<?xml version="1.0" encoding="UTF-8" standalone="yes"?>
<rss xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/" version="2.0">
    <channel>
        <title>Asianet News Bangla</title>
        <link>https://bangla.asianetnews.com</link>
        <description><![CDATA[Bangla News - No.1 News channel in Kolkata, which delivers Local and International news in Bangla language.]]></description>
        <image>
            <url>https://static-assets.asianetnews.com/images/ogimages/OG_Bangla.jpg</url>
            <width>143</width>
            <height>100</height>
            <link>https://bangla.asianetnews.com</link>
            <title>Asianet News Bangla</title>
        </image>
        <lastBuildDate>Mon, 30 Mar 2026 19:01:29 +0530</lastBuildDate>
        <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/rss/magazine" rel="self" type="application/rss+xml"/>
        <item>
            <title><![CDATA['খিদে একটা জ্যান্ত জিনের মতো', ছোটগল্প-- 'ইঁদারা', গল্পকার-- সোনালী চক্রবর্তী]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/anyo-dunia-magazine-bengali-short-story-indara-written-by-sonali-chakraborty-adab-qvcglc</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/anyo-dunia-magazine-bengali-short-story-indara-written-by-sonali-chakraborty-adab-qvcglc</guid>
            <pubDate>Sun, 27 Jun 2021 10:30:48 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;বেলা এগারোটার কিছু আগে মালিকের গুদামের কাছে এসে পৌঁছায় রাম৷ গুদামের কাছেই গুমটি ঘরের সামনে লম্বা লাইন৷ মাথা তুলে আরও একবার আকাশটাকে জরিপ করে সে, অভিজ্ঞ চোখ বুঝে যায় হিসেব নিকেশ করে তার নম্বর লাগতে বেলা গড়িয়ে দুপুর হবে, তারই ভিতর বেশ কয়েকবার গদি ছেড়ে উঠবে মালিক৷&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f95wb5tktnggsjkhbyrehz8f,imgname-whatsapp-image-2021-06-21-at-18-00-58-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;কপালের ওপর হাতটা দিয়ে চোখটা আড়াল করে আরেকবার আকাশের দিকে তাকিয়ে আন্দোরাম ৷ চোখ বুজে আসে ঝাঁঝালো রোদের ধারে&hellip; আজও জল ঢালবে না বেইমান দেবতা৷ গত কদিন ধরে কম পুজো তো হল না&mdash; আচার, আয়োজন, ফুল, মালা, বেল, নারকেল দিয়ে সাজানো নৈবেদ্য সবই বৃথা, এমনকি মেয়ে-বউদের কাপালপান্ডাম মানে ব্যাঙের বিয়ে তা-ও প্রায় মোড়ল কাটিহারের বাড়িতে এই মাসে নয় নয় করে তিনবার হয়ে গেল৷ মাথা ঝাঁকায় আন্দোরাম, এমন রুখাশুখা পানির দেবতা শুধু কি তাদের দেশেই! ভাবতে ভাবতেই পা চালাতে থাকে সে, থামলে তো চলবে না, আজ তাকে যে করেই হোক কিছু পাওনা টাকা নিতে হবে মালিকের থেকে৷ সুকুদাই বলেছে লক্ষণ ভালো নয়, হয়তো আজ রাতের মধ্যেই গঙ্গামা সন্তানের জন্ম দেবে৷ বার বার তিনবার&mdash; এই তৃতীয়বারও যদি জন্মের পর তার গর্ভস্থ শিশুটি নষ্ট হয় গলায় দড়ি দেবার হুমকি দিয়ে রেখেছে গঙ্গাম্মা৷ বুড়ি সুকুমতি পই পই করে বলেছে&mdash; বউয়ের রক্ত কম, নাড়িও দুর্বল, তাই বাড়িতে এবার কতটা সামলানো যাবে তা বলা মুশকিল৷ হাতে যেন টাকা রাখে রাম, সদর যেতে হতে পারে, গাড়ি লাগবে, বেশ দূরের রাস্তা৷ চিন্তার জট যত শক্ত হয়, পা-ও যেন আটকে আটকে আসে আন্দোরামের৷ আজ হতচ্ছাড়া আকাশ একটুকরো মেঘের আড়ালও দেয়নি, এমনকি গাছগুলো কেমন একটা খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ যেন সমস্ত পাতাগুলো তার কোমলতা হারিয়ে শক্ত আর সিঁটিয়ে আছে কোনও এক অজানা ভয়ে৷ ছায়া আন্দোরাম কোনোদিন খোঁজেনি, ছায়া কি জিনিস সে বোঝার সুযোগও দেয়নি জীবন তাকে৷ শৈশবে পিতৃ-মাতৃহারা আন্দোরাম, কখনও জনমজুর, কখনও ক্ষেতমজুর কখনো-বা লোকের বাড়িতে নোংরা পরিষ্কারের কাজে লেগে যেত৷ যত দিন গেছে বিজপুরের কাজের সুযোগ কমেছে৷ সেই সাথে কমেছে ক্ষেতমজুরের কাজ৷ এখন তেন্দুপাতার ওপরই ভরসা, সারাদিনের পাতা জুটিয়ে যে যৎসামান্য দাম জোটে তা দিয়ে একটা লোকেরও পেটের আগুন নিভতে চায় না৷ আন্দোরাম তো এখন দু&rsquo; থেকে তিন হতে চলেছে৷ তার ওপর আবার এখন পাতা জমা দেবার সময়৷ পুলিশে ছুঁলে কত ঘা যে পড়ে তার কোনো হিসেব নেই৷ বেলা এগারোটার কিছু আগে মালিকের গুদামের কাছে এসে পৌঁছায় রাম৷ গুদামের কাছেই গুমটি ঘরের সামনে লম্বা লাইন৷ মাথা তুলে আরও একবার আকাশটাকে জরিপ করে সে, অভিজ্ঞ চোখ বুঝে যায় হিসেব নিকেশ করে তার নম্বর লাগতে বেলা গড়িয়ে দুপুর হবে, তারই ভিতর বেশ কয়েকবার গদি ছেড়ে উঠবে মালিক৷ মুখে তার সারাক্ষণই নিমফলের মতো বিষ অথচ রক্তে না-কি মধু, কেমন করে হয় বোঝে না আন্দোরাম৷ সে বসে গুনতি করে মাথা, আর মালিকের শৌচে যাওয়া৷ মাটি ঘিরে কত উৎসব আমাদের৷ মাটি ঘিরে কত আয়োজন। মাটির দেবতার পায়ে উৎসর্গিত হয় গোটা জীবন৷ এই মাটি যখন সুফলা-সুজলা তখন অন্নদাত্রী মায়ের মতো, আবার রুখাশুখা বায়ুতে মাটি আন্দোরামের মালিকের মতো কর্কশ, কঠিন, বেদরদি৷ গঙ্গাম্মার প্রসব বেদনা উঠেছিল গভীর রাতে, সন্ধে থেকেই ঘন ঘন বৌটাকে পরীক্ষা করছিল সুকুমতি৷ বাইরে অস্থির হয়ে উঠছিল আন্দোরাম৷ মনে মনে ভীমাদেবের পায়ে মাথা ঠুকছিল সে, কাতরভাবে প্রার্থনা করেছিল এবার একটা জ্যান্ত বেটা হোক তোর৷ বেটা যদি নাই-বা হয়, হোক না একটা বেটি, তবুও বউটা তো বেঁচে যাবে, জেদি বউ আর গলায় দড়ি দেবে না! একটা তীক্ষ্ণ চিৎকারে ঘোর কাটে রামের৷ ভুল শোনেনি রাম, একটা সদ্যোজাত জীবিত শিশুর তীক্ষ্ণ আর্ত চিৎকার কানে এসেছে তার এই প্রথম৷ দ্রুত পায়ে ঘরের দিকে এগিয়ে যায় সে, ঘরে ঢোকার মুখেই একটা সাদা পোটলা নিয়ে বেরিয়ে আাসে সুকুমতি, চওড়া হাসি হেসে বুড়ি বলে, &lsquo;সীতা-মাইয়া এসেছে আন্দো তোর ঘরে, এবার তোর নিজের ক্ষেতি হবে, ফসল উঠবে, জমি হবে নিজের৷ তুই আবাদ হবি আন্দো৷&rsquo; আন্দো দাওয়ায় দাঁড়িয়ে বুকে তুলে নেয় কন্যা সন্তানটিকে; চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জলের ধারা; আকাশের দিকে ফের একবার মাথা তুলে তাকআয়&mdash; সেই আকাশ যেন তার আজন্ম সহচর, এক চিলতে বিদ্যুত চমকে কি ওঠে মেঘের আড়ালে! মেয়েকে বুকে জড়িয়ে অস্ফুটে বলে ওঠে, &lsquo;বেটি আম্মো৷&rsquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;।। দুই ।। খিদে একটা জ্যান্ত জিনের মতো মানুষের পেটের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকে৷ গরিবের পেটের মধ্যে সে বাড়তে থাকে যেন একটু অন্যরকমভাবে&mdash; লিকলিকে সরু হাত-পা, অথচ স্ফীত একখানা পেট, আর সেই পেটে গনগনে একটা উনুন বসানো থাকে সারাক্ষণ৷ কখনো সেই উনুনের আগুন নিভু নিভু আচেও শরীরকে ধিকি ধিকি করে জ্বলে জানান দেয় সেই জিনের অস্তিত্ব৷ ছোট্টো শরীর কিন্তু তার ভিতর যে অনন্ত প্রাণ ও তার সাথে যে অভুক্ত জিন লড়াই করে চলে প্রতিনিয়ত এই বারো বছরের জীবনে তাকে নিয়ে বুঝতে বুঝতে এটা বুঝে গেছে আম্মো&mdash; সে যতদিন বাঁচবে এই শয়তান জিনের দাসত্ব থেকে তার মুক্তি নেই! ছোটো ছোটো কচি হাতে সে যখন প্রথম টুকটুকে লাল লাল লঙ্কাগুলো তুলতে শিখছিল, কখনো একটানে উঠে আসত পাতাশুদ্ধু লঙ্কা, কখনো-বা ভেঙে যেতো লঙ্কার বোঁটা, অসাবধানে যেন হাত লাগত চোখে, ঝাঁঝে জ্বলে উঠত চোখ, জ্বালা করত, চোখে হাত দিলে সেই জ্বালা বেড়ে যেতো দ্বিগুণ, যন্ত্রণায় কঁকিয়ে প্রথম প্রথম কেঁদে উঠত আম্মো, ছুটে যেত &lsquo;তানি তানি&rsquo; বলে, জ্বালা কমলে একটু ধাতস্ত হয়ে যখন সে বসতো, তখন নতুন করে জলের ধারা নেমে আসত চোখ বেয়ে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলত আম্মো&mdash; কত কথা, কত ছবি ভেসে উঠত তার কৈশরের মানসপটে তার ইয়ত্তা নেই! মাকে জন্ম ইস্তক দেখেনি আম্মো৷ বাপ বলে&mdash; তার জন্মের রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে মা, একেতেই না-খাওয়া শরীর, তার ওপর সন্তানের জন্মের ধকল আর রক্তের অভাবে ধুকতে থাকা মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার টাকা ছিল না বাপের কাছে৷ গ্রামে জোটেনি কোনো গাড়ি, রক্তে ভেসে যাওয়া মায়ের শীর্ণ শরীরটাকে নিয়ে আরেক হাতে লণ্ঠন নিয়ে হাঁটতে শুরু করেছিল বাপ আন্দোরাম। তারা অচ্ছুৎ, দলিত, গ্রামের শেষ প্রান্তে বাস, কেউই যে তাদের জন্য এগিয়ে আসবে না সে জানা ছিল আন্দোরামের; তাই সে বউকে নিয়ে একাই এগিয়েছিল, বুড়ি দাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিল আম্মোকে৷ বেশ কিছুটা হাঁটার পর হালকা দেহটা যে আস্তে আস্তে শক্ত আর ভারী হয়ে উঠেছিল টের পেয়েছিল সে, মাঝ রাস্তায় প্রাণপাখি উড়ে গিয়েছিল গঙ্গাম্মার, ওইটুকু দুধের শিশু মাতৃহারা হল সেই রাতে৷ আন্দোরামের বাড়িতে সেই শিশু কিন্তু চিৎকার করে জানান দিয়েছিল তার উপস্থিতি৷ নিরেট কঠিন অন্ধকার বুক চিরে সেই কান্নার আওয়াজ বিদীর্ণ করেনি কারও বুক৷ স্বাভাবিক, নিঃস্পৃহ হয়েই ঘুমিয়েছিল গোটা গ্রাম ফের ভোরে উঠবে বলে স্বাভাবিক নিঃস্পৃহতায়৷ এই কানোগুজ্জ নামের গ্রামটিতে প্রথম যখন এসেছিল আম্মো&mdash; নয় বছরের বালিকা সে, শৌশবের নিটোল সরলতা তখনও তার দু&rsquo;চোখে ভরপুর৷ জন্মের রাতে মাতৃহীন মেয়েটিকে বুকে আগলে রেখেছিল সুকুমতি দাই৷ সদ্যোজাত শিশুটির মা তখন জীবন-মৃত্যুর দোলাচালে ঝড়ে একটুকরো পাখির বাসার মতো আটকে আছে যেন সরু ডালের ডগায়, শুধু অপেক্ষা ছিল এক দমকা হাওয়ার৷ তখন সুকুমতির ছোটো ছেলের বউয়েরও সদ্য সন্তান হয়েছে, তাই এই মাতৃহারা শিশুকন্যাটি মাতৃস্নেহে বঞ্চিত হলেও মাতৃদুগ্ধে বঞ্চিত হয়নি বরাত জোরে৷ বাবা তাকে শিখিয়েছিল কিভাবে পেটমোটা পিঁপড়েগুলো চিনে নিয়ে আলাদা করে নিয়ে বানাতে হয় ছাপড়া চাটনি; মুখে সেই টক টক সোঁদা স্বাদটা এখনও লেগে আছে আম্মো৷ এখানে এসে সেই স্বাদ প্রায় ভুলতে বসেছে সে৷ ভুলতে বসেছে শৈশবের পুতুল খেলা, ঘরকন্নে, রান্নাবাটি এমনকি পালাপরবের গান৷ জ্ঞান ইস্তক মনে আছে তার&mdash; ঘরে ছিল খুব জলের কষ্ট, তাই একটু বড়ো হয়েই বাবা তাকে দিয়েছিল একটা মাটির কলসি, সেই ছোটো ছোটো পায়ে কাঁধে কলসি নিয়ে বেরিয়ে পড়ত আম্মো গ্রামের নীচু জাতের জন্য নির্দিষ্ট কুয়োটা ছিল তার ঘরের থেকে বেশ খানিকটা দূরে৷ হাঁটতে কষ্ট হতো ছোট্টো আম্মোর, তবু জল না-পেলে বাবার মার জুটবে কপালে৷ বাপকেও ছেড়ে দেওয়া যায় না৷ সারাদিন বনে-বাদাড়ে পাতার খোঁজ চালায় মানুষটা&mdash; ফিরে আসে, খাবার পায় না ঠিকমতো, কিন্তু তা বলে তেষ্টার জলও পাবে না! জলের জন্য বাবার মার খেয়েছে আম্মো, গাল খেয়েছে প্রতিবেশীদের, আর, তত তার চোয়াল আর মন শক্ত হয়ে উঠেছে জেদে; সেই ছোট্ট থেকেই এক কঠিন শপথ নিয়েছে আম্মো যে-করেই হোক নিজের ভিটের চৌহদ্দিতেই একটা ইঁদারা বানাবে সে৷ তার জন্য চাই টাকা অনেক টাকা, তাই যখনই সে জানতে পারল যে লঙ্কা ক্ষেতে কাজের জন্য আড়তদার এসেছে&mdash; এক মুহূর্ত দেরি করেনি সে, তারই মতো আরও কিছু হতভাগ্য বালক-বালিকা জুটে গিয়েছিল দলে৷ আন্দোরাম নিমরাজি হলেও তাকে বুঝিয়েছিল ছোট্টো আম্মো, &ldquo;বাপু আমি ফিরে আসব অনেক টাকা নিয়ে, পরিষ্কার জল খাব আমরা, নিজের ইঁদারার টাটকা জল যত খুশি!&rdquo; &amp;nbsp;মেয়ের কথা শুনে ফের একবার আকাশের দিকে তাকিয়েছিল আন্দো, ঝকমকে নীল আকাশের মুখ ভার ছিল না, মনে মনে সেটাকেই আকাশের দাবি ভেবে ছোট্ট মেয়ের মাথায় শেষবারের মতো হাত রেখেছিল আন্দো; আর ছোট্টো ছোট্টো বিন্দুর মতো মিলিয়ে যেতে দেখা তার আত্মজাকে শেষ অবধি প্রাণপণ হাত নেড়ে বিদায় জানিয়েছিল এক চিরন্তন আদ্র আর্ত পিতৃহৃদয়৷&lt;/p&gt; &lt;p&gt;।। তিন।। সবার মুখে ঘুরে ফিরে আসছে একই কথা এক অতিকায় দানবের মতো এক রোগ এসেছে শহর থেকে গ্রামে গ্রামে, মানুষ মরছে মানুষের নিঃশ্বাসে, একেই না-কি মহামারী বলে৷ ছোট্টো আম্মোদের অত কথা কেউ বলে না, সবাই নিজেদের মধ্যে গুজগুজ ফিসফিস করে, সবার চোখে-মুখে ভয়, আতঙ্ক, আশঙ্কা আর সর্বক্ষণ একটা চাপা ত্রাস৷ আম্মো অত কিছু বোঝে না৷ সে রোজ রাতে তার টাকার পুঁটলিটা খুলে গোনে, জানে রোজ টাকা বাড়ে না, তবু গোনে৷ সে শুনেছে মোটামুটি বিশ হাজার টাকা হলে হয়ে যেতে পারে একটা ইঁদারা৷ আম্মো ঘুমের মধ্যে শীতল জলের স্বপ্ন দ্যাখে&mdash; টাটকা টলটলে জল, গভীর জলে সে সাঁতার কাটে, মাছেদের সাথে, তার মাথায় গোঁজা থাকে পদ্মফুল, তার সারা শরীরে ঠান্ডা হাওয়া খেলা করে, সে আরও গভীরে নামতে থাকে, ডুবতে থাকে চোখ, নাক, চুল, হঠাৎ ইঁদারায় পাঁক খেয়ে ভেসে আসে আন্দোরামের গলা, &ldquo;বেটী আম্মো, বেটী আম্মো&hellip;&rsquo;&amp;nbsp; ধড়মড় করে চড়কির ডাকে উঠে পড়ে আম্মো৷ বাবাকে দেখতে না-পেয়ে চোখ ভরে আসে জলে৷ তার চেয়েও বেশি কান্না পায় চড়কি&rsquo;র কথা শুনে যে, এখুন্নি বেরোতে হবে তাদের, গ্রামে ফিরে যেতে হবে সব্বাইকে ৷ সেই দানো মহামারী না-কি ঢুকে গেছে তাদের এলাকায়৷ সবাই পালাচ্ছে, সব না-কি বন্ধ হয়ে গেছে৷ দোকানপাট, ট্রেন, বাস, রাস্তা৷ সব৷ তবে ফিরবে কি করে তারা? চড়কি বলল পায়ে হেঁটে ফিরতে হবে তাদের, আম্মো অবাক হয়ে ভাবে সে যখন এসেছিল প্রথমে অনেকক্ষণ ভটভটি চেপে যেতে হয়েছিল বাস ধরতে; বাস থেকে সেই প্রথম রেলগাড়ি দেখা তার, তারপর সারা রাস্তা ট্রেনের দুলনিতে আধো ঘুমে আধো জাগরণে কিছু মনে নেই৷ ফের বাস চড়ে ও তারপর লম্বা হেঁটে পৌঁছেছিল কাজের জায়গায়৷ আম্মো ফোঁপাতে শুরু করল দেওয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে৷ তখনই চলে গেলে যে-জমানো টাকা আছে তা দিয়ে কিছুতেই ইঁদারা বানাতে পারবে না সে৷ চড়কির তাড়ায় চোখ মুছে উঠে বসে আম্মো৷ তার যেটুকুনি নেওয়ার মতো আছে সাথে সব মিলিয়ে একটা বোঁচকা মতো বাঁধে সে৷ ঘরে কিছু শুকনো চিড়ে আর গুড় ছিল সেটাও বেঁধে নিতে বলে চড়কি৷ চোখ মুছে মাথায় টুকিটাকি জিনিসের বোঁচকা আর ফ্রকের নীচের প্যান্টের দড়ির সাথে বেঁধে নেয় তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ&mdash; তার এতোদিনের তিল তিল করে জামানো টাকা, ঠান্ডা জলের স্বপ্ন!&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আন্দোরামের কাজ চলে গিয়েছে সর্বনাশা এই মহামারীর প্রকোপে৷ মালিকের পাতার কারখানা বন্ধ, তাই পাতা কুড়িয়ে দেবে কাকে সে? গ্রামে অনেকে বলাবলি করছিল যারা যারা গিয়েছিল বাইরে কাজ করতে সবাই না-কি ফিরে আসছে যে-যার গ্রামে, মালিকের হাতে-পায়ে ধরে আড়তদারকে ফোন লাগিয়েছিল আন্দো, জেনেছিল ফিরে আসছে আম্মোও গ্রামের আর সবার সাথে৷ সেই থেকে ভিটের নিমগাছের কোনাকুনি ইঁদারার জন্য মাটি খুঁড়তে শুরু করল আন্দো দিন রাত এক করে৷ বেটি আসলে তাকে চমকে দেবে সে, অনেকটা কাজ এগিয়ে যাবে আম্মো আসার আগে৷ নাওয়া-খাওয়া প্রায় ভুলতে বসেছিল আন্দো৷ তারা দলিত বলে এই জল নিয়ে ছেলেবেলায় কম অপমান জোটেনি তার কপালে৷ অনেক ছোটোবেলার কথা আবছা মনে পড়ে তার&mdash; একবার তো শুখার সময় তেষ্টায় পাগল হয়ে গ্রামের মন্দিরের ইঁদারার জল খেতে গিয়েছিল চুরি করে; ধরা পড়ায় গাছে বেঁধে সে কী মার! কত কেঁদেছিলো আন্দো, কত অনুনয় বিনয়, মারতে মারতে চোখ-মুখ ফুলিয়ে দিয়েছিল৷ বাপটা এসে মাটিতে কপাল ঠুকে কী কান্না পুরোহিতের কাছে৷ তারপর কে জানে ভোররাতে একসময় নেতিয়ে পড়া আন্দোকে দেখে হাতের বাঁধনটা খুলে দিয়েছিল কেউ, আন্দোর মনে নেই জ্বরে বেঁহুশ ছিল সে সাতদিন৷ এমন কতই করুণ রাগের ব্যাথার ঘটনা তার শরীরে, মাথায় আগুন জ্বালায়, তার ইয়ত্তা নেই৷ আর তখনই আরও জোরে মাটির বুকে আঘাত হানে আন্দো, যেন মাটির গভীরে খোদাই করতে থাকে তার শত প্রজন্মের বঞ্চনার ইতিহাস৷ ঘা মারতেই থাকে মারতেই থাকে৷&lt;/p&gt; &lt;p&gt;ওদিকে চলতেই থাকে চলতেই থাকে আম্মো, তার ছোট্টো কোমল পা কখনো-বা রোদে তেতে উঠে পুড়ে যায়, পিচ রাস্তায় কখনো-বা মাঠের কাদায় ডুবে যায়, কখনো-বা জঙ্গলের জংলি গাছের কাঁটার খোঁচায় রক্তাক্ত হয়ে ওঠে৷ সঙ্গের খাবার ফুরিয়েছে একদিন হল, জলও নিঃশেষ৷ তবু হাঁটছে আম্মোর দল, না-থেমে না-বিশ্রাম করে৷ শুধু জানে পৌঁছতে হবে কোন এই দীর্ঘ পথচলা, কী আছে পথের শেষে&mdash; সব তাদের অজানা৷ কত মানুষ দ্যাখে আম্মো৷ হাঁটছে তাদের মতো, কোলে, কাঁধে দুধের শিশু, কত পোয়াতি, বুড়ো বাপ-মা, আর তার নিজের মতো এমন অসংখ্য আশ্রয়হীন বালক-বালিকা৷ আম্মো ভেবেছিল রাস্তায় খাবার পাবে, নিদেনপক্ষে জল, কিন্তু কোথায় কী? সব শুনশান, শুধু ধূ ধূ রাস্তা আর ঠিকরানো তীব্র রোদ; পথের মানুষরা মুখ ফিরিয়েছে, জন্ম থেকেই মানুষের উপেক্ষায় অভ্যস্ত সে&mdash; তারা অচ্ছুৎ; কিন্তু এখন শুধু একে অপরের প্রতি শুধু ঘেন্না দেখছে না!&mdash; আম্মো দেখছে কী এক ভীষণ ভয় প্রত্যেকের চোখে! সে শুনেছে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে অসুখ, মানুষ মানুষকে ছুঁলে ছড়াচ্ছে অসুখ৷ আম্মোর মনে হয় এতোদিন তো শুধু আম্মোরাই অচ্ছুৎ ছিল, তাদের ছুঁলেই না-কি সব অশুদ্ধ হতো, এখন কী তাহলে সবাই অচ্ছুৎ! তবে কী আম্মোদের চোখের জল এতোদিন ধরে হিসেব রেখেছে ভীমদেব? আজ সেই কান্নাই বাতাসে মিশে ছড়িয়ে যাচ্ছে মানুষের মধ্যে, একা হয়ে যাচ্ছে সবাই৷ আম্মোদের মতোই একঘরে অস্পৃশ্য! পা আর চলে না আম্মোর৷ রাস্তার কারা সব খাবার দিচ্ছিল প্যাকেট করে৷ কাড়াকাড়ি পড়ে গেল সবার মধ্যে৷ অবসন্ন ক্লান্ত শরীর নিয়ে আম্মো নিজের ভাগটা ছিনিয়ে নিতে পারেনি ভিড়ের মধ্যে৷ চড়কিকেও আজ চোখ খুলে দেখতে পায়নি আম্মো, হয়তো আগে হেঁটে চলে গিয়েছে সে৷ আজ রোদের তেজ আরও প্রখর, আরও তীব্র, এতোটুকু ছায়া নেই কোথাও৷ এমন নিষ্ঠুর, রুক্ষ, কেবলমাত্র তার লঙ্কাক্ষেতের মালিককেই দেখেছে সে৷ শরীরটাকে কোনওরকমে টানতে থাকে আম্মো, পায়ের চটিটা পাতলা হতে হতে আর বোধহয় অবশিষ্ট নেই, পায়ের চেটো উল্টে দ্যাখে আম্মো&mdash; বড়ো বড়ো জল ভরা ফোস্কা, আর অসংখ্য কাটা দাগে শুকনো রক্ত৷ হাঁটতে থাক আম্মো&mdash; সে শুনেছে, আর একটু এগোলেই তার রাজ্যের সীমানা, তাকে যে-করেই হোক এগোতেই হবে, গত সাতদিন একনাগাড়ে হেঁটে চলেছে সে, হয়তো আরও বেশি৷ ককিয়ে কেঁদে ওঠে আম্মো, পা&rsquo;টা তুলে দ্যাখে একটা ফোস্কা ফেটে রক্ত পুঁজ বেরোচ্ছে সমানে, সেখানে আটকে আছে একটা ছোট্টো ছুঁচোলো পাথর৷ রক্তাক্ত, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত আম্মো হাঁটতে থাকে, মাথার পুঁটলিটা কখন যে খসে পড়ে টের পায় না সে, তবু চলে, চলতেই থাকে&hellip; সীমানায় তাদের আটকায় পুলিশ, জলের মতো পাইপ দিয়ে কী একটা বেরোয়, একটা ঝাঁঝালো গন্ধ, চোখ-মুখ-নাক জ্বলতে থাকে&mdash; আম্মোর শ্বাস আটকে যায়; সেখানে বসে থাকে তারা বেশ কিছুক্ষণ৷ সেখানে খাবারও দেওয়া হয় তাদের, আম্মোর খাবার দেখে বমি পায়, সে খায় না, গলা শুকিয়ে আসে তেষ্টায়, চারিদিকে তাকায় সে, অনেক অনেক লোকের মুখ দেখতে পায়, চোখ বুজে আসে তার, তবু সে উঠে দাড়াঁয়, অনেক দূরে যেন শুনতে পায় চড়কির গলা&mdash; এ আম্মো ওঠ, চলতে হবে তো, আর কিছুটা গেলেই গাঁ আমাদের৷ বিদ্যুতের মতো কী একটা ঝিলিক দেয় তার মাথায়, প্রাণপণে হাঁটতে থাকে আম্মো, অন্ধকার রাস্তায় সামনের দিকে৷ ফিকে অন্ধকার গাঢ় হতে থাকে ধীরে ধীরে, আম্মো হাঁটে প্রাণ দিয়ে হাঁটে, সব শক্তি জড়ো করে ছোট্ট দু&rsquo;টো পায়ে ডানার মতো ভর করে হাঁটতে থাকে আম্মো৷ তবু চোখে এতো ঘুম কোথা থেকে আসে সে বোঝে না, ঘুমের ঘোরেও সে চলে, জঙ্গলের ভেতর দিয়ে, মাঠের ভেতর দিয়ে, ভয়াল শ্বাপদের ধারালো চোখোর ওপর দিয়ে, হিংস্র কুমির, তীক্ষ্ণ তক্ষক তার পিছু নেয়, তবু সে হাঁটে, মেঘের ভিতর দিয়ে হাঁটে, ঘোর বর্ষার ভিতর দিয়ে হাঁটে৷ ইঁদারার পর ইঁদারা পেরোয় সে, তার চোখ-ঠোঁট স্পর্শ করে উঠে গভীর শীতল জল, ফণিমনসার মতো তাঁর চুল এলো হয়ে ছড়িয়ে থাকে, ঘুমিয়ে পড়ে আম্মো একসময়৷&lt;/p&gt; &lt;p&gt;পুরো একটা গোটা দিন আন্দোরামকে তার ভিটেতে মাটি কুপোতে দ্যাখেনি কাউকে৷ গ্রামের উপহাসের পাত্র, চর্চার পাত্র আন্দোকে কেউ না কেউ রোজই দেখত ইঁদারা খোঁড়ার কাজে৷ বেটির জন্য ইঁদারার কাজ এগিয়ে রাখছিল আন্দো৷ সবাই খেপাচ্ছিল বেটির বিয়ের যৌতুক খুঁড়ে রাখছ আন্দো? দলিতের ভিটেতে খুব প্রয়োজন না-পড়লে কেউ উঁকি দেয় না৷ সেদিন অনেক বেলার দিকে আন্দোরামের মালিক এসেছিল সঙ্গে একদল লোক, পুলিশেরই বটে৷ আম্মোর নিথর দেহটা পড়েছিল গ্রামের প্রান্তে থাকা ছোটো জাতের ইঁদারার মুখে, পরনে ছিল বেগুনি ফ্রক৷ ফ্রকের নীচের প্যান্টে বাঁধা ছিল একটা ভেজা পুটলি, আর তার ভিতরে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে কিছু বাতিল পুরনো টাকা৷ নোট বাতিলের সময়ই মেয়াদ ফুরিয়েছে এই টাকাগুলোর৷ শিশুমন সেটা বোঝেনি, আঁকড়ে ধরে রেখেছিল তার শেষ সম্বল, তার তিল তিল করে জমানো স্বপ্ন৷ বাড়িতে ঢুকে আন্দোর নাম ধরে অনেক হাঁকডাক করেছিল মালিক, তারপর কৌতুহলবশত এগিয়েছিল নিম গাছের কোনাকুনি, যেখানে গত পনেরো দিন ধরে একনাগাড়ে গর্ত খুঁড়ছিল আন্দোরাম রোদ-ঝড়-জল-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে৷ মনে সন্দেহ নিয়ে উঁকি মারে মালিক৷ বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে তার৷ আকাশের দিকে স্থির চোখ মেলে তাকিয়ে আছে আন্দোরাম, টানটান হয়ে শুয়ে আসমানি দোস্তের সাথে যেন তখন কথা বলছে সে৷ গর্তে খানিকটা নেমে মালিক বিড়বিড় করে মুখে রামনাম জপ করে সে আন্দোর চোখটা বুজিয়ে দ্যায়৷&lt;/p&gt; &lt;p&gt;অনেক দূরে অনেক ওপরে মেঘের সিঁড়িতে পা ঝুলিয়ে তখন গল্প করছে বাপ-বেটি৷ আরও উপর থেকে মেঘের পাকদন্ডী বেয়ে নেমে আসতে দেখা যায় গঙ্গাম্মাকে৷ মাটির কলসি কাঁখে নিয়ে মেঘের বেড়ি ভেঙে ভেঙে তাদের কাছে এসে দাঁড়ায় গঙ্গাম্মা৷ মেয়ের মাথায় হাত বুলায়৷ তারপর পাশে বসে শুরু করে দুঃখ-সুখের অফুরান গল্প৷ আন্দো ও গঙ্গাম্মার গুনগুনানি কথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়ে আম্মো, মায়ের কোলে মাথা রেখে, আর তার বাপের কোলে মেলে দেয় ফুটিফাটা রক্তাক্ত শ্রান্ত ফুটিফাটা দু&rsquo;খানা পা৷ যেন এক দুর্ভাগা দেশের খোদাই করা মানচিত্র৷&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি&lt;/strong&gt;-- &lt;strong&gt;সোনালী চক্রবর্তী&lt;/strong&gt; ভারতীয় লোকশিল্পীদের নিয়ে কাজের সাথে দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে যুক্ত | প্রান্তিক ও লোকশিল্পীদের উন্নতিকল্পে তৈরি&amp;nbsp; করেছেন একটি সেচ্ছাসেবী সংস্থা যা কাজ করে চলেছে বেশ কিছু রাজ্যে | মূলত কবিতা ও ছোটগল্পে স্বচ্ছন্দ |&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/anyo-dunia-magazine-bengali-short-story-indara-written-by-sonali-chakraborty-adab-qvcglc"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[দেশভাগ, অনাদরের মাটি এবং আটটি উপন্যাস, সাহিত্য-প্রবন্ধ-- প্রসেনজিৎ দত্ত]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/partisan-of-a-country-always-affect-the-civilisation-a-narrative-by-prosenjit-dutta-in-anyo-dunia-adab-qv18mu</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/partisan-of-a-country-always-affect-the-civilisation-a-narrative-by-prosenjit-dutta-in-anyo-dunia-adab-qv18mu</guid>
