পরিচালকঃ পুনিত মালহোত্রা

তারকাঃ টাইগার শ্রফ, অনন্যা পাণ্ডে, তারা সুতারিয়া,

গল্পঃ ছোট শহরে বাস রোহানের (টাইগার শ্রফ)। যার ছোট বেলা থেকে ছিল একজন বান্ধবী, নাম মৃদুলা (তারা সুতারিয়া)। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই বেড়ে ওঠে সম্পর্কের গভীরতা। একপ্রকার বান্ধবীর হাত ধরেই রোহানের শহরের বড় কলেজে ভর্তি হওয়া। তারপরই বদলে যায় এদের জীবনের সমীকরণ। প্রেম, পড়াশুনা, প্রতিযোগিতা সব কিছুর কবলে পরে রোহন কতটা পারবে, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার হতে, তারই গল্প বলে এই ছবি।

অভিনয়ঃ অভিনয়ের ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ছবির পর্দায় জুড়েই ছিল টাইগার শ্রফ। তার স্ক্রিন প্রেজেন্স বা পর্দার উপস্থিতি ছিল নিখুঁত। চালচলন, লুক, নাচ, অভিনয়ে টাইগার শ্রফ এই ছবিকে এক আলাদা মাত্রা দেয়। অপরদিকে ছবির মূল বিষয় বস্তু গ্ল্যামার ফ্যাশন হওয়ায় দুই নায়িকাও নজর কারে সকলের । তবে তারার চরিত্রের জন্য তার অভিনয়ের বা পর্দার উপস্থিতি ক্ষানিক ফিকে হয়েছিল, কিন্তু অপরদিকে অনন্যা সেই খামতি অনেকাংশে পূরণ করে দিয়ে দর্শকের নজরে এলো।

চিত্রনাট্যঃ স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার মানেই এক ঝাঁ চকচকে সেট। এবারেও তার ব্যাতিক্রম হল না, দেরাদুনের কলেজ, কস্টিউম, গেম, প্রতিযোগিতা, সবকিছুর মোড়কে ছবি ঘিরে ছিল এক চাকচিক্য পরিবেশ। গল্পের বুনটের ক্ষেত্রেও ঘটেনি খামতি। গল্পরে কোনও মোড়ই অতিরিক্ত প্রভাব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেনি দর্শকের ওপর। প্রেম আছে, বিচ্ছেদও আছে, তবে তা ব্যালেন্স করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে ছবিতে মজার এলিমেন্ট আরও ঢোকানো যেত। টাইগাই শ্রফের বন্ধুমহল একটা আলাদা প্রভাব ফেললেও এই অংশের চিত্রনাট্যের সংলাপ আরও একটু উন্নত হতে পারত।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ এই ছবির ক্যামেরা আলাদা করে কোনও প্রভাব ফেলেনি দর্শকের ওপর। বেশকিছু সুন্দর ফ্রেমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজ শটে নেওয়া টাইগার শ্রফের বিভিন্ন অনুভুতি, আবেগ ও শারীরিক উপস্থিতি তাকে পর্দায় বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। মোটের ওপর স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার সিনেমাটোগ্রাফির ক্ষেত্রে সেরার শিরোপাটা রাখল নিজের দখলেই।

পরিচালনাঃ পরিচালনার দিক থেকে কোথাও যেন কিন্তু থেকে গেল স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ২ ছবির ক্ষেত্রে। গ্ল্যামারের দিকে নজর দিতে গিয়ে গল্পের বিভিন্ন অনুভূতিগুলো ফিকে হয়ে গেল। সম্পর্ক থাকলেও তার ভেতর ছিল গভীরতার অভাব। ছবিতে সবদিক পরিচালক যেন ছুঁয়ে চলেগেলেন, যার ফলে রেশ থাকল না কোনো সিনেরই। পরিচালক ছবির উপস্থিতি বা প্রেজেন্স-এর দিকে নজর দিতে গিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে ফেললেন ছবির গাম্ভির্য্য, যার ফলে মনোযগের অভাব ঘটে দর্শকের।  

রেটিং-৩