এবার দার্জিলিং পুরসভা দখল করে নিল বিজেপি। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মোট সতেরোজন কাউন্সিলর এ দিন দিল্লিতে বিজেপি-তে যোগ দিলেন। এর ফলে দার্জিলিং পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেল বিজেপি। এ দিনও যোগদান অনু্ষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুকুল রায়। দার্জিলিং পুরসভা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার হাতছাড়া হলেও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বিনয় তামাংকে চাপে ফেলতেই বিমল গুরুং পন্থীরা এই পদক্ষেপ নিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। 

দার্জিলিং কেন্দ্রে এবারও জিতেছে বিজেপি। মূলত বিমল গুরুং পন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনেই পাহাড় দখল করেছে গেরুয়া শিবির। এ দিন নতুন সাংসদ রাজু বিস্তের উপস্থিতিতেই দিল্লিতে বিজেপি-তে যোগ দেন ওই সতেরো কাউন্সিলর। এ ছাড়াও এক কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন পদত্যাগ করেছেন। ৩২ আসনের দার্জিলিং পুরসভায় তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরই চলে গেল বিজেপি-র দখলে। 

বিনয় তামাং পন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন নিয়ে এবার দার্জিলিং দখলের চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অমর সিংহ রাইকে পাহাড়ে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু পাহাড় দখলের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আড়ালে থেকেও কাজের কাজ করে দেন বিমল গুরুং। 

বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত অভিযোগ করেন, পাহাড়ে বিজেপি-কে সমর্থনকারী কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা দিচ্ছে পুলিশ। অনেককেই গ্রেফতার করে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এর পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ কাজ করছে বলেই অভিযোগ করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ। 

কয়েকদিন আগেই দার্জিলিং পুরসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন গুরুং পন্থী কাউন্সিলররা। তখনই বোঝা গিয়েছিল আড়াল থেকে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছেন বিমল গুরুং। খুব শিগগিরই দার্জিলিংয়ের জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে দলবদলের বিষয়টি জানানো হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তার পরেই নতুন চেয়ারম্যানকে বেছে নেওয়া হবে। 

দার্জিলিংকে ধরলে এই নিয়ে রাজ্যে পাঁচটি পুরসভা দখল করল বিজেপি। এর আগেই ভাটপাড়া পুরসভা দখল করেছে তাঁরা। নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহরের অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলররাও ইতিমধ্যেই বিজেপি-তে যোগদান করেছেন।