            <pubDate>Mon, 21 Jun 2021 11:42:07 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, এরপরের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। তবুও বহু মানুষই বরাতজোরে বেঁচে যান। সেইসব মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন বহু আগ্রহীকেই। সেগুলো সংগ্রহ করলে সময়ের এক জীবন্ত দলিল উঠে আসে।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f8pa3nvt2s3h2dvyt0eyzn83,imgname-whatsapp-image-2021-06-19-at-17-04-23-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lsquo;&lsquo;এসো দেখে যাও কুটি কুটি সংসার / স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো বে-আব্রু সংসারে / স্বামী নেই, গেল কোথায় তলিয়ে / ভেসে এসে আজ ঠেকেছে কোথায় ও-যে / ছেঁড়া কানিটুকু কোমরজড়ানো আদুরি, ঘরের বউ / আমার বাংলা।&rsquo;&rsquo; কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের অনাদরে পড়ে থাকা এ-কবিতার মতোই অনাদর পেয়েছিলেন তামাম দেশবাসী। ১৯৪৭। প্রায় ২০০ বছর শাসনের পরে ব্রিটিশরা অবশেষে ভারতীয় উপমহাদেশে ছেড়ে চলে যায়। এই প্রস্থানের আগে উপনিবেশকারীরা বালিতে একটি রেখা আঁকেন। যা দু&rsquo;টি নতুন আধিপত্য তৈরি করেছিল: হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান। প্রায় দেড় কোটি মানুষ এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। যাকে ইতিহাসের বৃহত্তম মানব অভিবাসন বলা হয়ে থাকে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, এরপরের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। তবুও বহু মানুষই বরাতজোরে বেঁচে যান। সেইসব মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন বহু আগ্রহীকেই। সেগুলো সংগ্রহ করলে সময়ের এক জীবন্ত দলিল উঠে আসে। বহু প্রকল্প শুরু করে এই দলিল সংগ্রহের কাজ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাকিস্তানের &ldquo;সিটিজেন্স আর্কাইভের ওরাল হিস্টোরি প্রকল্প&rdquo; (Oral History Project by the Citizens Archive of Pakistan)। তারা গল্পসংগ্রহ শুরু করে ২০০৭ সালে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ওপর যে লেখাগুলি হয়েছিল, সেগুলিকে সংগ্রহ করে আর্কাইভ করা হয়।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;ইতিবাচক বিষয় হল, এই বিভাজনকে কেন্দ্র করে কেবল ছোটোগল্পই নয়, বিভিন্ন দেশে একাধিক ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন কল্পকাহিনি এবং কথাসাহিত্য। এরমধ্যে উর্বশী বুটালিয়ার &lsquo;দ্য আদার সাইড অফ সাইলেন্স: ভয়েজেস ফ্রম দ্য পার্টিশন অফ ইন্ডিয়া&rsquo; খুবই উল্লেখযোগ্য। এই বইটি থেকে একটি অংশ উদ্ধৃত করছি: &ldquo;How do we know this event except through the ways in which it has been handed down to us: through fiction, memoirs, testimonies, through memories, individual and collective?&rdquo; অর্থাৎ লেখক বলেছেন, আসলে আমাদের পক্ষে এই বিশেষ ঘটনাটি সম্পর্কে লিখিত ফিকশন, আত্মকথা, স্মৃতিকথা সেগুলি ব্যক্তিগত হতে পারে অথবা সমষ্টিগত হতে পারে, এগুলির সাহায্য ব্যতিরেকে জানার উপায় আছে কি বিশেষত যেভাবে এই ঘটনাটির বিষয়ে আমাদের হাতে তুলে ধরা হয়েছে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;অঞ্জলি ইঞ্জেটি তাঁর প্রথম উপন্যাস &ldquo;দ্য পার্টেড আর্থ&rdquo;-এ এগুলোই তুলে ধরেছিলেন। সেই সময়কার মানুষগুলির জীবনযাপনকে তুলে ধরেছেন লেখক। এই উপন্যাসে প্রায় ৭০ বছর, ১৯৪৭-২০১৭ অবধি অনেকগুলি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসের একটি চরিত্র হল দীপা। যার বয়স ১৬। সে দিল্লিতে থাকে। আরও এক চরিত্রের নাম শান জনসন। ৪১ বছরের শান এই সময় আটলান্টায় থাকে। শান জনসন হলেন আসলে দীপারই নাতনি। কীভাবে এই দেশভাগ তাঁদেরকে প্রভাবিত করেছে, তা-ই অঞ্জলি ইঞ্জেটি তাঁর উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। উল্লেখ্য যে, এটি অতীতের কোনও ঘটনা নয়, বরং দেশের এই বিভাজন তাঁদের পরিবারকে বর্তমানেও প্রভাবিত করে তুলেছে, উপন্যাসে সে-কথাই অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ঔপন্যাসিক।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এরপরে আমরা উর্বশী বুটালিয়ার &ldquo;দ্য আদার সাইড অফ সাইলেন্স&rdquo;-এ ফিরব। পার্টিশনের পর যে-মানুষগুলি বেঁচেছিলেন, তাঁদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। যেমন লাহোরের একজন শিখ রিফিউজি। তিনি পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। একমাত্র তাঁর কাকা সেখানে থেকে গিয়েছিলেন। প্রায় চল্লিশ বছর সেই কাকার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করতে পারেননি, কারণ তিনি একটা সম্পূর্ণ অন্য দেশে থাকতেন। বইটিতে আরও দেখানো হয়েছে যে, সেই সময় মহিলাদের ওপর কীভাবে নির্যাতন করা হতো। প্রায় পঁচাত্তর হাজার মহিলা সেই সময়ের ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। মতান্তরে, সংখ্যাটা এক লক্ষের কাছাকাছি। এমনও তথ্য উঠে এসেছে যে, অপহরণ, ধর্ষণ এবং ধর্মান্তরিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে পুরুষরা বাধ্য হতো তাদের পরিবারের অনেক মহিলাকেই হত্যা করে &lsquo;শহিদ&rsquo; ঘোষণা করতে। প্রসঙ্গত, উর্বশী বুটালিয়া&rsquo;র বইটির একটি উদ্ধৃতি আমরা তুলে ধরব: &ldquo;Killing women was not violence, it was saving the honour of the community; losing sight of children, abandoning them to who knew what fate was not violence, it was maintaining the purity of the religion; killing people for the other religion was not murder, it was somehow excusable&hellip; seldom has a process of research I have been engaged in brought me more anger, and more anguish.&rdquo; অর্থাৎ, মহিলাদের হত্যা করা নৃশংসতা নয়, এটা জাতির সম্মান রক্ষার ব্যাপার; সন্তানদের হারানো, তাদের ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া নৃশংসতা নয়, এটা ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করা; অন্য ধর্মের জন্য মানুষ মারা হত্যা নয়, এটার অজুহাত দেওয়াই যায়&hellip; এর আগে আমি এমন কোনও গবেষণায় যুক্ত ছিলাম না যার ফলে আমার এত রাগ হয়েছে, এবং রাগের থেকে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছি।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আসব ভাস্বতী ঘোষের &ldquo;ভিকট্রি কলোনি ১৯৫০&rdquo; উপন্যাসটির কথায়। এখানে তিনি পূর্ব পাকিস্তান, যা বর্তমানে বাংলাদেশ, সেখানকার দুই চরিত্রকে কলমের ডগায় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাদের নাম অমলা মান্না এবং তার ছোটো ভাই কার্তিক। দাঙ্গার সময় এক মুসলিম পরিবার তাদের রক্ষা করে। এরপর তারা কলকাতায় চলে আসে। তবে রেলস্টেশনে তারা একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়। অমলা রিফিউজি ক্যাম্পে তার নতুন জীবন খুঁজে পায়। কিন্তু সে যা হারিয়েছে, তা আর কোনও দিন সে খুঁজে পায়নি। অকল্পনীয় লোকসানের ভাগিদার এই অমলা।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;নিসিদ হাজারি লিখেছেন &ldquo;মিডনাইট ফিউরিয়াস: দ্য ডেডলি লেগেসি অফ ইন্ডিয়া&rsquo;স পার্টিশন&rdquo;। কীভাবে একটি দেশ ভাঙতে ভাঙতে দু&rsquo;টুকরো হয়ে দু&rsquo;টি আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হল, সে-কথাই লিখেছেন তিনি। জওহরলাল নেহরু এবং মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ তাঁরাও বোধহয় এই বাটোয়ারার জন্য এভাবে তৈরি ছিলেন না। তবে তাঁদের নীতিগত কিছু ত্রুটি ছিল। যে-কারণে এত বড়ো মাশুল দিতে হয়েছিল দেশকে। হাজারি একটি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কীভাবে দু&rsquo;টি দেশ এত তাড়াতাড়ি শত্রুতে পরিণত হল? তিনি বিভিন্ন নোট, চিঠিপত্র, রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাদের ডায়েরি, অর্থনৈতিক তথ্য, বিভিন্ন প্রতিবেদন, গভর্নমেন্টাল গসিফ সহ ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের মাধ্যমে তিনি এর জবাব দেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এর পর আসব আয়েশা জালালের &ldquo;দ্য সিটি অফ পার্টিশন: মান্টো&rsquo;স লাইফ, টাইমস অ্যান্ড ওয়ার্ক অ্যাক্রস দ্য ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ডিভাইড&rdquo;-এর কথায়। এতে সাদাত হাসান মান্টো&rsquo;র জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে। মান্টো দেশভাগ নিয়ে লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার। এই উপমহাদেশের জীবনযাত্রায় তিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ১৯১২ সালে জন্মানো এই লেখক দেশভাগের সময় পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। তিনি প্রচুর ছোটোগল্প লিখেছেন। পরবর্তীতে সেই সব ছোটোগল্প সংকলিত হয়ে ৭০০ পৃষ্ঠার এক মলাটে আসে। বইটির নাম হয় &ldquo;বিটার ফ্রুট&rdquo;। অন্যদিকে, জালাল এই বইটিতে বিভিন্ন চিঠিপত্র, প্রবন্ধ কিংবা গল্পের আধারে মান্টোর জীবনী তুলে ধরেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাফসের এক পাকিস্তানি-আমেরিকান ঐতিহাসিক আয়েশা জালালকে বইটি সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করেছিলেন। মাত্র ৪২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করা মান্টো&rsquo;র কুড়িটির বেশি ছোটোগল্প, একটি উপন্যাস এবং বেশ কয়েকটি নাটক সৃজনশীলভাবে এই বইয়ে তুলে ধরেছেন জালাল। ওই সময়কার মানুষগুলোর জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছিল। মান্টো সেইসব মানুষেরই প্রতিনিধি। ওই সময় এক ধরনের লেখার চল ছিল। উপনিবেশিক দেশের বীভৎসতাকে ফুটিয়ে তুলে এক ধরনের আকৃতি দেওয়া হতো। মান্টো এই একপেশে রোমান্টিক সমাজ-বাস্তবতায় আটকে থাকেননি। সমাজের এক্কেবারে নীচু তলার মানুষের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। &amp;nbsp; &amp;nbsp;অমিত মজুমদারের &ldquo;পার্টিশনস&rdquo; বইটিও প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসে তিনি কেশব এবং শংকর নামে ছয় বছরের দুই যমজ শিশুর কথা লিখেছেন। তারা দিল্লি থেকে ট্রেনে চড়েছিল। ট্রেনে চড়ার সময় তারা তাদের মায়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। সিমরান কৌর নামে এক শিখ কিশোরী নারী, যিনি সেই সময় তাঁর পরিবার ছেড়ে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন। তাছাড়াও ইব্রাহিম মাসুদ নামে একজন মুসলিম চিকিৎসক, তিনি সে-সময় পাকিস্তান যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মূলত এই চারজনকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসটি। ট্রেনে ওঠার সময় মা-হারা ওই যমজ শিশু দু&rsquo;টির বাবাও মারা গিয়েছিল। তাদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। তাছাড়াও ট্রেনে যাতায়াতকারী মানুষের ভয়ানক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। অমিত মজুমদারের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি কেবল তথ্য দিয়ে থেমে থাকেননি। বরং ওই মানুষগুলোর দুঃখ ও দুর্ভোগের সাক্ষী থেকে এই উপন্যাস লিখেছেন যেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এবার বলব এমন একটি বইয়ের কথা, যার প্রথমে নাম দেওয়া হয়েছিল &ldquo;আইস ক্যান্ডি ম্যান, দ্য ক্র্যাকিং ইন্ডিয়া&rdquo;। পরবর্তীতে সেই উপন্যাসের নাম কেবল &ldquo;ক্র্যাকিং ইন্ডিয়া&rdquo; রাখেন বাপসি সিদ্ধা। পোলিও জয় করা আট বছরের এক শিশুর কথা লিখেছেন ঔপন্যাসিক। লেনি নামে শিশুটি তার পার্সি পরিবারের সঙ্গে লাহোরে থাকত। তার চোখ দিয়েই পুরো উপন্যাসটাকে দেখানো হয়েছে। তাদের পরিবারের যে-আয়া কাজ করতেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে উদ্ভব হওয়া সমস্যাগুলো লেনি চোখের সামনে দেখেছে। সেই সমস্যাগুলো বাড়তে বাড়তে মস্ত একটা দাঙ্গায় পরিণত হয়ে গেল। তার চোখের সামনেই ধর্মীয় স্লোগানের ধুয়ো তুলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল লেনির চোখের সামনেই। সে এক ভয়ানক বাস্তবতা। যে-শিশু ছোটো বয়সেই এসব প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তার তো শৈশব চুরি হয়ে যায়! উপন্যাসের লেনির জীবন এমনই করুণ। &amp;nbsp; &amp;nbsp;শেষ বইটি খুশবন্ত সিং-এর &ldquo;ট্রেন টু পাকিস্তান&rdquo;। দেশভাগের ৯ বছর পর ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বইটি। উল্লেখ্য যে, লেখকের প্রথম উপন্যাস ছিল এটি। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং একবার বলেছিলেন&mdash; &ldquo;সাংবাদিক, সম্পাদক, ইতিহাস রচয়িতা যেভাবেই হোক না খুশবন্তের লেখালিখি ছিল উসকে দেওয়া গল্প কথকের মতো, যেসব লেখায় মানব পরিস্থিতিতে আলোকপাতের বিষয় তিনি কখনোই পরান্মুখ নন।&rdquo; আজও সমানভাবে জনপ্রিয় বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত &ldquo;ট্রেন টু পাকিস্তান&rdquo; দেশভাগের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে রচনা। দেশভাগের ওপর উপন্যাসের ধারায় প্রথম ইন্দো-অ্যাংলিয়ান উপন্যাস এটি। উপন্যাসটির প্রথমে &ldquo;মানো মাজরা&rdquo; নামে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে এর নাম দেওয়া হয় &ldquo;ট্রেন টু পাকিস্তান&rdquo;। এই &lsquo;মানো মাজরা&rsquo; হল সীমান্তবর্তী এক অনুল্লেখ্য গ্রাম। এই গ্রামে শতবর্ষ ধরে শিখ-হিন্দু-মুসলমানরা সুখে শান্তিতে দিন কাটাত। এমনকী পঞ্জাবে যখন দাঙ্গা বেঁধেছিল, সেই সময়েও এই গ্রামে সৌহার্দ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সত্তরটি পরিবার ছিল গ্রামটিতে। এখানে লালা রামলালের পরিবারই ছিল একমাত্র হিন্দু পরিবার। বাকি পরিবার ছিল মুসলমান এবং শিখ। গ্রাম সংলগ্ন যেসব জমি ছিল, সেইসব জমির মালিক ছিল শিখেরা। আর শিখেদের জমির বর্গাদার ছিল মুসলমানরা। গ্রামে ছিল তিন ফুট উচ্চতার একটি পাথরের চাঁই, দেবতার প্রতীক। গ্রামের সকলে শ্রদ্ধাবনত ছিল এর প্রতি। গ্রামে কখনোই নিজস্ব ধর্ম পালনে কোনও বাধা ছিল না। একদিকে শতদ্রু নদী বইছে। আর এক দিকে দর্শনীয় রেলওয়ে সেতু। এর দুই প্রান্তে আবার রেললাইন বসানোর জন্য পাথরের বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও ট্রেন এই গ্রামে না-থামলেও মানো মাজরার পরিচিতি রেল স্টেশনের জন্যই।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;ডাকাতি, কলিযুগ, মানো মাজরা এবং কর্ম&mdash; চার ভাগে বিভক্ত উপন্যাসটির শুরু হয় গ্রামের মহাজন লালা রামলালের হত্যার ঘটনা দিয়ে। একদল ডাকাত এই ঘটনা ঘটায়। উপন্যাসে নজর কাড়ে মুসলমান অন্ধ তাঁতির মেয়ে নুরান। তার সঙ্গে না-ইনসাফি হয়েছিল। তাছাড়াও হিন্দু ম্যাজিস্ট্রেট হুকুম চাঁদের গ্রামে আবির্ভাব এবং মুসলমানদের বিব্রত করার অভিসন্ধি নিয়ে বিভিন্ন ফন্দিফিকির আমাদেরকে এক ঘোরতর বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। তখন ইতিমধ্যেই লালা রামলালের হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জ্যুগত নামে একজনকে। অন্যদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট সাব ইন্সপেক্টরের কান ভাঙায়&mdash; হাজারখানেক মুসলমান শরণার্থীদের মৃতদেহ সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে না-কি প্রতিশোধ নিচ্ছে শিখরা। মুসলমানদের গ্রাম থেকে তাড়ানোর জন্য এটি ছিল ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কুৎসিত অভিসন্ধি। তখনও গ্রামের মানুষ জানত না যে, দেশটা দু&rsquo;-টুকরো হয়ে গেছে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এভাবেই উপন্যাসের কাহিনি দানা বেঁধেছে। ততক্ষণে &lsquo;ভুতুড়ে ট্রেন&rsquo;-এর যাতায়াত শুরু হয়ে গিয়েছে; ততক্ষণে দেশভাগের ট্র্যাজেডিতে জনজীবন পক্ষাঘাতগ্রস্ত। সেনা টহল, তাদের বুটের শব্দ, ট্রেন ভর্তি লাশ আসা... এসব শান্তি ছিনিয়ে নিয়েছিল। এ সেই ট্রেন, যা ভূমিপুত্র-কন্যাদের শরণার্থী করেছিল। শরণার্থী! যাদের দায়িত্ব নিতে চায় না কেউ-ই। তবু ইমাম বক্স তার স্বজাতি মুসলমানদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে বেড়াল। &ldquo;সে রাতে মানো মাজরার খুব বেশি মানুষ ঘুমাল না। তারা বাড়ি বাড়ি গেল&mdash; কথা বলল, কাঁদল, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের কসম কাটল। একে অন্যকে আশ্বস্ত করল যে, খুব শীঘ্রই সব ঝামেলা চুকে যাবে।&rdquo; ঝামেলা হয়তো আজও চোকেনি।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি :&lt;/strong&gt; পেশাগতভাবে প্রসেনজিৎ দত্ত বর্তমানে একটি সংবাদপত্রে কর্মরত। কখনও-বা তাঁর নিজের চোখে, কখনও-বা ক্যামেরার লেন্স দিয়ে দেখেন। তিনি ফোটোগ্রাফারও বটে। মন্তাজ প্রকাশনী থেকে সদ্য প্রকাশিত হয়েছে প্রবন্ধ সংকলন &ldquo;মুখ বাছতে গাঁ উজাড়&rdquo;। উত্তর কলকাতায় জন্ম এবং বড়ো হওয়া প্রসেনজিৎ জীবনে চলতে চলতে নানা অভিজ্ঞতাকে দুই মলাটে বন্দি করার উদ্যোগের ফসল এই বই। তাঁর কবিতার বই &ldquo;বিয়াস&rdquo; অবশ্য আগে প্রকাশিত হয়েছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/partisan-of-a-country-always-affect-the-civilisation-a-narrative-by-prosenjit-dutta-in-anyo-dunia-adab-qv18mu"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA['কী গো, চিনতে পারছো আমাকে', ছোটগল্প তবুও বসন্ত, লেখিকা- নীলাঞ্জনা মল্লিক]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-tabu-o-basanta-has-written-by-nilanjana-mallik-in-anyo-dunia-adab-qv20hh</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-tabu-o-basanta-has-written-by-nilanjana-mallik-in-anyo-dunia-adab-qv20hh</guid>
            <pubDate>Mon, 21 Jun 2021 19:12:22 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;&amp;nbsp;শীত চলেই গেছে বলতে গেলে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে তামাটে বর্ণের মসৃণ কপালে। আজ বেশ দেরি হয়ে গেল। খরিদ্দার এক-দু&rsquo;জন হয়তো এখনও আসবে বসে থাকলে। আর ইচ্ছে করছে না। কয়েকটা মোটে হার আর দুল পড়ে আছে। এবার পাততাড়ি গোটানো যাক। &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f8qch9grz6kex9z9h7mmb6vz,imgname-whatsapp-image-2021-06-21-at-09-29-55-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;ঘরে ঘরে শঙ্খধ্বনিতে সন্ধ্যা সূচিত হওয়ার সাথে সাথেই ভিড় ঠাসাঠাসি শুরু হয় গয়নার হাটে। বর্ধমান জেলার অন্তর্বর্তী ছোট্ট এক গ্রামাঞ্চল&mdash; কুন্দপুকুর। আজ শনিবার। সপ্তাহের এই দিনটা কেবল গয়নার হাটের দিন। দুপুর গড়াতে না-গড়াতেই যে-যার পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে বসে পড়ে পুষ্প, টগর, মঞ্জুরা।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সেই কোন ছোটোবেলা থেকে মায়ের কাছে কড়ি, পুঁতি, ঝুটো পাথরের গয়না গড়তে শিখেছে পুষ্প। নিকটবর্তী আলোকোজ্জ্বল সম্বৃদ্ধ এলাকাগুলিতে থেকে বাবু-বিবিরা আসেন গয়না কিনতে। পুষ্পর রুচিশীল ও সুনিপুণ কাজের গুণে ওর চারপাশ সবসময় পরিপূর্ণ থাকে খরিদ্দারের ভিড়ে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সন্ধ্যার এই হাটের সময়টুকু কেমন একটা ঘোরের মধ্যে কাটে। নিজের সৃষ্টি অন্যের হাতে তুলে দিয়ে, কড়ায়-গণ্ডায় হিসাবটুকু বুঝে নিয়ে প্রাপ্ত মূল্য পাশে রাখা কাপড়ের ছোট্ট থলিতে রেখে দেয় পুষ্প। তা না-করে কী আর উপায় আছে? একেই পেটের দায়, তার ওপর আবার কুসুমকে ভালোভাবে বড়ো করবার মস্ত স্বপ্ন। শীত চলেই গেছে বলতে গেলে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে তামাটে বর্ণের মসৃণ কপালে। আজ বেশ দেরি হয়ে গেল। খরিদ্দার এক-দু&rsquo;জন হয়তো এখনও আসবে বসে থাকলে। আর ইচ্ছে করছে না। কয়েকটা মোটে হার আর দুল পড়ে আছে। এবার পাততাড়ি গোটানো যাক।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;কী গো? চিনতে পারছো আমাকে?&rdquo;&mdash; অচেনা কন্ঠস্বর শুনে ঘাড় উঁচু করে তাকাল পুষ্প। আরে? এ যে সেই দিদিমণি! আগের বছর শহরে শিল্পমেলায় দেখা হয়েছিল। এর মুখ খুব ভালোভাবেই মনে আছে। অবর্ণনীয় রূপ&mdash;যেন সুদক্ষ কোনও চিত্রকরের জাদুতুলি দিয়ে অঙ্কিত মুখাবয়ব, অদ্ভুত এক মায়াময় ঔজ্জ্বল্য। প্রথমবার দেখার পর পুষ্প শুধু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিল কয়েক মুহূর্ত। এমন রূপ তো মন্দিরের দেবীমূর্তির হয়! স্পষ্ট মনে পড়ল সব। সবুজ শাড়িতে সেদিন যেন আরও বেশি মনোমুগ্ধকর দেখাচ্ছিল সেই দীপ্তকান্তিময়ী তরুণীকে। তবে সেদিন সে একা ছিল না। সাথে এক সুদর্শন যুবকও তো ছিল। আহা! বড়ো মানানসই যুগলবন্দী!! পুষ্পর থেকে কড়ির গয়না কিনে নিজে হাতে তরুণীর গলায় পরিয়ে দিচ্ছিল যুবক।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;গয়না কিনে চলে যাওয়ার আগে পুষ্পর নাম-ধাম সব জিজ্ঞাসা করেছিল এই দীপ্তকান্তিময়ী। বেশ কয়েক মুহূর্ত চলেছিল পরিশীলিত শহুরে আর রুক্ষ গ্রাম্য ভাষার বাক্যবিনিময়। পুষ্প যদিও তরুণীর নাম জানতে চায় না। ও তো দেবী!! দেবীরাই তো এমন হয়।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;দু&rsquo;জনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সেদিন মনটা কেমন উতলা হয়ে উঠেছিল ওর। ওই চরম ব্যস্ততার মধ্যেও বার বার দূরে বসে থাকা লখাইয়ের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল। লখাইও তখন মহা ব্যস্ত&mdash; সুতলি দড়ির পাপোশ আর ব্যাগের বিক্রিবাটা নিয়ে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;চরম শীত পড়েছিল তখন। ওই দু&rsquo;জনকে দেখার পর থেকে কাজে মন বসাতেই পারছিল না পুষ্প। শীত বড়ো নিষ্ঠুর... মনকে বড্ড আদর-কাঙাল করে তোলে যেন! উন্মত্তের মতো সেদিন লখাইয়ের স্পর্শ পেতে ইচ্ছে করছিল খুব।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;কী গো? কী এত ভাবছ?&rdquo;... তরুণীর ডাকে সম্বিত ফিরল পুষ্পর। &ldquo;কিস্সু না গো দিদিমুনি, তুমি আমারে মনে রাইখস?&rdquo; &ldquo;মনে রাখবো না কেন? এবারের শিল্পমেলায় তো দেখলাম না তোমাকে?&rdquo; &ldquo;এবারে যাই নাই গো... তা তুমি এখেনে?&rdquo;&amp;nbsp; &ldquo;এখানে আমার দিদার বাড়ি। আজ গয়নার হাট বসে শুনে এলাম।&rdquo; &ldquo;দাদাবাবু কুথায়? আসেন নাই?&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp; প্রশ্ন শুনে ম্লান হয়ে গেল দেবীর মুখ।&mdash; &ldquo;আমি একলাই গো!! আমার কোনও দোসর নেই আর। ওই লাল রঙের মালাটার দাম কত? দাও তো দেখি?&rdquo;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;তরুণীকে মালা এগিয়ে দিয়ে অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল পুষ্প।&mdash; &ldquo;আমরা সবাই একলা গো দিদিমুনি!&rdquo; স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেন তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল কথাগুলো।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;হাটশেষে আজ আর টগরদের সঙ্গে ভ্যানে না-ফিরে পুষ্প হাঁটতে শুরু করল। এখন একটু নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে ইচ্ছে করছে। খুব মনে পড়ছে আগের বছরের শিল্পমেলার কথা।... &amp;nbsp; শহরের মেলায় বসবার জায়গার ব্যবস্থা লখাই করেছিল। দশদিন ওর সাথে একসঙ্গে থাকা&mdash; ভাবতেই কেমন গায়ে কাঁটা দেয়, অদ্ভূত এক শিরশিরানি! পুষ্প অনুমতি চাইবার পর কিছুক্ষণ চুপ থেকে ঠান্ডা গলায় বলেছিল যমুনা&mdash; &ldquo;লখাইরে কইবি, আশপাশের মন্দিরে গিয়া তুর কপালে যেন সিন্দুর লেইপ্যা দেয়।&rdquo; &amp;nbsp; তার মা যমুনা বরাবরই এমন... আবেগের বহিঃপ্রকাশ কম। মা-কে কোনোদিন রাগ, উচ্ছ্বাস, আনন্দ প্রকাশ করতে দেখেনি সে। কথাও বলে মেপে, নির্লিপ্ত স্বরে। কিন্তু দূরদর্শিতার অভাব নেই যমুনার মধ্যে। পুষ্প নিজের বাপকে কোনওদিন চোখে দেখেনি। তার অভিভাবক বলতে যমুনাই।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;হঠাৎ বিয়ের প্রস্তাব শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছিল লখাই&mdash; &ldquo;বিয়ার দিন কি পলায়ে যাইব? অহন ইদিকে কারবারে মন দে।&rdquo; &amp;nbsp;প্রতিদিন মেলা শেষে লখাইয়ের কোনও এক বন্ধুর ফাঁকা ডেরায় গিয়ে উঠত ওরা দু&rsquo;জন। দশদিনের অস্থায়ী সংসার পুষ্প সাজিয়ে তুলেছিল। তার আর লখাইয়ের সংসার।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;স্নান করে শরীর থেকে সমস্ত ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে স্টোভ জ্বালিয়ে ভাত বসাত পুষ্প। গরম ভাতের গন্ধে খিদে আরও চনমন করে উঠত দু&rsquo;জনের। খাওয়া শেষে হ্যারিকেন নিভিয়ে শীতরাতে আদর-জড়ানো উষ্ণতা খুঁজে নিত ওরা&mdash; পরস্পরের শরীরে শরীর মিশিয়ে। লখাই সারাদিনের পরিশ্রম আর শহুরে ধুলোমেশানো বিরক্তিটুকু পুষ্পর নরম শরীরের মধ্যে উজাড় করে দিয়ে তবে শান্ত হতো; আর লখাইয়ের ওই উগ্র অশিষ্ট আদরকে সোহাগরূপে বরণ করে নিত পুষ্প। দূর থেকে ভেসে আসা ব্যস্ত শহরের ট্রাফিকের আওয়াজ আস্তে আস্তে স্তব্ধ হয়ে মিলিয়ে যেত রাতের গভীরতার অন্ধকারে। পুষ্প-লখাই পরম তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করত। &amp;nbsp;&amp;nbsp; শিল্পমেলায় বিক্রিবাটা মন্দ হয়নি ওদের। পুষ্প যমুনার জন্যে চুড়িদারের পিস আর কাঁচের চুড়ি কিনে নিয়ে গে&rsquo;ছিল। অতদিন পর মেয়েকে দেখে যমুনা কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকেছিল। তারপর তার হাতটা ধরে টানতে টানতে ঠাকুরের ছোট্ট কুলুঙ্গি থেকে সিঁদুর নিয়ে পুষ্পর মাথায় লাগিয়ে বলেছিল&mdash; &ldquo;কেউ জিগাইলে কইবি, শহরে গিয়া তুদের বিয়া হইসে।&rdquo;... &amp;nbsp; &amp;nbsp; দু&rsquo;-তিনদিন পরেই লখাই গ্রামছাড়া হয়। পুষ্পকে জানায়, কলকাতা শহরে দোকান খুলবে না-কি সে। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ধার করেছে। সব পাকাপাকি ব্যবস্থা হয়ে গেলে পুষ্পকে এসে নিয়ে যাবে... চিরতরে জীবনসঙ্গিনী করে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;যাবার দিন কপালে চুমু দিয়ে যায় লখাই। ওর চলে যাওয়ার রাস্তার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পুষ্প। বিকেল গড়িয়ে রাতের আঁধার নেমে আসে চোখে। তারপর আর কথা হয়নি লখাইয়ের সাথে। লখাইয়ের মোবাইল নম্বরটারও আর অস্তিত্ব নেই। কয়েকদিনের মধ্যে শীত পেরিয়ে বসন্ত আসে। গোটা গ্রামজুড়ে কৃষ্ণচূড়া ও পলাশের লাল আভার ছড়াছড়ি। সবার অলক্ষ্যে ডুকরে কেঁদে ওঠে কপোতবিহীন কপোতী। দুরু দুরু বুকে যমুনাকে এসে একদিন জানায় পুষ্প, &ldquo;মা গো! হয় নাই, এমাসে হয় নাই গো!&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp; যমুনা একঝলক তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মায়ের দু&rsquo;চোখের কোণে সেদিন সে দু&rsquo;ফোঁটা জল দেখতে পেয়েছিল যেন!! গ্রামের অনেকের কলকাতায় যাতায়াত আছে। লখাইয়ের সাথে তাদের মাঝেমধ্যেই সাক্ষাৎ ঘটে। পুষ্প খবর পায়&mdash; বেশ ভালোই আছে লখাই। বছর ঘুরে আবার শীত আসে, শীত পেরিয়ে বসন্ত&mdash; আবার... আজ ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের মধ্যে ফের সেই দীপ্তকান্তিময়ীকে দেখতে পেল পুষ্প। পরনে &amp;nbsp;তার পলাশরঙা শাড়ি। হাতে, গলায় পলাশফুলের মালা। আহা! কী অপূর্ব দেখাচ্ছে। তার দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিল সেই দেবী। পুষ্প এগিয়ে চলল তার হাতটা ধরে। আজ সে নিজেও পলাশের গয়নায় সুসজ্জিতা। লম্বা, ফাঁকা রাস্তা। হেঁটে চলেছে তারা দু&rsquo;জন। চারিদিকে আর কেউ কোথাও নেই!... &amp;nbsp; &amp;nbsp; চকিতে ঘুমটা ভেঙে গেল। ভোরের নরম আলো এসে পড়ছে চোখে-মুখে। পাশে শুয়ে হাত-পা ছুঁড়ে খেলা করছে চার মাসের কুসুম। ওকে কোলে তুলে নিয়ে তাদের মাটির ঘরের সামনের জলাশয়টার কাছে এসে দাঁড়াল পুষ্প। কসুমকে আঁকড়ে ধরে গালে গাল ঘষল সে। ছোট্ট তুলতুলে শরীরের ওমটুকু নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিল। অগণিত শালুকফুলে ভরে ওঠা জলাশয়ের কিনারে খেলে বেড়াচ্ছে এক সাদা ধবধবে বক ও তার ছোট্ট ছানা। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল কুসুম। নৈসর্গিক প্রকৃতি প্রতিবারই জানান দেয় পৃথকভাবে, পৃথকরূপে&mdash; বসন্ত এসে গেছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি: &lt;/strong&gt;নীলাঞ্জনা মল্লিক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা হুগলী জেলার রিষড়ায়। বেসরকারি চাকরির কাচের ঘরবন্দী জীবনকে ইস্তফা দেওয়ার পরে লেখিকা সত্তার জন্ম। বেশ কিছুদিন একটি শ্রুতিনাটকের গ্রুপে যুক্ত থাকায়, প্রয়োজন এবং ইচ্ছার যৌথ তাগিদেই নাটক, গল্প, কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় &lsquo;নবকল্লোল&rsquo; পত্রিকায়। বর্তমানে বসবাস অসম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে।&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-tabu-o-basanta-has-written-by-nilanjana-mallik-in-anyo-dunia-adab-qv20hh"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[Rahul Arunoday Banerjee: আবার দেখা হবে বন্ধু! আবার দেখা হবে...]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/entertainment/an-obit-for-my-childhood-friend-rahul-arunoday-banerjee-after-his-untimely-demise/articleshow-7remkm6</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/entertainment/an-obit-for-my-childhood-friend-rahul-arunoday-banerjee-after-his-untimely-demise/articleshow-7remkm6</guid>
