পরিচালকঃ অভিক আলি

তারকাঃ অজয় দেবগন, টাব্বু, রকুলপ্রীত সিং

গল্পঃ মধ্য বয়সের এক ব্যক্তি যদি অর্ধেক বয়েসের এক মেয়ের প্রেমে হাবুডবু খায় তবে চিত্রটা ঠিক কেমন হতে পারে, তারই ছবি তুলে ধরল দে দে পেয়ার দে। সমস্যার সূত্রপাত ঘটে যখন অজয় দেবগণ তারই সম্পর্কের কথা জানান তার প্রাক্তন স্ত্রী টাব্বুকে। সেখান থেকেই গল্পের নতুন মোড়।

অভিনয়ঃ এই ছবির পর্দা জুড়ে ছিলেন অজয় দেবগণ। ছবিতে যার নাম আশিষ মহেরা। এই অসম বয়সের প্রেমের অভিনয়ে নজর কারেন তিনি। অনুভূতি, আবেগ সঙ্গে ইতস্থতা, সব মিলিয়ে চরিত্রটিকে খুব যত্ন করে ফুঁটিয়ে তোলেন তিনি। অপরদিকে স্নিগ্ধ, সতেজ রকুল-এর উপস্থিতি ব্যালন্স এনে ছিল পর্দায়। রকুল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফুঁটিয়ে তুলেছে নিজের চরিত্র যা দর্শক মনে জায়গা করে নেয়। টাব্বু নিজের ইমেজ বজায় রেখেই ছবিতে পাশে এসে দাঁড়ান অজয় দেবগনের। যেখানে চেনা ছকে দেখতে পাওয়া যায় টাব্বুকে।

চিত্রনাট্যঃ ছবির চিত্রনাট্যে বেশ মনে ধরার মতন। একটু ভিন্ন স্বাদের গল্প দে দে পেয়ার দে। যদিও এই পটভূমিতে কাজ এর আগেও করেছেন অনেক অভিনেতা, কিন্তু এই গল্পে গুরুগম্ভীরভাবের বদলে বিষয়টিকে খুব হালকা ভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। বেশ কিছু সংলাপে দর্শকের মনোরঞ্জনও হয়। বুড়ো, কাকু, এই ধরনের মন্তব্যে বাস্তবকে তুলে ধরা হয় দে দে পেয়ার দে ছবিতে।  তবে গল্পের পটভূমি অনুযায়ী ছবিটা আরও বেশি কাছের ও মজার হতে পারত, যা না হওয়ায় দর্শকের মনোসংযোগ হারায়।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ  সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। লন্ডনের দৃশ্যগুলি ক্যামেরায় খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হলেও ছবির বাকি অংশে তা সাধারণ মানই বজায় রাখে। ছবিতে আলাদা কোনও প্রাপ্তী যোগ হয়নি ক্যামেরার জন্য। তবে পর্দায় রকুল অজয় সম্পর্কের দৃশ্যায়ণ বেশ ভালো লাগে।

পরিচালনাঃ এটা অসম বয়সের প্রেমের গল্প এমনটাই শুধু নয়, বরং দুই প্রজন্মের সম্পর্কের টানা পোড়েন ছবিতে খুব সুন্দর ভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। তবে এই ছবিটিকে একটু মজার ছলে উপস্থাপনা করা যেতে পারত। দুই প্রজন্মের প্রেমের ধাঁচ ও ধরন খুব সুক্ষ্মভাবে তুলেধরেছেন তিনি। তবুও কোথায় যেন খামতি থেকে গেল। গল্পর পটভূমির উপস্থাপনা আরও একটু জড়ালো হতেই পারত।