বাঁকালেই বরফ থেকে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ
আইসিএন২ (ICN2) এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বরফ বাঁকালে বা অসমানভাবে চাপ দিলে তা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয়।
বরফ আসলে একটি ফ্লেক্সোইলেকট্রিক পদার্থ। এর মানে হল, যান্ত্রিক চাপ দিলে এটি বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি করে। এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি আবিষ্কার।
আইসিএন২-এর ডক্টর জিন ওয়েন জানিয়েছেন, এই গবেষণায় দেখা গেছে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সব তাপমাত্রাতেই বরফ বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে।
বরফের পৃষ্ঠতল অনেকটা চুম্বকের মতো কাজ করে, যা বৈদ্যুতিক চার্জ উল্টে দিতে পারে। এটি দেখায় যে বরফ ফ্লেক্সোইলেকট্রিসিটি এবং ফেরোইলেকট্রিসিটি—এই দুইভাবেই বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত টাইটানিয়াম ডাই অক্সাইডের মতো কিছু উন্নত পদার্থের মতোই আচরণ করে বরফ। এই ধরনের পদার্থ সাধারণত সেন্সর এবং ক্যাপাসিটরে পাওয়া যায়।
এই আবিষ্কারের ফলে বজ্রঝড়ের সময় বরফের কণাগুলো কীভাবে বৈদ্যুতিকভাবে চার্জড হয় এবং তার ফলে কীভাবে বজ্রপাত ঘটে, তা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
চার্জযুক্ত বরফের কণাগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হলে বৈদ্যুতিক বিভব বা পটেনশিয়াল তৈরি হয়, যার ফলে বজ্রপাত ঘটে। এই চার্জিং প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি হতে পারে ফ্লেক্সোইলেকট্রিসিটি।
আইসিএন২-এর অধ্যাপক গুস্তাউ কাতালান জানিয়েছেন, তাঁদের দল বরফ বাঁকানোর ফলে তৈরি হওয়া বৈদ্যুতিক বিভব মেপেছে। এটি ঝড়ের মেঘে বরফের সংঘর্ষের প্রভাবের সঙ্গে মিলে যায়।
বরফের এই ফ্লেক্সোইলেকট্রিসিটি ধর্ম কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে এমন নতুন ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি করতে পারেন, যা বরফকে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে ঠান্ডার জায়গায় কাজ করবে।
এই আবিষ্কার গবেষণার নতুন পথ খুলে দিয়েছে। এর ফলে প্রকৃতির বিস্ময়ের সঙ্গে ইলেকট্রনিক্স এবং আবহাওয়া বোঝার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সম্ভাবনা মিলেমিশে গেছে।
ফিজ ডট অর্গ (Phys.org)-এ এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত পড়তে পারেন। গবেষণাটি নেচার ফিজিক্স (Nature Physics) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।