সাগরদ্বীপের পাশ দিয়ে বকখালি-তে আঁছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বুলবুল-এর মূল কেন্দ্র অবশ্য মাটি ছোঁবে আরও কয়েক ঘণ্টা পরে। সবমিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর পুরো কেন্দ্রটি মাঠিতে আঁছড়ে পড়ে ছিটকে যেতে অন্তত ৩ ঘন্টা সময় নেবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। 

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, রাত আটটার পরে সাগরদ্বীপের পাশে বকখালির উপরে আঁছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এতে সাগরদ্বীপেও ঝোড়ো হাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। এমনকী ফ্রেজারগঞ্জেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বকখালির সমুদ্র সৈকতে আঁছড়ে পড়ার সময় বুলবুল-এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। সময় যত এগোবে ততই এই গতিবেগ কমবে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে। বকখালি-তে আঁছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ডানদিকে কাত হয়ে বাংলাদেশের দিকে এখন এগিয়ে চলেছে। তার পথের মধ্যে রয়েছে সুন্দরবনের বিশাল এলাকা। রয়েছে। সুন্দরবনের কোর এরিয়া এবং মৌসুমী দ্বীপ। প্রবল ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিতে সুন্দরবনের এই অংশে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই যা খবর তাতে সাগরদ্বীপ-সহ বকখালি এলাকায় অন্তত কয়েকশ কুড়ে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উড়ে গিয়েছে বেশকিছু বাড়ির টিনের চাল। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কতটা তা দিনের আলো না ফোটার আগে বলা সম্ভব নয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আপাতত বাংলাদেশের খেপুপাড়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। সেখানেও এরই মধ্যে ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে খবর। হাওয়া অফিস অবশ্য জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঁছড়ে পড়লেও ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর মূল কেন্দ্রটি ভূ-খণ্ড ছুঁতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। মূল কেন্দ্রবিন্দুটি ভূ-খণ্ড ছোঁয়ার সময় হাওয়ার বেগ সামান্য হলেও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল কেন্দ্রবিন্দুটি ভূ-খণ্ড ছোঁয়ার সঙ্গে বুলবুলের শক্তি আরও ক্ষয় হবে। ইতিমধ্যেই ল্যান্ডফলের সঙ্গে সঙ্গে বুলবুল অনেকটাই শক্তি ক্ষয় করেছে। কলকাতার দিকে আদৌ বুলবুল অভিমুখ ঘোরাবে কি না তা বলা যাচ্ছে না। যদিও, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সাত জেলাতেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি রবিবার সন্ধে পর্যন্ত থাকবে বলেই আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।  

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল লক্ষ্য করে এগিয়ে আসছে তার খবর দিন তিনেক আগে থেকেই ছিল। সেই মোতাবেক প্রতীক্ষাও চলছিল। অবশেষে শনিবার রাত আটটার পরেই আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মেনেই পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের সীমানা ছোঁয় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ফ্রেজারগঞ্জে বুলবুল-এর প্রবেশ ঘটে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়। বুলবুল-এর জেরে ফ্রেজারগঞ্জ-সহ সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ, নামখানায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। 

বুলবুল-এর জন্য আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষকে। পাশাপাশি সুন্দরবন এলাকার সমস্ত বাঁধগুলির উপরেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। যারা ভিটেমাটি ছেড়ে নড়েননি তাঁদের ঘরের মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। অত্যাবশকীয় জিনিসপত্র এবং মূল্যবান কাগজপত্র প্লাস্টিকের মধ্যে ঢুকিয়ে কাছে রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পাকাবাড়ি থেকে লোকজনকে সরতে বলেও শনিবার দিনভর মাইকিং করেছে প্রশাসন। এমনকী মাটির বাড়ি-তে বসবাসকারী লোকজনকেও নিকটবর্তী সাইক্লোন সেভ সেন্টারে সরে যেতে আর্জি জানানো হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে সাগরদ্বীপ, নামখানা, কাকদ্বীপ, কাঁথি, দিঘা-য় এখন একশ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ঝড় বইছে। সেইসঙ্গে হচ্ছে বৃষ্টি। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার জন্য ওইসব এলাকায় আগেভাগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এদিকে, নবান্নে জোড়া কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। যাতে নজরদারি রাখছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সারারাত নবান্নে থাকবেন। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ রেখে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ার আর্জি রেখেছেন তিনি।