            <pubDate>Mon, 30 Mar 2026 12:51:29 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;Rahul Arunoday Banerjee: অরুণ প্রায় প্রত্যেক বছর নিয়ম করে স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবসে হাজির হতো। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই যেত। আমি মাত্র একবার যেতে পেরেছিলাম। শিফ্টের চক্করে মনেই থাকত না ১৬ জানুয়ারি তারিখটা।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01kmyshcj921hk9me0fk9pajcy,imgname-rahul-arunoday-banerjee-rajat-karmakar-1774854910536.jpeg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;'এই নে তোর প্র্যাক্টিকাল খাতা। যা লিখেছিস, পড়তে গিয়ে চোখ বেঁকে গেছে....'&lt;/p&gt;&lt;p&gt;'ধন্যবাদ বলে কি ধন্য থেকে বাদ করতে হবে?' হ্যাঁ, এটাই ছিল অরুণোদয়ের পেটেন্ট নেওয়া সংলাপ। যখনই ওর খাতা লিখে দিতাম, এটাই ছিল ওর রেসপন্স। এই সংলাপের উত্তরে আমিও সিনেমার ডায়ালগ ঝেড়ে দিতাম একখানা, 'দোস্তি মে নো সরি, নো থ্যাঙ্ক ইউ...'&lt;/p&gt;&lt;h2&gt;&lt;strong&gt;স্কুল, লেখাপড়া, গানবাজনা, এইসব...&lt;/strong&gt;&lt;/h2&gt;&lt;p&gt;ছাইরঙা প্যান্ট আর সাদা শার্টের বাঁ দিকের পকেটে গাঢ় নীল রঙে মনোগ্রাম করা NHS, এটাই ছিল আমাদের স্কুলের পোশাক। আমি আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগেকার কথা লিখছি। ক্লাস ফাইভে নাকতলা হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার পর বছর দুয়েক বাদে একই সেকশনে আমরা দু'জনে এক সঙ্গে বসতে শুরু করি। সেটা বজায় ছিল স্কুল পাশ করে বেরিয়ে যাওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত। অরুণের হাতের লেখা যাকে বলে একেবারে আরশোলার পায়ে কালি লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো। পড়তে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হতো। আমি ইয়ার্কি মেরে মাঝে মাঝে বলতাম, এত কষ্ট করে হিব্রু লিখিস কেন, বাংলা লিখলেই তো পারিস। কোথাও আমাদের দুজনের ওয়েভলেন্থ ম্যাচ করে গিয়েছিল। দারুণ বাংলা লিখত। আমরা হদ্দ বাংলা মিডিয়ামের হাফসোল খাওয়া কলোনির ছেলে। ভালো লিখতে পারলেও, কোথাও ইংরেজি বলতে হবে মনে হলেই পেট খালি, মাথা বনবন। সেই তুলনায় অরুণ অনেক সপ্রতিভ ছিল। তবে বাংলা মিডিয়ামে পড়তাম বলে আমাদের হীনমন্যতা গ্রাস করেনি কখনও। বাংলা ভাষা নিয়ে গর্ব করেছি। আমার লেখার হাতও বেশ ভালো ছিল। গান করতাম বেশ ভালো, প্রাইজও পেয়েছি। ক্রিকেট খেলছি স্কুল টিমের হয়ে। সব মিলিয়ে প্রথম-দ্বিতীয় না হলেও আমরা দুজনে শিক্ষকদের অকৃপণ ভালোবাসা আর প্রশ্রয় পেয়েছি। অরুণ প্রায় প্রত্যেক বছর নিয়ম করে স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবসে হাজির হতো। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই যেত। আমি মাত্র একবার যেতে পেরেছিলাম। শিফ্টের চক্করে মনেই থাকত না ১৬ জানুয়ারি তারিখটা। একদিন পরে অরুণের পোস্ট দেখে খেয়াল হতো। এই যাঃ, এবারও মিস করে ফেললাম। স্কুল নিয়ে অরুণের আলাদা আবেগ ছিল।&lt;/p&gt;&lt;p&gt;অরুণ অনেক ছোট থেকেই অভিনয় করত। মাধ্যমিকের বছরে মুক্তি পেল মিঠুন চক্রবর্তী, দেবশ্রী রায় অভিনীত 'চাকা' সিনেমাটি। তাতে রাহুলের একটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল। যথারীতি ছবি মুক্তির পর খবরের কাগজ এবং তৎকালীন যতটুকু মিডিয়ার এক্সপোজার ছিল তাতে অরুণ বেশ সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছিল। তার পর থেকে আমরা যখন জুটি বেঁধে কোথাও ক্যুইজ বা ডিবেটে অংশ নিয়েছি, মেয়েদের নিরলস মনোযোগ আমরা পেতাম। মোদ্দা কথা যোলো বছর বয়সে এতটা মনোযোগ পাব তা কোনও দিন আশাই করিনি। অরুণ কানের কাছে মুখ এনে বলত, 'এই তো সবে শুরু ভাই, আগে আগে দেখো হোতা হ্যায় কেয়া...' আমরা আমাদের জীবনের সেরা সময় স্কুলে কাটিয়েছি। অন্তত আমাদের গ্রুপের যারা যারা ছিল তারা নিঃসন্দেহে আমার সঙ্গে একমত হবে। স্কুল পাশ করে যে যার পথে বেরিয়ে পড়েছিলাম। হ্যাঁ, অস্বীকার করতে দ্বিধা নেই, স্কুলের সেই নির্ভেজাল স্বার্থবিহীন বন্ধুত্বে খানিক ধুলো জমেছিল।&lt;/p&gt;&lt;h2&gt;&lt;strong&gt;চাকরি, খ্যাতি, রুপোলি পর্দা, নায়কের বন্ধু, এইসব...&lt;/strong&gt;&lt;/h2&gt;&lt;p&gt;২০০৮ সাল। আমি তখন চাকরি করছি। সে বছর অন্যতম সেরা হিট ছবি 'চিরদিনই তুমি যে আমার' মুক্তি পায়। অরুণ তখন রাতারাতি রাহুল হয়ে জনমানসে জাঁকিয়ে বসেছে। ছবির গান বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তখন গান বাজছে, পাড়ায় পাড়ায় ফাংশনে শিল্পীরা গাইছেন। বলতে খানিক লজ্জা করত, রাহুল আমার বন্ধু। আমরা একসঙ্গে একই বেঞ্চে বসতাম। ভাগ করে টিফিন খেতাম। ওর খাতা লিখে দিতাম। কে জানে মানুষ কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে। হয়তো বলবে, যেই সেলিব্রিটি হয়েছে অমনি স্তাবকের মতো হাজির হয়েছে। ওরকম অনেক বন্ধু থাকে। জানি না কেন, তখন বন্ধুত্বের ভ্যালিডেশন খুঁজতাম। মানে সম্পূর্ণ অচেনা মানুষ আমাদের বন্ধুত্ব নিয়ে কী ট্যারা ট্যারা কথা বলবে সেই ভয়ে স্বীকার করতেও লজ্জা হতো। এখন মধ্য চল্লিশের কাছাকাছি এসে বুঝি, সেটা কত বড় ভুল ছিল। মানুষ বাকি সকলকে মিথ্যে বলতে পারে, কিন্তু নিজেকে বলতে পারে কি? আর কী হবে মিথ্যে বলে?&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ধীরে ধীরে পথ আলাদা হয়েছে। আমি চাকরি নিয়ে শহরের বাইরে। অরুণ তখন চুটিয়ে সিরিয়াল সিনেমায় অভিনয় করছে। বেশ নাম-ডাক। তখন খড়্গপুরে চাকরি করি। একবার স্থানীয় কয়েকজনের সামনে বলে ফেলেছিলাম আমাদের বন্ধুত্বের কথা। বিশ্বাস করুন, তার পর থেকে আমায় অন্য সম্মানের চোখে দেখতেন ওরা। তখন আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন কথাবার্তা নেই। ওর মোবাইল নম্বরও জানি না। কিন্তু তাও কেন জানি না, বেশ ভালো লাগত। আমি নায়কের বন্ধু!&lt;/p&gt;&lt;p&gt;ঘটনাচক্রে পরবর্তীতে সাংবাদিকতায় আসা এবং বহু বিনোদন জগতের ইভেন্টে অরুণের সঙ্গে যতবার দেখা হয়েছে, ততবারই এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেছে। পরিচয় দিতে দ্বিধা করেনি। কলোনির ছেলের পা মাটিতেই ছিল। আপনারা অনেকেই ভাবছেন, কলোনির ছেলে কথাটা বারবার উল্লেখ করছি কেন। এটা ছিল অরুণের জেদ আর গর্বের জায়গা। যেমন ছিল বাংলা ভাষা। তৎকালীন সমাজে কলোনির ছেলে মানে মুখে খিস্তি, রাফিয়ান, বখাটে, মান-সম্মানে অনেক নীচে ভাবা হতো। বিশেষত যারা একটু সম্ভ্রান্ত এলাকায় থাকতেন তারা আমাদের দিকে করুণা আর তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি দিয়ে কথা বলতেন। আমি এ জিনিস জীবনে বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি। অরুণ বলত, 'আমরা কলোনির ছেলে হয়েও ওদের গালে এক একটা থাপ্পড়ের মতো বসে পড়ব শালা। কী বলিস!'&lt;/p&gt;&lt;h3&gt;&lt;strong&gt;সমালোচনা, গসিপ, সংসার, বাবা, এইসব...&lt;/strong&gt;&lt;/h3&gt;&lt;p&gt;রুপোলি পর্দার সঙ্গে সমালোচনা, টক-ঝাল-মিষ্টি রসাল গল্প চৈত্র সেলের একটার সঙ্গে একটা ফ্রি-র মতো। অরুণের জীবনেও এমন একটা অধ্যায় এসেছে। কিন্তু আমি সে সব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নই। তখনও ভাবিনি, এখনও ভাবিনা। আমি যে অরুণকে চিনি, তার পর অন্য লোকের কাছ থেকে ভ্যালিডেশনের কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। যতদূর মনে হয় ২০১৭ সাল হবে। হইচই অ্যাপ লঞ্চ অনুষ্ঠআন কভার করতে গিয়েছিলাম। সেখানে অরুণের সঙ্গে দেখা। সহজ তখন একেবারে ছোট। ওকে বলেছিলাম, 'ছেলের নামটা একেবারে মনের মতো হয়েছে। এর চেয়ে সহজ আর আনকমন নাম এখনকার দিনে দেওয়া যেত না।' এখনকার বাচ্চাদের নামে 'আংশ'-এর ছড়াছড়ি নিয়ে বেশ কিছু ক্ষণ খিল্লি করেছিলাম দুজনে। আমি তখনও পিতৃত্বের স্বাদ পাইনি। সবটা না বুঝলেও এটা বুঝেছিলাম, ছেলেকে ও ইঁদুর দৌড়ের মধ্যে মানুষ করতে চায় না। এটা ওর কাছ থেকে একটা বড় শিক্ষা ছিল। সহজের জন্যই প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ওর সম্পর্ক নতুন ভাবে ফিরে এসেছিল। অরুণ যদি ছেলেকে সঠিক শিক্ষা না দিত, তবে এটা সম্ভব হত না। অরুণের চলে যাওরা পরে সবচেয়ে বেশি যার মুখ মনে পড়ছে সে সহজ-ই। কারণ আমি আজ বাবা হয়েছি। জানি স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যেতে কত কষ্ট হতে পারে। ভাই তোর এত তাড়া ছিল? জানি না ঈশ্বরের এ কেমন ইচ্ছে। যাইহোক, ঝাপসা চোখে লেখা শেষ করার আগে একটা কথা বলছি, ছাইরঙা প্যান্ট আর সাদা শার্টের বাঁ দিকের পকেটে গাঢ় নীল রঙে মনোগ্রাম করা NHS লেখা স্কুল ইউনিফর্ম পরে আবার স্কুলের মাঠে হাজির হব। অনেকদিন ধুলো মাখা হয়নি। আসিস কিন্তু। আবার দেখা হবে বন্ধু! আবার দেখা হবে...&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Rajat Karmakar</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/entertainment/an-obit-for-my-childhood-friend-rahul-arunoday-banerjee-after-his-untimely-demise/articleshow-7remkm6"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[এভাবে যদি বলি, ‘সমস্ত বেদনা তুমি কীভাবে ধারণ ক’রে থাক’, — চেনা অচেনায় অচিহ্নিত : ধীমান ব্রহ্মচারী]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/book-review-on-bengali-poem-collection-chena-achenai-chinhita-is-done-by-dhiman-bramhachari-qvpm10</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/book-review-on-bengali-poem-collection-chena-achenai-chinhita-is-done-by-dhiman-bramhachari-qvpm10</guid>
            <pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:27:33 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;থেকে থেকেই কিছু কিছু কবিতার বই নিয়ে পাতা উল্টে উল্টে পড়ছি। আজ একটা অন্য বই। আমার শ্রদ্ধেয় এক দাদা। খুব সম্মান করি। কবিতা নিয়ে মাঝে মধ্যেই ওনার বাড়িতে বসে কবিতা শুনি। কী ভয়ানক অনুভূতি কথা, বলতে পারেন কবিতার মধ্যে দিয়ে।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f9r6dmrkn120gyk4fnmtferk,imgname-whatsapp-image-2021-06-26-at-15-33-45-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;কবিতার বই পেলেই পড়তে ভালো লাগে। কেন জানি না। এখন এই পরিস্থিতিতে নতুন কাজে যোগ দিয়ে সময়ও অনেকটা কেটে যাচ্ছে। তাই মাথা হালকা করার জন্য, থেকে থেকেই কিছু কিছু কবিতার বই নিয়ে পাতা উল্টে উল্টে পড়ছি। আজ একটা অন্য বই। আমার শ্রদ্ধেয় এক দাদা। খুব সম্মান করি। কবিতা নিয়ে মাঝে মধ্যেই ওনার বাড়িতে বসে কবিতা শুনি। কী ভয়ানক অনুভূতি কথা, বলতে পারেন কবিতার মধ্যে দিয়ে। সবচেয়ে একটু বেশি অবাক হই, যখন কবিতাকে তিনি একটা আবহের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যান নিজের কৌশলে। কবি অসীম ভট্টাচার্য। বইটার নাম &ldquo;চেনা অচেনায় অচিহ্নিত&rdquo;। চলমান একটা প্রচ্ছন্ননার আড়ালে থেকে কবি যেন বিরাট এই ঘুমায়মান জগতের দিকে, ঘুমন্ত আগল ঠেলে চোখ মেলে ধরে।&rsquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচেক আগের প্রকাশিত বই। পরম্পরা প্রকাশনা থেকে। প্রচ্ছদ করেছেন সুদীপ্ত ভট্টাচার্য। উৎসর্গ পাতায় আছে একটা শব্দ &lsquo;মা&rsquo;। আর এই মা&rsquo;য়ের কথা দিয়ে তিমি উৎসর্গ পত্র লিখেছেন :&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;মা জীবন লালন করা মাতৃস্নেহ মেঘ যন্ত্রণা বৃষ্টির পরে মাটিতে বিলীন&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;কোথায় হারিয়ে যায় মেঘেদের দল বর্ষণান্তে, প্রচলিত নিয়মে মতো&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;রেখে যায় জল শুধু বাষ্পকণা (অসীম ভট্টাচার্য / &ldquo;চেনা অচেনায় অচিহ্নিত&rdquo;)&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এই উৎসর্গ পত্রটাতে আমার চোখ বোলাই। দেখি কী দেখতে পাচ্ছি। &lsquo;মা&rsquo; শব্দটা ব্যবহার করেই কিন্তু উৎসর্গ দেওয়া যেতে পারত। অথচ এখানে সে রীতিটার একটু অন্য মাত্রার ব্যবহার হয়েছে। আসলে এই উৎসর্গ কবিতাটা ৮+৬ মাত্রার কলাবৃত্ত রীতির প্রয়োগ। এখানেই কবি কিন্তু খুব সচেতনভাবে আমাদের কাছে আসছেন, এবং আসার যে পরিকল্পনা বা ব্যাপ্তি তা কিন্তু অনেকটা সম্ভাবনাসূচক রীতির প্রয়োগ। মাতৃত্বের বেদনা। একটা ঘোড়ালো যন্ত্রণা। একটা গোঙানির মতো অস্ফুট স্বর এক সদ্য প্রসব ব্যথার মায়ের মুখে। কীভাবে বুঝলাম? একটু যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। &lsquo;মাতৃস্নেহ মেঘ&rsquo; শব্দটার যদি একটু ভেতরে ঢুকি। &lsquo;মেঘ&rsquo; তো শুধুমাত্র আমাদের জল দেয়। সে জল তৃষ্ণার। মারাত্মক গরমে, রোদে পুড়ে মাটি-ফুটিফাটা। মানুষ কাতরাচ্ছে জলের জন্য। আকাশে মেঘ এল ঘনিয়ে। এই ঘনায়মান মেঘ&rsquo;ই কিন্তু পুঞ্জিভূত অপেক্ষা। এই অপেক্ষায় কিন্তু অনেকটা কষ্টের অঙ্গে সঙ্গে। বর্ষার মেঘ এসে সব স্নাত করে দেয় মুহূর্তে। চারিদিকে, শুধুই দেখা যায় ঘন বর্ষার ঘনঘটা। এই যে বৃষ্টির কথা। বৃষ্টির মলিনতা। বৃষ্টির পুঞ্জীভূত জলকণার ধারক হয়েই মেঘের পথ অতিক্রম। এবং শেষে অবিরাম ক্লান্তি দূর করে ঝড়ে পড়া।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এবার বইয়ের পাতা উল্টে উল্টে কবিতাগুলো পড়তে পড়তে যাই। বইটার ৯নং কবিতা :&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lsquo;হওয়া ছুঁয়ে থাকে হওয়া ছুঁয়ে যায়, অনুভব করতে পারি না।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;গাছের পাতার স্পন্দনে দেখি ফিরে যায় হওয়া।&rsquo;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আরও একটা কবিতার কথা এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একজন বিখ্যাত কবি, কো-উন। তাঁরই একটা অনুদিত কবিতা :&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;পাহাড় থেকে নেমে &lsquo;আমি ঘুরে তাকালাম। এ-পথ কোথায় গিয়েছিল? যে পাহাড় থেকে আমি এইমাত্র নামলাম? এখন কোথায় আমি?&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;শরৎবাতাসে সাপের পুরনো খোলসটি খড়খড় শব্দ করে উড়ছে ।&rsquo; &lt;strong&gt;(নির্বাচিত কবিতা, কো-উন / ভাষান্তর সুমন মল্লিক)&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;একজন কবি খুব সাধারণ ও চেনা পরিমণ্ডলের বাইরে থেকে হাওয়ার মতো অনুভূতিশীল অনুভব বুঝতে পারছেন, গাছের পাতা নড়ার ফলে। তার আগেও হাওয়া তাঁর মন ছুঁয়ে থাকে, অনুভব করতে পারেন&mdash; কিন্তু এই অনুভব করার ঘটনা জড়িয়ে থাকে ঠিক যখন গাছের পাতা আন্দোলিত হয়ে যায়। আর আমাদের দক্ষিণ কোরিয়ার কবিও ঠিক একই অনুভব একটু অন্যভাবে পান। তিনি যখন পাহাড় থেকে নেমেছেন; এবং এই নামা কিন্তু সমতলে নামা। আমার অভিজ্ঞতা আছে যে, পাহাড়ে থাকা মানুষ অপেক্ষাকৃত বেশি পরিশ্রমী। অথচ আমরা যখন পাহাড়ের কাছে ঘেঁষি, যখন পাহাড়কে অনেকটা কাছ থেকে পাই, তখন কিন্তু বেশ একটা অনুভব আমাদের হয়, এবং এই অনুভূতি অনেকটা অসহ্য। কিন্তু এই অসহ্য নিয়েই আমরা অনেক অনেক সূক্ষ্ম অনুভূতির কাছে সহজে পৌঁছে যেতে পারি। কবি যে পাহাড় থেকে নামছেন অর্থাৎ, &lsquo;যে পাহাড় থেকে আমি এইমাত্র নামলাম? / এখন কোথায় আমি?&mdash; অর্থাৎ অনুভূতি শূন্যতা। আর এখানেই তো আরও অনুভব করবেন তিনি। এমনকি এই অনুভব তাঁর অনেকটা কাছের। তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন অনুভব, যখন তিনি নিজেই &lsquo;খড়খড়&rsquo; আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন। এই &lsquo;খড়খড়&rsquo; শব্দের ব্যবহারই কবি কো-উনের প্রকৃত অনুভবের শব্দ। এই শব্দ আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে একটা বিমূর্ততা তৈরি করতে থাকে। আমরা শুধুমাত্র যে সেই অনুভবটুকু গ্রহণ করে নিই, তা নয়। এখানে আমরা ও আমাদের সামাজিক কাজের মূল্যায়নও অনেকটা একই দিকের নির্দেশ করে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আবার কবিতার ১৭নং কবিতার কথায় আসি :&amp;nbsp; &lt;strong&gt;&lsquo;শীতের কুয়াশা ঢাকে চরাচর&mdash; অদৃশ্য হেঁটে আসা পথ; অজানা সামনের পথরেখা।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;তোমার দরজা থেকে কত দূরে আছি &lt;strong&gt;জানতে পারিনা।&rsquo;&lt;/strong&gt; সাবলীল একটা নির্দেশক বাক্য। কবির এই নির্দেশক ভঙ্গিমা কিন্তু পাঠককে আরও আকৃষ্ট করে তোলে। কবির নিজের কাছেই নিজের অনেক কিছুই অস্পষ্ট। তাই কবির চোখে দেখা দৃশ্য বা অবচনের ভেতরের থাকা &lsquo;মর্বিডিটি&rsquo; (morbidity) কোথায় যেন একটা প্রচ্ছন্নভাবে (concealed) তাঁর মনে দাগ কেটে থাকে। তাহলে কোথাও কী কবি একটা পুরনো ইতিহাস নিয়ে বার বার ফিরছেন? না-কি নিজেই একটা ইতিহাসের চেনা ও নিছক পরিবৃত্তের পরিমণ্ডলে পাক খাচ্ছেন। আরও একটা বইয়ের কবিতার কথা বলতে হচ্ছে এই অলোচনা প্রসঙ্গে : কবিতার নাম &lsquo;উরোকথা ৩। এই বইতেই আবার এই কবিতাটায়&rsquo; ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে :&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;Evergreen Truth &lsquo;Every moment, we breathe To walk ahead towards death...&rsquo; (শব্দকল্পদ্রুম / দ্রোহজ পথিক)&lt;/strong&gt; কবিতাটার বাংলা অনুবাদ হয়েছে বইটার আগের পাতায়। আসলে আমাদের অনুভব আর অনুভূতি স্তর হয়তো সূক্ষ্ম এবং সবকালেই সেই ইন্দ্রিয় অনুভূতি এক। আমাদের চেতনার মধ্যেই জন্ম নেয় অন্তঃসারশূন্যতা যা দিয়ে আমরা শুধুমাত্র আমাদের মনের আদ্রতা মেপে মেপে চলি, গভীর স্রোতের মধ্যে দিয়ে। এই স্রোত কিন্তু সময়। এই ঢেউ আমারদের চারপাশের &lsquo;চলমান প্রবণতা&rsquo; অর্থাৎ ইংরেজিতে বলব, &lsquo;inprogress tendency&rsquo;। এই কথাটায় এই কবিতার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বলব : আলোচ্য বইয়ের ২২নং কবিতা :&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lsquo;আলোর রূপময় তোমার ঐশ্বর্য, অরূপ তুমি অন্ধকারে।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;তুমিই সরিয়ে নাও আলো&mdash; অন্ধকারে সব নিরাকার, দৃষ্টির অতীত।&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;হওয়ার নিঃশ্বাসে শুধু তোমার অরূপ উপস্থিতি।&rsquo;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;দেখুন আগের কবি দ্রোহজ বলেছেন, আমাদের নিঃশ্বাসের প্রতিটা মুহূর্তের কথা। আমরা হয়তো কেউই জানি না, এর সর্বোচ্চ সময় ও স্থিতি। অথচ, আমরা আলোর উপস্থিতির মতো বেছে নিই, নিজেদের বাঁচার আশাকে। আসলে আমার কবিতা পড়তে পড়তে বার বার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে যে, জগতের সব কবিই যেন একই সঙ্গে কবিতার বিমূর্ততা অনুভব করতে পারেন। যার ফলেই, তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন সময় ও স্থানে কিন্তু একই মতাদর্শের কথা বলেন। জয় গোস্বামীর বই। নাম &ldquo;জয়ের সুভাষ&rdquo;। বইয়ের &amp;nbsp;প্রথম গদ্যের অর্থাৎ &lsquo;আমাদের কবিতাপ্রত্যাশা&rsquo; অংশের একবারে শেষের আলোচনায় যেখানে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা, &lsquo;অন্ত্যাক্ষরী&rsquo;। যেখানে কবিতার বাঁক বদল হচ্ছে। কবি জয় তিনিও দেখেছেন সেই বাঁকের ইতিহাস। তবুও সেই ইতিহাস নিয়ে তিনিও অস্থির। বইটাতে কবিতার শেষ দিকটা বইয়ে ছাপা আছে। কবি জয় সেই শেষটা দেখে, আমাদের প্রত্যাশার একটা কথা বিবৃতি দিয়েছেন : &lsquo;...আমরা বুঝতে পারি বিদায়ের কথা থাকলেও, কোনও অবসান, কোনও সমাপ্তির কথা নেই এখানে। নতুন বিশ্বাসের নতুন সৃষ্টির সূচনার কথা বলেই পূর্ণ হয়েছে তাঁর কবিতা। চিরকালের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সে, হাত বাড়িয়ে রেখেছে সে&mdash; বরাবরের মতোই।...&rsquo; আমরাও ঠিক তেমন করেই চেয়েও থাকি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;৩১নং কবিতা :&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lsquo;বিস্তৃত পথ অতি দূরে সংকীর্ণ হয়ে আসে যেন। আরও দূরে সে এক বিন্দুতে মিলে যেন শেষ হয়।&rsquo;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আবার,&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;কিংবা ৪৯নং কবিতার ক্ষেত্রে :&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lsquo;যথেষ্ট রসদ নেই দীর্ঘ অপেক্ষার, অথবা অনন্ত পথ হেঁটে পৌঁছনোর তোমরা সমীপে।&rsquo;&lt;/strong&gt; আসলে কবিতার স্তর সাজাতে সাজাতে ছকভাঙা ছন্দে কবিতাকে নিয়ে জীবন দেখার এক অভিনব প্রয়োগই তাঁর বইয়ের উপাদান। সাবলীল ভাবনার প্রকাশ তাঁর অসাধারণ শব্দের স্টাইলে। আমরা কেমন যেন থেকে থেকে হয়ে উঠি আত্মকেদ্রিক। সময়ের ব্যবধানে আমরাও সেই অপরিণত বাঁকের মুখ থেকে উঠে এসে লালন করি শব্দের সমাপ্তি। সময় নিরন্তর আমাদের সামনের অভিমুখে ঠেলা দিতে দিতে তাড়া দেয়, আমরা চেতনা হারিয়ে হয়ে উঠি, কালের বিবর্তনে দাঁড়িয়ে থাকা এক জনৈক মানুষ। যাঁর স্বাবলম্বী স্বাদ আমাদের স্বপ্ন বিভরতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার। ঘুমের অন্ধকারে আমরা একটা জ্যোৎস্নামুখর রাত্রিতে পালতোলা নৌকায় ভাসি উন্মত্ততায়। আমাদের কবি অসীম ভট্টাচার্য তখন পাদানি আগলে বলেন :&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lsquo;যাপনের অনুভবগুলি ভিতরে ভিতরে জারিত। প্রকাশের লগ্ন নির্ণীত ছিল কোথাও এক স্ফুলিঙ্গ অপেক্ষায় অথবা অন্তর্লীন স্রোতের জল ভূমিতে উছলে ওঠার। স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ এই অনুভবগুলির।&rsquo;&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;&lt;img&gt;&lt;/strong&gt; &amp;nbsp; &lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি :&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/strong&gt;ধীমান ব্রহ্মচারী&rsquo;র জন্ম ১৯৮৭ সালে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জে বেড়ে ওঠা। তারপর কলকাতায় আসা কলেজ জীবনে। বাংলায় স্নাতকোত্তর। লেখালিখি শুরু ২০০৫ সাল থেকে। প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা &ldquo;কবিতা বুলেটিন&rdquo; ২০০৯ সাল থেকে। পরে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় &ldquo;ম্যানিউসক্রিপ্ট&rdquo; নামে লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা। পরবর্তীতে &ldquo;এবং অধ্যায়&rdquo; নামে একটি পত্রিকা ও প্রকাশনার চালাচ্ছেন। মূলত কবিতা লেখার পাশাপাশি প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প সবই লিখেছেন। তবে সবচেয়ে ভালোবাসেন স্মৃতিকথা লিখতে। বর্তমানে চুঁচুড়ায় থাকেন। দীর্ঘদিন এই বাংলার এক প্রথম শ্রেণির পত্রিকা গোষ্ঠীতে চাকরি করেছেন। বর্তমানে চাকরি জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য সরে এসে প্রকাশনা ও লেখালিখি নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/book-review-on-bengali-poem-collection-chena-achenai-chinhita-is-done-by-dhiman-bramhachari-qvpm10"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA['রীতিমতো সুন্দরী, চেহারায় তীব্র আকর্ষণ', ছোটগল্প-   বিকল্প- রাহুল দাশগুপ্ত]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-bikalpo-written-by-rahul-dasgupta-in-anyo-dunia-adab-quzl87</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-bikalpo-written-by-rahul-dasgupta-in-anyo-dunia-adab-quzl87</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 12:05:55 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;একটু যেন ফাঁকা লাগে সুবীরের। আনন্দের একটা দিনে সবটুকু আনন্দ যেন বুঝি আর পাওয়া হয়ে উঠল না। কিন্তু কেন যাবে না অদ্বয়দা? খটকা লাগে তার। কিছু একটা রহস্য আছে। আর সেটাই সে বুঝে উঠতে পারছে না।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f8m0m2syenp3e8ptn5azepm9,imgname-whatsapp-image-2021-06-04-at-16-40-31-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;কলিংবেলের আওয়াজ শুনে অদ্বয় নিজেই দরজা খুলে দিল। বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল সুবীর। তাকে দেখে একগাল হেসে অভ্যর্থনা জানাল অদ্বয়। বলল, আরে এসো, এসো.... সুবীর ভিতরে এল। আর তখনই ওর চোখ পড়ে গেল রান্নাঘরের দিকে। পঁচিশ-ছাব্বিশ বছরের এক যুবতী। বাদামি গায়ের রং। কিন্তু রীতিমতো সুন্দরী। চেহারায় তীব্র আকর্ষণ।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এই মেয়েটিকে আগেও কয়েকবার দেখেছে সুবীর। মেয়েটি সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়া বলেই তার যেন বেশি করে কৌতূহল হল।&amp;nbsp; সুবীর বলল, অদ্বয়দা, পরশু আমরা সবাই মিলে মন্দারমনি পিকনিকে যাচ্ছি। তুমিও নিশ্চয়ই যাবে.... অদ্বয় যেন শিউরে উঠল। বলল&mdash; না, না, আমার পক্ষে সম্ভব নয়।&amp;nbsp; কেন, অদ্বয়দা? &amp;nbsp;ফ্ল্যাটের সবাই যাচ্ছে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;অদ্বয় কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর বলল&mdash; আমার বাবা অসুস্থ। যে কোনো সময় দাদার ফোন আসতে পারে। এই অবস্থায় আমি কোথায় যাবো?&amp;nbsp; সুবীর জানে, এই কথাটা অদ্বয়দা বলেই থাকে। অদ্বয়দার বাবার অনেক বয়স হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সে একদিনের জন্য শহরের বাইরে যেতে পারবে না। ওই ফোন কালেভদ্রে আসে। অদ্বয়দা এখন ফ্ল্যাট থেকে প্রায় বেরই হয় না। তাহলে না যাওয়ার কারণ কী?&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সুবীর সামান্য জোর দিয়ে বলল&mdash; অদ্বয়দা, সবাই চাইছে তোমাকে। তুমি না গেলে সবাই মিস করবে তোমাকে। সেই তো ঘরেই বসে থাকবে.... অদ্বয়কে সবাই পছন্দ করে। তার ব্যবহার খুব আন্তরিক। তার সঙ্গে মিশলে, কথা বললে একটা অন্যরকম আনন্দ পাওয়া যায়। অদ্বয় একদম ভেতর থেকে মেশে। হৃদয় দিয়ে মেশে। সে কোথাও গেলে সেখানকার পরিবেশই পাল্টে যায়।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;একটু যেন ফাঁকা লাগে সুবীরের। আনন্দের একটা দিনে সবটুকু আনন্দ যেন বুঝি আর পাওয়া হয়ে উঠল না। কিন্তু কেন যাবে না অদ্বয়দা? খটকা লাগে তার। কিছু একটা রহস্য আছে। আর সেটাই সে বুঝে উঠতে পারছে না।&amp;nbsp; অদ্বয়ের গলাটা এবার একটু গম্ভীর শোনায়। সে বলে, সুবীর, তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো যে, কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী....