ছবিঃ দিল বেচারা 

পরিচালকঃ মুকেশ ছাবড়া

অভিনেতা-অভিনেত্রীঃ সুশান্ত সিং রাজপুত, সঞ্জনা সাঙ্ঘি, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সইফ আলি খান 

গল্পঃ কাজি বসু ও ম্যানি দুইয়ের মাঝে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, সেখান থেকে জীবনের বাঁকে একের পর এক নয়া মোড়। কখনও মৃত্যুর হাতছানি, কখনও আবার জীবনকে উপভোগ করার অদম্য ইচ্ছে। কাজির ইচ্ছে পূরণ করতে করতে কখন যে ম্যানির শেষ সময় চলে এলো, তা বুঝে উঠতেই ছবি শেষ। ক্যান্সারে আক্রান্ত দুই প্রাণের মধ্যে থাকা ভালোবাসার উষ্ম ছোঁয়াকে অবজ্ঞা করতে পাড়েনি কাজির মা-বাবাও, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। 

অভিনয়ঃ দিল বেচারা ছবির প্রসঙ্গ উঠতেই একটাই নাম  ধরা দেয় সুশান্ত সিং রাজপুত। মৃত্যুর পরও যে নিজের ভালোবাসা ও অভিনয় দক্ষতা, প্রাণ খোলা হাসি দিয়ে ভরিয়ে দিল সকলের মন। অনবদ্য অভিনয়। ছবির ধাপে ধাপে পাল্টাতে থাকা অভিনয়ের ভাঁজে জীবন্ত হয়ে ওঠে সুশান্ত। পাল্লা দিয়ে অভিনয়ে মাতিয়েছেন সঞ্জনা সাঙ্ঘি, বলিউড ডেবিউতে সুশান্তের কাছে তাঁর অভিনয় খানিক চাপা পড়ে গেল বটে। ছবির কান্ডার ছিলেন সুশান্তই, আর ততটাই ভারসাম্য বজায় রেখে সঙ্গত দিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। মায়ের ভুমিকায় অনবদ্য স্বস্তিকা, বলিউডে স্বস্তিকার এটি ডেবিউ ছবি। খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও সইফের সপাট জবাবের দাপট, ছবির মোড় ঘোরায়। 

চিত্রনাট্যঃ গল্প নেওয়া হয়েছে জন গ্রিনের ২০১২-তে লেখা বিখ্যাত নোবেল দ্য ফল্ট ইন স্টার থেকে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে হলিউডে ছবিও তৈরি হয়েছে ২০১৬ সালে। চিত্রনাট্যে উপন্যাসের দাপটের থেকেও বেশি নজরে পড়ে সুশান্তের মৃত্যু যন্ত্রণা। অনন্যা অনবদ্য গল্প গাঁথার বুনটেই শেষ মুহূর্তে জীবন্ত হয়ে ওঠে সুশান্তকে হারানোর স্মৃতি। এ যেন এক অদ্ভুত মিল। ছবির সংলাপ থেকে শুরু করে নিজের ছবি দেখে না যাওয়া, পরতে-পরতে যেন সুশান্তই নিজের জীবনের গল্প বুনেছেন ছবিতে। 

সিনেম্যাটোগ্রাফিঃ ছবিতে ক্যামেরার অনবদ্য কাজ। বেশ কিছু সুন্দর ফ্রেমে গল্পকে বোনা হয়েছে, কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন না নির্দিষ্ট ছন্দের অভাব ঘটে গল্পে, সেই দিকেও কড়া নজর দিয়ে তৈরি ছবি। প্যারিসের অলি গলি থেকে শুরু করে, সুশান্ত-সঞ্জনার একান্ত দৃশ্য, ঝাঁচকচকে ফ্রেস অনুভুতি দেয় পর্দায়।  

মেকআপঃ ছবিতে ছিল না মেকআপের কোনও বারবারন্ত। যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটাই মেকআপ ব্যবহার করা হয়েছে, সুশান্তের প্রথম ধাপের মেকআপ ও পরবর্তীতে মেকআপ বেশ নজরকাড়ে। পাশাপাশি বাঙালি লুকে স্বস্তিকা ও শাশ্বত পর্দায় এক কথায় পার্ফেক্ট। ছবিতে সঞ্জনার লুকও সাধারণ, যা পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই। 

পরিচালনাঃ পরিচলক মুকেশ ছবিতে এমন ধাঁচে বুনেছেন, যা এক কথায় চোখে জল আনাতে বাধ্য। কোনও হলিউড ছবির সঙ্গে তুলনা না টেনেই এক কথায় পার্ফেক্ট ছবি। কারণ ছবির ধারালো সংলাপ ও গল্পে সুশান্তের মৃত্যুই যে মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, রেটিং, তুলনা ও সমালোচনা। ছবিরদুই ধাপে ধরা পড়া দুই সুশান্তের ভারসাম্য বজায় রেখেই নজর কাড়েন মুকেশ।

সমালোচনাঃ এক কথায় বলতে গেলে, এ ছবি যেন, সুশান্তের শেষ সময়ের সাক্ষী থেকে গেল, নতুন করে সুশান্তের মৃত্যু যন্ত্রণাতে ভাসল ভক্তকূল। অনবদ্য ছবির পরিচালনা, ঠিক ততটাই গল্পের ভাঁজে সুশান্তকে বুনেছেন পরিচালক। ব্যালন্স বজায় রেখে তৈরি ছবির পরতে-পরতে হৃদয়ে মোচর দেওয়া সংলাপই যেন মূল মন্ত্র।