মূলত গাছপালা-নির্ভর খাবারে ঝুঁকলে বছরে প্রায় দেড় কোটি মানুষের মৃত্যু আটকানো সম্ভব। ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যার মতো রোগ কমবে, ফলে বাঁচবে বহু প্রাণ।
খাদ্যাভ্যাস বদলালে কৃষিক্ষেত্র থেকে দূষণ ১৫% পর্যন্ত কমতে পারে। বিশেষ করে ধনী দেশগুলিতে রেড মিট ও দুগ্ধজাত খাবারের ব্যবহার কমলে জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে সুবিধা হবে।
‘প্ল্যানেটারি হেলথ ডায়েট’ অনুযায়ী, বেশি করে শস্য, ফল, সবজি, বাদাম ও ডাল খাওয়া উচিত। প্রাণীজ প্রোটিন অল্প পরিমাণে এবং রেড মিট সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।
খাদ্য ব্যবস্থার সংস্কার না হলে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। দূষণহীন শক্তি ব্যবহার করেও লাভ নেই। কারণ খাবার সরাসরি জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য এবং খাদ্য সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত।
খাবার একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং আমাদের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত। কঠোর ডায়েটের কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান। ছোট পরিবর্তনও স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বর্তমান খাদ্য ব্যবস্থা জীববৈচিত্র্য, জলের গুণমান, জমির ব্যবহার এবং দূষণের মতো সমস্যা বাড়াচ্ছে। এর ফলে পৃথিবী পরিবেশগতভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই রিপোর্টটি দেখিয়েছে কীভাবে চাষের পদ্ধতি, কর্মীদের অবস্থা এবং আমাদের খাওয়ার অভ্যাস একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, গোটা খাদ্য শৃঙ্খলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ধনী দেশগুলিতে শুধু গরুর মাংস ও ভেড়ার মাংস খাওয়া কমালেই যে পরিমাণ দূষণ কমবে, তা রাশিয়ার মোট বার্ষিক দূষণের সমান। খাদ্যাভ্যাসের সামান্য পরিবর্তনেই এত বড় প্রভাব সম্ভব।
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর খাবার, ন্যায্য কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সংখ্যালঘু, আদিবাসী, নারী, শিশু এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
বিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রনেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।
গবেষণাটি দেখায় যে মানুষের স্বাস্থ্য এবং পৃথিবীর স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তাই ভালো খাবার খেলে নিজের শরীর এবং পৃথিবী, দু'য়েরই মঙ্গল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য খাদ্য ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশ্ব ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে। বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তনের জন্য চাপ বাড়ছে।
Phys.org-এ আরও পড়ুন। গবেষণা: EAT-Lancet Commission।