&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আর কিছু বলতে পারে না সে। সুবীরও বুঝতে পারে, এরপর আর কোনো কথা চলে না। অদ্বয়দার স্ত্রী অন্তরা বৌদি কয়েক মাস আগেই মারা গেছে। হঠাৎ করেই ক্যানসার ধরা পড়ে। অনেক চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি অদ্বয়দা। এখনও হয়তো সেই শোক বহন করে বেরাচ্ছে অদ্বয়দা....&lt;/p&gt; &lt;p&gt;অদ্বয় আবার বলে&mdash; আমাদের নিঃসন্তান জীবন খুব সুখের ছিল। আমার স্ত্রীকে আমি ভালোবাসতাম সুবীর.... সুবীর চুপ করে থাকে। অদ্বয়ের শোক এবার যেন সত্যিই ওকে স্পর্শ করে যায়। সে মৃদুস্বরে বলে, বুঝতে পেরেছি। আমি আর জোর করব না.... সে উঠতে যায়। অদ্বয় বলে ওঠে, আরে, একটু চা খেয়ে যাও.... সুবীর এমনিতে লাজুক প্রকৃতির। অন্য সময় হলে হয়তো বলত&mdash; না, না, পরে কখনও এসে খেয়ে যাবো....&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;কিন্তু কী এক রহস্যময় কারণে সে বসে পড়ল। কী কারণ এর? আর তখনই সামান্য লজ্জায় ওর ফর্সা মুখ যেন লাল হয়ে উঠল। ওই মেয়েটাকে দেখার পর থেকে তার কথা সে ভুলতে পারেনি। কথা বলছিল অদ্বয়দার সঙ্গে। কিন্তু মনে মনে মেয়েটার কথাই ভাবছিল। অদ্বয়দার প্রস্তাবে তাই সে রাজি না হয়ে পারেনি। মেয়েটাকে আর একবার, সামনা সামনি, দেখতেই হবে। তীব্র লোভ হচ্ছে তার।&amp;nbsp; &amp;nbsp;অদ্বয় সামান্য গলা তুলে ডাকল, পাপিয়া.... রান্নাঘর থেকেই মেয়েটি বলল, বলুন.... &amp;nbsp;আমাদের একটু চা দেবে?&amp;nbsp; দিচ্ছি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সুবীর কৌতূহলী হলে তাকিয়ে আছে দেখে অদ্বয় গলা নামিয়ে বলল, আমার কাছেই থাকে। কী করব বলো! তোমার বৌদি মারা যাওয়ার পর রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেরাতাম। রোজ ঠিকমতো খাওয়া&ndash;দাওয়াও জুটত না.... সুবীর বলল&mdash; &amp;nbsp;হ্যাঁ, সে তো জানি.... কিছুদিন পর পাপিয়ার সন্ধান পাই। আমার বাবাদের পাড়ায় থাকে। আমার এক দাদাই ওকে নিয়ে আসে.... যাক, খুব ভালো হয়েছে।&amp;nbsp; হ্যাঁ, ও রোজ এসে রান্না করে দিয়ে যেত। কিন্তু তারপরই এল কোভিড.... সুবীর তাকিয়ে রইল। একটু একটু করে ব্যাপারটা বুঝতে পারছে সে.... অদ্বয় বলে চলে, পাপিয়াকে আমার কাছেই রেখে দিলাম। ও রাজি হয়ে গেল। বাইরে থেকে ওইভাবে আসা&ndash;যাওয়া তো এখন আর অ্যালাউ করা যায় না, কী বলো?&amp;nbsp; হ্যাঁ, খুবই রিস্কের ব্যাপার। সুবীর বলল। আমাদের ফ্ল্যাটেই তো বাইরে থেকে যেসব কাজের লোক আসত, তাদের সবাইকেই নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে.... সেটাই স্বাভাবিক, অদ্বয় বলল&mdash; কিন্তু আমার তো চলবে না। আমাকে তো খেতে হবে। আমি রান্না জানি না। আর না খেয়েও তো চলবে না। তাই না? তারপর এখন বয়স হয়েছে। রোগ&ndash;ব্যাধি আছে। নিয়ম করে, নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে.... সুবীর জানতে চায়, কত নেয়?&amp;nbsp; দশ হাজার। সে তো অনেকটাই। তুমি রিটায়ার করেছ.... হ্যাঁ। খরচটা একটু বেশিই করতে হচ্ছে। কিন্তু ওই যে বললাম.... সুবীর বলল, সে তো ঠিকই। তারপর এ পাড়ায় যা শুরু হল! কোভিড আক্রান্ত পরপর চারজন.... বিশেষ করে কৌশিকের ব্যাপারটা তো মানাই যায় না। একদম সুস্থ একটা ছেলে, দুদিনের মধ্যে ওইভাবে.... অদ্বয় বলল, আমার বয়স এখন তেষট্টি। বুঝতেই পারছ, রিস্ক কতটা। আমি নিজেও এখন ফ্ল্যাট থেকে বেরোই না। পাপিয়াকেও বেরোতে দিই না। &amp;nbsp;বাইরে মেলামেশা একদম বন্ধ.... সুবীর মনে মনে হিসাব করে। অদ্বয়দা এখন তেষট্টি। পাপিয়া? বড়োজোর পঁচিশ&ndash;ছাব্বিশ। দু&rsquo;জনে দিনের পর দিন একসঙ্গে, একই ফ্ল্যাটে আছে। বাইরে বেরোয় না। কারো সঙ্গে মেশে না। &amp;nbsp; হঠাৎ সে বলে, তোমাকে দেখলে কিন্তু তেষট্টি বলে মনেই হয় না.... অদ্বয় হাসে। জানতে চায়, কী মনে হয়?&amp;nbsp; তেত্রিশ&mdash; সুবীর বলে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;যাঃ। হেসে উড়িয়ে দেয় অদ্বয়। এ পাড়ায় সবার কাছেই সে অদ্বয়দা। কেউ তাকে কাকু বা জেঠু বলে না। এখনও তার ছিপছিপে শরীর। শরীরে এতটুকু মেদ নেই। বয়স সত্যিই বোঝা যায় না।&amp;nbsp; ঠিক এই সময় পাপিয়া আসে। একটা ট্রে সামনে রাখে। তাতে রাখা ফুল আঁকা চায়ের কাপ আর এক বাটি চাউমিন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;প্রথমেই চায়ের কাপে চুমুক দেয় সুবীর; আর বলে ওঠে&mdash; বাঃ! তারপর চাউমিন খেতে গিয়েই বুঝতে পারে, ওর রীতিমতো খিদে পেয়েছে। গোগ্রাসে সবটুকু চাউমিন খেয়ে নেয় সে।&amp;nbsp; কিন্তু আর বসে থাকা যায় না। সুবীর উঠে দাঁড়ায়। এদিক&ndash;ওদিক তাকায়। কোথায় গেল পাপিয়া? মেয়েটি সুন্দরী তো বটেই! তাছাড়া সেই সৌন্দর্যের মধ্যে কেমন যেন একটা বন্যতা রয়েছে। আর একবার দেখতে পেলে হতো!&amp;nbsp; কিন্তু পাপিয়া অন্য কোনও ঘরে আছে। সুবীরকে নিরাশ হতে হয়। অদ্বয়ও উঠে দাঁড়িয়েছে। তার সারা মুখে হাসি। বলে&mdash; নাঃ, তোমাকে আর আটকাবো না.... &amp;nbsp;&amp;nbsp; &amp;nbsp; সুবীর বেরিয়ে যায়। তার ভুরু কুঁচকে গেছে। অন্তরা বৌদি মারা যাওয়ার পর কী অবস্থা হয়েছিল এই ফ্ল্যাটের। এখন আবার সব পরিপাটি করে গোছানো। ঘরগুলো আগের মতোই ছিমছাম, সাফসুতরো, বিছানার চাদরটা একদম টানটান। এত সৎ মানুষ অদ্বয়দা। কিন্তু নিজের কাছেই যেন কিছু একটা লুকোচ্ছে।&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; একটু পরেই ভেতরের একটা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে পাপিয়া। একটার পর একটা পোশাক ছাড়তে থাকে। তারপর সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়। অদ্বয় তখন পিছন ফিরে একটা বই খুঁজে চলেছে।&amp;nbsp; আর ঠিক তখনই আবার ফোন বেজে ওঠে। আর একটু পরেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে অদ্বয়.... ওদিক থেকে কেউ বলে, দশ হাজার? অত টাকা দিয়ে মেয়েটাকে তুমি রেখেছো?&amp;nbsp; না রেখে উপায় কী? খাবো কী? বয়স হয়েছে, রোগ&ndash;ব্যাধি আছে.... তা একদিন না হয় মেয়েটা একাই থাকবে। তুমি পার্টিতে চলে এসো.... অসম্ভব। যে কোনও সময় বাবার ওখান থেকে ফোন আসতে পারে... এলেই-বা? তুমি তো এমন কিছু দূরে আসছ না.... আমার পক্ষে এখন আনন্দ&ndash;ফুর্তি করা সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী.... হ্যাঁ, ওদিকের গলা এবার নিস্তেজ শোনায়.... তুমি তো জানো, আমার স্ত্রীকে আমি কত ভালোবাসতাম.... কে না জানে সে-কথা? ওদিকের কণ্ঠ বলে। গোটা দুনিয়া জানে.... &amp;nbsp; &amp;nbsp; একটু পরে অদ্বয় ফোনটা রেখে দেয়। আর হঠাৎ তার চোখ চলে যায় সামনের ফটোর দিকে। তার স্ত্রী&rsquo;র ফটো। সেদিকে তাকিয়ে সে বলতে থাকে, তোমাকে আমি ভালোবাসতাম। এখনও বাসি। বিশ্বাস করো আমাকে.... একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অদ্বয়। অন্য কেউ বিশ্বাস করুক বা না-করুক, সে নিজে যেখানে এখনও বিশ্বাস করে.... কিন্তু তবুও, পিকনিক বা পার্টিতে তার পক্ষে এখন যাওয়া সম্ভব নয়। অসম্ভব। পাপিয়াকে ছেড়ে গেলে যে-কোনও জায়গাই তার কাছে নরক হয়ে উঠবে। পাপিয়াকেই-বা সে অস্বীকার করে কী করে?&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি- &lt;/strong&gt;রাহুল দাশগুপ্ত, &lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;জন্ম ২৪ এপ্রিল, ১৯৭৭। যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট। পড়িয়েছেন যাদবপুর ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। দীর্ঘ প্রায় দু&rsquo;দশক ধরে সাহিত্য-প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও কবিতা লিখে চলেছেন। কর্মসূত্রে যুক্ত ছিলেন সাহিত্য একাডেমির সঙ্গেও। ২০১৭ সালে পেয়েছেন &ldquo;কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার&rdquo;। &ldquo;উপন্যাসকোষ&rdquo; বইটির জন্য পেয়েছেন &ldquo;দীপক মজুমদার সম্মাননা&rdquo;। বর্তমানে নামি স্কুলের শিক্ষক।&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;span&gt;&lt;img&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-bikalpo-written-by-rahul-dasgupta-in-anyo-dunia-adab-quzl87"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[“আজ রাত বারোটা থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি”, ছোটগল্প- ইচ্ছেনদী, গল্পকার- অনির্বাণ চৌধুরী]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/life/annyo-dunia-magazine-bengali-short-story-ichche-nadi-written-by-anirban-chowdhury-adab-qtjohs</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/life/annyo-dunia-magazine-bengali-short-story-ichche-nadi-written-by-anirban-chowdhury-adab-qtjohs</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 10:53:09 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে, তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসছিল। যারা রাজপথে গাড়ি ছাড়া যাতায়াত করে না, তারা বেজায় খুশি এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্র্যাফিক কমবে&hellip; হু-উ-উ-শ করে উড়ে চলে যেতে পারবে অভিজাত জীবন। গাড়ির ডিলার&rsquo;রা আহ্লাদিত। অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি মুখ থুবড়ে পড়েছিল&hellip; এবার অন্তত চাকায় গণেশ গড়াবে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f6bv09xb859e8h48scckg1za,imgname-short-story-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;ইচ্ছেনদী --- অনির্বাণ চৌধুরী---&lt;/strong&gt; &amp;nbsp;কালবৈশাখীর কোনো পূর্বাভাস হয় না। &ldquo;আজ রাত বারোটা থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি&rdquo;। সন্ধ্যা থেকেই পোস্টারে পোস্টারে দেওয়াল ছয়লাপ। অটো&rsquo;তে, রিক্সা&rsquo;তে লাগাতার ঘোষণা। এফ-এম চ্যানেল, টিভি&rsquo;র সব কটি নিউজ চ্যানেলে মুহুর্মুহু ব্রেকিং নিউজ: &ldquo;শহরের সমস্ত সুনাগরিকদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা: &ldquo;আজ রাত বারোটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;চমকে উঠল অফিস ফেরৎ লোকাল ট্ট্রেনের যাত্রীরা। আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল একটাই&mdash; &ldquo;পথচারীদের জন্য রাজপথ নিষিদ্ধ!&rdquo; যারা ভিড় বাসে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে একে অপরকে কটুক্তি করছিল, বিস্ময়ে চোখ বড়ো বড়ো করে তারাই এবার তুঘলকি নিষেধাজ্ঞার বাপবাপান্ত করতে করতে একে অপরের পরিচিত হয়ে উঠল। কথায় কথায় পাক খেয়ে যায় সম্পর্ক&mdash; সাধারণের সমস্যা, সাধারণ&rsquo;কেই একত্র করে তোলে। &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে, তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসছিল। যারা রাজপথে গাড়ি ছাড়া যাতায়াত করে না, তারা বেজায় খুশি এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্র্যাফিক কমবে&hellip; হু-উ-উ-শ করে উড়ে চলে যেতে পারবে অভিজাত জীবন। গাড়ির ডিলার&rsquo;রা আহ্লাদিত। অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি মুখ থুবড়ে পড়েছিল&hellip; এবার অন্তত চাকায় গণেশ গড়াবে।&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;শিফটিং ডিউটি শেষে, বালিগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে দুই বন্ধু হেঁটেই বাড়ি ফেরে প্রতি রাতে। অনীশ দত্ত আর দীপন পাল। পায়ে হেঁটে ওরা পাঁচ কিলোমিটার দূরে আনন্দপুরের রেলবিহারে ফেরে। অনীশ সাঁতারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। সেই সুবাদেই রেলের চাকরি। বিগত তিন বছর ওরা দুই বন্ধু এভাবেই বাড়ি ফেরে। প্রথম প্রথম দীপনের অতটা ইচ্ছে ছিল না। এখন নেশা হয়ে গেছে। প্রতিরাতে &lsquo;কার্ডিও&rsquo;টা সেরে ফেলা যায়। অনীশ&rsquo;ই দেখিয়ে দিয়েছে, ওই পাঁচ কিলোমিটার চল্লিশ মিনিটে শেষ করতে পারলে, দেড়শো ক্যালরি ঘাম ঝরে। ঘরে ফিরে গিয়ে স্নান। &lsquo;নিখরচায় শরীরকে ফিট রাখার, এর চাইতে সহজ পদ্ধতি আর কিছু হতে পারে না&rsquo;&mdash; এই বেদ বাক্যটা শিখিয়েছিল অনীশ। দীপনও আজকাল মেদ ঝরা ঋজু যুবক। তবে আজকের রাতটা অন্যরকম। হঠাৎ এমন হঠকারি সিদ্ধান্তে দীপন বেজায় সন্দিহান; রাজনীতির কুমতলবের কথাই বলতে থাকে অনীশকে&mdash; &ldquo;সকলেই যাতে গাড়িওয়ালা শ্রেণিতে উন্নিত হয়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।&rdquo; এতটুকু বলে অনীশের দিকে ফেরে দীপন। মিতভাষী অনীশ ততটাই নির্বিকার। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না-করেই বলে যায় দীপন&mdash; &ldquo; যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা বাড়ি থেকে না-বেরোতে পেরে অভুক্ত অবস্থায় মারা যাবে। তুই বোঝার চেষ্টা কর অনীশ&hellip;. &amp;nbsp;এই যে&hellip;.&rdquo;&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;ক্যাকফনিতে মিশে গেল দীপনের ভিতরে জমে থাকা ক্ষোভ, রাগ আর দুঃখ। কমপ্লেক্সে পৌঁছে মৃদু হেসে অনীশ চারতলার লিফ্টের বোতাম টিপে বিদায় জানাল দীপনকে: &mdash; &ldquo;সি উ টুমরো.... গুড নাইট!&rdquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কিছু গাড়ি হু-উ-শ গতিতে যেন ছিটকে চলেছে। ফুটপাত জনশূন্য। ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, স্টার ক্যাটেগরির শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স, আর সমস্ত গাড়ির ডিলারশিপগুলো খোলা রয়েছে। তবে কোনো নতুন গাড়ি রাস্তায় দেখা যায়নি। আগে যেগুলি চলত, সেগুলিই ধাবমান। তবে নতুন গাড়ির শোরুমে কিছু পুরনো গাড়ি জমা পড়েছে বটে। &amp;nbsp; &amp;nbsp;তিনদিনের মাথায় দু&rsquo;-একজন লোক প্রায় জোর করেই হেঁটে যাতায়াতের চেষ্টা করল। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে ভাবছিল, পুলিশের বেদম প্রহার আর গ্রেপ্তার দেখে, তারাও ভয়ে সিঁটিয়ে গেল। এদিকে যাদের গাড়ি নেই, তাদের প্রত্যেকেরই এবার খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। জমানো খাবার যা ছিল, তা প্রায় তলানিতে। কোনো কোনো পরিবার আধপেটা থাকা শুরু করেছে। তাদের এবার বাড়ি থেকে বেরোতেই হবে। কিন্তু উপায়?&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;পঞ্চম দিনে ঘটল সে-ঘটনা! রীতিমতো হাঁ করে দাঁড়িয়ে গেল অনীশের কমপ্লেক্সের আবাসিকরা। ঘোষণা পরবর্তী অনীশই প্রথম ফ্ল্যাট থেকে রাস্তায় নেমে এল। কিন্তু&hellip;. পায়ে হেঁটে নয়। কংক্রিটের ফুটপাথের উপরে সাঁতার কেটে কেটে এগোতে থাকল অনীশ। ফুটপাতের ওপর উপুর হয়ে শুয়ে ডান-হাত বাঁ-পা টানটান ছড়িয়ে ঘষ্টে ঘষ্টে একটুখানি এগোয়, তারপর আবার বাঁ-হাত ডান-পা বাড়িয়ে একইভাবে ঘষ্টে-ঘষ্টে এগোয় সামান্য। শামুকের গতিতে সামনে এগোতে থাকল অনীশ। হাত পা রক্তাক্ত.&hellip; চোখে-মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট.&hellip; অথচ চোয়াল শক্ত। তবুও এগিয়ে চলেছে অনীশ।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; &amp;nbsp;ওদিকে পুলিশও চ্যাম্পিয়ন সাঁতারুকে দেখতে থাকে। প্রথমে অতটা ঠাওর করতে পারেনি আইনের রক্ষকরা। ভেবেছিল, কোনো আইন অমান্যকারীকে বেধরক পেটানোর পরে, সে বুঝি রাস্তায় পড়ে ছটফট করছে। হয়তো এক্ষুনি মারা যাবে। সরকারের জয় হবে। কারণ, আইনভঙ্গকারী হিসেবে, কারুর এখনও অবধি মৃত্যুর কোনো খবর নেই সরকারি খাতায়। এটাই প্রথম হতে পারত। কিন্তু&hellip;. নাহ্! &amp;nbsp; &amp;nbsp;গোটা প্রশাসনে ত্রাহি ত্রাহি রব। কমিশনার অবধি ফোন গেল। কমিশনার মুখ্যমন্ত্রীকে ঘটনাটা সবিস্তারে জানালেন। মুখ্যমন্ত্রী মুখ্য সচিবের পরামর্শ চাইলেন। &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;না! বেআইনি নয়, ও হাঁটছে না। অ্যাকশন নেওয়া যাবে না&rdquo;, জানালেন মুখ্য সচিব।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; সপ্তম দিন একটু সুস্থ বোধ করে অনীশ। দীপনকে ফোনে ধরতেই, দীপন তো রীতিমতো উত্তেজিত!&mdash; &ldquo;গুরু ক্কী কয়েচো গুরু! তুমি শালা গুরুদেব মাইরি! ওই জন্য সেদিন তুমি কতা বলনি হাঁটতে হাঁটতে; তাই না?&rdquo;&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;অনীশ একইরকম নির্বিকার, স্তিতধী।&amp;nbsp; &mdash; &ldquo;তোর বলা শেষ হলে আমি বলবো?&rdquo; &mdash; &ldquo;হ্যাঁ হ্যাঁ&hellip; বল বল বল বল।&rdquo;&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;ডান হাত থেকে বাঁ-হাতে ফোনটা কানে চেপে ধরল অধৈর্য্য দীপন। &mdash; &ldquo;শোন, আশেপাশের যতজন মানুষ আছে, আজ রাতের অন্ধকারে আমার ফ্ল্যাটের ছাদে নিয়ে আসবি।&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;দীপনের চোখ গোল হয়ে কপাল ঠেকে প্রায়: &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;সে কি রে, কেউ যদি দেখে ফেলে!&rdquo;&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;অনীশ দৃঢ়, অনড়। &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;না কেউ দেখবে না। আজ রাত ন&rsquo;টা। সরকারি নির্দেশ। কারুর ঘরে আলো জ্বলবে না। এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ। কাজে লাগাতে হবে দীপন। তুই কিন্তু ঘেঁটে ফেলিস না।&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;আচ্ছা, আমি সবাইকে খবর করছি। কিন্তু কী করবি ছাদে? কোনো পার্টি-সার্টি কিছু&hellip;.&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;হ্যাঁ রে শালা!&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;কথা আর বাড়াল না অনীশ। &ldquo;সী-ইউ&rdquo; বলে ফোন কেটে দিল। &amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; রাত ন&rsquo;টা। আঁধারই তো দেশের প্রতীক। তবে যেখানে আলো থাকে, প্রাণ সেখানে পৌঁছে যায় অবচেতনে প্রতিবর্ত ক্রিয়ায়। ধীরে ধীরে চল্লিশজন হাজির হয়ে গেল অনীশের ছাদে। খুব বেশি জোরে কথা বলা যাবে না। এমনিতেই কিছু জানালা গলে আসা উৎসাহী মুখ, দশ-বারোজনকে পায়ে হেঁটে আসতে দেখেছে। প্রথমেই বলে নেয় অনীশ&mdash; &ldquo;মরে যেতে হবে আজ, কাল বা পরশু। লড়াই করে মরতে চান, না-কি ভয়ে সিঁটিয়ে পচে গলে মরতে চান? কোনটা?&rdquo; প্রায় সবাই সমস্বরে বলে &ldquo;মরতে হলে লড়ে মরব; এভাবে নয়।&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;অনীশ একজন প্রতিবেশীকে তার সামনে দাঁড় করাল। তাকে মডেল বানিয়ে, বাকিদের উদ্দেশ্য সে বলল: &ldquo;বেশ। শুনুন তাহলে বন্ধুগণ। ব্যাপারটা অবশ্যই প্রচণ্ড কষ্টসাধ্য। প্রথমেই চাই, আর্মি-সিপাহীদের মতো মানসিক প্রস্তুতি। আপনাকে মনে মনে ভেবে নিতে হবে ওই শক্ত ঢালাই ফুটপাথটা আসলে জল। এই অলীক বিষয়টা যখন মনের মধ্যে পুরোপুরি গেঁথে ফেলতে পারবেন, তখন প্রথমে ডান-পা, তারপর বাম হাতটা সামনে বাড়াতে হবে। এবার বাঁ-পা আর ডান হাত। হাতের চেটো আর হাঁটুতে একসাথে সমান ভর প্রদান করে, এই এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;ব্র্যাভো বন্ধু! ব্র্যাভো!&rdquo; অনীশ&rsquo;কে জড়িয়ে ধরে দীপন।&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;সবাই ফিরে যাবার মুহূর্তে, অনীশ ওর মুঠিটা শক্ত করে, ঠান্ডা অথচ গম্ভীর স্বরে শেষবারের মতো পিছু ফিরে চলা জনতাকে ডাক দিল:&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;দাঁড়ান&hellip;.&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;সবাই একসাথে পিছনে অনীশের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। কী অদ্ভুত, সবার মুঠিই কেমন যেন অজান্তেই শক্ত হয়ে গুটিয়ে &amp;nbsp;আছে! অনীশ চোয়াল শক্ত করল: &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;মনে রাখবেন, আপনারা জলের সর্বশেষ তলানিতে পৌঁছে গেছেন। ডুবে যাবার আর ভয় নেই আপনাদের। কী পারবেন তো?&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;চল্লিশটা মুঠি আকাশে তাক করা যেন বেয়নেট। সমস্বরে বলে উঠল: &ldquo;হ্যাঁ কমরেড। পারব। উই শ্যাল ওভার কাম&hellip;.&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;&mdash; &ldquo;শেষ অনুরোধ আমার। যা শেখালাম, তা এবার আপনাদের পরিচিত অপর পাঁচজনকে শেখাবেন। তারাও আবার আরও পাঁচজনকে ছড়িয়ে দেবে এই শিক্ষা। বাঁচতে হলে, এই কৌশলী-বিদ্যা ছড়িয়ে দিন সাথী।&rdquo;&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;প্রত্যেকের চোয়াল শক্ত। লক্ষ্য স্থির অনীশের প্রতি। সমস্বরে সবাই বলে উঠল: &ldquo;ইয়েস্ কমরেড্। অবশ্যই করব।&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;ধীরে ধীরে ভিড় মিলিয়ে গেল অন্ধকারে। একলা দীপন ছাদের উপর রেলিং-এ ঠেস দিয়ে বসে। খানিক বাদে নীরবতা ভেঙে হাসতে হাসতে বলল: &ldquo;বুঝে গেছি বন্ধু; কিছু দায়িত্ব আমাকেও তো দে!&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;দূরে রেলিংটায় ভর দিয়ে উত্তর দিগন্তে তাকিয়ে অনীশ। ধ্রুবতারা খুঁজছিল হয়তো। এই প্রথম অস্ফুটে হাসল সে। নিয়নের আলোগুলিও জ্বলে উঠল ঠিক তখনই।&amp;nbsp; &amp;nbsp; অষ্টম দিন। গোটা ফুটপাথ জুড়ে একশো মানুষ সাঁতরে চলেছে। প্রশাসন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ধীরে হলেও এগিয়ে চলেছে। দোকান পাটও খুলছে ধীরে ধীরে। তবে সবাই বুকের উপরেই ভর দিয়ে আছে। &amp;nbsp; নবম দিন সাঁতারুদের ঢল নামল রাজপথে। আজ পাঁচশত লোক। তীব্র যানজট। যারা গাড়ি বের করেছিল, বিরক্তি উগরে দিচ্ছে সরকারের উপর। ঘেমে-নেয়ে একসা গাড়ির যাত্রীরা। বাজার, অফিস সবই আজ খোলা। কিন্তু গাড়ি বিক্রী শূন্য। উচ্চপর্যায়ের মিটিং বসেছে ঘন ঘন। এভাবে তো আর চলতে দেওয়া যায় না! ওই হাতে গোনা গাড়িওয়ালাদের কথা আগে ভাবা দরকার। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত সেদিন রাত ন&rsquo;টাতেই ব্রেকিং নিউজ হয়ে যায়:&amp;nbsp; &amp;nbsp; &ldquo;আগামীকাল সকাল থেকে, রাজপথে হেঁটে চলা যাবে আগের মতোই।&rdquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; অনীশ আজ রাতে বাড়ি ফিরছিল সাঁতার কেটেই। অন্যদিনের তুলনায় তার আজ গতিবেগও যেন বেশি। ক্রমশ ভীষণ সহজ হয়ে উঠেছে কংক্রিটে সাঁতার কাটা। হঠাৎ তার ডান হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিতেই, একটা শীতল নরম স্পর্শ। চমকে ওঠে অনীশ। ঢালাই ফুটপাতের সে এদিক সেদিক হাতটা ঘোরাতে থাকে। এখন আরও দ্রুত হাত ঘোরাচ্ছে অনীশ! ক্রমশ ভিজে যাচ্ছে ও&hellip;. ভিজে যাচ্ছে অনীশের ঘড়ি, আস্তিন , শার্ট&mdash; সব, স-অ-ব কিছু। হাতের চেটোয় কেমন যেন একটা পিচ্ছিল ঠান্ডা বস্তু ঢুকে পড়ল। মুঠোয় চেপে ধরে হাঁ হয়ে গেল অনীশ। এ-কী, এ-তো পাঁকাল মাছ! অনীশ আর পাঁকাল মাছ&hellip;. অবাক হয়ে যেন দু&rsquo;জন দু&rsquo;জনের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ প্রচণ্ড আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেল অনীশ। চমকে তাকায় রাজপথে। একটা সেভেন সিরিজের বি-এম-ডব্লু, ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে&hellip;. মুখ, শরীর সব যেন ঢুকে যাচ্ছে রাজপথে। &amp;nbsp; রাজপথ আজ থেকে নদী। বিস্তৃত নদী&mdash; নাম, &ldquo;ইচ্ছেনদী&rdquo;। রাত নামছে&hellip;. ঘোলাটে জলে স্নান সারছে সাম্যবাদী চাঁদ।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি- &amp;nbsp;অনির্বাণ চৌধুরী- &lt;/strong&gt;বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সঙ্গে সঙ্গে এমবিএ ডিগ্রিধারী। কর্মরত এক বেসরকারি সংস্থায়। কিন্তু, লেখালেখি তাঁর রক্তে। অনিডায়েরি ও বন্ধুরা সোসাইটি-র সম্পাদক অনির্বাণ। তাঁর একটি প্রবন্ধ এবং একাধিক কবিতা সংকলন ও গীতরচনা, নাট্যগ্রন্থের লেখক। তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মানেও সম্মানিত হয়েছেন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা&lt;/strong&gt;- জয় ভদ্র, হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা-র মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। একটা সময় মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/life/annyo-dunia-magazine-bengali-short-story-ichche-nadi-written-by-anirban-chowdhury-adab-qtjohs"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA['কী গো, চিনতে পারছো আমাকে', ছোটগল্প তবুও বসন্ত, লেখিকা- নীলাঞ্জনা ভৌমিক]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-tabu-o-basanta-has-written-by-nilanjana-bhowmik-in-anyo-dunia-adab-quzdfc</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-tabu-o-basanta-has-written-by-nilanjana-bhowmik-in-anyo-dunia-adab-quzdfc</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 08:53:37 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;শীত চলেই গেছে বলতে গেলে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে তামাটে বর্ণের মসৃণ কপালে। আজ বেশ দেরি হয়ে গেল। খরিদ্দার এক-দু&rsquo;জন হয়তো এখনও আসবে বসে থাকলে। আর ইচ্ছে করছে না। কয়েকটা মোটে হার আর দুল পড়ে আছে। এবার পাততাড়ি গোটানো যাক।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f8kq1hjfcv0g13pdrtb9kc32,imgname-whatsapp-image-2021-06-19-at-17-01-27-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;ঘরে ঘরে শঙ্খধ্বনিতে সন্ধ্যা সূচিত হওয়ার সাথে সাথেই ভিড় ঠাসাঠাসি শুরু হয় গয়নার হাটে। বর্ধমান জেলার অন্তর্বর্তী ছোট্ট এক গ্রামাঞ্চল&mdash; কুন্দপুকুর। আজ শনিবার। সপ্তাহের এই দিনটা কেবল গয়নার হাটের দিন। দুপুর গড়াতে না-গড়াতেই যে-যার পণ্যসামগ্রী সাজিয়ে বসে পড়ে পুষ্প, টগর, মঞ্জুরা।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সেই কোন ছোটোবেলা থেকে মায়ের কাছে কড়ি, পুঁতি, ঝুটো পাথরের গয়না গড়তে শিখেছে পুষ্প। নিকটবর্তী আলোকোজ্জ্বল সম্বৃদ্ধ এলাকাগুলিতে থেকে বাবু-বিবিরা আসেন গয়না কিনতে। পুষ্পর রুচিশীল ও সুনিপুণ কাজের গুণে ওর চারপাশ সবসময় পরিপূর্ণ থাকে খরিদ্দারের ভিড়ে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সন্ধ্যার এই হাটের সময়টুকু কেমন একটা ঘোরের মধ্যে কাটে। নিজের সৃষ্টি অন্যের হাতে তুলে দিয়ে, কড়ায়-গণ্ডায় হিসাবটুকু বুঝে নিয়ে প্রাপ্ত মূল্য পাশে রাখা কাপড়ের ছোট্ট থলিতে রেখে দেয় পুষ্প। তা না-করে কী আর উপায় আছে? একেই পেটের দায়, তার ওপর আবার কুসুমকে ভালোভাবে বড়ো করবার মস্ত স্বপ্ন। শীত চলেই গেছে বলতে গেলে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে তামাটে বর্ণের মসৃণ কপালে। আজ বেশ দেরি হয়ে গেল। খরিদ্দার এক-দু&rsquo;জন হয়তো এখনও আসবে বসে থাকলে। আর ইচ্ছে করছে না। কয়েকটা মোটে হার আর দুল পড়ে আছে। এবার পাততাড়ি গোটানো যাক।