মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চিঠিতে মুকুলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিধানসভার সচিবালয়ে চিঠি জমা পড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত চিঠি হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন- রাজ্যপালের অপসারণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তরে জয়ী হন মুকুল রায়। কিন্তু, তারপরই দলের মধ্যে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। দলীয় বৈঠকেও যোগ দিচ্ছিলেন না তিনি। তখন থেকেই বাড়ছিল তাঁর দলবদলের জল্পনা। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বিজেপি থেকে আরও খানিকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। তারপরই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ছেলে শুভ্রাংশ রায়কে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন হয় মুকুলের। 

কিন্তু দলত্যাগের পর তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে বার বার সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারই এনিয়ে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু, তারপরেও বিধায়ক পদ থেকে সরে আসননি মুকুল। তবে কার্যত হাল ছাড়তে নারাজ শুভেন্দু। এরপর মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, তিনি যে সময় বিধানসভায় গিয়েছিলেন তখন স্পিকার ছিলেন না। তাই স্পিকারের হাতে চিঠি তুলে দিতে পারেননি তিনি। তবে সাধারণত অধ্যক্ষ না থাকলে রিসিভিং বিভাগের যে কেউ চিঠি নিতে পারেন। কিন্তু, সেই সময় ওই বিভাগেও কেউ ছিলেন না। ফলে চিঠি জমা দিতে পারেননি শুভেন্দু। 

আরও পড়ুন- ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের, 'নন্দীগ্রাম'-এর বিচারককে নিয়ে প্রশ্ন মহুয়ার

এছাড়া মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন প্রয়োগের ব্যাপারে কয়েকদিন ধরেই সরব শুভেন্দু। মুকুল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর শুভেন্দু বলেছিলেন, কীভাবে দলত্যাগ বিরোধী আইন রূপায়ন করতে হয়, তা তাঁর জানা আছে। মুকুল রায় নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে তিনি এই আইন রূপায়নের পথে হাঁটবেন। এদিকে গতকালের পর আজ ফের আবেদনপত্র নিয়ে বিধানসভায় যান শুভেন্দু। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেই চিঠি বিধানসভার সচিবালয়ে জমা পড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত চিঠি হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন বিমানবাবু।