সন্দেশখালির ঘটনাকে এবারে কলকাতায় আনার চেষ্টা বিজেপি-র। নিহত তিন দলীয় সমর্থকদের দেহ কলকাতায় নিয়ে আসা নিয়ে বিজেপি নেতা- কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াল পুলিশ। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই নিহত দুই কর্মীর দেহ নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ অন্য নেতারা। 

এ দিন সন্দেশখালিতে যায় বিজেপি-র একটি প্রতিনিধি  দল। মুকুল রায়ের নেতৃত্বে সেই প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, জগন্নাথ সরকার, অর্জুন সিংহ, শান্তনু ঠাকুররা। বসিরহাট হাসপাতালে নিহত বিজেপি কর্মীদের দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার পরেই সেই দেহগুলি নিয়ে কলকাতায় আসার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানে হাজির ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ এবং সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। দেহ নিয়ে কলকাতার দিকে আসার সময় প্রথমে উত্তর চব্বিশ পরগনার মালঞ্চ মোড়ে বিজেপি নেতাদের আটকায় পুলিশ। রীতিমতো ব্যারিকেড গড়ে পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে। যার জেরে বিজেপি নেতাদের নিরাপত্তা রক্ষী এবং কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দিয়েই প্রদীপ মণ্ডল এবং সুকান্ত মণ্ডল নামে দুই নিহত সমর্থকের দেহ নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হয়ে যান দিলীপ ঘোষরা। 

এর পরে ফের  মিনাখাঁয় বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ের উপরে দিলীপ ঘোষদের কনভয় আটকায় পুলিশ। এবারে আর ব্যারিকেড করে না আটকে রাস্তার মধ্যে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বিজেপি নেতাদের আটকায় পুলিশ। তাদের দাবি, মৃতদেহ কলকাতায় নিয়ে এলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যা হতে পারে। 

বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুলিশ কাজ করছে। তাঁর দাবি, পরিবারের সম্মতি নিয়েই মৃত সমর্থকদের দেহ কলকাতায় দলীয় সদর দফতরে নিয়ে আসা হচ্ছিল। বেআইনিভাবে পুলিশ তাঁদের পথ আটকেছে বলে অভিযোগ লকেটের। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, পুলিশ দেহ কলকাতায় না নিয়ে যেতে গেলে রাস্তার উপরেই দু'টি সমর্থকের দেহ দাহ করা হবে। পুলিশি বাধার প্রতিবাদে মিনাখাঁ মোড়েই অবস্থানে বসে পড়েন বিজেপি নেতা কর্মীরা। যার জেরে গোটা বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। 

বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী ১২ জুন লালবাজার অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপি। নিহত দুই সমর্থকের দেহ নিয়েই লালবাজার অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের। তার আগে পর্যন্ত পিস হাভেনে নিহত দুই সমর্থকের দেহ রেখে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশি বাধা এড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্ব মরদেহ কলকাতায় আনতে পারে কি না, সেটাই দেখার। 

শেষ পর্যন্ত সত্যিই যদি বিজেপি-র এই পরিকল্পনা সফল হয় তাহলে সন্দেশখালির ঘটনার আঁচ ভালভাবেই পড়তে পারে কলকাতায়। বিজেপি নেতারাও চাইছেন, সন্দেশখালির ঘটনা গোটা দেশের নজরে নিয়ে আসতে। যাতে আরও চাপে পড়ে রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে কোনওভাবেই সন্দেশখালি নিয়ে রাশ আলগা করতে রাজি নয় বিজেপি।