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;কী গো? চিনতে পারছো আমাকে?&rdquo;&mdash; অচেনা কন্ঠস্বর শুনে ঘাড় উঁচু করে তাকাল পুষ্প। আরে? এ যে সেই দিদিমণি! আগের বছর শহরে শিল্পমেলায় দেখা হয়েছিল। এর মুখ খুব ভালোভাবেই মনে আছে। অবর্ণনীয় রূপ&mdash;যেন সুদক্ষ কোনও চিত্রকরের জাদুতুলি দিয়ে অঙ্কিত মুখাবয়ব, অদ্ভুত এক মায়াময় ঔজ্জ্বল্য। প্রথমবার দেখার পর পুষ্প শুধু মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিল কয়েক মুহূর্ত। এমন রূপ তো মন্দিরের দেবীমূর্তির হয়! স্পষ্ট মনে পড়ল সব। সবুজ শাড়িতে সেদিন যেন আরও বেশি মনোমুগ্ধকর দেখাচ্ছিল সেই দীপ্তকান্তিময়ী তরুণীকে। তবে সেদিন সে একা ছিল না। সাথে এক সুদর্শন যুবকও তো ছিল। আহা! বড়ো মানানসই যুগলবন্দী!! পুষ্পর থেকে কড়ির গয়না কিনে নিজে হাতে তরুণীর গলায় পরিয়ে দিচ্ছিল যুবক।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;গয়না কিনে চলে যাওয়ার আগে পুষ্পর নাম-ধাম সব জিজ্ঞাসা করেছিল এই দীপ্তকান্তিময়ী। বেশ কয়েক মুহূর্ত চলেছিল পরিশীলিত শহুরে আর রুক্ষ গ্রাম্য ভাষার বাক্যবিনিময়। পুষ্প যদিও তরুণীর নাম জানতে চায় না। ও তো দেবী!! দেবীরাই তো এমন হয়।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;দু&rsquo;জনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সেদিন মনটা কেমন উতলা হয়ে উঠেছিল ওর। ওই চরম ব্যস্ততার মধ্যেও বার বার দূরে বসে থাকা লখাইয়ের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল। লখাইও তখন মহা ব্যস্ত&mdash; সুতলি দড়ির পাপোশ আর ব্যাগের বিক্রিবাটা নিয়ে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;চরম শীত পড়েছিল তখন। ওই দু&rsquo;জনকে দেখার পর থেকে কাজে মন বসাতেই পারছিল না পুষ্প। শীত বড়ো নিষ্ঠুর... মনকে বড্ড আদর-কাঙাল করে তোলে যেন! উন্মত্তের মতো সেদিন লখাইয়ের স্পর্শ পেতে ইচ্ছে করছিল খুব।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;কী গো? কী এত ভাবছ?&rdquo;... তরুণীর ডাকে সম্বিত ফিরল পুষ্পর। &ldquo;কিস্সু না গো দিদিমুনি, তুমি আমারে মনে রাইখস?&rdquo; &ldquo;মনে রাখবো না কেন? এবারের শিল্পমেলায় তো দেখলাম না তোমাকে?&rdquo; &ldquo;এবারে যাই নাই গো... তা তুমি এখেনে?&rdquo;&amp;nbsp; &ldquo;এখানে আমার দিদার বাড়ি। আজ গয়নার হাট বসে শুনে এলাম।&rdquo; &ldquo;দাদাবাবু কুথায়? আসেন নাই?&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp; প্রশ্ন শুনে ম্লান হয়ে গেল দেবীর মুখ।&mdash; &ldquo;আমি একলাই গো!! আমার কোনও দোসর নেই আর। ওই লাল রঙের মালাটার দাম কত? দাও তো দেখি?&rdquo;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;তরুণীকে মালা এগিয়ে দিয়ে অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল পুষ্প।&mdash; &ldquo;আমরা সবাই একলা গো দিদিমুনি!&rdquo; স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেন তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল কথাগুলো।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;হাটশেষে আজ আর টগরদের সঙ্গে ভ্যানে না-ফিরে পুষ্প হাঁটতে শুরু করল। এখন একটু নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে ইচ্ছে করছে। খুব মনে পড়ছে আগের বছরের শিল্পমেলার কথা।... &amp;nbsp; শহরের মেলায় বসবার জায়গার ব্যবস্থা লখাই করেছিল। দশদিন ওর সাথে একসঙ্গে থাকা&mdash; ভাবতেই কেমন গায়ে কাঁটা দেয়, অদ্ভূত এক শিরশিরানি! পুষ্প অনুমতি চাইবার পর কিছুক্ষণ চুপ থেকে ঠান্ডা গলায় বলেছিল যমুনা&mdash; &ldquo;লখাইরে কইবি, আশপাশের মন্দিরে গিয়া তুর কপালে যেন সিন্দুর লেইপ্যা দেয়।&rdquo; &amp;nbsp; তার মা যমুনা বরাবরই এমন... আবেগের বহিঃপ্রকাশ কম। মা-কে কোনোদিন রাগ, উচ্ছ্বাস, আনন্দ প্রকাশ করতে দেখেনি সে। কথাও বলে মেপে, নির্লিপ্ত স্বরে। কিন্তু দূরদর্শিতার অভাব নেই যমুনার মধ্যে। পুষ্প নিজের বাপকে কোনওদিন চোখে দেখেনি। তার অভিভাবক বলতে যমুনাই।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;হঠাৎ বিয়ের প্রস্তাব শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছিল লখাই&mdash; &ldquo;বিয়ার দিন কি পলায়ে যাইব? অহন ইদিকে কারবারে মন দে।&rdquo; &amp;nbsp;প্রতিদিন মেলা শেষে লখাইয়ের কোনও এক বন্ধুর ফাঁকা ডেরায় গিয়ে উঠত ওরা দু&rsquo;জন। দশদিনের অস্থায়ী সংসার পুষ্প সাজিয়ে তুলেছিল। তার আর লখাইয়ের সংসার।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;স্নান করে শরীর থেকে সমস্ত ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে স্টোভ জ্বালিয়ে ভাত বসাত পুষ্প। গরম ভাতের গন্ধে খিদে আরও চনমন করে উঠত দু&rsquo;জনের। খাওয়া শেষে হ্যারিকেন নিভিয়ে শীতরাতে আদর-জড়ানো উষ্ণতা খুঁজে নিত ওরা&mdash; পরস্পরের শরীরে শরীর মিশিয়ে। লখাই সারাদিনের পরিশ্রম আর শহুরে ধুলোমেশানো বিরক্তিটুকু পুষ্পর নরম শরীরের মধ্যে উজাড় করে দিয়ে তবে শান্ত হতো; আর লখাইয়ের ওই উগ্র অশিষ্ট আদরকে সোহাগরূপে বরণ করে নিত পুষ্প। দূর থেকে ভেসে আসা ব্যস্ত শহরের ট্রাফিকের আওয়াজ আস্তে আস্তে স্তব্ধ হয়ে মিলিয়ে যেত রাতের গভীরতার অন্ধকারে। পুষ্প-লখাই পরম তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করত। &amp;nbsp;&amp;nbsp; শিল্পমেলায় বিক্রিবাটা মন্দ হয়নি ওদের। পুষ্প যমুনার জন্যে চুড়িদারের পিস আর কাঁচের চুড়ি কিনে নিয়ে গে&rsquo;ছিল। অতদিন পর মেয়েকে দেখে যমুনা কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকেছিল। তারপর তার হাতটা ধরে টানতে টানতে ঠাকুরের ছোট্ট কুলুঙ্গি থেকে সিঁদুর নিয়ে পুষ্পর মাথায় লাগিয়ে বলেছিল&mdash; &ldquo;কেউ জিগাইলে কইবি, শহরে গিয়া তুদের বিয়া হইসে।&rdquo;... &amp;nbsp; &amp;nbsp; দু&rsquo;-তিনদিন পরেই লখাই গ্রামছাড়া হয়। পুষ্পকে জানায়, কলকাতা শহরে দোকান খুলবে না-কি সে। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ধার করেছে। সব পাকাপাকি ব্যবস্থা হয়ে গেলে পুষ্পকে এসে নিয়ে যাবে... চিরতরে জীবনসঙ্গিনী করে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;যাবার দিন কপালে চুমু দিয়ে যায় লখাই। ওর চলে যাওয়ার রাস্তার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে পুষ্প। বিকেল গড়িয়ে রাতের আঁধার নেমে আসে চোখে। তারপর আর কথা হয়নি লখাইয়ের সাথে। লখাইয়ের মোবাইল নম্বরটারও আর অস্তিত্ব নেই। কয়েকদিনের মধ্যে শীত পেরিয়ে বসন্ত আসে। গোটা গ্রামজুড়ে কৃষ্ণচূড়া ও পলাশের লাল আভার ছড়াছড়ি। সবার অলক্ষ্যে ডুকরে কেঁদে ওঠে কপোতবিহীন কপোতী। দুরু দুরু বুকে যমুনাকে এসে একদিন জানায় পুষ্প, &ldquo;মা গো! হয় নাই, এমাসে হয় নাই গো!&rdquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp; যমুনা একঝলক তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মায়ের দু&rsquo;চোখের কোণে সেদিন সে দু&rsquo;ফোঁটা জল দেখতে পেয়েছিল যেন!! গ্রামের অনেকের কলকাতায় যাতায়াত আছে। লখাইয়ের সাথে তাদের মাঝেমধ্যেই সাক্ষাৎ ঘটে। পুষ্প খবর পায়&mdash; বেশ ভালোই আছে লখাই। বছর ঘুরে আবার শীত আসে, শীত পেরিয়ে বসন্ত&mdash; আবার... আজ ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের মধ্যে ফের সেই দীপ্তকান্তিময়ীকে দেখতে পেল পুষ্প। পরনে &amp;nbsp;তার পলাশরঙা শাড়ি। হাতে, গলায় পলাশফুলের মালা। আহা! কী অপূর্ব দেখাচ্ছে। তার দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিল সেই দেবী। পুষ্প এগিয়ে চলল তার হাতটা ধরে। আজ সে নিজেও পলাশের গয়নায় সুসজ্জিতা। লম্বা, ফাঁকা রাস্তা। হেঁটে চলেছে তারা দু&rsquo;জন। চারিদিকে আর কেউ কোথাও নেই!... &amp;nbsp; &amp;nbsp; চকিতে ঘুমটা ভেঙে গেল। ভোরের নরম আলো এসে পড়ছে চোখে-মুখে। পাশে শুয়ে হাত-পা ছুঁড়ে খেলা করছে চার মাসের কুসুম। ওকে কোলে তুলে নিয়ে তাদের মাটির ঘরের সামনের জলাশয়টার কাছে এসে দাঁড়াল পুষ্প। কসুমকে আঁকড়ে ধরে গালে গাল ঘষল সে। ছোট্ট তুলতুলে শরীরের ওমটুকু নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিল। অগণিত শালুকফুলে ভরে ওঠা জলাশয়ের কিনারে খেলে বেড়াচ্ছে এক সাদা ধবধবে বক ও তার ছোট্ট ছানা। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল কুসুম। নৈসর্গিক প্রকৃতি প্রতিবারই জানান দেয় পৃথকভাবে, পৃথকরূপে&mdash; বসন্ত এসে গেছে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি:&lt;/strong&gt; নীলাঞ্জনা মল্লিক। জন্ম ও বেড়ে ওঠা হুগলী জেলার রিষড়ায়। বেসরকারি চাকরির কাচের ঘরবন্দী জীবনকে ইস্তফা দেওয়ার পরে লেখিকা সত্তার জন্ম। বেশ কিছুদিন একটি শ্রুতিনাটকের গ্রুপে যুক্ত থাকায়, প্রয়োজন এবং ইচ্ছার যৌথ তাগিদেই নাটক, গল্প, কবিতা লেখার সূত্রপাত। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় &lsquo;নবকল্লোল&rsquo; পত্রিকায়। বর্তমানে বসবাস অসম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/short-story-tabu-o-basanta-has-written-by-nilanjana-bhowmik-in-anyo-dunia-adab-quzdfc"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[অতঃপর মহর্ষি বৈশম্পায়ন কহিলেন, "কলিকালে  একবিংশ শতকে আত্মঘাতী মানবজাতি সম্মিলিতভাবে আত্মাহুতি দিবে"]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/life/bengali-satire-article-bankim-bachan-narrates-by-nilkantho-mitra-part-1-adab-qtjh3w</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/life/bengali-satire-article-bankim-bachan-narrates-by-nilkantho-mitra-part-1-adab-qtjh3w</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 10:57:59 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;উহারা সকলেই বিশিষ্ট রূপে প্রতিপন্ন হইবেন। প্রত্যেকের এক বা একাধিক 'বদন বহি' (ফেসবুক ) এক্যাউন্ট থাকিবে। উহাই উহাদের ধ্যান ও জ্ঞান হইবে। দিবস রজনী উহারা তথায় জ্ঞান বিতরণ করিবেন।&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f6y63avwh488s4a79m05a9yz,imgname-whatsapp-image-2021-05-29-at-15-16-08--2--jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;।। বঙ্কিম বচন &amp;nbsp;।।- &amp;nbsp;নীলকন্ঠ মিত্র --&lt;/strong&gt; অতঃপর মহর্ষি বৈশম্পায়ন কহিলেন, &quot;কলিকালে &amp;nbsp;একবিংশ শতকে আত্মঘাতী মানবজাতি সম্মিলিতভাবে আত্মাহুতি দিবে।&quot; মহারাজ জনমেজয় সাগ্রহে জানিতে চাহিলেন,&quot;মহর্ষি তাহা কেন ? ব্যক্ত করিলে শ্রবণ করিয়া কর্ণ যুগল কৃতার্থ হইব। সম্ভব হইলে আশু প্রতিবিধান জ্ঞাপন করা যাইতে পারে। &quot;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;মহর্ষি ঈষৎ সংবৃত্ত হইয়া অভয়মুদ্রায় &quot;তথাস্তু&quot; বলিয়া নিমীলিত চক্ষে কথন শুরু করিলেন,&quot; কলিকালে কলা ও প্রযুক্তি বিদ্যায় পূর্ব ও পশ্চিমের সকল দেশ প্রভূত উন্নতি করিবে। যন্ত্রে মনুষ্যের সকল কর্ম সম্পাদন করিবার ক্ষমতা ধরিবে এবং মনুষ্য নিজেই যন্ত্রে পরিণত হইবে। উহাদের সহিত প্রকৃতির কোন প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকিবে না। অবসর বলিয়া কোন ধারণা থাকিবে না। ইহারা উদয় অস্তের প্রচলিত ধ্যান ধারণা অবশিষ্ট রাখিবেন না। ইহারা দেশ কালের সীমা অতিক্রম করিয়া মধ্য নিশীথে স্বীয় কক্ষে বসিয়া দূরতর আপিসের গুরুতর ফাইল সম্পাদন করিতে পারিবে। অদৃষ্টপূর্ব তথাকথিত বন্ধু-বান্ধবীর সহিত প্রহরের পর প্রহর অস্থির বাক্যালাপে যাপন করিতে পারিবে কিন্তু আপনার ভ্রাতা বা ভগিনী কিংবা প্রতিবেশীকে আপন করিতে পারিবে না। উহারা সকলেই বিশিষ্ট রূপে প্রতিপন্ন হইবেন। প্রত্যেকের এক বা একাধিক 'বদন বহি' (ফেসবুক ) এক্যাউন্ট থাকিবে। উহাই উহাদের ধ্যান ও জ্ঞান হইবে। দিবস রজনী উহারা তথায় জ্ঞান বিতরণ করিবেন। আপনাপন বিচিত্র প্রতিভার উন্মেষ ঘটাইবেন এবং তাহা লাইক নামক অমায়িক ধারণার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দর্শিবার নিমিত্তে লালায়িত থাকিবেন। আপনার বদনবহিতে কিংবা 'অথচিত্রকথা' (ইনস্টাগ্রাম) একাউন্টে চিত্রের পর চিত্র ঢালিয়া চিৎপুর বানাইয়া ফেলিবেন এমনকি উহাতে পছন্দ -অপছন্দের লোকেদের ট্যাগাইয়া মানসিক প্রসন্নতা লাভ করিবেন। 'কিচিরমিচির হাতল' (টুইটার) হইতে মহাবাণী নিক্ষেপ করিবেন যাহা বাণবৎ আক্রমন শানাইবে কিংবা প্রশান্তির মহাসমুদ্রে জনতা জনার্দন নামক মহাসমুদ্রে নিক্ষেপিত হইবেন। এই সোশ্যাল মিডিয়া নামক মহাসমুদ্রে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করিবেন যথায় হ্যাসট্যাগ মহামহা দিকচিহ্ন মুহুর্মুহু ঝঞ্ঝা সৃষ্টি করিবে তথাপি নিটফল শূন্য হইয়া একসময় বিলীন হইয়া যাইবে।&quot;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;জনমেজয় অস্থির হইয়া কহিলেন ,&quot;মহারাজ, ইহার সহিত বিনাশের কি কোন অদূরতম সম্পর্ক রহিয়াছে ? &quot; চক্ষু নিমীলিত রাখিয়া বৈশম্পায়ন পুনরায় ব্যক্ত করিতে লাগিলেন ,&quot;ধৈর্যং রূহ বৎস, প্রশান্ত চিত্তে বাক্যগুলি শ্রবণ করিলে সমুদয় ক্রশ্নের উত্তর মিলিবে।&quot;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;(ক্ৰমশঃ )&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/life/bengali-satire-article-bankim-bachan-narrates-by-nilkantho-mitra-part-1-adab-qtjh3w"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[এক নামবিহীন বইয়ের কবিতার কথা-- সমালোচনায় ধীমান ব্রহ্মচারী]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/book-review-on-poet-subhasish-dutta-s-book-reviewed-by-dhiman-brahmachari-in-anyo-dunia-adab-quzgg6</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/book-review-on-poet-subhasish-dutta-s-book-reviewed-by-dhiman-brahmachari-in-anyo-dunia-adab-quzgg6</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 10:04:10 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;&amp;nbsp;কবিতার কথা যখন আসে তখন এমন অনেক কিছুই আছে যা খুব সহজে মনে আসে না। এর কারণ প্রসঙ্গে বলব, বইটার উৎসর্গ&mdash; &lsquo;যে কবিতার এখনো ভোরের মুখ দ্যাখেনি&rsquo;।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f8ktsdjm0v2zh8mtm0vda5vs,imgname-whatsapp-image-2021-06-12-at-16-18-01-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;বইটির নাম নেই, কবির নাম আছে। কবি শুভাশীষ দত্ত। কবি তাঁর নিজের বই-এর নামকরণ না-করতে পারার এক অভিনব ইঙ্গিত পাঠককে জানান দেয়। কবিতার কথা যখন আসে তখন এমন অনেক কিছুই আছে যা খুব সহজে মনে আসে না। এর কারণ প্রসঙ্গে বলব, বইটার উৎসর্গ&mdash; &lsquo;যে কবিতার এখনো ভোরের মুখ দ্যাখেনি&rsquo;।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;কি অদ্ভুত একটা উৎসর্গ পত্র! সাধারণত বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের উৎসর্গ পত্র যে একদমই হয় না, তা ঠিক নয়। তবে যদি বিরলের কোনো লিস্ট করি, তাতে এই উৎসর্গ অবলীলাক্রমে থেকে যেতেই পারে। অন্তত আমার এমনটাই মনে হয়। &ldquo;অনুষ্টুপ&rdquo; থেকে প্রকাশিত সমীর সেনগুপ্ত-এর একটা বই নাম, &lsquo;রবীন্দ্রনাথের গান দীপের মতো গানের স্রোতে&rsquo;। সেই বইয়ের একটা প্রবন্ধের শুরুতেই তিনি বলছেন : &amp;nbsp;&lsquo;যাকে প্রবন্ধ বলি এই লেখাটা ঠিক সেই গোত্রের নয়। প্রবন্ধে আমার উদ্দিষ্ট পাঠক তাঁরাই, যাঁদের স্বমতে আনবার জন্যে আমাকে না না যুক্তি খুঁজে খুঁজে সাজাতে হবে। আর এখানে আমি খুঁজছি সেই পাঠককে যিনি মূলত আমার সঙ্গে একমত, আমার মতো মতো করেই রবীন্দ্রনাথের গান শোনেন। বহুকাল ধরেই গান শুনতে শুনতে মাথার ভিতরে নানা ভাবনা সঞ্চিত হয়ে উঠেছে&mdash; কিন্তু পুরো অবয়ব পায়নি, অর্ধগঠিত হয়ে আছে মাত্র।...&rsquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;【রবীন্দ্রনাথের গান দীপের মতো গানের স্রোতে / অনুষ্টুপ】 &amp;nbsp;আমার বলার উদ্দেশ্যও অনেকটা এক। আসলে কবিতার মতো কবিতাকে দেখা বা পড়া এটা যে সবসময় সার্থক হবে, তেমন কোনো কথা নেই। কবিতা অনেকটা সময়ের দাবি রাখে। কখনো কখনো সে-দাবি অপেক্ষা করে থাকে দিন থেকে মাস পেরিয়ে বছরের অপেক্ষায়।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;ছোট্ট একটা বই। এখানে প্রায় উনচল্লিশটা কবিতা নিয়ে সংকলন হয়েছে বইটা। প্রথম কবিতা যেভাবে শুরু হয়েছে&mdash; &lsquo;একবিন্দু শহরকেও শুকনো রাখেনি মেঘ। আমরা সেই মেঘের মানুষ, প্রতি/ মুহূর্তের বিশ্রী ব্যস্ততায় ভিজিয়ে তুলি ক্লান্তির কাল। পেতে নেই ভাত, মুহূর্তে/ ভ&rsquo;রে ওঠে ফুটপাতের সস্তা ফাস্টফুডে। বিকেল হলে পকেট হাৎরাই; / দু&rsquo;তিনটে ঘাস উঠে আসার মতো উঠে আসে চার-পাঁচটা খুচরো অবশেষ;... /&lt;/p&gt; &lt;p&gt;বইটার প্রথম কবিতা &lsquo;শহরজীবন&rsquo;। প্রায় গদ্যের রীতিতে কবিতাটা প্রকাশ পেয়েছে। অনেক সময় কবিতা গদ্যের রীতি মেনে চলে, নিজের খেয়ালে। কবি এখানে এই কাজটাই করেছেন। কেন-না, এই কবিতার মধ্যে দিয়েই কবি নিজের যাওয়ার রাস্তা প্রস্তুত করেছেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;যে-কোনও কবি বা শিল্পীর কাছে শহুরে জীবনের কদর অনেকটা ব্যক্তিগত স্তর। কেন-না, এই শহরের সামাজিক &amp;nbsp;ও অর্থনৈতিক সামঞ্জস্য একটা বিরাট ব্যাপার। আর কবিতার মধ্যে দিয়েই কিন্তু তিনি বলছেন, কোনও কালে তাঁর নিজের সঙ্গে লেগে থাকা। তারজন্যেই তিনি এই শহরের কথা অকপটে বলতে পারেন। নির্দ্বিধায় বলেন, এই শহরকে শুকনো রাখেনি মেঘ। তবে এখানে &lsquo;রাখেনি&rsquo; &lsquo;মেঘ&rsquo; শব্দ দু&rsquo;টি কিন্তু অনেকটা আগাম সতর্কতাবার্তা; আর, এই কথার পাশাপাশি তিনি, মেঘের একটা পূর্ণাঙ্গ কাজের প্রক্রিয়াকরণ তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ এমন বৃষ্টি হয়েছে যেন সব কিছু ধুয়ে সাপ হয়ে গেছে। তাই বৃষ্টির আশু সম্ভাবনার কথা তিনি বলেছেন আগেই। এর যদিও এখানে যেন নিজেই একটা স্টেটমেন্ট দিচ্ছেন। আর তার ফলে আমাদের সামগ্রিক একটা শহরের জলছবির কথা মনেপড়ে। &lsquo;কবিতার লাইনে আরো একটা শব্দ, &lsquo;শুকনো&rsquo; যা থেকেই শহরের ভিজে যাওয়ার ছবি খুঁজে পান। পেটে খাবার না-থাকা মানুষও শেষে বেঁচে যেতে পারে। এই চেনা দৃশ্য শুধুমাত্র আমরা যাঁরা শহর ঘুরতে ঘুরতে প্রতিদিনের কাজ সেরে ফেলি। ঠিক তেমনই কলকাতা নামক শহরের বুকে গজিয়ে ওঠে কোনো স্বপ্ন, অথবা বাস্তবতা; নয়তো যেভাবে &lsquo;সুররিয়ালিসম&rsquo;কে অদ্ভুতভাবে আমরা প্রতিস্থাপন করে থাকি। একটা প্যারালাল জগৎ যেন তাঁর পেছনে পেছনে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কবি এইভাবেই কোথাও যেন মহাপৃথিবী হয়ে গেছে আমাদের জীবনানন্দের মতোই।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এই বইয়ের আরো দু&rsquo;টো কবিতা এক &lsquo;অনন্ত বাসুকীদেব&rsquo; ও &lsquo;একটি সিসিক্যামেরার জবানী&rsquo;। দু&rsquo;টো কবিতায় একটা বাস্তব থেকে পরাবাস্তব বা Surrealism-এর তত্ত্বকে দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের মতো কবিতা প্রেমী পাঠকদের কাছে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;প্রথম কবিতার একটা লাইনে লিখছেন : &lsquo;অন্ধ স্যাঁতসেঁতে গর্ভগৃহে তিনি এতকাল একটা টিমটিমে প্রদীপের সামনে মানুষজনের অত্যাচার সহ্য করেছিলেন&mdash;&rsquo; এই কবিতার মধ্যে দিয়েই কিন্তু একটা ঘটনার প্রবাহ লক্ষ্য করা যায়। এই বাসুকীদেবই যেন এখানে একটা &lsquo;সিম্বল&rsquo; বা কোথাও Symbol-কে উপস্থাপন করেছেন; এবং এই কথার মধ্যে দিয়েই উঠে আসে তাঁর ধর্মের প্রতিশ্রুতি। এই ধর্মকে তিনি কখনো সময় অবমাননা করতে পারেন না। আমরা যাদের গ্রামের ভাষায় বলি, &lsquo;কিরা&rsquo; অর্থাৎ দিব্যি দিয়েছে। এই অস্থির সময়েই একই কবিতার কথা আমাদের বার বার স্মরণ করে দেয়। এই দুর্নিবার গতি মাঝে মাঝে আমাদের করে নেয় গোটা একটা আস্ত ভারতবর্ষ।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আবার, দ্বিতীয় কবিতায় লেখেন : ...&lsquo;উপরওয়ালার আমাকে বসিয়েছেন শহরের পাপমোচন করার দায়ে; কিন্তু আমি কোথাও কোনো পাপ দেখতে পাচ্ছি না!...&rsquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এখানে দেখতে পাই কবি নিজেই এক ব্রহ্ম প্রেরিত দূত। তিনি নিজেই কিন্তু নিজের কল্পনাকে চালনা করেন। আমাদের বর্তমান শহরের ইতিকথা দেখেন তিনি। অর্ধশতাধিক ধরে বয়ে আশা বিশ্বাস তা সে জোট ছোটোই হোক-না কেন, তাতে আছে মলিনতা। তাই একান্ত বিশ্বাসী ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে তিনি নিজেকেই হঠাৎ সু-নাগরিকদের বিপরীতে বসিয়েছেন। তার উদাহরণ, এই কবিতার একটা লাইনে &lsquo;হে সুসভ্য নাগরিক&rsquo; বলে সম্বোধন করেছেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;কবিতার মধ্যে দিয়েই কবি তাঁর পারলৌকিক ও পরাবস্তবতার একটা যোগসূত্র করার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিবাদের দিকেই থেকেছে যেন তাঁর অভিমুখ। একে একে এভাবেই কবিতার দীপ তৈরি হয় সলতে পাকাতে পাকাতে। সেখানে থাকে বহ্নিশিখা। অবিরাম যেন তার দ্যুতির দ্যোতনা তৈরি করে মস্তিষ্ক। যেখান থেকে একে অপরের স্নায়ুর বন্ধন যোগ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে স্থির দৃশ্যের সমান্তরালে। &amp;nbsp;আমরা শুধুমাত্র সেখানে আসতে করে ঢুকে পরি। তারপর কুল পাওয়ার চেষ্টা করি। সেখানে থাকে বিষাদ ঢেউয়ের স্রোত। এই স্রোতের খেলা চলে অবিরাম। আমাদের পারে থেকে ছোট ছোট ডিঙ্গা। রাতে অন্ধকারে আমরা ডিঙা ভাসিয়ে চলে যেতে থাকি, যেটা আমাদের কবি তাঁর &lsquo;গালিব&rsquo; কবিতায় তখন লেখেন :&amp;nbsp; &lsquo;জানালা কাচে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির দাগ লেগে আছে; মনেহয় শায়েরী লিখছেন মির্জা গালিব। কিন্তু যেহেতু আমি উর্দু পড়তে পারি না তাই সযত্নে মুছে দিই না বুঝে।&rsquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp; আমরা একটা স্থির চিত্র দেখি। সেখানে একটা হালকা আলো ভেসে আসে। আমাদের চোখে সবটুকু দেখে বিশ্বাস করে নিতে চাই, এই ভেবে যে এই সেই বই যেখানে একটি নাম দিলেও তো দেওয়া যেতেই পারত।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; &lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি : &lt;/strong&gt;ধীমান ব্রহ্মচারী&rsquo;র জন্ম ১৯৮৭ সালে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জে বেড়ে ওঠা। তারপর কলকাতায় আসা কলেজ জীবনে। বাংলায় স্নাতকোত্তর। লেখালিখি শুরু ২০০৫ সাল থেকে। প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা &ldquo;কবিতা বুলেটিন&rdquo; ২০০৯ সাল থেকে। পরে ব্যক্তিগত ইচ্ছায় &ldquo;ম্যানিউসক্রিপ্ট&rdquo; নামে লিটিল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা। পরবর্তীতে &ldquo;এবং অধ্যায়&rdquo; নামে একটি পত্রিকা ও প্রকাশনার চালাচ্ছেন। মূলত কবিতা লেখার পাশাপাশি প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প সবই লিখেছেন। তবে সবচেয়ে ভালোবাসেন স্মৃতিকথা লিখতে। বর্তমানে চুঁচুড়ায় থাকেন। দীর্ঘদিন এই বাংলার এক প্রথম শ্রেণির পত্রিকা গোষ্ঠীতে চাকরি করেছেন। বর্তমানে চাকরি জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য সরে এসে প্রকাশনা ও লেখালিখি নিয়ে ব্যস্ত থাকছেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/book-review-on-poet-subhasish-dutta-s-book-reviewed-by-dhiman-brahmachari-in-anyo-dunia-adab-quzgg6"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[সাহিত্য প্রবন্ধ-- এডগার অ্যালান পো : এক অনন্য কবিতা জগৎ]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/life/comparative-study-of-edgar-allen-poe-s-poetry-in-bengali-narrates-by-bijoy-das-adab-qtji72</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/life/comparative-study-of-edgar-allen-poe-s-poetry-in-bengali-narrates-by-bijoy-das-adab-qtji72</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 10:59:51 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;এডগার পো&rsquo;র নিজের জীবনের উপলব্ধি, তাঁর পরিবার এবং বেড়ে ওঠা জীবন থেকে পাওয়া। তিনি ছিলেন আমেরিকান অভিনেতা ডেভিড পো এবং ইংলিশ অভিনেত্রী এলিজাবেথ আর্নল্ড হপকিন্স পো-র দ্বিতীয় সন্তান। ১৮০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি এডগার পো&rsquo;র জন্ম এবং এর এক বছর পরেই তাঁর বাবা তাদের ছেড়ে চলে যান।&amp;nbsp; &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f6bk5xtdwf2qfqxx414b7mzy,imgname-edgar-allen-poe-1-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;বিজয় দাস---&lt;/strong&gt; মার্কিন সাহিত্যে রোমান্টিক আন্দোলনের নেতা, গোয়েন্দা গল্পের স্রষ্টা, কবি, সাহিত্য সমালোচক এডগার অ্যালান পো ছিলেন উনিশ শতকে বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম গথিক শৈলীর ছোটোগল্প লেখক। প্রতিভার দিক থেকে সমসাময়িক সাহিত্যিকদের মধ্যে অনেক এগিয়ে থাকলেও বৈচিত্র্যময় অগোছালো জীবন তাঁকে প্রতিষ্ঠিত হতে বারেবারে বাঁধা দিয়েছে। মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন &lsquo;ট্যামারলেন এবং অন্যান্য কবিতা&rsquo;। যেখানে তিনি লিখছেন&mdash; &lsquo;Kind solace in a dying hour! Such, father, is not (now) my theme&mdash; I will nor madly deem that power Of Earth may Shrive me of the sin Unearthly pride hath revell&rsquo;d in&mdash; I have no time to dote or dream: You call it hope&mdash; that fire of fire! It is but agony of desire: If I can hope&mdash; Oh God! I can&mdash; Its fount is holier&mdash; more divine&mdash; I would not call thee fool, old man, But such is not a gift of thine.