আবারো বেসুরো ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া রাজীব বন্দ্য়োপাধ্যায়। বুধবার, দিল্লি গিয়েছেন বাংলার চার বিজেপি সাংসদ, মোদী মন্ত্রিসভায় যোগ দেবেন তাঁরা। দিল্লি গিয়েছিলেন রাজীবও। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে। চার্টার্ড বিমানে করে দিল্লি গিয়ো যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি-তে। সেই দিন আর এদিনের মধ্যে অনেক তফাত। মোদী মন্ত্রিসভার রদবদলের দিনই ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে টুইট করলেন রাজীব।

তবে, তিনি একবারও মমতার নাম করেননি। বস্তুত, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কারোর নামই নেননি রাজীব। পোস্টটি করেছেন 'বিরোধী নেতাকে বলব' - এই শিরোনামে। স্পষ্টতই তাঁর উদ্দেশ্য আরও এক দলবদলু বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজীব বলেছেন, মমতা মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়েই বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ২১৩টি আসনে নির্বাচিত করেছেন। তারপর তাঁকে 'অযথা' আক্রমণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রাজীব। তিনি আরও বলেছেন, এর বদলে বিরোধী দলনেতার লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের স্বার্থে পেট্রোপণ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করা।

তবে তাঁর এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভালভাবে নেয়নি নেটিজেনরা। অনেকেই বলেছেন, তিনি তো এখনও বিজেপিতেই আছেন, তাহলে বিরোধী দলনেতাকে কোনও কথা বলতে চাইলে তো ফোনেই বলতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ার দরকার কী? তাবলে কি তিনি এভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নজরে পড়তে চাইছেন? রাজ্যে যখন পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আন্দোলন জোরদার করছে তৃণমূল, তখন একই বিষয়ে মুখ খুলে ঘাসফুল শিবিরের আরও কাছে আসতে চাইছেন? আবার কেউ কেউ বলেছেন, নিশ্চয়ই তিনি কোনও খারাপ কাজ করেছেন, তাই আগে ধরা পড়ার ভয়ে বিজেপিতে এসেছিলেন এখন আবার মমতা সরকারের তদন্তের ভয় পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন - 'ধোঁয়া থাকলে আগুনও আছে' - 'না বলতেই' পদত্যাগ বাবুলের, উগরে দিলেন 'দুঃখ'

আরও পড়ুন - টিম মোদীতে সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী নিশীথ, অবশেষে ভারতের মানচিত্রে জায়গা পেল কোচবিহার-রাজবংশী

আরও পড়ুন - বাংলাকে দুই-এর বদলে চার দিলেন মোদী - নয়া মন্ত্রিসভায় শান্তনু, নিশীথ, জন ও সুভাষ

 

এর আগেও অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বেসুরো হয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে প্রাক্তন বনমন্ত্রী। 'সমালোচনা তো অনেক হল' শিরোনাম দিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও বলেছিলেন মানুষের বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা সরকারের সমালোচনা করা উচিত নয় বিজেপি রাজ্যনেতাদের। কথায় কথায় দিল্লি দৌড়ানো আর ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের ভয় দেখানো বাংলার মানুষ ভালভাবে নিচ্ছেন না। সেইসময় রাজনীতি ভুলে, কোভিড এবং সাইক্লোন যশ-এ বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত বিজেপি নেতাদের, এমন বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

আবার মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরের দিনই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বাড়িতে। তবে দুই পক্ষই দাবি করেছিল, সেএই সাক্ষাত ছিল নেহাতই 'সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ'। রাজীবের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। বিজেপিতেই আছেন বলে সাফ জানিয়েছিলেন রাজীব। আর সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট নিয়ে বলেছিলেন, তাঁর অপছন্দের বিষয়গুলিই তিনি তুলে ধরেছেন।