গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন আরামবাগের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল খাঁ। মাথা ফাটল তাঁর। এক গ্রামে ঢুকতেই গ্রামবাসীদের চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বাঁশ হাতে তাঁকে তাড়া করেন গ্রামবাসীরা। কার্যত মাঠের মধ্য দিয়ে পালাতে হয় তাঁকে। তবে সুজাতা-র অভিযোগ, বিজেপি ওই গ্রামের বুথটি দখল করেছে। আপাতত তিনি গ্রামের বাইরে পথেই অবস্থানে বসেছেন। তাঁর অভিযোগ বিজেপির হামলায় তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে।  

আরামবাগের ওই বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্ট বসতে দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ পেয়েই ওই স্থানে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন সুজাতা। তিনি বুথে ঢুকতে চাইলে বাধা দেওয়া হয় এবং তারপরই তাঁকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৬০০ জনকে ভয় দেখিয়ে গ্রামছাড়া করে দেওয়া হয়েছে। তারা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভক্ত বলে পরিচিত। তাঁকেই ভোট দেবেন।

তবে, গ্রামবাসীদের  পাল্টা অভিযোগ, সেখানে পাশাপাশি দুটি পাড়া রয়েছে। একটি বিজেপি সমর্থক, আরেকটি তৃণমূল। বিজেপি সমর্থকদের পাড়ায় এসে  সুজাতা মণ্ডল এবং তাঁর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা গ্রামবাসীদের উপর হামলা করে। ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। এমনকী এক গর্ভবতী মহিলার হাত ভেঙে দিয়েছেন খোদ প্রার্থী, এমন অভিযোগও উঠেছে।

এরপরই গ্রামবাসীরা বাঁশ, চেলাকাঠ নিয়ে তাড়া করেন সুজাতাকে। বহু মানুষকেই বলতে শোনা গিয়েছে , 'আগে কখনও আসেনি। ভোটের সময় কী করতে এসেছে?' দেহরক্ষীরা কার্যত ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পাশের পাড়ায় নিয়ে যান। সেখানেই অবস্থানে বসেছেন তিনি। কিন্তু, ওই গ্রাম থেকে বের হতে হলে বিজেপি সমর্থক অধ্যূষিত পাড়া দিয়েই বের হতে হবে।

সকালের দিকে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি অনেক জায়গায় ঠিকই আছে। তবে, সেইসঙ্গে অভিযোগ করেছিলেন, যেখানে যেখানে তৃণমূল শক্তিশালী সেখানে পরিস্থিতি ঠিক নেই। একটি বুথে তৃণমূলের পক্ষে ভোট দিলে বিজেপি-তে চলে যাচ্ছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, কোথাও কোথাও তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও নিরপেক্ষ নয়, জনগণকে বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে বলছে, বলে অভিযোগ করেছিলেন আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী।