প্রথমে মাথা, তারপরে মধ্যভাগ এবং সবশেষে ল্যাজ। স্থলভাগে প্রবেশের পর সবমিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালাবে বুলবুল। সর্বশেষ আপডেটে এই তথ্যই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাত আটটা নাগাদ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সাগর থেকে মাত্র পঁচিশ থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরে ছিল বুলবুল। গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। 

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সাগর এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে সুন্দরবনের উপরে আছড়ে পড়ার কথা বুলবুলের। সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ার কথা উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। বুলবুল যত স্থলভূমির কাছাকাছি আসছে, দুই চব্বিশ পরগণার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ততই বা়ড়ছে হাওয়ার বেগ এবং বৃষ্টির দাপট। 

এ দিন সন্ধের আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রথম আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। তাতে দিঘা, কাঁথি, খেজুরি, নন্দীগ্রাম, নয়াচর, রামনগরের- সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ঘণ্টায় প্রায় একশো কুড়ি কিলোমিটার গতিবেগে ওই এলাকায় ঝড় শুরু হয়। বূলবুলের দাপটে  অসংখ্য কাঁচা বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি বহু পানের বরজও নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক এবং রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে জোয়ারের আগেই বুলবুল আছড়ে পড়ায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কোথাও জলস্ফীতির কারণে নদী বাঁধের বিশেষ ক্ষতি হয়নি বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী। 

এর পাশাপাশি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালি, কাকদ্বীপের মতো উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সন্ধের পর থেকেই হাওয়ার দাপট ক্রমশ বেড়েছে। বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাগরদ্বীপ এবং বকখালির মধ্যে আছড়ে পড়ে বুলবুল। ঝড়ের দাপটে লক্ষ্মীকান্তপুর- নামখানা শাখায় এবং ডায়মন্ড হারবার সেকশনে ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। রেল লাইনে গাছের ডাল পড়েই পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।