দিল্লি থেকে ঘোষণা করা হয়েছে প্রার্থী তালিকা। কিন্তু বাংলা ভোটের ইস্তেহার প্রকাশ হবে কলকাতা থেকে। আর তা প্রকাশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বিজেপির রাজ্যের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, আগামী ২১ মার্চ অর্থাৎ রবিবার কলকাতা থেকে বিজেপির ইস্তেবার প্রকাশ করবেন অমিত শাহ। 


বুধাবারই ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে কর্মসংস্থার, বিধবাভাতা সহ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এবার দেখার বিষয় কী কী ভোট যুদ্ধে কোন কোন বিষয়গুলিকে ইস্যু করতে চলেছে বিজেপি। 

সূত্রের খবর তৃণমূল কংগ্রেসের মতই বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে জোর দেওয়া হতে পারে কর্মসংস্থানের ওপর। একের পর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটনের কথা বলছেন। তা থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে রাজ্যের ধর্মীয় পীঠস্থানগুলিকে। সেগুলিকে আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে তৈরি করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠন মন কি বাত-এ একাধিকবার ভারতর পর্যটন শিল্পের ওপর জোর দিয়েছেন। আত্মনির্ভর ভারত গঠনের মত আত্মনির্ভর বাংলা তৈরির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। 

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসর বিরুদ্ধে বিজেপির ছোট বড় সকল নেতাই হাতিয়ার করেছেন সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি, তোলাবাজি। বিজেপির অভিযোগ  এই রাজ্যে তৃণমূলের জমানায় এইগুলি শিল্পে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাই দুর্ণীতির সঙ্গে যুক্ত। আর সেই কারণেই গেরুয়া শিবির তাদের ইস্তেহারে এই দুটি সিন্ডেকেটরাজ, কাটমানি ও তোলাবাজির সমাপ্তি করার ডাক দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। পাশাপাশি দূর্ণীতি মুক্ত সরকার দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে বলে আশা করেছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি তোলাবাজি, কাটমানি নিয়ে তদন্তের নির্দেশেরও প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। একই সঙ্গে সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ডকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হতে পারে। 
 

বিজেপির ইস্তেহারে শিক্ষা ও শিল্প ক্ষেত্রেও বিশেষ নীতি গ্রহণের কথা থাকতে পারে। বিজেপি সূত্রের খবর উচ্চ শিক্ষায় আরও জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত রাজনৈতিকরণ রোধে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জাতীয়তাবাদ তুলে ধরার ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। রাজ্যের ভোট প্রচারে এসে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন পূর্বতম বাম ও বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এই রাজ্য শিল্পের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে শিল্পের ওপরেও জোর দেওয়া হতে পারে ইস্তেহারে। তাকতে পারে চাকরির প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হতে পারে ইস্তেহারে।