ওয়েব সিরিজঃ অসুর
পরিচালকঃ অনি সেন
অভিনয়ঃ আরশাদ ওয়ারসি, বরুণ সোবতি, অনুপ্রিয়া গোয়েঙ্কা, রিধি ডোগরা, 

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম- জি ৫

গল্পঃ বারাণসীর ঘাটেই শুরু হয় কাহিনি।  জন্মসূত্র নাকি পরিস্থিতির দায়, কীভাবে ধীরে ধীরে এক বালক অসুরে পরিণত হয় তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এপিসোডের শুরুতে। এর পাশাপাশি নৃশংস সিরিয়াল কিলিংও চলতেই থাকে। প্রতিটি দেহের পাশেই পড়ে রয়েছে একটি করে কাটা তর্জনী ও মুখোশ। তদন্ত যত এগোয় ততই যেন বেরিয়ে আসে রহস্যের জট। এহেন পরিস্থিতিতেই ফের একটা সময় মুখোমুখি হয়ে যায় নিখিল ও ধনঞ্জয়। আর বারেবারে ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে আসে সেই বালক, যে কিনা নিজের বাবাকে খুন করেছিল। আর সেখান থেকেই দর্শকদের বুঝতে অসুবিধা হয় না কাহিনির 'অসুর'কে।


অভিনয়ঃ ছবির প্রধান চরিত্রে ধনঞ্জয় রাজপুত ওরফে আরশাদ ওয়ারসি ফাটিয়ে অভিনয় করেছেন।  এবং টেলিভিশনের 'আই ক্যান্ডি' নিখিল নায়ার ওরফে বরুণ সোবতি যোগ্য সঙ্গত। ফরেন্সিক এক্সপার্টের চরিত্রে নিখিলকে দেখা গেছে। এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরে যে দলে যোগ দেয় নিখিল  তার  মাথা হলেন আরশাদ ওয়ারসি। পুরাণ ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ওয়েব সিরিজে সম্পূর্ণ আলাদা রূপে নজর কেড়েছেন আরশাদ ওয়ারসি।


চিত্রনাট্যঃ পুরাণ ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের সংমিশেলে তৈরি টানটান ওয়েব সিরিজ অসুর দেখলেই মনে পড়ে যাবে সেক্রেড গেমস,  মহাভারত, সিলভিয়া প্লাথ এবং আরও অনেক কিছুর কথাই। প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে রহস্য। আর সেই উত্তেজনাই শেষ অবধি বসিয়ে রেখেছে দর্শককে। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু অসঙ্গতি থাকলেও তা ম্যানেজ হয়ে গেছে।


সিনেমাটোগ্রাফিঃ সাসপেন্স-এ পরিপূর্ণ এই ট্রেলারে শুরুতেই যে হত্যালীলা দেখানো হয়েছে, সেটি একটি মাত্র ভিডিও ক্যামেরায় শুট করা। অন্য কারোর ভিডিওতেই হত্যাকারীকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হ্যান্ড হেল্ড ক্যামেরায় এত সুন্দর শুট কী করে সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন রাখে। সিনেম্যাটোগ্রাফার সায়ক ভট্টাচার্য সাসপেন্সের মোড়কে মোড়া ওয়েবসিরিজের চরিত্রের সঙ্গে যেন প্রতিটি ফ্রেমকেই যেন পারফেক্ট ভাবে তুলে ধরেছেন। 

 

পরিচালনাঃ অনি সেনপরিচালিত 'অসুর' ওয়েব সিরিজটি মুক্তি পেয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ভুট-এ। আরশাদের অভিনয় দাগ কেটেছে সিনেমাপ্রেমীদের। তবে আরশাদের কমেডির বাইরেও তাকে নতুন করে চেনানোর জন্যও অনি সেনকে কুর্নিশ।


সমালোচনাঃ অনি সেনের এই ওয়েব সিরিজকে সেক্রেড গেমসের থেকে ভাল বা খারাপ বলা নিয়েও তর্ক-বিতর্ক উঠতে পারে।  নিখিলের কিডন্যাপরে পর কাহিনির টানটান ভাবটা যেন কেমন আলগা হতে থাকে। বরং তার পরিবর্তে কোথাও একটা মেলানোর চেষ্টা চলতেই থাকে। তবে শেষের দিকের জটিলতাগুলি এড়িয়ে গল্প যদি স্বাভাবিক তালে চলত তালে হয়তো তা আরও বেশি উপভোগ্য হতো। তবে হলফ করে বলা যায়, লকডাউনে একাকীত্ব কাটাতে আপনাকে বেঁধে রাখবে এই সিরিজ।