জল না খেয়েও কি বেঁচে থাকা যায়? একশো চার বছরের এক বৃদ্ধ তো দিব্যি হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন! শুনতে অবাক লাগছে তো? কিন্তু এটাই ঘোরতর বাস্তব। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই বৃদ্ধাকে নাকি কখনও জল খেতে দেখেননি তাঁরা। স্রেফ স্নান করার জন্যই জল ব্যবহার করেন তিনি।

কী ব্যাপার? পুরুলিয়ার বাগমুন্ডির শস গ্রামে থাকেন শ্রীকান্ত কুইরি। সেঞ্চুরি পার করে ফেলেছেন তিনি। বয়স একশোর থেকেও চার বছর বেশি। শরীরে কিন্তু বার্ধক্যের কোনও ছাপ নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই বয়সেও যুবকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রীতিমতো গ্রামে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চষে বেড়ান শ্রীকান্ত। বাড়ির দাওয়ায় বসে সকলের সঙ্গে আড্ডাও দেন তিনি। খাওয়া-দাওয়া করেন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই. কিন্তু জল খান না! শ্রীকান্ত কুইরার দাবি, ছোটবেলায় নাকি জল খেলেই বমি হত তাঁর। সেই যে জল খাওয়া ছেড়েছেন, আজ পর্যন্ত গ্লাস আর ঠোঁটে ছোঁয়াননি! শতায়ু ওই বৃদ্ধ যে ভুল কিছু বলছেন না, তা স্বীকার করে নিয়েছেন গ্রামবাসীরা। জল দিয়ে স্নান করতে দেখেছেন, কিন্তু কখনও শ্রীকান্তকে জল খেতে দেখেননি! তেমনই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিন্তু এমনটাও কী সম্ভব? শস গ্রাম তো বটেই, আশেপাশের গ্রামে যাঁরা থাকেন, তাঁদেরও শ্রীকান্ত কুইরাকে নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই।  প্রতিদিন তাঁকে দেখতে আসছেন বহু মানুষ।

আরও পড়ুন: করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক উপেক্ষা, চিনা প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে মেদিনীপুরের পিন্টুর

তাহলে জলই জীবন, একথা কি আর বলা যাবে না? সবটাই মিথ? প্রখ্যাত চিকিৎসক ও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক নয়ন মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, 'জল খেয়ে একজন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। উনি জল পান করেন না, একথা মানতে পারছি না।' তাঁর ব্যাখ্যা, জলে খেলে যদি বমি হয়, সেক্ষেত্রে জলের পরিপূরক হিসেবে অন্য কিছু খেতেই হবে। খোঁজ নিলে হয়তো জানা যাবে, জলের বদলের অন্যকোনও তরল পদার্থ বা ফলের রস খাচ্ছেন শ্রীকান্ত কুইরা।