সোমবার, বিজেপি যুব মোর্চার উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রর চেহারা নিল শিলিগুড়ি শহর। তিন বাত্তি মোড়-এর কাছে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে আগুন ধরিয়ে দিলেন বিজেপি কর্মীরা। তারপরই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট-পাথর ছোঁড়া শুরু হয়। পুলিশও পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল, জলকামান ব্যাবহার করা হয়। করা হয় মৃদু লাঠিচার্জও। আটক করা হয়েছে অভিযানে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজনকে।  

এদিন, যুব মোর্চার অভিযোন হলেও এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতারাই। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য, রাজ্যের নেতা সায়ন্তন বসু, আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা প্রমুখের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপি কর্মীরা শিলিগুড়ির তিন বাত্তি মোড়ে এসে জড়ো হয়েছিলেন। সেখান থেকেই উত্তরকন্যা-কে ঘিরে তিন স্তরীয় ব্যারিকেড তৈরি করেছিল পুলিশ। মাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়, পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তাই সেখানে কোনও জমায়েত কর যাবে না।

বিজেপি নেতারা সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আগমনের অপেক্ষা করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই আচমকা বিজেপি কর্মীরা, ইস্পাতের তৈরি প্রথমদুটি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। প্লাইউড দিয়ে তৈরি তৃতীয় ব্যারিকেডও ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই জলকামান ব্যবহরা করা শুরু করে পুলিশ। তাতে প্রাথমিকভাবে বিজেপির যুব কর্মীরা পিছিয়ে গেলেও, তারপর আবার মহিলা কর্মীরা এগিয়ে আসেন। এরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বল প্রয়োগ করা শুরু হয়। জলকামানের সঙ্গে মুহুর্মুহূ কাঁদানে গ্যাসের গোলা ছোঁড়া হয়। করা হয় লাঠিচার্জও। পুলিশ কর্মীদের রীতিমতো বিজেপি কর্মীদের দিকে তাড়া করে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।  

বেশ কযেকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এক কর্মী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মারাও গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষেও বেশ কয়েকজন কর্মীর মাথা ফেটেছে, গুরুতর জখম হয়েছেন। সেইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে পাড়ায় ঢুকে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে। বেশ কিছু স্থানীয় দোকানদার পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। এলাকায় পুলিশের বিশাল বাহিনী অবস্থান করছে। পরিস্থিতি এখনও থমথমে।