ওয়েব সিরিজ- মহারানি 

পরিচালক- করণ শর্মা

অভিনেতা-অভিনেত্রী- হুমা কুরেশি, সোহম শাহ, অমিত সেইল, ভিনিত কুমার

গল্প- বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ভীম ভারতী হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময় রাজনীতির কঠিন পরিস্থিতি সম্মুখীন। এই পর্যায় এসে ঠিক কীভাবে চলবে রাজ্য-রাজনীতি, শাসক দলের বিভিন্ন মহলের ভলেন্টিয়াররা এগিয়ে আসে খানিক পরিস্থিতি সামাল দিতে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হয় অস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া। আর সেখানেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চেয়ারে বসেন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রানি ভারতী। এখান থেকেই শুরু গল্প, কয়েকদিনের মধ্যেই কীভাবে বদলাতে শুরু করে রাজ্য ও রাজনীতির ময়দান। 

অভিনয়- সকলেই নিজ নিজ ভূমিকাতে অনবদ্য, তবে ছবির পরতে-পরতে যা সকলের নজরে আসে তা হল, হুমা কুরেশির অভিনয়। নিজের জীবনের সেরা অভিনয়টা তিনি উপহার দিয়েছেন মহারানিতে। যেমন তাঁর সংলাপ উপস্থাপনের দক্ষতা, ততটাই চরিত্রের সঙ্গে মিশে থাকার সাবলীলতা, দুই মিলে এই ছবিকে একমাত্র যদি মাইলেজ কেউ দিয়ে থাকে তবে তা হুমা কুরেশি। 

চিত্রনাট্য- চিত্রনাট্যের ক্ষেত্রেও সেই কেন্দ্রবিন্দু হল মহারানি। যেখানে তাঁর চরিত্রকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, এভাবে ধাপে ধাপে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে একশো শতাংশ খাপ খায় মহারানির চরিত্র। তবে গল্পের বুনট নিয়ে যদি কথা বলতে হবে, তবে সেক্ষেত্রে আরও একটু জোরালো হলে ভালো হত। কোথাও গিয়ে যেন ওয়েব সিরিজে দর্শক ধরে রাখার যে টান, তা ফিকে হয়ে যায়। তবে গল্পে অতিরিক্ত চরিত্রের ভিড় না জমানোটাও একটা আর্টের মধ্যেই পড়ে, যা লক্ষ্য করা যায় মহারানিতে।

 

সংলাপ- সংলাপের দিক থেকে বলতে গেলে ছবিতে প্রতিটা ধাপেই চাঁচাঁ ছোলা মারকাটারি সংলাপের ঢেউ, এমনটা নয়, বর্তমানে বলিউডডে এই ঘরনার বহু ছবি বহু হয়েছে। ফলে কোথাও গিয়ে রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তা তুলনার মুখে চলে আসে। আর সেই দিক থেকেই চিত্রনাট্য বেশ কিছুটা হতাশ করে দর্শকদের। বাকি গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয় ভারসাম্য থাকলেও তা খুব একটা চমকপ্রদ নয়। 

সিনেম্যাটোগ্রাফি- ছবিকে সঠিক মান দেওয়ার জন্য ঠিক যতটা পরিমাণ পার্ফেকশনের প্রয়োজন ছিল, অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেই তৈরি করা হয়েছে ছবির সেট থেকে শুরু করে প্রতিটা সিনের ব্যাকগ্রাউন্ড। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, যা এক কথায় বলতে গেলে কোথাও এই ছবির আরও একটি মজবুত দিক বললে ভুল হবে না। 

পরিচালনা- পরিচালনার দিক থেকে করণ শর্মা যতটা পেড়েছেন ব্যালন্স বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি ধাপে করণ গল্প ধরে রাখার জন্য খুব সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম ভাঁজের ব্যবহার করেছে, যা এক একটি সিক্যুয়েন্সকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে বলাই চলে। নয়তো এমনও অনেক দিক রয়েছে মহারানির, যার দর্শকের মনোসংযোগ নষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। 

পর্যবেক্ষণ- এই ছবির ক্ষেত্রে অভিনয়টা ঠিক যতটা ভালো, ঠিক ততটাই খামতি থেকে যায় বেশ কিছু বিষয়। যার মধ্যে অন্যতম হল, হঠাৎ করে মহারানির এতটা পরিবর্তণ। শিক্ষা থেকে শুরু করে তাঁর চালচলন, কথাবার্তা, সবটাই যেন বড্ড তারাতারি হয়ে যায়। এখানেও শেষ নয়, পাশা পাশি এই ওয়েব সিরিজের একটি দুর্বল দিক হল বড্ড বড়। ৪৫ মিনিট করে দশটি এপিসোড, যা কোথাও গিয়ে ধৈর্য্য হারায় দর্শকদের।