বুধবার নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে আহত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই সেই ঘটনা কোনো হামলা ছিল না নিছকই দুর্ঘটনা, তাই নিয়ে বিতর্ক চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূলের দাবি, এটা পরিকল্পিত হামলা, বিরোধীরা বলছে 'নাটক'-'ভন্ডামি'। এরই মধ্যে বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিল পুলিশ।

'দ্য প্রিন্ট'-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে পুলিশ যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতে নন্দীগ্রামের ওই ঘটনাকে 'একটি দুর্ঘটনা' বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি 'আক্রমণ নয়' এমনটাই বলা হয়েছে। পুলিশের সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ এবং উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য, স্থানীয় পুলিশ এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শুনেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি নন্দীগ্রামের একটি জনাকীর্ণ বাজার এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। সেইসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়ির দরজা খুলে আশপাশের মানুষদের দিকে হাত নাড়ছিলেন। ওই অবস্থায় সংকীর্ণ রাস্তায় তাঁর গাড়ি একটি স্তম্ভতে ধাক্কা মারে। তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির খোলা দরজাটি সজোরে এসে তার পায়ে পর এসে পড়ে। আর তাতেই আহত হন তৃণমূল নেত্রী, এমনটাই বলা হয়েছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলে দাবি করেছে 'দ্য প্রিন্ট'।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনার পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য অভিযোগ করেছিলেন, চার-পাঁচজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল এবং আর পায়ের উপর তাঁর গাড়ির দরজায় ধাক্কা মেরে বন্করে দিয়েছিল। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর আদেশে রাজ্যের পূর্বতন ডিজিপিকে সরিয়ে নতুন ডিজিপি নিয়োগ করার কয়েক ঘন্টা পরই নন্দীগ্রামের ওই ঘটনা ঘটে। তৃণমূল কংগ্রেস এই দুই ঘটনাকে মিলিয়ে - ডিজিপি অপসারণ থেকে নন্দীগ্রামে 'মমতার উপর আক্রমণ' - পুরোটাই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছে।

রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়ানের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল, নির্বাচন কমিশনের কাছে, ঘটনাটিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হত্যার 'গভীর চক্রান্ত' বলে অভিযোগ করেছে। অপর দিকে মমতা বন্দ্যোাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট তথা নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশও এই বিষয়ে একটি মামলা রুজু করেছে।