রবিবার ব্রিগেডে সবথেকে জোরাল কন্ঠ তুললেন আব্বাস সিদ্দিকি। মঞ্চে উঠেই তিনি বলেছেন, ' আমরা ভারতবাসী, আমরা গর্বিত।' জাতীয় ঐক্যের সুর টেনে কবি নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, নেতাজীর উদাহরণ টেনে শুরু করলেন বক্তব্য। এদিন তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোকে তোপ দেগে বলেছেন, 'বিজেপির বি টিম মমতার দল। মমতাকে জিরো করে দেখিয়ে দেব বলে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন আব্বাস। মূলত  ২০২১ এর নির্বাচনের আগে বামেদের ভোট প্রচারের সবথেকে বড় সুযোগ ব্রিগেডের সভা। শক্তি দেখাতে উপস্থিত আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সমর্থক এবং   সব জেলা থেকে কর্মীদের হাজির করেছে কংগ্রেসও।

আরও পড়ুন, 'তোমরা নও, নেতাজির উত্তরাধিকারী আমরা সবাই', ব্রিগেডে পরাক্রম দিবস ইস্যুতে মোদীকে নিশানা বাঘেলের 

 

 এদিকে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে রবিবার কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে বাম নেতারা ব্রিগেডের রাজকীয় সমাবেশে। এমন অবস্থায় কয়েকটি তথ্য নজরে উঠে আসছে।আব্বাস শিবির ডেডলাইন দিয়েছিল ব্রিগেড সমাবেশের আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তার মধ্যে জোটে আসন ছাড়া নিয়ে কংগ্রেসকে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে দিতে বলা হয়েছিল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের তরফে। যা ব্রিগেডের আগের রাতে হয়নি। তবে আসন রফা অধরা রেখেই এদিন ব্রিগেড সমাবেশে বামেদের সঙ্গে থাকবে কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকর আইএসএফ। সেই জায়গা থেকে রবিবারের সমাবেশ তাৎপর্য রাখছে। বিশেষ করে সেই পারদ আরও চড়ল আব্বাসের ব্রিগেডে বক্তব্য রাখার পরেই।

আরও পড়ুন, সেলিমের বক্তব্যেও এল 'ভাইপো', ব্রিগেডের জনসভা থেকেই রাজ্যে চাকরির প্রতিশ্রুতি বাম নেতার 


এদিকে শুক্রবার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই সাংবাদিক সম্মেলন ডাকে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট। সেখানে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী নিজে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, আইএসএফ-এর দাবি ছিল ৭০ থেকে ৮০টি আসন তাদের ছাড়তে হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে একটা রফাসূত্রে আসা গিয়েছে। বামেরা ৩০টি আসন ছেড়েছে। আরও চার থেকে পাঁচটা আসন তারা ছাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর কংগ্রেস যদি ২৫টা বা তার আশপাশে কোনও সংখ্যক আসন ছাড়ে তাহলে ৭০ সংখ্যার কাছাকাছি থাকা যাবে। কিন্তু যেখানে উত্তরবঙ্গ নিয়ে এখনও কোনও আসন রফাই হল না আইএসএফ-এর সঙ্গে কংগ্রেসের- সেখানে তাহলে পুরো রাজ্যে জোট হচ্ছে কী করে, এমন প্রশ্নের উত্তরে আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে শুধু জোট হবে আর উত্তরবঙ্গে হবে না, এমন কোনও বিষয় নয়। উত্তরবঙ্গ নিয়ে আলোচনা চলছে দাবি করেছে আইএসএফ।