প্রতীক্ষা চলছিল। অবশেষে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস মেনেই পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের সীমানা ছুঁল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ফ্রেজারগঞ্জে বুলবুল-এর প্রবেশ ঘটেছে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর। বুলবুল-এর জেরে ইতিমধ্যেই ফ্রেজারগঞ্জ-সহ সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ, নামখানায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। 

এই ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি আরও বাড়বে বলেই আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর। কারণ, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর মূল কেন্দ্রবিন্দু ক্রমশই পশ্চিমবঙ্গের উপকূল লক্ষ করে এগিয়ে আসছে। পূর্বাভাসে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে যখন বুলবুল আঁছড়ে পড়বে তখন তার বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১১১ থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গতি ১৩৫ কিলোমিটারে পৌঁছবে। 

বুলবুল মূলত সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া-র মধ্যেকার এলাকার মধ্যে বয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই পূর্বাভাসে সাগরদ্বীপ এবং খেপুপাড়ায় প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষকে। সুন্দরবন এলাকার সমস্ত বাঁধগুলির উপরেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। যারা ভিটেমাটি ছেড়ে নড়েননি তাঁদের ঘরের মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। অত্যাবশকীয় জিনিসপত্র এবং মূল্যবান কাগজপত্র প্লাস্টিকের মধ্যে ঢুকিয়ে কাছে রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পাকাবাড়ি থেকে লোকজনকে সরতে বলেও শনিবার দিনভর মাইকিং করেছে প্রশাসন। এমনকী মাটির বাড়ি-তে বসবাসকারী লোকজনকেও নিকটবর্তী সাইক্লোন সেভ সেন্টারে সরে যেতে আর্জি জানানো হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে সাগরদ্বীপ, নামখানা, কাকদ্বীপ, কাঁথি, দিঘা-য় এখন একশ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে ঝড় বইছে। সেইসঙ্গে হচ্ছে বৃষ্টি। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার জন্য ওইসব এলাকায় আগেভাগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

এদিকে, নবান্নে জোড়া কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। যাতে নজরদারি রাখছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সারারাত নবান্নে থাকবেন। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ রেখে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ার আর্জি রেখেছেন তিনি।