&rsquo;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; এখানে এডগার পো সেই আধ্যাতবাদের কথা বলছেন যা মৃত্যুর সময়েও সান্ত্বনা দিয়ে যায়। যদি আমার নিজের মতো করে বলার ধৃষ্টতা করি সে-ক্ষেত্রে বলব: &ldquo;মরে যাওয়া মুহূর্তে স্নেহ! / যেমন, পিতা, আমার (এখন) বিষয় নয়&mdash; / না, আমি উন্মাদের মতো সেই শক্তিতে বিশ্বাস করব না / পৃথিবী আমাকে পাপ থেকে বঞ্চিত করতে পারে / অমূল্য গর্ব&mdash; / আমার ভালোবাসায় অন্ধ হওয়ার বা স্বপ্ন দেখার সময় নেই: / তুমি এটাকে আশার কথা বলছ&mdash; সেই আগুনের আগুন! / এটি কেবল আকাঙ্ক্ষার যন্ত্রণা: / আমি যদি আশা করতে পারি&mdash; হে ঈশ্বর! আমি পারি&mdash; / এর উৎস অনেক পবিত্র এবং আরও বেশি ঐশ্বরিক / আমি তোমাকে বোকা বলব না, বুড়ো মানুষ, / তবে এগুলো আপনার উপহার নয়।&rdquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; &amp;nbsp;প্রথমে যে পরম-পিতাকে তিনি অস্বীকার করলেন, শেষে সেই পিতার আশ্রয়েই নিজেকে সমর্পণ করতে দিলেন এবং মৃত্যু চেতনা&mdash; যা তাঁর কবিতা ও অন্যান্য লেখার মধ্যে ভীষণভাবে পরিলক্ষিত। &lsquo;Father, I firmly do believe&mdash; / I know&mdash; for Death, who comes for me&rsquo;। &amp;nbsp; &amp;nbsp;এই দর্শন এডগার পো&rsquo;র নিজের জীবনের উপলব্ধি, তাঁর পরিবার এবং বেড়ে ওঠা জীবন থেকে পাওয়া। তিনি ছিলেন আমেরিকান অভিনেতা ডেভিড পো এবং ইংলিশ অভিনেত্রী এলিজাবেথ আর্নল্ড হপকিন্স পো-র দ্বিতীয় সন্তান। ১৮০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি এডগার পো&rsquo;র জন্ম এবং এর এক বছর পরেই তাঁর বাবা তাদের ছেড়ে চলে যান। আরও কিছু দিন পর অর্থাৎ ১৮১১ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর মা মারা গেলে এডগার পো, তাঁর দাদা ও একবছর বয়সের ছোটো বোন অনাথে পরিণত হন। দাদা হেনরিকে তাদের ঠাকুরদা ও ঠাকুমা নিয়ে যান, বোন রোজালিকে উইলিয়াম ও জেন স্কট নামক দম্পতি দত্তক নেন আর এডগার পো-কে লালনপালন করেন জন অ্যালান ও তাঁর স্ত্রী ফ্রানসেস অ্যালান। এই দম্পতি এডগারকে নিয়ে ভার্জিনিয়া চলে যান এবং সেখানে তাঁকে ব্যাপটাইজ করা হলে নতুন নাম হয় &lsquo;এডগার অ্যালান পো&rsquo;। পিতার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি, মায়ের মৃত্যু, শেষে ভাই-বোনদের থেকে বিচ্ছেদ শিশু এডগারের মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল; এবং তিনি তাঁর পিতাকে এইসবের একমাত্র কারণ হিসাবে মনে করেছেন তাই কখনও তাকে ক্ষমা করতে পারেননি।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; &amp;nbsp;এডগার অ্যালান পো গল্প-লেখক হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর আত্মার পরিচয় পাওয়া যায় কবিতাগুলো থেকে। তাঁর একাকীত্ব, মৃত্যু কামনা, প্রথম যৌবন ও প্রেম এই সবকিছুই তিনি উজার করে দিয়েছেন কবিতাগুলোর মাধ্যমে। কিন্তু প্রায় সব কবিতাতেই মৃত্যুর স্পর্শ থেকেছে, বিশেষভাবে শুরুর দিকের লেখাগুলোতে। &lsquo;দ্য সিটি ইন দ্য সি&rsquo; নামক কবিতায় তিনি লিখলেন, &lsquo;Lo! Death has reared himself a throne / In a strange city lying alone&rsquo;, অথবা &lsquo;স্পিরিটস অব দ্য ডেড&rsquo; কবিতাটিতে লিখেছেন, &lsquo;The Spirits of the dead who stood / In life before thee are again&rsquo;। আবার তিনি লিখেছেন, &lsquo;Helen, thy beauty is to me / Like those Nicean barks of yore&rsquo;। কিংবা &lsquo;Take this kiss upon the brow!&rsquo;, এখানে আমরা খুঁজে পাই রোম্যান্টিক এডগার অ্যালান পো&rsquo;কে। কোথায় মৃত্যু চেতনা, কোথায় হতাশা! এক সহজ ভালোবাসার অভিব্যাক্তি। &lsquo;প্রেমিকার ললাটে চুম্বন&rsquo; এইরকম উপলব্ধি তো কবির থেকেই পাওয়া সম্ভব। &amp;nbsp; &amp;nbsp;মাঝের সময়ে কবিতা লেখা প্রায় বন্ধ করে ছোটোগল্প এবং সমালোচনামূলক প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন, কারণ এই সময়ে বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিযোগিতায় জেতা আর্থিক পুরষ্কারই ছিল তাঁর একমাত্র উপার্জন; এবং সারা জীবনে বহু সাহিত্য পত্রিকায় সম্পাদনা ও সহ-সম্পাদনা করেছেন। প্রায় দশ বছরের ব্যবধান কাটিয়ে ১৮৪৫ সালে নিউ ইয়র্ক ইভিনিং মিরর-এ প্রকাশিত হয় এডগার পো-র কবিতা &lsquo;দ্যা র&zwj;্যাভেন&rsquo;। এখানে কবি আবার নতুনভাবে ফিরে এলেন তাঁর কাব্যশৈলীতে। অতিপ্রাকৃত পরিবেশ, নাটকীয়তা এবং ছন্দ এই কবিতাটিকে স্বতন্ত্র করে তোলে: &amp;nbsp; &lsquo;Presently my soul grew stronger; hesitating then no longer, &ldquo;Sir,&rdquo; said I, &ldquo;or Madam, truly your forgiveness I implore; But the fact is I was napping, and so gently you came rapping, And so faintly you came tapping, tapping at my chamber door, That I scarce was sure I heard You&rsquo;&rsquo;&mdash; here I opened wide the door;&mdash; Darkness there and nothing more.&rsquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;এডগার পো যেন প্রতিনিয়ত কিছু খুঁজে চলেছেন, কোনও কিছুর সন্ধানে ছুটে বেড়িয়েছেন সারা জীবন ধরে। এই খুঁজে বেড়ানোর অন্বেষণীয় দৃষ্টি এবং উদ্যামতা তাঁর লেখার মধ্যে ফুটে ওঠে। জীবন তাকে বহুবার বিভিন্ন দিক থেকে হতাশ করলেও সাহিত্য সৃষ্টিতে তিনি কখনই হতাশ হননি। তাঁর কবিতা বারেবারে উজ্জীবিত করেছে বিভিন্ন আঙ্গিকের রচনা সৃজনে। কল্পনা, জাদুবাস্তবতা অথবা মিথ মিলেমিশে একাকার হয়েছে তাঁর নিজস্ব জীবন অভিজ্ঞতার সাথে। স্ত্রীর মৃত্যুর আঘাতে অসহায় ও মদ্যপ পো খুঁজে ফেরে জড়িয়ে ধরার অবলম্বন। এরপর বহু নারী আসে তাঁর জীবনে; এবং তাদের নিয়ে লেখা কবিতা এবং চিঠি বিশ্ব সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। যেমন, সেই সময়ের মহিলা কবি সারাহ্&zwnj; হেলেন-কে নিয়ে লেখা কবিতা &lsquo;টু হেলেন&rsquo;, আবার অ্যানি রিচমন্ড-এর উদ্দেশ্যে তাঁর কবিতা &lsquo;ফর অ্যানি&rsquo;। এই কবিতাগুলোতে যেন এক আকুতি রয়েছে। &lsquo;ফর অ্যানি&rsquo; কবিতাটির শুরুতেই তিনি লিখলেন&mdash; &lsquo;Thank Heaven! The crisis&mdash; The danger is past, And the lingering illness Is over at last&mdash; And the fever called &ldquo;Living&rdquo; Is conquered at last.&rsquo; &amp;nbsp; &amp;nbsp;এডগার অ্যালান পো কবি হিসেবে বিশ্ব সাহিত্যে খুব পরিচিত নাম না-হলেও তাঁর কবিতা বর্তমান বিশ্ব সাহিত্যের নিরিখে ভীষণভাবে আধুনিক। এত শতাব্দী পরেও তাঁর কবিতা একইরকম নতুন এবং কাব্য মাধুর্যের রস পাঠক মননে নিসর্গের এক অদ্ধুত ভালোলাগায় পরিপূর্ণ করে তোলে। বাস্তবতার নিষ্ঠুর সত্যির মাঝে অবাস্তব রহস্য ও রোমাঞ্চ সৃষ্টি এডগার অ্যালান পো&rsquo;কে অমর করেছে এই লিখনবিশ্বে। তিনি হয়তো তাঁর কল্পনার &lsquo;এলডোরাডো&rsquo; কখনও পাননি, কিন্তু আমরা অর্থাৎ তাঁর কবিতার পাঠকেরা হয়তো এই কবিতার মধ্যেই সেই মিথিক্যাল &lsquo;এলডোরাডো&rsquo;-র অস্তিত্ব খুঁজে পাই:&amp;nbsp; &lsquo;&lsquo;Over the Mountains Of the Moon, Ride, boldly ride,&rsquo; The shade replied,&mdash; &lsquo;If you seek for Eldorado!&rsquo;&rsquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি-&lt;/strong&gt; বিজয় দাস সাহিত্য কর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাহিত্যের বিভিন্ন আঙিনায় তিনি অবাধে বিচরণ করতেই ভালোবাসেন। কলিখাতা এবং শিল্প সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনারও কাজ করেন তিনি। তাঁর লেখা একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম পান্তাভাতের জলসাঘর। এছাড়াও একটি পুস্তক সম্পাদনাও করেছেন বিজয়। তাঁর সেই সম্পাদিত বইয়ের নাম চিত্রকলায় সমাজতত্ত্ব।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা-র মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। একটা সময় মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/life/comparative-study-of-edgar-allen-poe-s-poetry-in-bengali-narrates-by-bijoy-das-adab-qtji72"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA['রেবেকা আবার বলল, চল্‌ না বিট্টু, যাবি, লেকের ধারে', ছোট গল্প লায়লা-মজনু, গল্পকার কাজল সেন]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/anyo-dunia-magazine-bengali-short-story-laila-majnu-written-by-kajal-sen-adab-qvczuw</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/anyo-dunia-magazine-bengali-short-story-laila-majnu-written-by-kajal-sen-adab-qvczuw</guid>
            <pubDate>Sun, 27 Jun 2021 17:37:09 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;&amp;nbsp;মনাদাকে নিয়ে আমাদের সবার সত্যি সত্যিই বড়ো আশা এবং আমাশা। মনাদা যেদিন মাল খেয়ে তেড়েফুঁড়ে খেলতে নামে, সেদিন সানসেট ক্লাবের সূর্যোদয় হয় বিকেলে। আর যেদিন বিনা মালে ম্যাদামারা হয়ে খেলতে নামে, সেদিন যথারীতি সানসেট ক্লাবের নামকরণের সার্থকতা নিয়ে নিবন্ধ লেখা যায় ষোলপাতা।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f96n5c4ec8abnwa07jade645,imgname-whatsapp-image-2021-06-26-at-15-27-57-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;রেবেকা বলল, চল্&zwnj; না! অনেকদিন লেকের ধারে যাওয়া হয়নি, জলের পাশে বসা হয়নি। যাবি বিট্টু? চল্&zwnj; না! অনেকদিন কোনো একটা জায়গায় যাওয়া হয়নি বা বসা হয়নি, সেজন্য সেখানেই যেতে হবে, এটা কিন্তু খুব একটা জোরালো যুক্তি নয়। প্রেম করার জন্য তো আরও অনেক যাবার জায়গা আছে এবং আমরা যাইও। তা সে সোনারী বাসস্টপেজ, &amp;nbsp;সিদগোড়ায় কালিদার চায়ের গুমটি, সাকচি বাজারে মাছের স্টল, কদমায় ভোম্বলদার মদের ঠেক অথবা এই যে এখন আমরা দু&rsquo;জনে এক দঙ্গল উচ্চিংড়ের সঙ্গে বিস্টুপুরে রিগ্যল গ্রাউন্ডে সানসেট ক্লাবের লেফট্&zwnj; উইঙ্গার মনাদার জন্য চিৎকার করে ফুটবল মাঠ কাঁপিয়ে দিচ্ছি, এখনও তো আমরা দু&rsquo;জনে দু&rsquo;জনের হাত ধরেই আছি, একবারের জন্যও মুঠো আলগা করিনি! পটাই বলল, মনাদাটা আজ ডোবাবে মাইরি! একটাও ড্রিবলিং পারফেক্ট হচ্ছে না। পাশিংটাও কেমন এলোমেলো। কোথায় মালফাল খেয়ে মাঠে নামবে, তা নয়, মিনারেল ওয়াটার খেয়ে... এই দেখলি তো বিট্টু, শটটা কেমন আলতো করে তুলে দিল গোলকিপারের হাতে?&lt;/p&gt; &lt;p&gt;পটাই কিছু ভুল বলেনি। এমন দুর্বল শট মনাদাকে একেবারেই মানায় না। এর আগে তো কত খেলায় বিপক্ষের গোলকিপারকে এরকম অসহায় অবস্থায় পেয়ে বুলেটের মতো শট মেরে গোলপোস্টের পর্দাফাই করে দিয়েছে। আর আজ কি-না এত সহজ সুযোগ পেয়েও নিতান্ত বেরসিকের মতো বলটা তুলে দিল গোলকিপারের হাতে? না না, এ দৃশ্য দেখা যায় না, সহ্য করা যায় না! পটাই ঠিকই বলেছে, মনাদা আজ আমাদের ক্লাব সানসেটের সানসেট করিয়েই ছাড়বে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;মনাদাকে নিয়ে আমাদের সবার সত্যি সত্যিই বড়ো আশা এবং আমাশা। মনাদা যেদিন মাল খেয়ে তেড়েফুঁড়ে খেলতে নামে, সেদিন সানসেট ক্লাবের সূর্যোদয় হয় বিকেলে। আর যেদিন বিনা মালে ম্যাদামারা হয়ে খেলতে নামে, সেদিন যথারীতি সানসেট ক্লাবের নামকরণের সার্থকতা নিয়ে নিবন্ধ লেখা যায় ষোলপাতা।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আসলে মনাদার এই যে মাঠে নেমে ক্যালানো বা না-ক্যালানো, এর পেছনে কিন্তু আছে অন্য এক রহস্য। তবে সেই রহস্যের খোঁজ অবশ্য এই উচ্চিংড়েগুলো যেমন রাখে, তেমনি আমি ও রেবেকাও রাখি। কিন্তু মনাদা সে-কথা মানতেই চায় না। রেবেকা মনাদার সহোদরা, রেবেকা কত বোঝায়, তুই মাঠে নেমে কারও কথা ভাববি না, শান্তাদির কথা তো একেবারেই নয়। শুধু বল আর গোলের কথা ভাববি। তোর দু&rsquo;চোখ যেন বল আর বিপক্ষের গোলপোস্ট ছাড়া আর কিছুই না-দেখতে পায়! ঠিক একেবারে অর্জুনের মতো। কিন্তু ষাঁড় আর কবেই-বা শুনেছে ধর্মের কথা! বরং মনাদা তেড়েমেড়ে রেবেকাকে বলে, তুই কী বুঝিস্&zwnj; রে ফুটবলের! কখনও খেলেছিস ফুটবল? ওসব তোর আকাট মাথায় কিছু ঢুকবে না। ফুটবল খেলায় আসল ব্যাপার হচ্ছে খেলার ফর্ম ও টেকনিক। কোনদিন ফর্ম থাকবে আর কোনদিন থাকবে না, সেটা কেউই বলতে পারে না। আর যেদিন ফর্ম থাকবে না, সেদিন টেকনিকের লবডঙ্কা। এখন বুঝলি তো, এটাই হচ্ছে যে-কোনো প্লেয়ারের আসল ব্যাপার। তুই তো একটা ফচকে মেয়ে, তুই এসব কী বুঝিস রে! আর শোন, তোর ওই যে বয়ফ্রেন্ড, যার সঙ্গে খুব পিরিত করছিস আজকাল, ওকেও বলে দিবি, আগে ফুটবলটা পা দিয়ে যেন মারতে শেখে, তারপর লেকচার মারবে! আমি সব বুঝি। ওই বিট্টুটাই তোকে এইসব কথা আমাকে বলার জন্য শেখায়। একদম চ্যাংড়ামি করবি না আমার সঙ্গে, বুঝলি?&lt;/p&gt; &lt;p&gt;না, মনাদাকে আমি এজন্য দোষারোপ করি না। আর আমার ওপর মনাদার রাগ করাটাও অকারণ নয়। সব শালাদের একই কপাল। হতে পারে শান্তা আমার নিজের দিদি, তা বলে দিদি শুধু শুধু সানসেট ক্লাবের সানসেট নিয়েই খুশি থাকবে, তা তো মেনে নেওয়া যায় না! দিদির কারণে যদি মনাদা মাঠে ধ্যাড়ায়, তাহলে তো আমি &amp;nbsp;চুপ করে থাকতে পারি না! কথাটা আমি একদিন রেবেকাকেও বলেছিলাম। দিদি কিন্তু এটা ঠিক করছে না। একেবারেই ঠিক করছে না। দ্যাখ্&zwnj;, সানসেট ক্লাব কিন্তু আমাদের পাড়ার ক্লাব। আমাদের বাপ-ঠাকুরদা, ভবিষ্যতের শ্বশুর, শ্বশুরের বাবা&mdash; সবাই ক্লাবের সাপোর্টার। আর আমরাও ক্লাবের মেম্বার। সেই ক্লাবের এই দুর্দশা! মনাদার আর কী দোষ বল্&zwnj;? সব দোষ তো আমার দিদি শান্তার। একটা, কী যেন বলে, একটা প্রতিশ্রুতিপূর্ণ বাচ্চা ফুটবলারের মুণ্ডু এভাবে কেউ চিবিয়ে খায়? রেবেকা আমার কথা শুনে সেদিন সত্যিই খুব বিষণ্ণ হয়েছিল। আনমনে আমার ডান বগল ওর বাঁ হাতের লম্বা লম্বা নখ দিয়ে আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলেছিল, না রে, ওভাবে বলিস্&zwnj; না রে! আমার খুব কষ্ট হয়। তুই তো জানিস আমার ছোড়দা শান্তাদিকে পাগলের মতো ভালোবাসে। আর শান্তাদিও ছোড়দাকে ভালোবাসে উন্মাদের মতো। জানিস বিট্টু, দু&rsquo;জনে দু&rsquo;জনের জন্য জান দিতে পারে!&amp;nbsp; রেবেকা কিছু ভুল কথা বলেনি। দিদি আমাকে মাঝে মাঝেই বলে, ওর আসল নাম না-কি লায়লা। মা-বাবা ভুল করে শান্তা নাম রেখেছে। রেবেকার দাদা অবশ্য নিজের নাম মজনু ভাবে কি-না জানি না, তবে রেবেকার মা-বাবা তেমন কোনো ভুল করেননি। মজনুর বদলে নাম রেখেছেন মনোজ। ডাকনাম মনা।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;রেবেকাকে আর কষ্ট দিতে আমারও মন চাইছিল না। যতদূর বুঝতে পারি, ও আমাকেও অনেকটা ওই উন্মাদের মতোই ভালোবাসে। তবে আমি যেহেতু এখনও ঠিক পাগলের মতো হতে পারিনি, তাই রেবেকাকে বলেছিলাম, তোর ছোড়দাকে বলিস যদি মাঠের বাইরে আমার দিদির জন্য জান দিতে চায়, দিতে পারে। তুই বারণ করিস না। শুধু বোঝাতে চেষ্টা করিস, মাঠে নেমে নিজের জান দেবার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং যেন গোল দেয়! রেবেকা আবার বলল, চল্&zwnj; না বিট্টু, যাবি, লেকের ধারে? অনেকদিন লেকের ধারে যাওয়া হয়নি, জলের পাশে বসা হয়নি! ফুটবল মাঠ থেকে পালিয়ে লেকের ধারে! আমার মোটা মাথায় রেবেকার এই আকুলতা সত্যিই কেমন যেন বেখাপ্পা লাগল। হ্যাঁ এ-কথা ঠিক যে, অনেকদিন হল লেকের ধারে যাওয়া হয়নি, জলের পাশে বসাও হয়নি; এবং এ-কথাও ঠিক যে, আজ মনাদা মাঠে নেমে ঘটিয়া ফুটবল খেলছে; আর একটু পরেই খেলা শেষের বাঁশি বাজবে। বিপক্ষ দল ইতিমধ্যে এক গোলে এগিয়ে আছে। অন্তত একটা গোল পরিশোধ না-করলে আমাদের সানসেট ক্লাবের সানসেট অবধারিত।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আর ঠিক তখনই খেলা শেষের বাঁশি বাজল। আবার অস্ত গেল আমাদের সানসেট ক্লাব। উচ্চিংড়ে পটাই রেগে বোম্&zwnj; হয়ে খিস্তি ঝাড়ল মনাদাকে। শালা বোকাচোদা! তারপর আমাকে বলল, তোর দিদিকে বলে দিবি, এরপর থেকে সানসেটের খেলা থাকলে যেন ঘরে ঘোমটা মাথায় বসে না-থেকে মাঠে হাজির থাকে, বুঝলি? আমরা যেন কিছু বুঝি না, তাই না! সব বুঝি। শান্তাদিকে দেখিয়ে দেখিয়েই মনাদার যত পাঁয়তাড়া। আজ শান্তাদি মাঠে আসেনি, আর দেখলি তো, মনাদা কেমন ম্যাদামারা হয়ে গেল! আরেক উচ্চিংড়ে মধুশ্রী যেন সান্ত্বনা দিতে চাইল আমাকে, আসলে বুঝতেই তো পারছিস বিট্টু, লায়লা না-থাকলে মজনুর খেলা কখনও জমে না রে!&lt;/p&gt; &lt;p&gt;রেবেকা আমাকে শেষপর্যন্ত হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নিয়েই গেল লেকের ধারে। জলের পাশে। অনেকক্ষণ গুম মেরে থাকার পর আমার কানের লতিতে আল্পনা আঁকতে আঁকতে বলল, তুই ক্লাবের ফুটবল দলে চান্স পাসনি, সেটা একপক্ষে খুব ভালোই হয়েছে। ভগবান যা করেন তা মঙ্গলের জন্যই করেন। তুই চান্স পেলে আমিও হয়তো শান্তাদির মতো ক্লাবের সব ম্যাচে হাজির থাকতে পারতাম না! আর আমি না-থাকলে সেদিন যে তুই ধ্যাড়াবি, সে তো জানা কথাই। তার থেকে তুই যে ক্যারাম খেলতে পারিস, খুব ভালোই খেলিস, তুই শুধু ক্যারামই খেলিস বিট্টু! তোকে আর ফুটবল খেলতে হবে না!&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি : &lt;/strong&gt;গল্পকার কাজল সেন-এর পোশাকি নাম ড. অনুপকুমার সেন। জন্ম ২৪ জানুয়ারি, ১৯৫২। বসবাস জামশেদপুরে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করার তিনি &lsquo;বাংলা সাহিত্য ও জলধর সেন&rsquo; এই পর্যায়ে গবেষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবন শুরু হয়েছিল উড়িষ্যায়। পরবর্তীকালে জামশেদপুরের একটি কলেজে বাংলা সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং অবসর গ্রহণ করেছেন। সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন কবিতা, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ ও নিবন্ধ। এছাড়া পত্রিকা সম্পাদনার ক্ষেত্রে হাতেখড়ি হয়েছিল হাতে লেখা পত্রিকা &ldquo;পথিকৃত&rdquo;-এ। &amp;nbsp;&ldquo;সারস্বত&rdquo; মুদ্রিত পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন। তারপর সুদীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সম্পাদনা &amp;nbsp;করছেন &ldquo;কালিমাটি&rdquo; পত্রিকা। পাশাপাশি আন্তর্জালে &ldquo;কালিমাটি অনলাইন&rdquo; পত্রিকা সম্পাদনা করছেন বিগত ৮ বছর। ইতিমধ্যে ৭টি কবিতার বই, ৪টি গল্পের বই, ১টি উপন্যাসের বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেছেন ১টি কবিতার বই এবং ৫টি গল্পের বই।&amp;nbsp; &amp;nbsp; &lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/anyo-dunia-magazine-bengali-short-story-laila-majnu-written-by-kajal-sen-adab-qvczuw"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[শ্বাসনালীতে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি সমরেশ মজুমদার, রাখা হয়েছে 'ICU'-তে]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/kolkata/bengali-author-samaresh-majumder-admitted-in-hospital-for-breathing-problem-in-icu-brd-quknkz</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/kolkata/bengali-author-samaresh-majumder-admitted-in-hospital-for-breathing-problem-in-icu-brd-quknkz</guid>
            <pubDate>Sat, 12 Jun 2021 10:21:28 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;ul&gt;  &lt;li&gt;গুরুতর অসুস্থ বর্ষীয়ান সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার&lt;/li&gt;  &lt;li&gt;প্রবল শ্বাসকষ্টে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বর্ষীয়ান সাহিত্যিক&lt;/li&gt;  &lt;li&gt;শ্বাসনালীতে সংক্রমণ রয়েছে সমরেশ মজুমদারের&lt;/li&gt;  &lt;li&gt;বর্তমানে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে সমরেশ মজুমদারকে&lt;/li&gt; &lt;/ul&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f7z873mrf0rww0z1gkd3vrst,imgname-whatsapp-image-2021-06-12-at-9-57-31-am-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;একের পর এক দুঃসংবাদ যেন পিছু ছাড়ছে না। ভাল নেই কালবেলা-র শ্রষ্টা। গুরুতর অসুস্থ বর্ষীয়ান সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। প্রবল শ্বাসকষ্টে নিয়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে &amp;nbsp;বর্ষীয়ান সাহিত্যিককে। বাইপাসের ধারে বেসরকারি &amp;nbsp;হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আরও পড়ুন-ঢিলেঢালা পোশাক, স্পষ্ট ফুটে উঠেছে 'Baby Bump', কতটা সুন্দরী হলেন অন্তঃসত্ত্বা নুসরত... &lt;/p&gt; &lt;p&gt;হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসনালীতে সংক্রমণ রয়েছে সমরেশ মজুমদারের। তার জন্যই শুরু হয়েছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যা। ইতিমধ্যেই চেস্ট এক্স রে, সিটি স্ক্যান সহ একাধিক রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ওনার। তার পাশাপাশি করোনা পরীক্ষাও করা হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে বর্ষীয়ান সাহিত্যিককে।গত ১০-১২ বছর ধরে সিওপিডি-র সমস্যায় ভুগছিলেন সমরেশ মজুমদার। এর আগেও ২০১২ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময়ও তাকে ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউ-তে সমস্ত রকমের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বর্ষীয়ান সাহিত্যিকের অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ বাড়ছে পাঠকদের।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;একাধিক অসাধারণ লেখনীর মধ্য দিয়েই দুই বাংলার পাঠককে দশকের পর দশক করে বিমুগ্ধ করে রেখেছেন ৭৯ বছর বয়সী সমরেশ মজুমদার । তাঁর লেখনির গণ্ডি গল্প বা উপন্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভ্রমণকাহিনি থেকে গোয়েন্দাকাহিনি, &amp;nbsp;ছোটগল্প থেকে কিশোর উপন্যাস রচনায় সবেতেই তাঁর জুড়ি মেলা ভার।&amp;nbsp;সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস দৌড় ১৯৭৬ সালে &amp;nbsp;ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায়। সেখান থেকে যাত্রা শুরু। তারপর থেকেই তার কলম চলতে থাকে। একের পর এক উপন্যাসগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ,তেরো পার্বণ, &amp;nbsp;স্বপ্নের বাজার, &amp;nbsp;সাতকাহন, উজান গঙ্গা, যা বাঙালির উপহারের চেয়ে কম কিছু নয়। তবে তাঁর সেরা সৃষ্টি &lsquo;উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ&rsquo; ট্রিলজি যা তাকে বিশেষ খ্যাতি দিয়েছে। সাহিত্যিকের ঝুলিতে পুরস্কারের সংখ্যাও অনেক। ১৯৮২ সালে আনন্দ পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইয়াইএমএস পুরস্কার জয় করেছেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।&amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Riya Das</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/kolkata/bengali-author-samaresh-majumder-admitted-in-hospital-for-breathing-problem-in-icu-brd-quknkz"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[রায়বেঁশে থেকে লাঠিখেলা, বাংলার নিজস্ব এমনকিছু ক্রীড়াশৈলি, আলোচনায় পৌলমী মুখোপাধ্যায়]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/the-story-of-bengal-s-own-local-sports-versus-online-e-games-will-surprise-you-qun8rs</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/the-story-of-bengal-s-own-local-sports-versus-online-e-games-will-surprise-you-qun8rs</guid>
