কোভিড বিশ্বে অবশেষে দারুণ খবর দিল মার্কিন ওষুধ নির্মাতা ফাইজার। সোমবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়োএনটেক-এর সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত তাদের ভ্যাকসিনটির তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে তা কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকর। অন্যান্য অনেক কোভিড ভ্যাকসিন প্রার্থীর মতোই এই ফাইজারের ভ্যাকসিন-টিরও দুটি ডোজ দিতে হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, প্রথম ডোজের ২৮ দিন এবং দ্বিতীয় ডোজেয় সাত দিন পর থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে কোভিডের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা তৈরি হতে দেখা গিয়েছে।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফাইজার সংস্থার চেয়ারম্যান তথা সিইও অ্যালবার্ট বাউরলা বলেছেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিনটি সক্ষম তার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে ফেজ ৩ ট্রায়ালের ফলাফলের প্রথম সেটটি থেকেই। বিশ্বব্যাপী এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের অবসান ঘটানোর এক 'গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ'-এর খুব কাছাকাছি পৌঁচে গিয়েছে ফাইজার ও বায়োএনটেক বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে সময়মতোই এই গুরুতর মাইলফলকে মাইলফলকে পৌঁছেছেন তাঁরা।

ভারতে গত অক্টোবর থেকে কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বিশ্বের বেশিরভাগ অংশেই এখনও দারুণ দাপট দেখাচ্ছে এই মহামারি। প্রায় এক বছর ধরে এই মহামারির কারণে সঙ্কটে বিশ্ব অর্থনীতি। বস্তুত মানব সভ্যতার ইতিহাসেই এমন বিশ্বব্যপী মহামারি আগে কখনও দেকা যায়নি। গোটা বিশ্বেই বিভিন্ন দেশে এখন টিকা তৈরির কাজ চলছে। অন্তত ৪০টি ক্ষেত্রে ভালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হু। তারমধ্যে অন্তত ৬টির শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। তার মধ্যেই অন্যতম ফাইজার ও বায়োএনটেক-এর তৈরি এই ভ্যাকসিন প্রার্থীটি।

তবে ভ্যাকসিন আবিষ্কারই শেষ কথা নয়। প্রচুর পরিমাণে সেই ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সর্বোচ্চ মানুষের কাছে তা সরবরাহ করাটাও দারুণ বড় চ্যালেঞ্জ। ফাইজার ও বায়োএনটেক-এর অনুমান, ২০২০ সালের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী তারা অন্তত ৫ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ এবং ২০২১ সালে ১৩০ কোটি ডোজ সরবরাহ করতে পারবে। আমেরিকার সরকার ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মতো বেশ কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য ফাইজারের সঙ্গে চুক্তি করেছে।