি হল এই ছবি। যেখানে এক শাবক সিংহের জীবন কাহিনির গল্পই প্রাধান্য পেয়েছিল। একদিন জঙ্গলের রাজা সিংহকে (মুফাসা) হত্যা করা হলে তার পদে নিজের জায়গা পাকা করে এই শাবক সিংহটি, নাম সিম্বা। তখন থেকেই শুরু জীবন যুদ্ধ। কীভাবে গোছাবে সে নিজের জীবন, কাঁধে তুলে নেবে সকলের ভার, সেই দিকেই এগোয় গল্পের গতি।

কণ্ঠদানঃ  অ্যানিমেশনেই অনবদ্য সিম্বা ও মুফাসা। স্মৃতি ফিরিয়ে সকলের নজর কাড়ে সিম্বা। ছবিতে অ্যানিমেশনের প্রভাব প্রকট হলেও ভাষ্যদানে সকলের মন জয় করে গ্লোভার, সিম্বার কণ্ঠে তারই গলা, যা আগের থেকে অনেক বেশি চার্মিং। তবে সকলকে ছাপিয়ে ছবিতে আবারও নিজের উপস্থিতি প্রকট করে তুলল মুফাসা, যার হয়ে কণ্ঠ দিয়েছেন জেমস আর্ল জনস। অন্যদিকে পামবা ও তিমন-এর চরিত্রে ভাষ্যদানে ছিলেন শেঠ রোগেন ও বিলি ইচনার, যাদের উপস্থিতিতে এই দুই চরিত্র আগের থেকে অনেক বেশি তরতাজা হয়ে ধরা দিল পর্দায়।  

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্য পুরনো ছকেই বাঁধা। একি ধরনের গল্প বলার ধাঁচ এখানে লক্ষ্য করা যায়। তবে আগের থেকে এই ছবির সংলাপ অনেক বেশি মজবুত ও সকলকে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিটি পদে পদে গল্পের নয়া  মোড়ে রয়েছে এক নতুনত্বের ঝলক। সিম্বার জীবনের ওঠা পড়ার দিকগুলো খুব সুক্ষ্মভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে জঙ্গলের বা বন্যপ্রাণীদের ওপর বানানো কোনও তথ্যচিত্র দেখছি বলেও মনে হতে পারে। খুব যত্নের সঙ্গে আগের ছবি ও এই ছবির ব্যালেন্স রক্ষা করা হয়েছে এই ছবিতে।    

সিনেমাটোগ্রাফিঃ এই ছবি দেখতে মাঝে কেটে যাওয়া ২৫ বছরের কথা মাথায় আসে সবার আগে। কতটা পরিমাণে উন্নত হয়েছে টেকনলজি তা ছবির উপস্থাপনার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে। সেই দিকে নজর দিয়েই যত্ন সহকারে তৈরি এই ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি, অ্যানিমেশনের প্রভাব ও চরিত্রের চিত্রায়ণ এক কথায় অনবদ্য।  


পরিচালনাঃ পরিচালনার খুব যত্নসহকারে গল্পের সব দিক ছুঁয়ে গিয়েছেন। যাতে দর্শকের কোথাও মনে না হয় এই ছবিটি ১৯৯৪-এর ছবিকে কোনও অংশে পেছনে ফেলে নতুনত্বের ছাপ দিয়েছে।  ফলেই সেই স্মৃতি মাথায় রেখেই তৈরি এই ছবিতে যেন আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে সিম্বা ও মুসাফা-র উপস্থিতি। সুক্ষ্ম ছবির প্রতিটি সিক্যুয়েন্স।