            <pubDate>Sun, 13 Jun 2021 20:06:34 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;বাংলার লোকক্রীড়াকে স্থল, জল ও অন্তরীক্ষ&mdash; এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ভূমির ওপর খেলা হল স্থলের খেলা, সাঁতার কাটা, নৌকা-বাইচ ইত্যাদি জলের খেলা, আর ঘুড়ি ওড়ানো অন্তরীক্ষের খেলা। শরীরচর্চা, চিত্ত বিনোদন, ধর্মীয় সংস্কার ইত্যাদি কারণে লোকক্রীড়ার চর্চা প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f82vad716y5btx9whkjpya6c,imgname-whatsapp-image-2021-06-04-at-16-33-08-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;strong&gt;মননশীল প্রবন্ধ, বাংলার রায়বেঁশে- পৌলোমী মুখোপাধ্যায়---&lt;/strong&gt; &amp;nbsp;বুমবুম বড্ড জেদী, একগুঁয়ে হয়ে উঠেছে। কথাও কম বলে। ঘাড় গুঁজে কম্পিউটারে নয় ঠাম্মার মোবাইলে গেম খেলে চলেছে রাত্রিদিন। কোনোমতে পড়া করে নিয়েই পাবজি, টেম্পল রান, শ্যাডো ফাইটের মায়া দুনিয়া। খাওয়াদাওয়াও কমে গেছে। শারীরিকভাবে একটু দুর্বলও। করোনার দাপটে স্কুল যাওয়া বন্ধ। অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। বিকেলে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলাও বন্ধ হয়ে গেছে বহুদিন। কি করে যে তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়? সেদিন বাবাই ছাদে উঠে তাকে ঘুড়ি ওড়ানো দেখাল। মাম্মামও এক্কাদোক্কা আর কাবাডি খেলার কথা বলছিল। ঠাম্মা বলছিল পুতুলের বিয়ে দেবার গল্প। এগুলো সব আগেকার গ্রামবাংলার খেলা। এগুলোকে বলে লোকক্রীড়া।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;বুমবুমের মতো আমরা বড়োরাও ভার্চুয়াল জগৎ নিয়ে মেতে আছি খুব। অথচ মাত্র এক প্রজন্ম আগে এই আমাদের ছোটোবেলার অনেকটা অংশ জুড়ে ছিল কুমিরডাঙা, এক্কাদোক্কা, দাঁড়িয়াবান্ধা, কাবাডি ইত্যাদি খেলা। বাংলার লোকক্রীড়াকে স্থল, জল ও অন্তরীক্ষ&mdash; এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ভূমির ওপর খেলা হল স্থলের খেলা, সাঁতার কাটা, নৌকা-বাইচ ইত্যাদি জলের খেলা, আর ঘুড়ি ওড়ানো অন্তরীক্ষের খেলা। শরীরচর্চা, চিত্ত বিনোদন, ধর্মীয় সংস্কার ইত্যাদি কারণে লোকক্রীড়ার চর্চা প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রতচারী চর্চা, কুস্তি, নৌকা-বাইচ, লাঠিখেলা, রায়বেঁশে প্রভৃতি খেলার চর্চা আবশ্যিক হয়ে উঠেছে। শারীরিক, চারিত্রিক ও সামাজিক গঠনে এই খেলাগুলির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে রায়বেঁশের মধ্য দিয়ে ধনুক, বর্শা ও তলোয়ার চালানোর কৌশল রপ্ত করা হয়। আমরা আজ রায়বেঁশে নিয়ে আলোচনা করব।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;১৬০০ খ্রিস্টাব্দে আকবর বাদশাহ সেনাপতি মান সিংহকে মুর্শিদাবাদের সামন্ত রাজত্বে পাঠান বিপ্লবী সামন্তকে শায়েস্তা করতে। সহকারী সেনাধ্যক্ষ ছিলেন সবিতা রায় দীক্ষিত। সঙ্গে ছিল দুর্ধর্ষ ভিল যোদ্ধারা। তারা সামন্ত রাজাকে যুদ্ধে পরাস্ত ও নিহত করেন। পুরস্কারস্বরূপ সবিতা রায়কে ফতে সিং পরগনার শাসক নিযুক্ত করা হয়। এই ভিল গোষ্ঠীই জমিদারদের লেঠেল হিসেবে তলোয়ার, বল্লম ও লাঠিখেলার চর্চা বাংলার বুকে অব্যাহত রাখে। ঘাঘরা পরে নৃত্যছন্দে বাদ্যভাণ্ডের তালে তালে দস্যু দমনে যেত এই রায়বেঁশে দল।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;রায়বাঁশ থেকে রায়বেঁশে নামের উদ্ভব বলে অনেকে মনে করেন। আবার রাই বেশ (নারীর বেশ) থেকেও কথাটির উদ্ভব বলা যেতে পারে। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান-ই রায়বেঁশের বিকাশ কেন্দ্র। গত শতাব্দীর তিরিশের দশকে গুরুসদয় দত্ত মহাশয় বীরভূমে জেলাশাসক থাকাকালীন এর সাথে পরিচিত হন এবং ব্রতচারীর মধ্য দিয়ে এই লুপ্তপ্রায় নৃত্যক্রীড়াকে পুনরুজ্জীবিত করেন। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও রায়বেঁশের প্রতি দুর্বল ছিলেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; রায়বেঁশের জন্য নামডাক আছে কাটোয়ার কোশিগ্রামের শিল্পীদের৷ সাধারণত জনা ১৫ সদস্য নিয়ে একটি রায়বেঁশে নৃত্যের দল তৈরি হয়৷ কোশিগ্রামের এমনই এক দলের দলপতি দুখোহরণ পণ্ডিত শোনালেন রায়বেঁশের গল্প৷ তিনি বলেন, &ldquo;আমার পরিবার ৬-৭ পুরুষ ধরে রায়বেঁশে নাচের সঙ্গে যুক্ত৷ আমার পূর্বপুরুষরা ছিলেন রাজা-জমিদারদের লাঠিয়াল৷ দেহরক্ষীর কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে রাজারানির মনোরঞ্জনও করতে হত৷ এক দিকে যেমন শত্রুর সঙ্গে লড়তে হতো, অন্য দিকে, তেমন নাচের মধ্যে দিয়ে আনন্দ দিতে হতো প্রভুদের৷ সেই লাঠিখেলার কসরতই এখন রায়বেঁশে নৃত্য হয়ে রয়ে গিয়েছে৷ আমরা বাজনার তালে তালে যুদ্ধের মহরা দিই৷ আগেকার দিনে লাঠি যুদ্ধ কেমন হতো, তাই দেখানো হয় রায়বেঁশেতে৷ তবে শুধু যে লাঠি খেলাই দেখানো হয়, তা নয়৷ বাজনার তালে আরও নানা শারীরিক কসরত দেখাই আমরা৷ দলে কয়েক জন থাকেন যাঁরা ঢোল আর কাঁসর বাজান; আর বাকিরা নৃত্য প্রদর্শন করেন৷ সাজটা এখানে খুব জরুরি৷ নাচের সময় আমাদের লাঠিয়াল বেশের সাজ অনুষ্ঠানকে আরও সুন্দর করে তোলে৷ মুখ থেকে নানারকম আওয়াজ করতে হয় নাচের সময়৷ আগেকার দিনের লাঠিয়ালরা এই ধরনের আওয়াজ করে সাবধান করত শত্রুপক্ষকে৷ এখন তো সরকারি উদ্যোগের ফলে আমাদের আয়ও বেড়েছে এই পেশায়৷ বেড়েছে পরিচিতিও৷ তবে আমাদের দুশ্চিন্তার মূল কারণ হল, নতুন প্রজন্মের কেউ আর তেমনভাবে এই পেশায় আসছে না৷ তাই এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা চিন্তা থেকেই যাচ্ছে৷&rdquo; রায়বেঁশে শিল্পীরা জানচ্ছেন, বর্তমানে নানা সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁদের ডাক আসছে৷ সাধারণ মানুষও ডাকছে অনুষ্ঠান করার জন্য৷ মাসে এক একজন শিল্পী হাজার দশেক টাকা উপার্জন করতে পারছেন রায়বেঁশে থেকে৷ বাকি সময় চাষবাস তো আছেই।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;বর্তমানে শান্তিনিকেতনে ব্রতচারীর মধ্য দিয়ে রায়বেঁশেকে জনসমক্ষে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চলছে। গুরুপরম্পরা প্রাপ্ত ব্রতচারী শ্রী &amp;nbsp;নরেশ বন্দোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করতেই হয়। ব্রতচারীর মূলধারা বজায় রেখে সমগ্র জীবন ব্রতচারী প্রসার ও প্রচারে নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন নরেশজি। ব্রতচারী গ্রাম (মিউজিয়াম) থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়ে &amp;nbsp;শান্তিনিকেতনে ব্রতচারীর শিক্ষকতা করেছেন। দেশে ও বিদেশে রায়বেঁশেকে জনপ্রিয় করায় তাঁর অবদানও কম নয়।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো জঘন্য পরিস্থিতির হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং মানসিক বলিষ্ঠতা বজায় রাখতে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে রায়বেঁশেকে জনপ্রিয় করতে হবে। আমাদের সরকারও এ-বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্যারাটে, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনের পাশাপাশি রায়বেঁশেকেও সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;কুস্তি, তলোয়ার, লাঠি খেলা, আগুনখেলার সমন্বয়ে সৃষ্ট এই রায়বেঁশে দল পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠুক নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে। প্রতিরোধ হোক জোরদার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এইসব ঐতিহ্যাশালী পরম্পরাকে বাঁচিয়ে রাখার দায় নিতে হবে আমাদের নিজেদেরই। তাহলেই বুমবুমরা আর প্রাণহীন ডিজিটাল গেমসের মাধ্যমে প্রাণ খুঁজে নিতে যাবে না। শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে আগামী প্রজন্মকে একটি সুস্থ-সচেতন সমাজ উপহার দিতে পারব আমরা।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি-&lt;/strong&gt; পৌলোমী মুখোপাধ্যায় পেশায় জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার। পশ্চিমবঙ্গ সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরে কর্মরত। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ &amp;nbsp;&lsquo;মেঘ, বৃষ্টি, রোদ্দুর&rsquo; এবং গল্প সংকলন &lsquo;জার্নি&rsquo;। এছাড়া বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে লেখালেখির কাজের সঙ্গে যুক্ত।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা&lt;/strong&gt;- জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/the-story-of-bengal-s-own-local-sports-versus-online-e-games-will-surprise-you-qun8rs"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[গোটা শহর তখন আতঙ্কে দিশাহারা। আতঙ্কের নাম 'প্লেগ', সাহিত্য প্রবন্ধ- ভানু ভলান্টিয়ার, আলোচনায় অনির্বাণ চৌধুরী]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/the-story-of-plague-infected-kolkata-in-starting-of-20th-century-under-british-rule-will-surprise-you-adab-quzivg</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/the-story-of-plague-infected-kolkata-in-starting-of-20th-century-under-british-rule-will-surprise-you-adab-quzivg</guid>
            <pubDate>Sun, 20 Jun 2021 10:55:21 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;আতঙ্কের আরও একটা কারণ ছিল টীকাকরণ। সে-সময় ব্রিটিশ সরকার গণ টীকাকরণের উদ্যোগ নিয়েছিল। বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়, একশো বিশ-বাইশ বছর আগে অন্ধ কুসংস্কার এবং গুজবের ভয়াবহতা ছিল এখনকার তুলনায় আরও ভয়ঙ্কর। &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f8kxs1bp565yvn5ste5m82sf,imgname-whatsapp-image-2021-06-04-at-16-33-47-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;উনিশ শতকের গোড়ায় কলকাতা ঠিক এমনভাবেই সংক্রমিত। আঠারশো আটানব্বই থেকে উনিশশো আট&mdash; গোটা শহর তখন আতঙ্কে দিশাহারা। আতঙ্কের নাম &ldquo;প্লেগ&rdquo;। সংক্রমণের থেকেও আরও বড়ো সংক্রমণ ছিল ভয়। মানুষ ছুটছে, পালাচ্ছে অন্যত্র। যে শিশু বা বৃদ্ধ, অথবা যে পঙ্গু সূর্যের মুখ দেখে না নিয়মিত, তারা পর্যন্ত ছুটছে উদ্ভ্রান্তের মতো। কেউ বাস ধরবে, কেউ-বা ধরবে ট্রাম। দোকানপাট বন্ধ এবং পথে গাড়ি-ঘোড়ার অনুপস্থিতি&mdash; সব মিলিয়ে কলকাতা পরিত্যক্ত নগরীর চেহারা ধরেছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার, সামান্য জ্বর-সর্দির খবর জানতে পারলেই, তাকে ধরে হাসপাতালে চালান করে দিচ্ছিল। এতে আতঙ্ক বাড়তে থাকল দ্বিগুন। বলা যেতে পারে হাসপাতাল যাবার ভয়েই মানুষ শহর ছাড়ছিল উদ্ভ্রান্তের মতো।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আতঙ্কের আরও একটা কারণ ছিল টীকাকরণ। সে-সময় ব্রিটিশ সরকার গণ টীকাকরণের উদ্যোগ নিয়েছিল। বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়, একশো বিশ-বাইশ বছর আগে অন্ধ কুসংস্কার এবং গুজবের ভয়াবহতা ছিল এখনকার তুলনায় আরও ভয়ঙ্কর। এই অটোমেশনের যুগে&rsquo;ও যদি গুজব ওঠে, বিল গেটস ভ্যাক্সিনের ভায়ালে গুপ্ত চিপ্ ভরে দিয়েছে, সেই কালে তবে গুজবের মাত্রা কেথায় যেতে পারে অনুমান করা যায় সহজেই। ওই চিপ্ নাকি রক্তে প্রবেশ করে জিন-তথ্য চুরি করে নেবে, ঠিক তেমনই তখন ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সরকার গণ টীকাকরণ করে আসলে ভারতীয়দের ক্রীতদাস বানিয়ে রাখতে চায়। এমনকী, রামকৃষ্ণ মিশন থেকে এ-বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি করা হলে মঠের সন্ন্যাসীদের উপরে আক্রমণও হয়। একটা মজার ঘটনাও ঘটে ওই সময়ে। স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় ফিরছিলেন দার্জিলিং থেকে। রাস্তার মানুষ তাঁর প্রতিও মারমুখী হয়ে উঠেছিল। স্বামীজির ব্যাগে না-কি প্লেগের টিকা আছে। অবশেষে হাত জোড় করে স্বামীজিকে বলতে হয়, তিনি ফকির মানুষ, পাহাড় থেকে ফিরছেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;চতুরঙ্গ&rdquo; উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ, সুহৃদ জগমোহনের মৃত্যুকে তুলে আনলেন এইভাবে : &ldquo;যে বছর কলিকাতা শহরে প্রথম প্লেগ দেখা দিল তখন প্লেগের চেয়ে তার রাজ-তকমা পরা চাপরাশী&rsquo;র ভয়ে লোক ব্যস্ত হইয়াছিল।... পাড়ায় প্লেগ দেখা দিল। পাছে হাসপাতালে ধরিয়া লইয়া যায় এজন্য লোকে ডাক্তার ডাকিতে চাহিল না। জগমোহন স্বয়ং প্লেগ-হাসপাতাল দেখিয়া আসিয়া বলিলেন, ব্যামো হইয়াছে বলিয়া তো মানুষ অপরাধ করে নাই।&rdquo; আতঙ্কের উর্দ্ধগামীতা কেবলমাত্র এমন কলমের পারদেই টের পাওয়া যায়। &lsquo;একশো উনচল্লিশ&rsquo; নম্বর ধর্মতলা স্ট্রিট থেকে আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু সুহৃদ রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখলেন: &amp;nbsp;&ldquo;উপরের ঠিকানা থেকে বুঝিতে পারিয়াছেন যে, আমি পলাতক প্লেগের অনুগ্রহে। আমার একজন ভৃত্য ছুটি লইয়া একদিন বড়বাজার গিয়াছিল। সেইখান হইতে আসিয়া একদিন পরেই তার প্লেগ হয়। আর তিরিশ ঘণ্টা বাদেই হয় মৃত্যু। বাড়ি ছাড়িয়া আসিয়া উক্ত ঠিকানায় আছি&mdash; কতদিন পলায়ন চলিবে জানি না।&rdquo;&hellip; এ কেবল জগদীশ চন্দ্র বসুর ক্ষেত্রেই নয়, প্রায় সকল কলকাতাবাসীর এমন অবস্থা দেখা দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথও চিঠি-পত্রাদিতে পরিচিত সকলকে সাবধান করতেন। পাড়ায় পাড়ায় নজরদারিতে যাওয়ার সময়েও প্রত্যেককে ঠিক উপায় অবলম্বনের পরামর্শ দিতেন। ঠিক যেমনটা এই আমরা বর্তমানে ফেসবুক বা হোয়্যাটস অ্যাপে সতর্কীকরণ ভাইরাল করে চলেছি।&amp;nbsp; &amp;nbsp; ভয়াবহ প্লেগের মহামারি সময়ে, রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্য রচনাতেই থেমে থাকেননি, সদ্য কলকাতায় পা-রাখা ভগিনী নিবেদিতাকে সঙ্গী করে নেমে এসেছিলেন রাস্তায়। রবীন্দ্রনাথের ওই অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা আমরা জানতে পারছি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কলমে। &ldquo;জোড়াসাঁকোর ধারে&rdquo; এই গ্রন্থে উনি লিখেছেন : &ldquo;সেই সময়ে কলকাতায় লাগল প্লেগ। চারদিকে মহামারী চলছে, ঘরে ঘরে লোক মরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। রবিকাকা এবং আমরা এ-বাড়ির সবাই মিলে চাঁদা তুলে প্লেগ হাসপাতাল খুলেছি, চুন বিলি করছি। রবিকাকা ও সিস্টার নিবেদিতা পাড়ায় পাড়ায় তদারকিতে যেতেন। নার্স ডাক্তার সব&rsquo;ই রাখা হয়েছিল।&rdquo;&amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp;ঠাকুরবাড়ির প্রায় সকল সদস্যই রবীন্দ্রনাথের এই মানবিক যুদ্ধে সামিল হন। &lsquo;ক্যালকাটা নোটস&rsquo; নামের ইংরেজী পত্রিকায় ভগিনী নিবেদিতা লিখেছেন, &ldquo;আ ফিউ গ্রেট হিন্দু ফ্যামিলিজ নোটেবলি দ্য টেগোর&rsquo;স, স্টুড ফার্ম ইন দ্য হোপ অফ অ্যালেয়িং দ্য অ্যাজিটেশন&rdquo;। ঠাকুরবাড়ি যখন প্লেগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে, সে সময়েই অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নয়-দশ বছরের মেয়ে প্লেগ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বহু চেষ্টা করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ, তাঁর প্রভাব প্রাচুর্য্য সত্ত্বেও ব্যর্থ হ&rsquo;ন শেষে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাধ্য হয়ে চৌরঙ্গির এক বাড়িতে পালিয়ে যান। এবং ওই সময়েই তিনি বিখ্যাত &ldquo;শাহজাহানের মৃত্যু&rdquo; ছবিটি আঁকেন। ফুটফুটে কন্যাসন্তানের &amp;nbsp;মৃত্যুর যত বেদনা বুকে ছিল সব ঢেলে দিয়ে সেই বিখ্যাত ছবি এঁকেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ পরে সে-ছবি প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করেন।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;শুধু প্লেগ নয়, কলেরা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো মহামারিতেও রবীন্দ্রনাথ সক্রিয় ভূমিকা নেন। উনিশশো পনেরো সালে বাংলায় কলেরা মারাত্মক আকার নেয়। ঠাকুরবাড়িতেও মৃত্যু হানা দেয়। রবীন্দ্রপুত্র শমীন্দ্রনাথ কলেরায় মারা যান। কবির লেখনী আরও শক্ত হয়ে ওঠে। &lsquo;ওলাউঠার বিস্তার&rsquo; নামক প্রবন্ধে তিনি বিভিন্ন দেশে এ-রোগের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। &ldquo;গোরা&rdquo; উপন্যাসে হরিমোহিনীর স্বামী ও পুত্রের মৃত্যুর কথা লিখতে গিয়ে নিজের দুঃখের কথাই যেন ব্যক্ত করলেন তিনি&mdash;&ldquo;যে দুঃখ কল্পনা করিলেও অসহ্য বোধ হয় তাহাও যে মানুষের সয়, ইহাই জানাইবার জন্য ঈশ্বর আমাকে বাঁচাইয়া রাখিলেন।&rdquo;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;তারপরেই ঘটল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এই সেই প্রাগৈতিহাসিক বিভৎস সর্দি কাণ্ড। যার পোষাকি নাম, &ldquo;ইনফ্লুয়েঞ্জা&rdquo;। এ তথ্য এখন সকলেরই জানা। প্লেগের পর পরই মহামারির আকার নেয় তখনকার ফ্লু। রবীন্দ্রনাথ আগে থেকেই সতর্ক হয়েছিলেন। এ বারে তিনি একেবারে কবিরাজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। শান্তিনিকেতনে এই ফ্লু যাতে না-ছড়াতে পারে, তার জন্য তিনি &lsquo;পঞ্চতিক্ত&rsquo; পাচন খাইয়েছিলেন প্রত্যেককে। উনিশশো সালের ইংরেজী নববর্ষে, বন্ধু জগদীশচন্দ্রকে এই পাচন উপহার দেন। সঙ্গে ছোট্ট একটি চিরকুটে লিখে দেন: &ldquo;বৌমার &amp;nbsp;খুব কঠিন রকম নিউমনিয়া হয়েছিল। অনেক দিন লড়াই করে কাল থেকে ভাল বোধ হচ্ছে।&hellip; কিন্তু ছেলেদের মধ্যে একটিরও ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়নি। আমার বিশ্বাস, তার কারণ, আমি ওদের বরাবর পঞ্চতিক্ত পাঁচন খাইয়ে আসচি। আমার এখানে প্রায় দুশো লোক, অথচ হাসপাতাল প্রায়ই শূন্য পড়ে আছে। এমন কখনও হয় না যে! আমার দৃঢ় বিশ্বাস এটা নিশ্চয়ই পাঁচনের গুণে হয়েচে।&rdquo; &amp;nbsp;বলে রাখি, আসলে এই পাচন ছিল নিম, গুলঞ্চ, বাসক, পলতা ও কন্টিকারির মিশ্রণ। রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় নৈরাশ্য, নিরানন্দ, অনশন ও মহামারি প্রাচীন ভারতের &lsquo;মন্দিরভিত্তি&rsquo;-কে ভেঙে ফেলছে ক্রমশ। তবে এসব &lsquo;আকস্মিক&rsquo; নয়। &lsquo;দেশনায়ক&rsquo; প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, &ldquo;ম্যালেরিয়া-প্লেগ-দুর্ভিক্ষ কেবল উপলক্ষ মাত্র, তাহারা বাহ্যলক্ষ্মণমাত্র&mdash; মূল ব্যাধি দেশের মজ্জার মধ্যে প্রবেশ করিয়াছে।&rdquo;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এ এক অন্য রবীন্দ্রনাথ। যাঁকে আমরা কেউ চিনি না। এই রবীন্দ্রনাথ একজন স্বেচ্ছাসেবক রবীন্দ্রনাথ। এই রবীন্দ্রনাথ একজন সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ... মানবদরদী রবীন্দ্রনাথ। গানে হোক বা কবিতায়, পথে হোক বা জনতায়&hellip; রবীন্দ্রনাথ মানে দুঃসময়ের শক্তি। আড়ালে একটা চারাগাছকে রাখলে, যেমন সে আলোর খোঁজে মাথা তোলে, কাদম্বরীর না-থাকার অন্ধকারের বেড়া ঠেলে রবীন্দ্রনাথ তেমনই যেন খুঁজে বেড়িয়েছিলেন এক অন্য আলোর পথ। &amp;nbsp; &amp;nbsp;প্রিয় কাদম্বরী যখন চলে গেলেন&hellip; &amp;nbsp;&ldquo;তত্ত্ববোধিনী&rdquo; পত্রিকায় &lsquo;আত্মা&rsquo; প্রবন্ধে লিখলেন: &lsquo;&lsquo;অন্ধকারকে অতিক্রম করিবার পথ অন্ধকারের মধ্যে যখন দেখা যায় না তখন তাহার মতো দুঃখ আর কী আছে! যে-আত্মবিসর্জন করতে পারে, আত্মার উপর শ্রেষ্ঠ অধিকার শুধু তারই জন্মাতে পারে।&rdquo; রবীন্দ্রনাথ যেন ইঙ্গিত দিলেন, কাদম্বরীর মারা যাওয়া আসলে এক জরুরি &lsquo;আত্মবিসর্জন&rsquo;। যদিও এই উক্তির সঙ্গে মহামারির বিষয় সম্পর্কিত নয়, তবুও মৃত্যু বিষয়ক আলোচনায় রবীন্দ্রনাথের দর্শন এভাবেই চলে আসে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;রবীন্দ্রনাথ কখনোই তার সন্তানদের সঙ্গে শয্যা ভাগ করেননি। একমাত্র মৃণালিণী দেবী চলে যাবার পরে, প্রিয় পুত্র শমীন্দ্রনাথের পাশে নিজের খাট গুছিয়ে নিয়েছিলেন। রাতের বেলায় শমী&rsquo;র হাত ধরে থাকতেন পিতা রবীন্দ্রনাথ। সেই শমী যখন মুঙ্গেরে কলেরায় আক্রান্ত, দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন পিতা। উনিশশো সাত সালের চব্বিশে নভেম্বর শমী যখন মায়ের আকাশে যাবার জন্য প্রস্তুত, রবীন্দ্রনাথ তখন পাশের ঘরে ধ্যানমগ্ন। আত্মার সঙ্গে পিতার আত্মিক যোগাযোগ। রবীন্দ্রনাথ জানতেন সময় উপস্থিত। যে রবীন্দ্রনাথ স্ত্রী, কন্যা, পিতা সবাইকে তাঁদের মৃত্যুকালে নিজের হাতে ধরে পরলোকে পৌঁছে দিয়েছেন শয্যার পাশে থেকে, কী আশ্চর্য্য কেবল শমী&rsquo;র সময়টাতেই উনি নিজেকে অন্তরালে নিয়ে চলে গেলেন। যাবার আগে ভূপেনবাবুকে শান্তভাবে ডেকে বললেন&mdash; &ldquo;এ সময়ে আমার যাহা কিছু কৃত্য আমি করিয়া দিলাম। এখন অবশেষ কর্তব্যটুকু আপনি করুন।&rdquo; শমীন্দ্রনাথের শিক্ষক ভূপেন্দ্রনাথ সান্যাল কিংকর্তব্যবিমূঢ় দাঁড়িয়ে রইলেন এক অসহায় পিতার সম্মুখে। মৃত্যুকে স্বীকার করে নিয়ে, তার দুয়ারে শমীর বড়ো প্রিয় শিক্ষককে এগিয়ে দেওয়ার সময়, রবীন্দ্রনাথের এ এক ভিন্ন রূপ। এ রবীন্দ্রনাথ&hellip; সাধক রবীন্দ্রনাথ।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;সে-সময়ে কলকাতাতেও কলেরা মহামারী। কন্যা মীরা প্রবল অসুস্থ। মৃত্যুশয্যায় বাকি সাথীরা। শমীর মৃত্যুর পর দিন আট নভেম্বর রেলপথে কলকাতা ফিরছেন সদ্য পুত্রহারা পিতা। জানালার লোহার শিক ভিজে উঠেছে রবীন্দ্র অশ্রুতে। ওইরূপ অবস্থানে তিনি লিখছেন &mdash; &ldquo;রেলে আস্তে আস্তে দেখলুম জ্যোৎস্নায় আকাশ ভেসে যাচ্ছে, কোথাও যে কিছু কম পড়েছে তার লক্ষণ নেই। মন বললে, সমস্তের মধ্যে সবই গেছে, আমি&rsquo;ও তার মধ্যে। সমস্তের জন্যে আমার কাজও বাকি রইল। বাকী সাথীদের বাঁচানোর দায়িত্বটুকু নিতে হবে । দিতে হবে প্রাণ&hellip; জ্যোৎস্না সমান।&rdquo;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;মহামারীতে নিবেদিত প্রাণ&hellip; এ আর-এক রবীন্দ্রনাথ। মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে, ভানু ভলান্টিয়ার।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি- &amp;nbsp;অনির্বাণ চৌধুরী- &lt;/strong&gt;বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সঙ্গে সঙ্গে এমবিএ ডিগ্রিধারী। কর্মরত এক বেসরকারি সংস্থায়। কিন্তু, লেখালেখি তাঁর রক্তে। অনিডায়েরি ও বন্ধুরা সোসাইটি-র সম্পাদক অনির্বাণ। তাঁর একটি প্রবন্ধ এবং একাধিক কবিতা সংকলন ও গীতরচনা, নাট্যগ্রন্থের লেখক। তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সম্মানেও সম্মানিত হয়েছেন।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/the-story-of-plague-infected-kolkata-in-starting-of-20th-century-under-british-rule-will-surprise-you-adab-quzivg"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[গোয়েন্দা কাহিনি কি আদপেও সাহিত্য পদবাচ্য, গোয়েন্দা গড়াই- নিয়ে সমালোচনায় ঋষেণ ভট্টাচার্য]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/life/book-review-on-goyenda-gadai-written-by-rituparna-rudra-reviewed-by-rishen-bhattacharyay-adab-qu9ie6</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/life/book-review-on-goyenda-gadai-written-by-rituparna-rudra-reviewed-by-rishen-bhattacharyay-adab-qu9ie6</guid>
            <pubDate>Mon, 07 Jun 2021 14:56:16 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;প্রতিটি গল্পের আবহে খুঁটিনাটি বিষয়বস্তু, অপরাধীর অপরাধপ্রবণ মনের প্রেক্ষিতে ঘটানো পারিপার্শ্বিক কাজকর্ম এবং গোয়েন্দার যুক্তির সাহায্য অপরাধীকে চিহ্নিত করায় লেখিকার লেখনী এতটাই আকর্ষক যে, প্রায় প্রতিটি গল্পই শেষ করার পর পাঠক ভাবতে বাধ্য হন&mdash; গল্পটি আরেকটু বড়ো হল না কেন? আহা!&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f7fr8td9ebf8atesjpsp2yq5,imgname-whatsapp-image-2021-06-04-at-16-28-19-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;গোয়েন্দা কাহিনি কি আদপেও সাহিত্য পদবাচ্য? এ প্রশ্ন আজ অপ্রাসঙ্গিক, কারণ বহুদিন আগেই মীমাংসা করে দিয়েছেন স্বয়ং সুকুমার সেন। &amp;nbsp;সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি অলিন্দে স্বচ্ছন্দে বিচরণকারী লেখিকা ঋতুপর্ণা রুদ্রের একটি বই হাতে পেয়ে মনে পড়ে গেল শরদিন্দুবাবুর একটি উক্তি; তাঁর মতে&mdash; গোয়েন্দা গল্প যদি সাহিত্য পদবাচ্য না-ও হয়, তবু যা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, তা লিখতে আমারও লজ্জাবোধ নেই। মনে পড়ে গেল আরেকটি কথা। শরদিন্দুবাবু যখন খ্যাতির মধ্যগগনে তরুণ সমরেশ বসু অত্যন্ত কুণ্ঠার সঙ্গে ব্যোমকেশ স্রষ্টাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন&mdash; গোয়েন্দা গল্প লিখলে কি হাত খারাপ হয়ে যায়? শরদিন্দুবাবু না-কি অট্টহাস্য করে বলেছিলেন&mdash; যার লেখার হাত খারাপ, সে গোয়েন্দা গল্প না-লিখলেও তার হাতে ভালো লেখা আসে না, আর যার হাত ভালো সে হাজার চেষ্টা করেও হাত খারাপ করতে পারে না।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;মাত্র কয়েক বছর আগে অপরাধ জগতে যুক্ত হয়েছে এক নতুন গোয়েন্দার নাম। গোয়েন্দার নাম প্রণব গড়াই। মাস আটেক আগে আমি হাতে পাই &ldquo;গোয়েন্দা গড়াই&rdquo; বইটি। আমাদের পড়া বাংলা সাহিত্যের অধিকাংশ প্রথিতযশা গোয়েন্দাদের প্রায় প্রত্যেকেই শখের গোয়েন্দা। প্রয়োজনে তাঁরা কখনো সাহায্য নেন পুলিশের। সাহিত্যগুণে তাঁরা আমাদের যতই প্রিয় হন বাস্তবটা কিন্তু আদতে সম্পূর্ণই আলাদা। দুঃখজনক হলেও বাস্তবে শখের গোয়েন্দাদের অস্তিত্ব বড়োই ম্রিয়মান। তাঁদের কাছে মক্কেলরা যান বড়ো জোর বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ নেওয়ার মতো খুচরো কাজের জন্য। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে কোনো বিশেষ বিষয়ে আংশিক তথ্য সংগ্রহ বা অনান্য গৌণ কিছু অংশ তাঁদের ওপর ছাড়লেও খুন-জখম-চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-রাহাজানি-অপরহণ-জোচ্চুরি-জালিয়াতিতে রহস্য উদ্বঘাটনের প্রথমিক এবং প্রধান দায়িত্ব বর্তায় পুলিশেরই ওপর। খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তব এবং সত্য&mdash; শখের গোয়েন্দারা অপরাধজগতে অবাঞ্চিত এবং রবাহূত।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;এ-কথাটি যেমন বাস্তবসম্মত, ঠিক তেমনই বাস্তবসম্মত তিনটি চরিত্র হল&mdash; পুলিশ অফিসার প্রণব গড়াই, ইন্সপেক্টর কবীর সান্যাল এবং সাব ইন্সপেক্টর কল্পনা চৌধুরী। এঁদের নিয়ে দশটি গল্প একত্রে স্থান পেয়েছে &ldquo;গোয়েন্দা গড়াই&rdquo; বইটিতে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;প্রথম দুটি গল্প শেষ করে শুরু করেছিলাম তৃতীয় গল্প &lsquo;তবু অনন্ত জাগে&rsquo;। চমকে উঠলাম তৃতীয় গল্পটির পরিণতিতে। পরিচিত হলাম প্রণব গড়াইয়ের মানবিকতার সঙ্গে। মনে পড়ে গেল ব্যোমকেশও মাফ করে দিয়েছিলেন খুনিকে, কেবলমাত্র মানবিকতার খাতিরেই।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত নিষ্পৃহভাবে পড়া শুরু করলেও চতুর্থ গল্পে নিজেরই অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছি প্রণব গড়াইকে এবং তাঁর তদন্ত পদ্ধতিকে।&amp;nbsp; &lsquo;খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি&rsquo;&mdash; সপ্তম গল্পটির উপস্থাপনা এককথায় অনবদ্য।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;প্রতিটি গল্পের আবহে খুঁটিনাটি বিষয়বস্তু, অপরাধীর অপরাধপ্রবণ মনের প্রেক্ষিতে ঘটানো পারিপার্শ্বিক কাজকর্ম এবং গোয়েন্দার যুক্তির সাহায্য অপরাধীকে চিহ্নিত করায় লেখিকার লেখনী এতটাই আকর্ষক যে, প্রায় প্রতিটি গল্পই শেষ করার পর পাঠক ভাবতে বাধ্য হন&mdash; গল্পটি আরেকটু বড়ো হল না কেন? আহা! ছোটো গল্পের বদলে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস পেলাম না কেন? না-হয় আরও কিছুটা বেশিই সময় কাটানো যেতো অফিসার গড়াই, ইন্সপেক্টর সান্যাল এবং এস. আই. চৌধুরীর সঙ্গে, কিই-বা ক্ষতি হতো তাতে?&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আশ্চর্য দক্ষতায় লেখিকা তাঁর কলমের জোরে পাঠকদের খুবই সহজে একাত্ম করান অফিসার প্রণব গড়াইয়ের সঙ্গে। &lsquo;অমৃত চাই না&rsquo;&mdash; গল্পটির প্রথম লাইনেই পাঠক একটু নড়ে চড়ে বসবেন অফিসার গড়াইয়ের পারিবারিক জীবনের খবরের আশায়। কিন্তু মাত্র দু&rsquo;লাইনেই লেখিকা পাঠকদের পৌঁছে দেন পুলিশ অফিসারটির ব্যক্তি জীবনের গল্প থেকে তাঁর কর্মজীবনে; এবং এই একটি ব্যাপারেই সম্ভবত পাঠক অনুযোগ জানাবেন লেখিকাকে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;গল্পগুলিতে রহস্যের দানা বাঁধা ওঠা এবং তার সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে প্রণব গড়াই আমাদের প্রিয় হয়ে উঠলেও তাঁর সম্পর্কে কিন্তু তেমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্যই পাই না আমরা কোনো গল্পে। কেবল জানতে পারি স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যাকে নিয়ে তাঁর সংসার।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;প্রণব গড়াইয়ের ব্যক্তি জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও পাঠক সে-অর্থে ঘনিষ্ট হতে পারে না; কেবলমাত্র ব্যক্তি প্রণব গড়াইয়ের পছন্দ-অপছন্দ ও দৈনন্দিন খুঁটিনাটির বদলে নৈর্ব্যক্তিকভাবে অপরাধ বিশ্লেষণ করে যাওয়ার জন্য।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;অবশ্য এভাবেও ভাবা যায়&mdash; সম্ভবত গোয়েন্দা প্রণবের ছবিটা লেখিকা সচেতনভাবেই আবছা রেখেছেন। হয়তো তাঁর মতে চরিত্রটির স্পষ্ট ছবি না-থাকলেই বরং প্রত্যেকটি পাঠক তার নিজের মনোমতো ছবি আঁকতে পারবে।