ফিলিপিন্সের একটি নতুন গবেষণা বলছে, বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলিতেই শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। যদিও দেশটি তার উষ্ণ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার জন্যই পরিচিত।
ফিলিপিন্সে শিলাবৃষ্টি খুব একটা হয় না। তাই এমন ঘটনা ঘটলে মানুষ অবাক হয়ে যায়। অনেকেই কৌতূহল থেকে ছবি বা ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন।
এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিলাবৃষ্টি হয়েছিল নুয়েভা এসিজা প্রদেশে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের ৮ মে। সে দিন পড়া কিছু বরফ খণ্ডের আকার ছিল গল্ফ বলের চেয়েও বড় (৫ সেমি)।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, গরম আবহাওয়াই শিলা তৈরিতে সাহায্য করে। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা গরম বাতাস দ্রুত উপরে উঠে যায় যেখানে সেটি বরফে পরিণত হয়।
ঊর্ধ্বমুখী বাতাস জলকণাকে জমে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট উঁচুতে নিয়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের মাঝের স্তরে থাকা শুষ্ক বাতাস শিলাকে দ্রুত নীচে পড়তে সাহায্য করে এবং মাটিতে পড়ার আগে গলতে দেয় না।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফিলিপিন্সের শুষ্ক মৌসুমে, অর্থাৎ মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে শিলাবৃষ্টি বেশি হয়। এই সময়ে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে।
বেশিরভাগ শিলাবৃষ্টির ঘটনা দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে এবং বায়ুমণ্ডল সবচেয়ে অস্থির থাকে, যা ঝড় তৈরির জন্য আদর্শ পরিস্থিতি।
সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি শিলাবৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে লুজন দ্বীপে। তবে স্থানীয় আবহাওয়ার কারণে ভিসায়াস এবং মিন্দানাও অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে বড় আকারের শিলা বেশি দেখা গেছে।
এই গবেষণাটি ফিলিপিন্সে শিলাবৃষ্টি নিয়ে প্রথম দীর্ঘমেয়াদী এবং বিস্তারিত সমীক্ষা। এতে ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে শিলাবৃষ্টি এবং অন্যান্য বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা আরও সাধারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে স্থানীয় মানুষদের নতুন নতুন ঝুঁকির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
গবেষকরা সুপারিশ করেছেন যে, শুধুমাত্র টাইফুন বা বন্যার মতো দুর্যোগ নয়, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো এবং ওয়াটারস্পাউটকেও (জলস্তম্ভ) দুর্যোগ মোকাবিলা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বিজ্ঞানীরা আরও শক্তিশালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: Phys.org। গবেষণাটি এশিয়া-প্যাসিফিক জার্নাল অফ অ্যাটমোস্ফিয়ারিক সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত হয়েছে।