রামায়ণে কুম্ভকর্ণের নাম শুনলেই আমাদের মনে পড়ে তাঁর দীর্ঘ ঘুম আর খাওয়ার কথা। কিন্তু তাঁর এই একটানা ঘুমের পিছনে একটা বড় রহস্য লুকিয়ে আছে!
রাবণ, কুম্ভকর্ণ এবং বিভীষণ—তিন ভাই ব্রহ্মাকে তুষ্ট করতে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তাঁদের ভক্তিতে খুশি হয়ে ব্রহ্মা প্রকট হন এবং বর চাইতে বলেন।
কুম্ভকর্ণের শক্তি দেখে দেবতারা ভয় পেয়ে যান। দেবরাজ ইন্দ্রের মনে ভয় জাগে, কুম্ভকর্ণ যদি বরে 'ইন্দ্রাসন' (ইন্দ্রের সিংহাসন) চেয়ে বসেন, তাহলে স্বর্গলোক তাঁর দখলে চলে যাবে।
ইন্দ্রের অনুরোধে বিদ্যার দেবী সরস্বতী অদৃশ্য রূপে কুম্ভকর্ণের জিভে বসেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, কুম্ভকর্ণ যখন বর চাইবেন, তখন তাঁর কথা ঘুরিয়ে দেওয়া।
কুম্ভকর্ণ 'ইন্দ্রাসন' চাইবার জন্য মুখ খুলতেই দেবী সরস্বতীর প্রভাবে তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে 'নিদ্রাসন' (ঘুম) শব্দটি। ব্রহ্মা সঙ্গে সঙ্গে 'তথাস্তু' বলে দেন।
ভাইয়ের প্রতি এই অবিচার দেখে রাবণ ব্রহ্মার কাছে বর ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু একবার দেওয়া বর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।
ব্রহ্মা বরের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দেন। তিনি বরটি পরিবর্তন করে বলেন, 'কুম্ভকর্ণ ছয় মাস ঘুমাবে এবং মাত্র একদিনের জন্য জেগে থাকবে'।
কুম্ভকর্ণ যদি প্রতিদিন জেগে থাকতেন, তবে তাঁর খিদে মেটাতে গিয়ে গোটা জীবজগৎ শেষ হয়ে যেত। অজান্তে পাওয়া এই ঘুমের বর আসলে পৃথিবীর মঙ্গলই করেছিল।