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt; &amp;nbsp; বাস্তবতার নিরিখে সাম্প্রতিকালের কয়েকজন শখের গোয়েন্দাদের চেয়ে প্রণববাবু নিজেই এগিয়ে আছেন বেশ কয়েক কদম। কিন্তু কাহিনির বাস্তবতার চেয়েও বড়ো আকর্ষণ লেখিকার বাস্তবানুগ কলম এবং ঘটনার বিন্যাস। লেখিকার নিপুন কলম বারবার জিতিয়ে দেন প্রণববাবুকে, এগিয়ে রাখেন তাঁর সমসাময়িক গোয়েন্দাদের চেয়ে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;প্রতিটি ঘটনা এতটাই বাস্তবঘেঁসা এবং জীবন্ত যে &amp;nbsp;পাঠক হয়তো কখনও কোনও গল্পে গোয়েন্দা বা রহস্যের সমাধানে ছেড়ে ঢুকে যাবে কলকাতা পুলিশ বা বেঙ্গল পুলিশের মেরিট বেসিস ট্রান্সফার, ডিউটি-রেস্পন্সিবিলিটি অথবা প্রফেশনাল বিহেভিয়ারের মধ্যে। লেখিকার বাস্তবজ্ঞান এবং প্রতিটি বিষয়ে বর্তমানের অণুপুঙখ খবর আহরণ সত্যিই তারিফযোগ্য।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;ঠিক যেমন যে-কোনো ঘটনার মধ্যে যেনতেন প্রকারেণ কয়েকটা মার্ডার কিডন্যাপ অবৈধ বসম্পর্ক অথবা বিডিএসএম ঢোকানোটাই কেবলমাত্র একটি সার্থক গোয়েন্দা গল্পের সংজ্ঞা হতে পারে না, ঠিক সে-কারণেই সার্থক গোয়েন্দা গল্প হয়ে ওঠে প্রণব গড়াইয়ের গল্পগুলি।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;তিনি সহিষ্ণু সহানুভূতিশীল এবং মানবিক। রহস্যভেদে তাঁর পর্যবেক্ষণ এবং যুক্তি বিন্যাসের পাশাপাশি ফুটে ওঠে দায়িত্ববান কর্তব্যনিষ্ঠ পুলিশ অফিসারের দরদি মনের ছাপ। আমরা জানতে পারি ইনফর্মারের থেকে খবর জোগাড় করেই তিনি হাত ধুয়ে ফেলন না, পাশাপাশি তাকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতেও সচেষ্ট হন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;গোয়েন্দা গড়াই&rdquo; বইটির গল্পগুলির পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, আমরা জানি&mdash; গত লকডাউনে কলকাতা পুলিশের রাস্তায় নেমে মাইক নিয়ে গান গেয়ে জনগণকে সচেতন করার প্রচেষ্টাতে সামিল হয়েছিলেন প্রণব গড়াইও।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;না, তিনি গান গাইতে পারেন না। লেখিকা জানেন, মানুষ হিসেবে সম্ভবত তিনি ঈষৎ লাজুক প্রকৃতিরও। তবু, তিনিও ছিলেন সহকর্মীদের সঙ্গে। একটু পিছনে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন বেলা বোস বা গুপিবাঘার গানের সুরে।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;গোয়েন্দা গড়াই নামটিতে শ্রুত্যনুপ্রাসের একটু ছোঁয়া থাকলেও এবং গড়াই পদবিটিতে একটু হলেও হাস্যরস্যের ছোঁয়া থাকলেও প্রণব গড়াই কিন্তু আদপেই বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী গোয়েন্দাদের বন্ধু বা শত্রুরূপী পুলিশ অফিসারদের ন্যায় হাস্যকর আচরণযুক্ত দারোগা নন। তিনি যেমন তাঁর এসপি&rsquo;র প্রিয় অফিসার, তেমনই তাঁর কাহিনিকারের পাঠককূলেরও প্রিয় এক গোয়েন্দা।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;এককালের তাবড় গোয়েন্দারা এখন আর অপরাধীদের পিছনে ছোটেন না। তবু অপরাধ কি থেমে থাকে? এখন থেকে না-হয় তাদের পিছনে ছুটুন কলকাতা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দুঁদে এই অফিসারটি। কামনা করি তিনি সফল হোন প্রতিটি কেসে। তদন্ত করে রিপোর্ট দিন, দোষীকে শাস্তি দিন, লেখিকাও লিপিবদ্ধ করুন সে-সমস্ত ঘটনা আমাদের জন্য।&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&amp;nbsp;অপেক্ষায় থাকলাম ছোটো গল্প ছাড়াও প্রণব গড়াইয়ের অপেক্ষাকৃত বড়ো কেসগুলি বড়োগল্প বা উপন্যাসের আকারে সংগ্রহ করতে। &amp;nbsp;আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই অফিসার প্রণব গড়াই, ইন্সপেক্টর কবীর সান্যাল, সাব ইন্সপেক্টর কল্পনা চৌধুরী এবং তাঁদের স্রষ্টা ঋতুপর্ণা রূদ্রকে।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;শুভেচ্ছা জানাই প্রচ্ছদ শিল্পী ধীমান পালকে। এবং একই সঙ্গে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই &ldquo;ঘরে বাইরে&rdquo; পাবলিকেশনকে একটি অত্যন্ত সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন পেপার ব্যাক উপহার দেওয়ার জন্য। একশো বারো পাতার একটি বইয়ে, পনেরো নম্বর পৃষ্ঠায় কেবল মাত্র দু&rsquo;টি প্রিন্টিং মিসটেক ছাড়া একটি ভুলও চোখে পড়েনি। এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;বইয়ের নাম:&lt;/strong&gt; গোয়েন্দা গড়াই &lt;strong&gt;লেখকের নাম:&lt;/strong&gt; ঋতুপর্ণা রুদ্র &lt;strong&gt;প্রকাশনের নাম:&lt;/strong&gt; ঘরে বাইরে পাবলিকেশন&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সমালোচক&lt;/strong&gt;- ঋষেণ ভট্টাচার্য-&amp;nbsp;বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত। লেখালেখির সাথে সাথে শখ ভ্রমণ এবং গানবাজনা।&amp;nbsp;  &lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা&lt;/strong&gt;- জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/life/book-review-on-goyenda-gadai-written-by-rituparna-rudra-reviewed-by-rishen-bhattacharyay-adab-qu9ie6"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[অসমিয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হোমেন বড়গোহাঞি, তাঁর লেখা একটি মননশীল প্রবন্ধ- যা মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/three-questions-the-prose-wrote-by-homen-borgohain-translated-from-assamese-to-bengali-by-basudev-das-adab-qvd20g</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/three-questions-the-prose-wrote-by-homen-borgohain-translated-from-assamese-to-bengali-by-basudev-das-adab-qvd20g</guid>
            <pubDate>Sun, 27 Jun 2021 19:01:16 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;আমি বই পড়তে ভালোবাসি জেনে, এবং পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি পড়া বইটি সম্পর্কে আমার লেখার মাধ্যমে অন্য মানুষকে জানিয়ে দিই বলে আমার অনেক সদাশয় বন্ধু দেশ-বিদেশ থেকে অনেক মূল্যবান বই আমার জন্য নিয়ে আসে। &amp;nbsp;&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f96qsz0w255efkrtw2xry99c,imgname-whatsapp-image-2021-06-26-at-15-28-14-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;কয়েকদিন আগে একটি বই পড়ে শেষ করলাম। বইটির নাম &ldquo;50 Philosophy Ideas: You really need to know&rdquo;। বইটি ইংল্যান্ড থেকে আমাকে এনে দিয়েছিল ডক্টর জয়ন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেল শহরের একটি সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার। বছরে একবার, কখনও দু&rsquo;বারও তিনি গুয়াহাটিতে আসেন। প্রতিবারই তিনি আমার জন্য এই ধরনের কিছু নির্বাচিত বই নিয়ে আসেন যে-সমস্ত বই আমাদের দেশে দুষ্প্রাপ্য। ভারতের বড়ো বড়ো শহরের বইয়ের দোকানে এই ধরনের কিছু বই থাকতেও পারে, কিন্তু আমার পক্ষে সেই সমস্ত সংগ্রহ করা অসম্ভব। ডক্টর জয়ন্ত বিশ্ব শর্মা এ-ধরনের কয়েকটি অমূল্য বই এনে আমাকে উপহার দিয়েছেন। তার এই ভালোবাসার ঋণ আমি কখনও পরিশোধ করতে পারব না।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;অন্য বিষয়ে যাবার আগে আমি গত মাত্র এক বছরের উপহার হিসেবে পাওয়া আরও কয়েকটি বইয়ের কথা উল্লেখ করতে চাই। তা না-করলে আমাকে অকৃতজ্ঞতার পাপ স্পর্শ করবে। আমি এই বিভাগে অনেকবার এ-কথা উল্লেখ করেছি যে আমার বন্ধু ভাগ্য অন্য অনেক মানুষের ঈর্ষার যোগ্য। আমি বই পড়তে ভালোবাসি জেনে, এবং পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি পড়া বইটি সম্পর্কে আমার লেখার মাধ্যমে অন্য মানুষকে জানিয়ে দিই বলে আমার অনেক সদাশয় বন্ধু দেশ-বিদেশ থেকে অনেক মূল্যবান বই আমার জন্য নিয়ে আসে। এই ধরনের অনেক সদাশয় বন্ধুর কথা এবং তারা আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া বইগুলির নাম এই বিভাগে আমি অনেকবার লিখেছি। এখন আর সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না, কিন্তু গত একটি বছর আমি উপহার হিসেবে পাওয়া কয়েকটি মূল্যবান বই এবং সে-সবের দাতাদের নাম উল্লেখ করে রাখতে চাই। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা নিবেদন করার জন্য আমি এর বাইরে অন্য কোনও উপায় খুঁজে পাইনি।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;গতবছর শোণিত বিজয় দাস আমাকে উপহার দেওয়া বই গুলির নাম হল &ldquo;The museum of innocence&rdquo; (Orhan Pamuk), &ldquo;Snow&rdquo; (Orhan Pamuk), &ldquo;Other Colours&rdquo; (Orhan Pamuk), &ldquo;The Total Library&rdquo; (Jorge Luis Borges)।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&ldquo;How to read and why&rdquo; (HaroLd Bloom) নামের বইটি আমাকে উপহার দিয়েছিল ডঃ বিভাস চৌধুরী। প্রদ্যুৎ বরদলৈ দিল্লি থেকে আমার জন্য কিনে এনেছিল &ldquo;The Rediscovery of India&rdquo; &amp;nbsp;(Meghnad Desai)। কুন্তল শর্মা বরদলৈয়ের &amp;nbsp;কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম &ldquo;Sophie&rsquo;s World&rdquo; (Jostein Gaarder )। আমি এক বছরের উপহার হিসেবে পাওয়া বইয়ের তালিকা এতেই শেষ হয়নি। বিশ্বদীপ বরুয়া যে কয়েকটি লোভনীয় বই আমাকে উপহার দিয়েছে সেগুলি হ্ল&mdash; &ldquo;How Proust can change your life&rdquo; (Alain De &amp;nbsp;Botton), &ldquo;The Consolations of Philosophy&rdquo; (Alain De &amp;nbsp;Botton), &ldquo;A New Earth Awakening to Your Life&rsquo;s Purpose&rdquo; (Eckhart Tolle)। দেবেশ্বর বরা গোলাঘাট থেকে আমার কাছে ডাকযোগে পাঠিয়েছে যশোবন্ত সিং-এর বহু বিতর্কিত গ্রন্থ &ldquo;Jinnah&rdquo;। ব্রেইনের অস্ত্রপচার করার জন্য দিল্লির হাসপাতালে এক মাস থেকে গুয়াহাটিতে ফিরে আসার সময় শারদী শারদীয়া আমার জন্য নিয়ে এসেছিল বারাক অবামা-র আত্মজীবনী &ldquo;Dreams from My Father&rdquo;।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আমার একজন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু ইতিমধ্যে আমাকে কয়েকটি মূল্যবান বই উপহার দিয়েছেন এবং একটি অত্যন্ত বিখ্যাত বই আমার জন্য তিনি কিনে রেখেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু তার অনুমতি না-পাওয়ার জন্য আমি তার নামটা এবং বইটির নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত রইলাম।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;উপরের &ldquo;50 Philosophy Ideas&rdquo; নামে একটি বইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বইটিতে লেখক &lsquo;Ends and Means&rsquo; নামের অধ্যায়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। প্রশ্নগুলি নীচে দেওয়া হল। আপনারা সেই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে দেখুন তো। আপনারা কি উত্তর পান সে-কথা লিখিতভাবে আমাকে জানালে আমি &ldquo;আমার অসম&rdquo;-এ প্রকাশ করব। আমার অসমের পাঠকরা প্রচুর চিন্তার খোরাক পাবে। &amp;nbsp; ১) একশো কুড়িজন যাত্রী বহন করে নেওয়া একটি বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইঞ্জিনের বিচ্যুতি ঘটার ফলে বিমান দ্রুতগতিতে আকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে খসে পড়ছে। যে জায়গায় বিমান ভূপাতিত হবে সেই জায়গা একটি জনাকীর্ণ শহর। হাজার-হাজার মানুষ সেখানে বসবাস করে। ঠিক সেই জায়গায় বিমানটা পতিত হলে শত-শত বা হাজার-হাজার মানুষ প্রাণ হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাজার-হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা করার একটি মাত্র উপায় আছে বিমান আকাশে থাকতেই গুলি করে তাকে ধ্বংস করে দেওয়া। কিন্তু তা করতে গেলে একশো কুড়িজন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে জায়গাতেই মারা পড়বে। এখন আপনি কি করবেন? একশো কুড়িজন যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করবেন, না-কি হাজার মানুষের প্রাণ রক্ষা করবেন?&lt;/p&gt; &lt;p&gt;২) তিনজন রোগীর কথা ধরা যেতে পারে।একজন রোগী নিশ্চিতভাবে এক সপ্তাহের ভিতরে মারা যাবে। কিন্তু তার হার্ট এবং কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। অন্য একজন রোগীর জন্য দরকার হার্ট, সেখানে অপর একজনের দরকার একটি কিডনির। সেই দু&rsquo;টি না-পেলে দুইজন রোগী তিন-চার দিনের ভেতরে মারা যাবেন। তাদের হার্ট এবং কিডনি দান করার কেউ নেই। এখন যে-মানুষটির এক সপ্তাহের ভিতরে মারা যাওয়াটা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তার হার্ট এবং কিডনি কেটে এনে দু&rsquo;জন রোগীর গায়ে জোড়া লাগিয়ে দিলে তাদের প্রাণরক্ষা হওয়াটাও ১০০% নিশ্চিত। অবশ্য প্রথম রোগীটিকে প্রথমে মেরে ফেলতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি আপনাকে নিতে হয় আপনি কি সিদ্ধান্ত নেবেন?&lt;/p&gt; &lt;p&gt;৩) একজন জার্মান গেস্টাপো অফিসার দশটি শিশুকে বন্দি করে এনে অন্য একজন মানুষকে বলছে&mdash; &lsquo;আমরা খুঁজে বেড়ানো গুপ্তচরের নামটি এবং সে কোথায় লুকিয়ে আছে, সে কথা তুমি জান। তুমি যদি তার নামটা না-বল আর তার খবর না-দাও তাহলে আমি এই দশটি শিশুকে গুলি করে হত্যা করব।&rsquo;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;মানুষটা কিন্তু সত্যি সত্যি গুপ্তচরের নাম বা তার সম্পর্কে কিছুই জানত না। কিন্তু জানি না বললে গেস্টাপো অফিসারটি তাকে বিশ্বাস করবে না, এবং দশটি নিষ্পাপ &amp;nbsp;শিশুকে গুলি করে হত্যা করবে। এই রকম পরিস্থিতিতে শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য মানুষটা তার পরিচিত যে-কোনো একজন মানুষের নাম বলে দেওয়াটা উচিত হবে কি? নামটা বললে একজন নিরপরাধ মানুষ মরবে, নামটা না-বললে দশটা নিষ্পাপ শিশু মরবে। তার কী করা উচিত আপনি নিজে কি করবেন?&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আপনার কাছ থেকে এই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পেলে একই বই থেকে আমি আপনাদের আরও কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করব। প্রশ্নগুলির তাৎপর্য হল এই যে অনেক মানুষ জীবনে এই ধরনের উভয় সংকটের সম্মুখীন হয়। মহাভারতের ভাষায় ধর্ম সংকট। এই ধরনের নৈতিক উভয় সঙ্কট এক-একটি মানুষের হৃদয় বিদীর্ণ করে তাকে দিশাহারা করে তুলতে পারে। কয়েক বছর আগে এই বিভাগে প্রকাশিত উভয়সঙ্কট নামের একটি রচনায় আমি একটি সত্য কাহিনি লিখেছিলাম। আমি সরকারি চাকরি করতে থাকার সময় আমার পিয়ন হিসেবে কাজ করা একজন মানুষ এরকম একটি ধর্মসংকটের সম্মুখীন হয়েছিলেন। প্রসব যন্ত্রণায় মৃতপ্রায় হওয়া তার পত্নীকে অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তার তাকে জিজ্ঞেস করেছিল&mdash; &lsquo;মা এবং সন্তানের ভিতরে যে-কোনো একজনকে আমি বাঁচাতে পারব; কাকে বাঁচাতে হবে আপনি ঠিক করুন।&rsquo; কী মর্মন্তুদ প্রশ্ন! মানুষটিকে তো একটি সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কিন্তু তিনি যে-সিদ্ধান্তই নেন না-কেন, তা তাঁর অন্তরাত্মাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলবে না কি? জীবন কখনও ক্ষমাহীনভাবে নিষ্ঠুর হয়, আর তা মানুষকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে এভাবে নিষ্ঠুর পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিত : &lt;/strong&gt;&amp;nbsp;১৯৩২ সালে লক্ষ্মীমপুর জেলার ঢকুয়াখনায় হোমেন বরগোহাঞির জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালে কটন কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক। সাময়িকভাবে সরকারি চাকরি করে সাহিত্যচর্চা এবং পরবর্তীকালে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। &ldquo;নীলাচল&rdquo;, &ldquo;জনক্রান্তি&rdquo;, &ldquo;নাগরিক&rdquo;, &ldquo;অসম বাণী&rdquo; ইত্যাদি কাগজের সম্পাদনা করেন। &ldquo;পিতাপুত্র&rdquo; উপন্যাসের জন্য ১৯৭৭ সালে &ldquo;সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার&rdquo; লাভ করেন। &ldquo;আত্মানুসন্ধান&rdquo;, &ldquo;বিভিন্ন নরক&rdquo;, &ldquo;সুবালা&rdquo;, &ldquo;মৎস্য গন্ধা&rdquo;, &ldquo;সাউদর পুতেকে নাও মেলি যায়&rdquo; লেখকের অন্যতম গ্রন্থ। লেখকের ছোটো গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ এবং আত্মজীবনীমূলক &amp;nbsp;রচনা অসমিয়া সাহিত্যকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। &amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;অনুবাদক পরিচিতি :&lt;/strong&gt; ১৯৫৮ সালে অসমের নওগাঁ জেলার যমুনায় বাসুদেব দাস-এর জন্ম হয়। ১৯৮২ সালের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে ও ভাষাতত্ত্বের এমএ করেন। আজ পর্যন্ত অসমীয়া অনূদিত গল্পের সংখ্যা ৫০টিরও বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে সাহিত্য এবং অনুবাদ সম্পর্কে গবেষণাপত্র পাঠ করেছেন। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত সংস্থা NEINAD-এর পক্ষ থেকে অসমীয়া ভাষা সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের জন্য &ldquo;Distinguished Life Membership&rdquo;-এর দ্বারা সম্মানিত করা হয়। অনূদিত গ্রন্থ &ldquo;সওদাগরের পুত্র নৌকা বেয়ে যায়&rdquo;, &ldquo;নির্বাচিত অসমীয়া গল্প সংকলন&rdquo;, &ldquo;মহারাষ্ট্রীয় নবজাগরণ&rdquo;, &ldquo;কটন কলেজ&rdquo;, &ldquo;দুর্দিনের দস্তাবেজ&rdquo;, &amp;nbsp;&ldquo;অশ্বগন্ধা&rdquo; ইত্যাদি। মৌলিক গ্রন্থ : &ldquo;চিন্তাভাবনা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী&rdquo;।&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/three-questions-the-prose-wrote-by-homen-borgohain-translated-from-assamese-to-bengali-by-basudev-das-adab-qvd20g"/>
        </item>
        <item>
            <title><![CDATA[বিহার-বঙ্গ-ওড়িয়া-অসমিয়া অঞ্চলের সাহিত্যের এক আদি আধার চর্যাপদ, আর তা নিয়ে মনোজ্ঞ বিশ্লেষণে নন্দিতা]]></title>
            <link>https://bangla.asianetnews.com/magazine/this-analytical-study-of-the-pioneers-of-the-charyapada-in-bengali-literature-will-awe-you-qvpjtm</link>
            <guid isPermaLink="true">https://bangla.asianetnews.com/magazine/this-analytical-study-of-the-pioneers-of-the-charyapada-in-bengali-literature-will-awe-you-qvpjtm</guid>
            <pubDate>Sun, 04 Jul 2021 13:34:39 +0530</pubDate>
            <description><![CDATA[&lt;p&gt;চর্যার কবিরা ছিলেন পূর্ব ভারত ও নেপাল রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসী। কেউ পূর্ববঙ্গ, কেউ উত্তরবঙ্গ আবার কেউ-বা অধিবাসী। অনেকে বিহার, ওড়িশা, অসম বা কামরূপের বাসিন্দা ছিলেন। এরা ব্রাক্ষ্মণ, কায়স্থ, ক্ষত্রিয়, বণিক এমনকি অন্তজ শ্রেণি থেকেও এসেছিলেন।&lt;/p&gt;]]></description>
            <media:content url="https://static.asianetnews.com/images/w-1280,h-720,format-jpg,imgid-01f9r3sw9pvxagvz98hw5es2gv,imgname-whatsapp-image-2021-06-26-at-15-31-16-jpeg.jpg" type="image/jpeg" height="390" width="690"/>
            <content:encoded><![CDATA[&lt;p&gt;চর্যাপদ নামের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রসাত্বক অঙ্গন। চর্যাপদের সঙ্গে বাঙালির প্রথম পরিচয় সূত্রপাত বাঙালির যৌবনের বন্দরে। তারপর যুগে যুগে চর্যাপদের সম্পর্কে আগ্রহের প্রসঙ্গে উঠে এসেছে কৌতুহলী তথ্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চর্যাপদের কবি বা সিদ্ধাচার্যগণ মূলত বৌদ্ধ সহজনানী ও ব্রজনানী সম্প্রদায় ছিলেন। তিব্বতী ও ভারতীয় কিংবদন্তীতে এরাই &ldquo;চৌরাশি সিদ্ধা&rdquo; নামে পরিচিত। তবে এই ৮৪জন সিদ্ধাচার্য আসলে কারা ছিলেন সেই বিষয়ে সঠিক তথ্য আজও ধোঁয়াশা।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;চর্যার কবিরা ছিলেন পূর্ব ভারত ও নেপাল রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসী। কেউ পূর্ববঙ্গ, কেউ উত্তরবঙ্গ আবার কেউ-বা অধিবাসী। অনেকে বিহার, ওড়িশা, অসম বা কামরূপের বাসিন্দা ছিলেন। এরা ব্রাক্ষ্মণ, কায়স্থ, ক্ষত্রিয়, বণিক এমনকি অন্তজ শ্রেণি থেকেও এসেছিলেন। কেউ কেউ রাজবংশজাত ছিলেন, তবে এঁরা পূর্বাশ্রমের পিতৃপ্রদত্ত নাম ত্যাগ করেছিলেন বলে এঁদের জাতি স্থির করা যায় না। এঁরা হিন্দুধর্মের সনাতন প্রথা ও বেদের বিরোধিতা করতেন। এমনকি, আধুনিক গবেষকদের মতে অনেকে সাধনার নামে গোপনে যৌনাচার করতেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;আবিষ্কৃত পুঁথিতে পঞ্চাশটি চর্যায় মোট চব্বিশজন সিদ্ধাচার্যের নাম পাওয় যায়। এক্ষেত্রে আশ্চর্যভাবে জৈনধর্মের চব্বিশজন তীর্থঙ্করের নামের কথাও মনে পড়ে গেল। প্রথম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের মতো লুই পা ছিলেন গবেষকদের মতে আদি সিদ্ধাচার্য। বহুল জনপ্রিয় সিদ্ধাচার্য হলেন কুক্কুরী, বিরসা, কাহ্ন ইত্যাদি। ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী আবিষ্কৃত তিব্বতী অনুবাদ অনুসারে মনে করেন, প্রত্যেকটি ছদ্মনাম ও ভনিতার শেষে তারা পা কথাটি সম্ভববাচক অর্থে ব্যবহার করতেন।&amp;nbsp; &amp;nbsp; &lt;strong&gt;লুই পা : &lt;/strong&gt;সম্ভবত লুই পা ছিলেন চর্যাপথের পথিকৃৎ। চর্যাপদের ১৩ ও ২৯ নম্বর পদদু&rsquo;টি তাঁর রচিত। তিনি ছিলেন সিংহলদ্বীপের এক রাজার দ্বিতীয় সন্তান। &ldquo;চতুরাশিতিসিদ্ধ&rdquo; প্রভৃতি গ্রন্থের মতে, লুই পাদের পিতা তাঁকে রাজ্য-শাসনের দায়িত্ব দিতে চাইলেও তিনি বোধিলাভের উদ্দেশ্যে নিজের রাজ্য ছেড়ে বুদ্ধগয়ায় চলে আসেন। মগধে একজন ডাকিনী তাকে বোধিলাভের জন্য রাজরক্তের অভিমান ভুলে যাওয়ার উপদেশ দিতে তিনি বারো বছর শুধুমাত্র নিজের রাজ্য ছেড়ে বুদ্ধগয়ায় চলে আসেন। এই কারণে তিনি &ldquo;মৎস্যোন্মাদ&rdquo; নামে পরিচিত হন। মগধের রাজা ইন্দ্রপাল ও তাঁর ব্রাক্ষ্মণমন্ত্রী দারিক পা ও দেজি পা নামে দুইজন তাঁর শিষ্যতে পরিণত হন। তাঞ্জুর তালিকায় তাঁর নামে যে-গ্রন্থগুলির উল্লেখ পাওয়া যায়, তার সবগুলি বৌদ্ধদর্শনসংক্রান্ত। &ldquo;দোঁহাকোষ&rdquo; ও &ldquo;গীতিকা&rdquo; বাদে তিনি লিখেছেন : &lt;strong&gt;১) ভগবদভিসময় ২) অভিসময়বিভঙ্গ ৩) বুদ্ধোদয় ৪) বজ্রতত্বসাধন&lt;/strong&gt; &amp;nbsp; &amp;nbsp;লুই পা-র রচিত দু&rsquo;টি গান হল : &lt;strong&gt;১) কা আ তরুবর পঞ্চ বি ভাল ২) ভাব ন হোই অভাব ন জাই&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;বৌদ্ধধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলি রচনা করেছেন। বঙ্গে সাধন সংগীত শাখাটির সূত্রপাত হয়েছিল এই চর্যাপদ থেকেই। সে-বিবেচনায় একে ধর্মগ্রন্থজাতীয় রচনায় আখ্যায়িত করা যেতেই পারে। &amp;nbsp; &lt;strong&gt;কাহ্ন পা : &lt;/strong&gt;&amp;nbsp; চর্যার পুঁথিতে সর্বাধিক সংখ্যক পদের রচয়িতা কাহ্ন পা। তিনি কৃষ্ণাচার্য, কৃষ্ণপাদ ও কৃষ্ণবজ্র নামেও পরিচিত। পুঁথিতে তাঁর রচিত মোট এগারোটি পদ পাওয়া যায়। ইনি ছিলেন ওড়িশি ব্রাক্ষণ। মাসিক জলন্ধরী পাদের শিষ্য ছিলেন তিনি। তিনি সোম্পুর মহাবিহারে সাধনা করতেন। এছাড়াও &lsquo;হে ব্রজ&rsquo;, &lsquo;সমান্তক&rsquo; প্রভৃতি তন্ত্রসাধনার ওপর ৭০টি গ্রন্থ রচনা করেন। ১৩ ও ১৮ নং পদে তার বিবাহের সংবাদ মেলে। &amp;nbsp; &lt;strong&gt;কুক্কুরী পা :&lt;/strong&gt; চর্যাপদের আদিকবি লুই পাদের শিষ্যা ছিলেন কুক্কুরী পা। গবেষকদের মতে তিনিই একমাত্র মহিলা কবি। তাঁর শিষ্যরা ছিলেন ডোম্বী পা ও বিরু পা। রাহুল সংকীর্তায়নের মতে, কুক্কুরী পা লুম্বিনী নামে এক শিষ্যার কাছে মহামুদ্রাসিদ্ধী লাভ করেন। এই সাধিকা পূর্বে কুক্কুরী ছিলেন, তাই তিনি &ldquo;কুক্কুরী পা&rdquo; নামগ্রহণ করেন। অন্যদিকে পণ্ডিত তারানাথের মতে, এই কবির সাথে কুক্কুরী সবসময় থাকত, তাই তাঁর নাম হয়েছিল &ldquo;কুক্কুরী পা&rdquo;। অন্যদিকে ডক্টর সুকুমার সেনের মতে কুক্কুরী পাদের ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার অনেক মিল আছে, তাই তিনি নারীও হতে পারেন। তাঁর চর্যাগুলি হল : &lt;strong&gt;১) দুহি দুহি পীড়া ধরন জাই ২) হউ নিরাসী খমন ভতারী ৩) কুলিশ-ভর-নিদ-বি-আপিল&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt; &lt;strong&gt;তথ্যসুত্র : &lt;/strong&gt;১) চর্যাগীতিকা, মহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার সম্পাদিত &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; &amp;nbsp; ২) আদিপর্ব, নীহাররঞ্জন রায়&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;লেখক পরিচিতি :&lt;/strong&gt; নন্দিতা দাস বসু মূলত গৃহবধু হলেও সংসারের যাবতীয় কাজ সামলে লেখালেখি চালিয়ে যান। তাঁর প্রিয় বিষয় প্রবন্ধ রচনা। বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিটিল ম্যাগাজিনে লেখালেখি করেন।&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;img&gt;&lt;/p&gt; &lt;p&gt;&lt;strong&gt;সংকলনা-&lt;/strong&gt; জয় ভদ্র, &quot;হরপ্পা&quot;, &quot;হাজার শতাব্দীর রূপকথা অথবা রাজনৈতিক বিষণ্ণতা&quot;, &quot;ইডিকেস&quot;-এর মতো বইয়ের লেখক তিনি, নয়ের দশকের শেষ লগ্ন থেকে লেখালেখি শুরু। &quot;হরপ্পা&quot; অনূদিত হয়েছে হিন্দি ভাষায়। এছাড়াও তার ছোটগল্পগুলো একসময় হিন্দি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ছিলেন এক বিশেষ পত্রিকার কার্যকরী সম্পাদক। একটা সময় &amp;nbsp;মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যকর্ম। এই মুহূর্তে পুরোপুরি সাহিত্যেই মনোনিবেশ করেছেন। গল্প, উপন্যাস যেমন তাঁর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র তেমনি পুস্তক সমালোচনা এবং নাট্য-সমালোচক হিসাবেও সমাদৃত হয়েছেন।&lt;/p&gt;]]></content:encoded>
            <category>Magazine</category>
            <dc:creator>Asianet News Bangla</dc:creator>
            <atom:link href="https://bangla.asianetnews.com/magazine/this-analytical-study-of-the-pioneers-of-the-charyapada-in-bengali-literature-will-awe-you-qvpjtm"/>
        </item>
    </channel>
</rss>
