পরণে সিল্কের সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি। আর তার উপরে একটা পাতলা চাদর। একেবারে আদ্যন্ত বাঙালি পোশাকে বেলগাছিয়ার বাড়ি থেকে ব্রিগেডের পথে রওনা দিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। একেবারে ব্রিগেডের নরেন্দ্র মোদীর মূল মঞ্চেই থাকবেন তিনি, এমনটাই জানা গিয়েছে। গত তিন-চারদিন ধরেই, মিঠুন চক্রবর্তীর ব্রিগেডে উপস্থিত থাকা নিয়ে জল্পনা ছিল। শনিবার রাতেই নিঠুনের সঙ্গে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের সাক্ষাতে জল্পনার অবসান হয়েছিল।

এদিন মিঠুন চক্রবর্তীকে ব্রিগেডে আনার জন্য দুটি গাড়ি পাঠান বিজেপি নেতারা। প্রথম গাড়িতে রয়েছেন মিঠুন ও তাঁর সঙ্গীরা। আর পিছনের গাড়িতে রয়েছে নিরাপত্তা কর্মীরা। কিন্তু, কতক্ষণে তিনি ব্রিগেডে পৌঁছতে পারবেন, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, কলকাতার রাস্তার বহু জায়গাতেই বিজেপি কর্মীদের বাস-টেম্পোর ঝিড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বেলগাছিয়া থেকে বেরিয়ে বৌবাজার আটকে যায় তাঁর দুই গাড়ির কনভয়। আর রাস্তায় তাঁকে দেখেই ঘিরে ফেলেন উচ্ছ্বসিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। যার কারণে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য পথ ধরতে হয় তাঁকে।

 তৃণমূলের প্রধান নির্বাচনী স্লোগান - 'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়'-এর মধ্যেও তার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু, একেবারে প্রথম থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একের পর এক সভায় দাবি করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীই হবেন। আর এবার যা শোনা যাচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত সত্যি হলে, ফিল্মের পর এবার বাস্তবেই বাংলার মসনদে বসতে পারেন 'এমএলএ ফাটাকেষ্ট'। এই আদ্যপান্ত বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতাকে, আর যাইহোক, 'বহিরাগত' বলতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ব্রিগেডে উপস্থিতি তাঁর নিশ্চিত। তবে, এদিনই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন কি না, তাঁকেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে তুলে ধরা হয় কি না - এবার জনতার চোখ সেইদিকেই।